বায়েজীদ বোস্তামী

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৪:২৭, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

বায়েজীদ বোস্তামী  ইরানের বিখ্যাত সুফি। তিনি সুলতান-উল-আরেফিন নামেও পরিচিত। বায়েজীদ বোস্তামী  বোস্তাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যু হয়। চট্টগ্রাম সেনানিবাসের কাছে নাসিরাবাদের একটি ছোট পাহাড়ের উপরে অবস্থিত একটি দরগাহ’র সঙ্গে তাঁর নাম জড়িত। আধুনিক পাকা কাঠামোতে বেষ্টিত একটি সমাধি, প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী  আওরঙ্গজেব এর সময়ে মুগল রীতিতে নির্মিত একটি পুরাতন মসজিদ এবং সমাধির সামনে সমতলে একটি পুকুর নিয়ে দরগা কমপ্লেক্সটি গঠিত। পুকুরটি বহু সংখ্যক ‘মাজারি’ বা সংরক্ষিত কচ্ছপ এবং বিপুল সংখ্যক ‘গজারি’ (গজার মাছ) বা সংরক্ষিত মাছের আবাসস্থল। এগুলি দর্শনার্থীদের নিকট অতিরিক্ত আকর্ষণের বিষয়। দর্শনার্থীরা ওদেরকে কলা, খই ইত্যাদি খেতে দেয়। সার্বিকভাবে মাযারটির দেখাশোনা করার জন্য একটি তহবিল রয়েছে। ‘চিটাগাং এনডাউমেন্ট কমিটি’ নামে একটি পরিচালক পর্ষদ মাজারের তত্ত্বাবধান করে।

বায়েজীদ বোস্তামী নামে কোন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব কখনও বাংলায় এসেছিলেন বলে জানা যায় না। এটি সর্বজন স্বীকৃত যে, শেখ বায়েজীদ বোস্তামী চট্টগ্রামে মারা যান নি এবং চট্টগ্রামে তাঁর নামে পরিচিত সমাধিটি হচ্ছে একটি ‘জওয়াব’ বা অনুকৃতি। কিন্তু জনগণের একাংশ বিশ্বাস করেন যে, তিনি জীবদ্দশায় এতদঞ্চলে এসেছিলেন। চট্টগ্রাম একটি সমুদ্রবন্দর এবং আরবরা তাদের বাণিজ্য জাহাজ নিয়ে আট শতকের দিকেও এ বন্দরে আসত। অতএব এটা অসম্ভব নয় যে, ঐ সুফি-সাধক নয় শতকে এ স্থানে এসেছিলেন। কিন্তু এটা অনুমান মাত্র। বায়েজীদ বোস্তামীর চট্টগ্রাম ভ্রমণের কোন প্রামাণিক দলিল নেই। আঠারো শতকের কয়েকজন বাঙালি কবি এবং চারণ কবি মৌখিক কাহিনীর ওপর নির্ভর করে তাঁদের কবিতায় নাসিরাবাদের জনৈক শাহ সুলতানকে স্মরণ করেছেন। ইতিহাসের পন্ডিতগণ বিশ্বাস করেন যে, কবিতার শাহ সুলতান হচ্ছে সুলতান-উল-আরেফিনের সংক্ষিপ্ত রূপ এবং সে কারণে শাহ সুলতান এবং বায়েজীদ বোস্তামী অভিন্ন। ঊনিশ শতকের চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক হামিদুল্লাহ খান বর্ণনা করেন যে, অতীতে মুসলমান ফকির এবং পর্যটকগণ চট্টগ্রামে এসে জঙ্গলবেষ্টিত পাহাড়ের চূড়ায় আস্তানা গাড়তেন এবং মন্দির ও বিহারের অনুকরণে সুলতান-উল-আরেফিন বায়েজীদ বোস্তামী ও আবদুল কাদের জিলানী (র.)-এর নামে সমাধি এবং সমাধিসৌধ নির্মাণ করতেন। সম্ভবত এভাবে তারা জীবিকা অর্জন এবং মানুষকে সংঘবদ্ধ করতেন।  [আবদুল করিম]

গ্রন্থপঞ্জি  Hamidullah Khan, Ahadis-ul-Khawanin, Calcutta, 1871; Muhammad Enamul Haq, A History of Sufism in Bengal, Dhaka 1975; Abdul Karim, Social History of the Muslims in Bengal, 2nd edition, Chittagong, 1985.