বাংলাদেশ প্রাণি সম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট

Mukbil (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ১৩:২২, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (Livestock Research Institute)  ১৯৮৪ সালের ১৭ এপ্রিল মহামান্য রাষ্ট্রপতির এক অধ্যাদেশ বলে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রা্ণিসম্পদ এবং হাঁস-মুরগি উন্নয়নে সমসাময়িক অন্তরায়সমূহ চিহ্নিতকরণ এবং এর সমাধানের পথ বের করাই এ ইনস্টিটিউটের মুখ্য উদ্দেশ্য। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় মন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিচালনা বোর্ডের মাধ্যমে ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী হচ্ছেন মহাপরিচালক। তিনি বোর্ডের সদস্য-সচিব। ইনস্টিটিউটে ৭টি গবেষণা বিভাগ রয়েছে। এগুলো হলো- প্রাণি উৎপাদন গবেষণা বিভাগ, প্রাণি স্বাস্থ্য গবেষণা বিভাগ, পোল্ট্রি উৎপাদন গবেষণা বিভাগ, ছাগল ও ভেড়া উৎপাদন গবেষণা বিভাগ, আর্থ-সামাজিক গবেষণা বিভাগ, সিস্টেম রিসার্চ ডিভিশিন এবং বায়োটেকনোলজী বিভাগ। এছাড়া রয়েছে একটি সেবা ও সহায়তা বিভাগ। সাভারে অবস্থিত ইনস্টিটিউটের প্রধান কার্যালয় ব্যতিত বাঘাবাড়ি (সিরাজগঞ্জ) ও নাইক্ষ্যংছততে (বান্দরবান) স্থাপিত হয়েছে দুটো আঞ্চলিক কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ন্যুনতম সংখ্যক প্রশিক্ষিত কারিগরি জনবল ও সীমিত গবেষণা সুযোগ সুবিধার মধ্যেও ইনস্টিটিউট পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন, প্রজনন ও স্বাস্থ্য বিষয়ে মোট ৫৯টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। উদ্ভাবিত এসব প্যাকেজ ও প্রযুক্তিসমূহ দেশের পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতোমধ্যে ব্যাপক অবদান রেখেছে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মূল্যায়নে বিএলআরআই কর্তৃক উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তিগুলোর ইন্টারনাল রেট অব রিটার্ন (IRR) ৫৬-৩১৫% পাওয়া গেছে।

বর্তমানে ছাগল, ভেড়া, ডেইরী, বিফ ক্যাটেল, পোল্ট্রি, প্রাণিস্বাস্থ্য, প্রাণিসম্পদ অর্থনীতি ও বিপণন বিষয়ে বেশ কিছু গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে দেশী জাতের পাবনা গরু, কালো বাংলা-ছাগল, মহিষ, গয়াল (Bos frontalis) এবং আংশিক বর্জ্যভোজী হাঁস-মুরগরি নির্বাচিত প্রজনন বাস্তবায়নের জন্য গবেষণা কর্মসূচি অন্যতম। উক্ত গবেষণা কার্যক্রমগুলো সুষ্ঠুভাবে সমাপ্ত করা হলে দেশীয় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির জাত চিহ্নিতকরণ, উন্নত জাত উদ্ভাবন এবং এদের খাদ্য, স্বাস্থ্য, সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি এবং পরিবেশ বান্ধব ও লাভজনক প্রাণি-পাখি উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হবে। ফলে দেশের প্রাণিসম্পদ উপখাতে উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে দারিদ্র বিমোচন, আত্মকর্মসংস্থান, পুষ্টি সরবরাহ বৃদ্ধিসহ দেশের রফতানি আয় বৃদ্ধি পাবে।  [জাহাঙ্গীর আলম]

আরও দেখুন প্রাণিসম্পদ, প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর, প্রাণী সম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট