বাণেশ্বর বিদ্যালঙ্কার

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৪:২৬, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

বাণেশ্বর বিদ্যালঙ্কার (আনু. ১৭০০-১৭৮৮)  সংস্কৃত পন্ডিত। তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার গুপ্তপল্লী বা গুপ্তিপাড়ার বিখ্যাত পন্ডিত শোভাকরের বংশধর ছিলেন। প্রসিদ্ধি আছে যে, রাজা আদিশূর কান্যকুব্জ থেকে যে পাঁচজন  ব্রাহ্মণ এনেছিলেন, শোভাকর ছিলেন তাঁদের অন্যতম দক্ষের অধস্তন চতুর্থ পুরুষ।

বাণেশ্বরের পিতা রামদেব তর্কবাগীশ ছিলেন একজন খ্যাতনামা নৈয়ায়িক। তাঁর পিতামহ বিষ্ণুসিদ্ধান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন একজন সংস্কৃত কবি। বাণেশ্বর বাল্যকাল থেকেই অসাধারণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। পিতার নিকট অধ্যয়ন করে তিনি অল্পকালের মধ্যেই নানা শাস্ত্রে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তাঁর পান্ডিত্যের পরিচয় পেয়ে নদীয়ার রাজা  কৃষ্ণচন্দ্র রায় তাঁকে সভাপন্ডিত নিয়োগ করেন। কিন্তু সেখানে অপর পন্ডিত ভারতচন্দ্রের সঙ্গে বিবাদ হওয়ায় তিনি নদীয়া ছেড়ে মুর্শিদাবাদের নবাব আলিবর্দী খাঁর শরণাপন্ন হন। সেখানেও তিনি বেশিদিন অবস্থান করেননি। সেখান থেকে তিনি চলে যান বর্ধমানে। বর্ধমানের রাজা চিত্রসেন তাঁর পান্ডিত্যে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে সভাপন্ডিত নিযুক্ত করেন। চিত্রসেনের রাজসভায় ১৭৪৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত থেকে বাণেশ্বর মহারাজের মৃত্যুর পর পুনরায় নদীয়ায় কৃষ্ণচন্দ্রের সভাশ্রিত হন। এখানে কিছুকাল অবস্থানের পর তিনি কলকাতার শোভাবাজারের নবকৃষ্ণদেবের আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং সম্ভবত আমৃত্যু সেখানেই ছিলেন।

বাণেশ্বর রচিত আটটি গ্রন্থ এ যাবৎ পাওয়া গেছে। সেগুলি হলো: চিত্রচম্পূ, বিবাদার্ণবসেতু, রহস্যামৃত, তারাস্তোত্র, দেবীস্তোত্র, চন্দ্রাভিষেক ও কাশীশতক। চিত্রচম্পূ কাব্যটি একাধারে ইতিহাস ও ভূগোল। এতে চিত্রসেন সম্পর্কে অনেক তথ্য লিপিবদ্ধ হয়েছে। এ কাব্য থেকে জানা যায় যে, ১৬৬৪ শকাব্দে (১৭৪২ খ্রি) মহারাষ্ট্রের রাজা সাহু বঙ্গদেশ আক্রমণ করলে চিত্রসেন রাজ্যে শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে কিছুকাল দক্ষিণ প্রয়াগ ও গঙ্গাসাগর সঙ্গমের মধ্যবর্তী বিশালা নগরে অবস্থান করেন। গ্রন্থের শেষদিকে কবি রাজা এবং নিজের বংশাবলির পরিচয় দিয়েছেন।

বাণেশ্বরের দ্বিতীয় গ্রন্থটি স্মৃতিশাস্ত্রের একটি মূল্যবান গ্রন্থ। হিন্দুদের বিবাদ (আইন সংক্রান্ত বিষয়াদি) মীমাংসার সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে ওয়ারেন হেস্টিংসের অনুরোধে তিনি আরও দশজন পন্ডিতের সহায়তায় এটি সংকলন করেন। গ্রন্থটি প্রথমে ফারসি ভাষায় অনূদিত হয় এবং পরে  হ্যালহেড এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। তাঁর অনুবাদের নাম A Code of Gentoo Law, যা ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ড থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।  [সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী]