শ্যুটিং

Mukbil (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ১৫:৫১, ১৬ মার্চ ২০১৫ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Category:বাংলাপিডিয়া '''শ্যুটিং'''  কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত একটি খ... দিয়ে তৈরি পাতা)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

শ্যুটিং  কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত একটি খেলা। এই খেলার খেলোয়াড়কে শ্যুটার বলা হয়। শ্যুটার টার্গেট পেপার লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। টার্গেট পেপার থেকে শ্যুটারের দূরত্ব ১০, ২৫ কিংবা ৫০ মিটার হয়ে থাকে। অস্ত্র ছাড়াও শ্যুটারের জন্য নির্ধারিত পোশাক, হ্যান্ড গ্লাভস, জুতা প্রভৃতি থাকে।

কিছুদিন আগেও শ্যুটিং খেলা সম্পর্কে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের ধারণা ছিল খুবই কম। বাংলাদেশের দুই  শ্যুটার আতিকুর রহমান ও আবদুস সাত্তার কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের পর এদেশের ক্রীড়ামোদী মহলে এ খেলা সম্পর্কে বেশ আগ্রহের সৃষ্টি হয়। শ্যুটিং অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় তা এখনও বিত্তবানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাছাড়া বাংলাদেশে শ্যুটিং ক্লাবের সংখ্যাও অতি অল্প।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর কিছু উদ্যমী গেম শ্যুটার ১৯৫২ সালে ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন (এনআরএ) গঠন করেন। তবে ওই ফোরামের স্থানীয় প্রতিষ্ঠিত গেম শ্যুটারদের অংশগ্রহণ উপেক্ষা করা হয়। ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম তদানীন্তন প্রাদেশিক ক্রীড়া ফেডারেশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়নি। ১৯৫৬ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশন (ইপিএসএফ) প্রয়োজনের সময় মাতৃভূমিকে রক্ষায় প্রত্যয়ে স্বেচ্ছাসেবী তৈরির প্রচ্ছন্ন কার্যপ্রণালীসহ স্থানীয় লোকদের মধ্যে ক্রীড়া হিসেবে শ্যুটিংকে উন্নীত করতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠিত গেম শ্যুটারদের নিয়ে শ্যুটিং সেকশন গঠন করে। ক্রমান্বয়ে ইপিএসএফ-এর শ্যুটিং সেকশনের কিছু সংগঠক ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের সাথে অঙ্গীভূত হয়।

ইপিএসএফ অস্থায়ী শ্যুটিং রেঞ্জ হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্মাণাধীন ঢাকা স্টেডিয়ামে ২৫ মিটার দৈর্ঘ্যর একটি কক্ষের ব্যবস্থা করে। ঐ সময় বালির বস্তা টার্গেটের পেছনে রাখা হতো এবং নবাগতদের উদ্দীপ্ত করতে সংগঠকরা প্রতিদিন বিকেলে টার্গেট শ্যুটিং চর্চা করতেন।

এনআরএ-এর একক কার্যক্রম ছিল জেলা ও মহকুমা পর্যায়ে রাইফেল ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা। এনআরএ’র প্রথম অনুমোদিত রাইফেল ক্লাব ছিল ‘চট্টগ্রাম রাইফেল ক্লাব’।

১৯৫৬ সালে প্রথম জাতীয় পর্যায়ের শ্যুটিং প্রতিযোগিতা প্যারামিলিটারি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেল-এর শ্যুটিং রেঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে এনআরএ-এর অনেক ভূমিকা ছিল। জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন শ্যুটিংয়ে আগ্রহ সৃষ্টি, কোচিং উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক টিম সহায়তায় সাহায্য মঞ্জুরির জন্য সরকারের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। তৎকালীন সরকার শ্যুটিং রেঞ্জের জন্য গুলশানে (বর্তমান শ্যুটিং রেঞ্জ) সাময়িকভাবে একটি রাইফেল বাট ও টিনসেড অবকাঠামো তৈরি করেছিল। জেলা ও মহকুমা ক্লাবগুলিকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ রাখার ও টার্গেট শ্যুটিং চর্চার জন্য পুলিশের বর্ম আচ্ছাদিত সামরিক গাড়ি ব্যবহারের অধিকার দেয়া হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে রাইফেল ক্লাবের আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করে এবং বিভিন্ন রাইফেল ক্লাবের শ্যুটাররা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিল। স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ সরকার ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনকে পুনর্গঠন করে ৩০০ একর জমির উপর এবং ১৯৭২ সালে নতুন নামকরণ করে ‘ন্যাশনাল শ্যুটিং ফেডারেশন, বাংলাদেশ’। সীমিত সময়ের মধ্যে ন্যাশনাল শ্যুটিং ফেডারেশন ক্লাবগুলিকে পুনর্গঠিত করে। স্বাধীনতার পর নানা সংকটের মধ্যেও তারা ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকে।

১৯৮৯ সালে ন্যাশনাল শ্যুটিং ফেডারেশন গুলশান শ্যুটিং রেঞ্জ স্থায়ীভাবে লিজ পায়। এই রেঞ্জ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আধুনিকীকরণ করা, আন্তর্জাতিক ইভেন্টে প্রতিযোগিতার জন্য উন্নয়ন করা ও অলিম্পিকসহ আন্তর্জাতিক গেমসের জন্য যোগ্য করতে শ্যুটারদের দক্ষতা বৃদ্ধি করার কাজে ব্যবহূত হয়।

শ্যুটিং ফেডারেশন চার ধরণের এরিয়া রেঞ্জের উপর ভিত্তি করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে:

১০ মিটার রেঞ্জ  এই রেঞ্জের অধীনে ৪০টি লেন রয়েছে। এখানে রয়েছে ইলেকট্রনিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা। যার মধ্যে ৩০টি লেন চলে ম্যানুয়ালি। আর বাকী ১০টি লেন চলে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে। ১০ মিটার রেঞ্জে ৬টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হতে পারে। তার মধ্যে ছেলেদের তিনটি আর মেয়েদের তিনটি। যার মাত্র চারটি ইভেন্ট এখানে অনুষ্ঠিত হয়। এয়ার রাইফেল (৬০০) এবং এয়ার রাইফেল-৬০০ (জুনিয়র-অনুর্ধ্ব ২১) ছেলেদের জন্য। আর এয়ার রাইফেল (৪০০) এবং এয়ার রাইফেল-৪০০ (জুনিয়র-অনুর্ধ্ব ২১) মেয়েদের জন্য।

২৫ মিটার রেঞ্জ  এই রেঞ্জে ৬টি লেন রয়েছে। এখানে মাত্র দুটি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। যার একটি হলো র‌্যাপিড ফায়ার, আর অন্যটি হলো স্ট্যান্ডার্ড পিস্ত্তল। স্ট্যান্ডার্ড পিন্তুলকে স্পোর্টস পিস্ত্তল ও বলা হয়। বর্তমানে শুধু স্ট্যান্ডার্ড পিস্ত্তল ইভেন্টই অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যাপিড ফায়ার ইভেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় বন্দুক না থাকায় ইন্টান্যাশরাল শ্যুটিং অ্যাসোসিয়েশন (আইএসএ) এটি বন্ধ করে দিয়েছে। অবশ্য এই ইভেন্টেই আব্দুস সাত্তার নিনি এবং আতিকুর রহমান বাংলাদেশের জন্য প্রথম স্বর্ণপদক নিয়ে আসেন।

৫০ মিটাররেঞ্জ  বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয় এই রেঞ্জে। এখানে ৫টি ইভেন্ট হয়। যার প্রথমটি শুধু ছেলেদের জন্য ৬০ শর্টের ফায়ার পিস্ত্তল, দ্বিতীয়টি ছেলেমেয়েদের জন্য প্রোন ইভেন্ট এবং সর্বশেষটি থ্রি পজিশন। এখানে ছেলেদের জন্য ৪০ শর্টের মোট ১২০টি মারতে হয়।

শর্ট-গানরেঞ্জ  এই রেঞ্জে একমাত্র স্কিট ইভেন্ট হয়। ইভেন্টটি পূর্বে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হতো। বর্তমানে সাভারে শ্যুটিং ফেডারেশনের নিজস্ব জায়গায় অনুষ্ঠিত হয়। এশিয়ান স্পোর্টস কনফেডারেশনের আর্থিক সহায়তায় এই রেঞ্জ নির্মাণ করা হয়।

বাংলাদেশ শ্যুটিং ফেডারেশনের অনেকগুলি অর্জনের মধ্যে রয়েছে ১৯৯০ সালের কমনওয়েলথ গেমসে শ্যুটার আব্দুস সাত্তার নিনি এবং আতিকুর রহামানের স্বর্ণপদক লাভ। আসিফ ২০০৪ সালের লন্ডন কমনওয়েলথ গেমসে এয়ার রাইফেল ইভেন্টে রেকর্ড স্কোরিং করে স্বর্ণপদক লাভ করেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শ্যুটিংকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায় সাবরিনা সুলতানা। ৫০ মিটার প্রোন ইভেন্টে স্বর্ণপদক জয় করেন তিনি। ২০১০ সালের কমনওয়েলথ শ্যুটিংয়ে শারমিন আকতার রত্না এককভাবে এবং সাদিয়া সুলতানার সাথে দলীয়ভাবে দুটি স্বর্ণপদক অর্জন করেন।

১১তম এস.এ গেমসে ০.১৭৭ এয়ার রাইফেল ইভেন্টে দলগত স্বর্ণপদক লাভ করেন আসিফ হোসেন খান, আব্দুল্পাহ হেল বাকী ও শোভন চৌধুরী। শারমিন আকতার রত্না ১১তম এস.এ গেমসে এয়ার রাইফেলে স্বর্ণপদক লাভ করেন। [মো. আবু তালহা সরকার]