সামুদ্রিক সাপ

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৫:০৯, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

সামুদ্রিক সাপ  Hydrophidae গোত্রের, গোখরা ও শঙ্খিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত, বিষদাঁতযুক্ত, কয়েক প্রজাতির সামুদ্রিক বিষধর সাপ। Hydrophiinae উপগোত্রের সব সামুদ্রিক সাপের অাঁশের আকৃতি অভিন্ন, সকলেই সম্পূর্ণ জলচর এবং শাবক প্রসব করে। এরা ডাঙ্গায় চলতে পারে না। Laticaudinae উপগোত্রের সামুদ্রিক সাপের পেটে এক সারি বড় আকারের অাঁশ থাকে, যেগুলির সাহায্যে এরা মাটিতে চলতে পারে। এদেরকে ডাঙ্গায় যেতেই হয়, কারণ এরা শাবক প্রসব করে না, ডাঙ্গায় ডিম পাড়ে এবং ডিম পাড়ার জন্যই কেবল সমুদ্রের উপকূলে আসে, কিন্তু জীবনের অবশিষ্ট সময় সমুদ্রে কাটায়। এদের উভচর সামুদ্রিক সাপও বলা হয়। স্থলচর শঙ্খিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতর সম্পর্কের জন্য এদের সামুদ্রিক শঙ্খিনীও বলা হয়।

সামুদ্রিক সাপ:কালো হলুদ
সামুদ্রিক সাপ:বড়শি-নাক

বাংলাদেশে এক ডজনেরও বেশি জাতের সামুদ্রিক সাপ আছে, থাকে সুন্দরবনের নদীমোহনা থেকে জিঞ্জিরা বা সেন্টমার্টিনস দ্বীপের সমুদ্র উপকূলের কাছাকাছি। এগুলির মধ্যে সচরাচর দেখা যায় বড়শি-নাক বা ঠোঁট-নাক সামুদ্রিক সাপ, Enhydrina schistosa, Hydrophis species, মালাবার সামুদ্রিক সাপ, Lapemis curtus, সরু-মুখ সামুদ্রিক সাপ, Microcephalophis gracilis  ও M. cantoris, হলুদ পেট সামুদ্রিক সাপ, Pelamis platurus, ডোরা ল্যাটিকডা, Laticauda laticauda এবং কলুব্রাইন সামুদ্রিক সাপ, Laticauda colubrina। সামুদ্রিক সাপ দৈর্ঘ্যে হয় ১ মিটার থেকে ২.৫ মিটার।

সামুদ্রিক সাপের দেহ মোটামুটি পাশে চাপা ও চ্যাপ্টা, লেজ লম্বালম্বিভাবে চাপা এবং দেখতে নৌকার দাঁড়ের মতো। সাপের তুন্ডের আগায় নাকের ছিদ্র ও ছিদ্রে কপাটিকা থাকে। পানিতে সাঁতার কাটার সময় নাকের কপাটিকা শ্বাসনলে পানি প্রবেশ আটকায়। বিশেষ গ্রন্থির সাহায্যে সাপ শরীর থেকে অতিরিক্ত লবণ নিঃসরণ ঘটায়। সামুদ্রিক সাপ পানিতে তরঙ্গায়িতভাবে সাঁতার কাটে, যা মাথা থেকে শুরু হয়ে লেজে গিয়ে শেষ হয়, আর লেজ কাজ করে রাডার যন্ত্রের মতো। এদের ফুসফুস লম্বা ও আকারে বড় এবং প্রায় পুরো দেহদৈর্ঘ্য বরাবর প্রলম্বিত। ফুসফুসের পশ্চাদ্ভাগ বায়ুভান্ডারের কাজ করে এবং সাপকে পানিতে ভেসে থাকতে সাহায্য করে এবং যথার্থ শ্বসনকালের বদলে দীর্ঘ ডুব-সাঁতার দেওয়ার সময় অক্সিজেন সরবরাহ করে। সামুদ্রিক সাপ কয়েক ঘণ্টা পানিতে ডুবে থাকতে পারে।

প্রজনন ঋতুতে এরা কখনও কখনও সমুদ্রপৃষ্ঠে ভেসে থেকে আলো ও তাপ উপভোগ করে। অধিকাংশ সাপই মাছ খায়, বিশেষত লম্বা বাইম ও পাইপ মাছ, কোন কোনটি চিংড়ি, কেউ মাছের ডিম। অধিকাংশ সামুদ্রিক সাপ উপকূলবর্তী গরান বন ও নদীর মোহনা ঘেঁষে বাস করে। হলুদ বা হলুদ পেট সামুদ্রিক সাপের কেবল একটি প্রজাতি অন্যদের তুলনায় অধিক সমুদ্রপ্রেমী, উপকূলের চেয়ে গভীর সমুদ্রই এদের বেশি পছন্দ। এটি সমুদ্রের পানিতে এক নাগাড়ে আট ঘণ্টা ডুবে থাকতে পারে।

সামুদ্রিক সাপ তীব্র স্নায়ুবিষ উৎপাদন করে, তবে এদের দংশন কৌশল মানুষকে আক্রমণ করার উপযোগী নয়। বাংলাদেশের দুবলারচর, কচিখালী, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া এবং জিনজিরা দ্বীপের জেলেরা ধৃত মাছের সঙ্গে শত শত সামুদ্রিক সাপ উপকূলে নিয়ে আসে এবং এমনভাবে নাড়াচাড়া করে যে এগুলি যে বিষাক্ত সাপ তা মনেই হয় না। সামুদ্রিক সাপের কামড়ে এদেশে কেউ মারা গেছে এমন তথ্য নেই। তবে ওদের এড়িয়ে যাওয়াই সঙ্গত। জাপানে সামুদ্রিক সাপের খুব চাহিদা; সেখানে এসব সাপ আগুনে ঝলসিয়ে খাওয়া হয়।  [আলী রেজা খান]

আরও দেখুন সাপ