সম্মিলনী ইনস্টিটিউশন, যশোর

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৫:০৬, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

সম্মিলনী ইনস্টিটিউশন, যশোর  ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী যশোর জেলা বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান রায়বাহাদুর যদুনাথ মজুমদার দেশে শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি যশোর থেকে সম্মিলনী নামে এক পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। যতদুর জানা যায়, ওই পত্রিকার নামানুসারে তিনি এই স্কুলের নামকরণ করেন ‘সম্মিলনী ইনস্টিটিউশন’। এ কাজে বেশকিছু বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তির সহায়তায় তিনি প্রথমে বেজপাড়ায় চালু করেন মধ্য ইংরেজি স্কুল। একটি মাত্র টিনের ঘর ও অল্প কিছুসংখ্যক ছাত্র নিয়ে ক্লাস শুরু হয়। কয়েক বছর এভাবে চলার পর ১৯০৮ সালে দুর্বৃত্তরা এই স্কুলগৃহটি পুড়িয়ে ভস্মীভূত করে। এরপর যদুনাথ মজুমদার স্কুলটি লোন অফিস পাড়ার নিজস্ব কাচারি বাড়িতে স্থায়িভাবে স্থানান্তর করেন। এ সময় থেকে এই বিদ্যালয়টিকে হাইস্কুলে (উচ্চ ইংরেজি) উন্নীত করা হয়। তিনি আমৃত্যু (১৯৩২) স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত সময়ে এ স্কুল কোন সরকারি সাহায্য গ্রহণ করে নি। ছাত্রবেতন ও অন্যান্য সাহায্যে স্কুলের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হতো।

স্কুল প্রতিষ্ঠাকালীন ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় সেখানে নতুন ত্রিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীকালে তৈরি হয় নতুন অফিস গৃহ। এছাড়াও নির্মিত হয় অপর একটি ভবনও। এই স্কুলের প্রবেশপথের দক্ষিণে কারুকার্যখচিত মন্দির এবং পশ্চিম দিকে একটি মসজিদ আছে। স্কুলের ভেতরে একটি শহীদ মিনার অবস্থিত। ১৯১৩ সালে তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলের ছাত্র ও শিক্ষক ছিলেন যথাক্রমে ২৮১ ও ১১ জন। ১৯২৮ সালে ছাত্র ও শিক্ষক বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৪০৮ ও ১৭ জনে দাঁড়ায়, ১৯৯৮ সালে ছাত্র ১,৩০০, শিক্ষক ২৭ ও কর্মচারী ৭ জন।

১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি ম্যানেজিং কমিটির ওপর এই স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে। এর সভাপতি পদাধিকারবলে জেলা প্রশাসক এবং সম্পাদক হচ্ছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ম্যানেজিং কমিটিতে অন্যান্যদের মধ্যে থাকেন দুজন শিক্ষক প্রতিনিধি এবং চারজন অভিভাবক প্রতিনিধি। স্কুলের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন হূদয়নাথ দত্ত (১৮৮৯-১৯০৭)।

শুরু থেকে এই স্কুলে গুরুসদয় দত্ত-এর ‘ব্রতচারী’ কার্যক্রম চালু ছিল। পরবর্তীকালে তা উঠে যায়। এখানে বাৎসরিক পত্রিকা, দেয়াল পত্রিকা, বিদ্যার্থী সম্মেলন, আবৃত্তি, সঙ্গীত, নাট্যাভিনয়, চারু ও কারুশিল্প ইত্যাদির চর্চা হয়। সাহিত্যিক নিমাই ভট্টাচার্য, প্রয়াত শিল্পী কাজী হাসান হাবীব, গায়ক ও সুরকার প্রণব ঘোষ প্রমুখ ব্যক্তিত্ব এই স্কুলের ছাত্র। এই স্কুলের বহু ছাত্র-শিক্ষক ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।  [আমজাদ হোসেন]