পুঁটিমাছ

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৪:১১, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

পুঁটিমাছ (Barb) Cypriniformes বর্গের Cyprinidae গোত্রের ছোট থেকে মাঝারি আকারের চ্যাপটা গড়নের অতি পরিচিত ছোট মাছ। এদের Puntius ও Oreichthys নামের দুটি গণের মোট ১০ প্রজাতি বাংলাদেশে রয়েছে। এই মাছ রুপালি থেকে সবুজ-রুপালি বা লালচে বাদামি রঙের। শরীরে আছে ফোঁটা, দাগ বা ডোরা এবং ৪ বা ২টি বার্বেল (barbel) থাকে, কোন কোনটির বার্বেল নেই। দৈর্ঘ্য ৫-২০ সেমি।

পুঁটিমাছ

Puntius ও Oreichthys গণের প্রজাতিগুলি: ১. কাঞ্চন পুঁটি/Rosy barb (P. conchonius) শরীর রুপালি, পিঠ কালো, অাঁশের গোড়া কালচে। অন্যান্য পুঁটির চেয়ে পুরু ও চওড়া, ১০ সেমি পর্যন্ত লম্বা। বার্বেল নেই। পায়ু-পাখনার পেছনে উপর দিকে একটি বড় কালো ফোঁটা আছে। প্রজননকালে কোন কোনটির পাশ লাল ও বেগুনি রং ধরে। স্বাদুপানিতে সর্বত্র বিস্তৃত; ২. চালাপুঁটি/Chola barb (P. chola) রুপালি শরীর, প্রায় ১২ সেমি লম্বা। পেট অপেক্ষা পিঠের দিক অধিক উত্তল। চোয়ালের বার্বেল এক জোড়া। লেজের পাশে একটি কালো দাগ। প্রজননকালে পুরুষ মাছের কানকো থেকে লেজের গোড়া পর্যন্ত মাঝ বরাবর একটি লাল ডোরা দেখা দেয়। স্বাদুপানিতে সর্বত্র দেখা যায়; ৩. গিলিপুঁটি/Golden barb (P. gelius) লালচে-বাদামি শরীর, মাঝারি পর্যায়ের চাপা, প্রায় ১০ সেমি পর্যন্ত লম্বা। বার্বেল নেই। লেজের ওপর একটি কালো ডোরা এবং সামনের পৃষ্ঠপাখনার গোড়ায় একটি গাঢ় কালো ফোঁটা। প্রজননকালে পৃষ্ঠপাখনা, লেজ ও পেছনের দিক লাল ও কমলা রং ধরে; ৪. মলাপুঁটি/Glass barb (P. guganio) বাদামি-রুপালি রঙের, প্রায় ১১ সেমি লম্বা। পার্শ্বরেখা অসম্পূর্ণ। সাধারণত বার্বেল থাকে না। সর্বত্র পাওয়া যায়; ৫. ফুটানি পুঁটি/Dwarf barb (P. phutunio) হালকা সবুজ-রুপালি রঙের, ১২ সেমি পর্যন্ত লম্বা। খাড়া ও চওড়া দুটি ডোরা আছে, একটি পিঠ থেকে বক্ষপাখনার মাঝামাঝি এবং আরেকটি পিঠ থেকে পায়ুর নিচ পর্যন্ত। প্রজননকালে বুক ও পিঠ হালকা হলুদ এবং পায়ু কমলা রং ধরে। সর্বত্র আছে; ৬. সরপুঁটি/Olive barb (P. sarana) কিছুটা চাপা, রুপালি শরীর, প্রায় ১০ সেমি লম্বা। বার্বেল ২ জোড়া। কানকো খাটো ও সোনালি। সর্বত্র পাওয়া যায়; ৭. জাতপুঁটি/Spotfin swamp barb (P. sophore) মাঝারি চাপা ও রুপালি রঙের শরীর, প্রায় ১৩ সেমি লম্বা। বার্বেল নেই। কালো রঙের একটি ফোঁটা পৃষ্ঠকাঁটার গোড়ায় ও আরেকটি লেজের ডগায়। কানকো খাটো ও সোনালি। প্রজননকালে পুং-মাছের দুপাশে একটি লম্বা ডোরা দাগ দেখা দেয়। সর্বত্র পাওয়া যায়; ৮. তেরিপুঁটি/Onespot barb (P. terio) রুপালি, পেটের তুলনায় পিঠ বেশি উত্তল। দশ সেমি পর্যন্ত লম্বা। পায়ুপাখনার মাঝখানে একটি বড় কালো দাগ এবং পৃষ্ঠপাখনার মাঝখানে কালো ডোরা থাকে। দেশের প্রায় সর্বত্র দেখা যায়; ৯. তিতপুঁটি/Firefin barb (P. ticto) শরীর চাপা, রুপালি, প্রায় ১২ সেমি লম্বা। পার্শ্বরেখা অসম্পূর্ণ। দুটি কালো ফোঁটা, ছোটটি পার্শ্বরেখার শুরুতে, বড়টি পায়ুর পেছনে। পৃষ্ঠপাখানায় সাধারণত কয়েক সারি কালো ফোঁটা থাকে। সর্বত্র পাওয়া যায়; ১০. কচুয়াতিপুঁটি/Cosuatis (Oreichthys cosuatis) শরীর মাঝারি চাপা, লালচে বাদামি। বার সেমি পর্যন্ত লম্বা। পার্শ্বরেখা ভাঙা ভাঙা। অাঁশের গোড়া কালো। প্রায় সর্বত্র দেখা যায়।  [নাশিদা বানু]