বাংলাদেশ রসায়ন সমিতি

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৪:২৫, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

বাংলাদেশ রসায়ন সমিতি (Bangladesh Chemical Society)  পেশাগতভাবে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট রসায়নবিদদের একটি বেসরকারি ও অরাজনৈতিক সংগঠন। বাংলাদেশের রসায়নবিদ ও রাসায়নিক প্রযুক্তিবিদদের রসায়ন শিক্ষা ও গবেষণা এবং শিল্প ও প্রযুক্তি উৎপাদনের মান উন্নয়ন এবং তাদের সার্বিক কল্যাণ সাধন এই সংগঠনের ঐকান্তিক লক্ষ্য। ১৯৭২ সালে একটি বিদগ্ধ সমিতি হিসেবে এর প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রয়াত অধ্যাপক মোকাররম হোসেন খোন্দকার (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), প্রয়াত অধ্যাপক মফিজউদ্দীন আহমদ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যাপক কে.এ লতিফ (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়), প্রয়াত অধ্যাপক এ.কিউ চৌধুরী (বুয়েট), অধ্যাপক এ.কে শামসুদ্দীন আহমেদ (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যাপক এস.জেড হায়দার (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), প্রয়াত অধ্যাপক এ.এন নওয়াব (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যাপক এ জববার মিঞা (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক এস.এস.এম.এ খোরাশানী (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ড. এরফান আলী (বিসিএসআইআর) ও ড. আব্দুর রহমান (বিসিএসআইআর) এই মহৎ প্রয়াসের উদ্যোক্তা।

নির্বাচিত ২২ জন ও পদাধিকার বলে ৯ জন নিয়ে গঠিত ৩১ সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি দ্বারা সমিতিটি পরিচালিত হয়। রসায়ন বিজ্ঞানে স্নাতক এবং চাকরিতে তিন বছরের অভিজ্ঞতা আছে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক এবং রসায়ন, ফলিত রসায়ন ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা সমিতির সদস্য হওয়ার যোগ্য।

বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ নিম্নরূপ: বাংলাদেশে রসায়ন, রাসায়নিক প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও বৃদ্ধিকরণ; বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রসায়নবিদদের স্বার্থ ও মর্যাদা সুরক্ষা, দেশ ও বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার মধ্যে সমন্বয়, মিথষ্ক্রিয়া ও সহযোগিতা বৃদ্ধি; প্রবন্ধ, প্রতিবেদন, সাময়িকী ও পত্রিকা প্রকাশনার মাধ্যমে রসায়ন বিষয়ক জ্ঞান ও প্রয়োগ বৃদ্ধি, এ সংক্রান্ত জাতীয় ও পেশাগত সমস্যাদি তুলে ধরতে সম্মেলন, আলোচনা সভা, বক্তৃতা, অধিবেশন, ওয়ার্কশপ ইত্যাদি আয়োজন; রসায়ন, রাসায়নিক প্রযুক্তি ও রাসায়নিক শিল্পের অধ্যয়ন ও গবেষণায় বিশিষ্ট অবদানের জন্য পুরস্কার প্রদান, উচ্চতর ডিগ্রির নিমিত্তে নির্বাচিত গবেষণা প্রকল্পের জন্য ফেলোশিপ প্রদান; সদস্য ও অন্যান্য আগ্রহী ব্যক্তিদের সুবিধার্থে রাসায়ন বিজ্ঞান সংক্রান্ত বই, জার্নাল, ম্যাগাজিন ও প্রাসঙ্গিক বিষয়াদির ওপর সমিতির নিজস্ব পাঠাগার স্থাপন; বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, রাসায়নিক ও ঔষধ শিল্পের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তোলা এবং উপদেষ্টা ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করা; বিভিন্ন রাসায়নিক ও ঔষধ শিল্পে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা; স্থানীয় কাঁচামাল ও দেশীয় প্রযুক্তি নির্ভর আরও বেশি রাসায়নিক শিল্প সরকারি ও বেসরকারি খাতে গড়ে উঠতে সাহায্য করা; রাসায়ন বিজ্ঞান বিশেষ করে দেশীয় প্রযুক্তি উদ্ভাবন, প্রবর্তন, লাগসই রাসায়নিক প্রযুক্তি গ্রহণ, প্রক্রিয়াদি ও উৎপন্ন সামগ্রীর প্রয়োজনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে গবেষণা প্রকল্প গ্রহণে উৎসাহিত ও সহায়তা করা, রাসায়নিক ও ঔষধ শিল্পে কর্মরত পেশাজীবী রসায়নবিদদের জন্য একটি অধিকার সনদ প্রণয়ন করা; উঠতি রসায়নবিদদের চাকুরির সুযোগ সৃষ্টির জন্য উপদেষ্টা সেবা প্রদান ও প্রবীণ রসায়নবিদদের পরামর্শ প্রদানমূলক কাজের সুযোগ সৃষ্টি; পেশাজীবী রসায়নবিদদের দেশে ও বিদেশে উচ্চ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের  সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণ এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক উন্নয়নের স্বার্থে অভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যবাহী দেশ-বিদেশের বিদগ্ধ ও পেশাজীবী সমিতিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তোলা।  [এস.জেড হায়দার]