প্রশাসনিক আইন

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৪:১৪, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

প্রশাসনিক আইন  নির্বাহী কর্মকর্তাদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি, প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান এবং এদের পারস্পরিক সম্পর্ক, নাগরিক ও বেসরকারি বিষয়াদি সম্পর্কিত আইনবিধান। সরকারি প্রশাসনের ক্ষমতা, কার্যপ্রণালী ও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে একটি আইন কাঠামো গড়ে তোলাই হচ্ছে প্রশাসনিক আইনের লক্ষ্য।

ব্যাপক অর্থে প্রশাসনিক আইনের আওতায় চার ধরনের নিয়ন্ত্রণ কাঠামো রয়েছে। প্রথমত, ক্ষমতা নির্ধারণ; এ ধরনের আইন কাঠামোতে সাধারণ আইনকানুন ও বিধিবিধান প্রণয়নের জন্য ক্ষমতা অর্পণ করা হয় এবং এর মধ্যেই আইনের শক্তি নিহিত থাকে। এটি অধীনস্থ আইন নামেও পরিচিত। এ আইনের মৌলিক আবশ্যকতা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট আইনের লক্ষ্য সাধনের জন্য যে বিধিবিধান প্রণয়নের অধিকার দেয়া হয়, তাতে প্রণীত বিধান অবশ্যই ঐ মূল আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হয়। বিধিবদ্ধ সংস্থার আইনকানুন এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয়ত, কোন বিশেষ ধরনের ব্যবসার জন্য যে লাইসেন্স প্রদান করা হয় তা ইস্যু, নবায়ন বা বাতিল করার জন্য কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে ক্ষমতা দেয়া হয়। গাড়ি চালানোর লাইসেন্স, পণ্য বেচাকেনার লাইসেন্স, বন্দুকের লাইসেন্স প্রদান এই পর্যায়ভুক্ত। তৃতীয়ত, এ আইনের নিয়ন্ত্রণ কাঠামোটি তদন্তমূলক। উল্লিখিত আইনের আওতায় সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় কোনো ঘটনার তদন্ত বা অনুসন্ধান চালানো হয়ে থাকে। আর তদন্ত বা অনুসন্ধানের জন্য ব্যক্তি, স্থান, প্রমাণ, দলিলপত্রাদির প্রয়োজন হয়। অভিযুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পর্যায়ে পুলিশের তদন্ত এ শ্রেণীতে পড়ে। চতুর্থত, কোনো ব্যক্তি বা সরকার বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ কোনো কার্য সাধনের বা তা থেকে বিরত রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের আইন প্রযোজ্য, যেমন সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি সংক্রান্ত আইন। বেসরকারি লোকদের জন্যও এ ধরনের আইন আছে, যেমন সম্পত্তি অধিগ্রহণ আইন। জনস্বার্থে বেসরকারি ব্যক্তির সম্পত্তি সমর্পণের জন্য এ আইন প্রয়োজন। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসগৃহ নির্মাণ সম্পর্কিত আইন এ পর্যায়ে পড়ে।

সাংবিধানিক আইন ও প্রশাসনিক আইনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বস্ত্তত পার্থক্যের ধরনটি খুব স্পষ্ট নয়। এ কারণেই কোনো কোনো আইনবিদ প্রশাসনিক আইনকে সাংবিধানিক আইনের অংশ বিশেষ বা পরিপূরক বলে মনে করেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতেও সাংবিধানিক এবং প্রশাসনিক আইনের মধ্যকার পার্থক্য সুস্পষ্ট নয়। প্রকৃতপক্ষে এগুলো প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল এবং হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ারের অধিক্রমণ বিশেষ। প্রজাতন্ত্রের সেবায় নিয়োজিত কোনো ব্যক্তির পেনশন অধিকারসহ তার চাকুরির শর্ত মোতাবেক দায়ের করা কোনো আবেদনের শুনানি গ্রহণে এবং সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের একচেটিয়া এখতিয়ার রয়েছে।

চাকুরির শর্ত অনুসারে দায়ের করা রিট পিটিশনও হাইকোর্ট বিভাগ গ্রহণ করে থাকে। রিট এখতিয়ারের আওতায় হাইকোর্ট এটা করে থাকে। প্রশাসনিক আইনের ধারণা এবং প্রয়োগ সাধারণত সরকারি কার্যক্রমের ক্রমবর্ধমান বিস্তার এবং আমলাতন্ত্রের আকার ও আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন প্রশাসনিক আইনের বিকাশ ঘটেছে। বেশির ভাগ দেশেই সরকার এবং নাগরিকদের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের উদ্ভব হয়েছে। বাংলাদেশে বহু প্রশাসনিক আইন রয়েছে। এসব আইনকে মোটামুটি দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম পর্যায়ের আইন দ্বারা  আমলাতন্ত্র, তাদের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি, আচরণ ও শৃঙ্খলা, বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নির্ধারণ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। বেসামরিক চাকুরির ক্ষেত্রেই এসব নিয়মকানুন ও আইন সীমাবদ্ধ। সংশ্লিষ্ট এক একটি মন্ত্রণালয় থেকে এসব আইনকানুন কার্যকর হয়। আবার বিশেষ কোনো ক্ষেত্রে ঘটনার প্রকৃতি অনুযায়ী অর্থ ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয় থেকেও এ আইন কার্যকর হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ের আইনগুলো বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা কমিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। কোনো বিশেষ বিষয় মীমাংসার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা কমিশন গঠন করা হয়। যেমন, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রজাতন্ত্রের চাকুরিতে নিয়োজিত কর্মচারীদের চাকুরির শর্ত সম্পর্কিত বিষয়াদির নিষ্পত্তি করে; কর নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুন্যাল করদাতাদের অভিযোগ ও আপত্তি সংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তি করে; সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। অপর একটি উদাহরণ হচ্ছে ট্যাক্সেস সেটেলমেন্ট কমিশন।  [এ.এম.এম শওকত আলী]