প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও সংস্কার কমিটি

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৪:১৪, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও সংস্কার কমিটি  ১৯৮২ সালের ২৮ এপ্রিল জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সামরিক সরকার কর্তৃক গঠিত একটি প্রশাসনিক সংস্কার কমিটি। কমিটির সভাপতি ছিলেন তৎকালীন উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক রিয়ার অ্যাডমিরাল এম.এ খান। এ কমিটিকে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠ ও কার্যকর শাসন পদ্ধতি সুপারিশ করার দায়িত্ব দেয়া হয়। কমিটিতে একজন চেয়ারম্যান, একজন সদস্য-সচিব এবং ৩ জন কো-অপ্ট করা সদস্যসহ মোট নয় জন সদস্য ছিলেন।

কমিটির দায়িত্ব ছিল: (ক) বর্তমান বেসামরিক প্রশাসন কাঠামো ও সংগঠন পর্যালোচনা করে জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধনে বর্তমান পদ্ধতিতে যেসব ত্রুটি রয়েছে তা শনাক্ত করা; (খ) ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং প্রশাসনকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবার লক্ষ্যে যথাযথ, সুষ্ঠ ও কার্যকর প্রশাসনিক পদ্ধতি সম্পর্কে সুপারিশ করা। ১৯৮২ সালের ২২ জুন কমিটির চেয়ারম্যান চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। কমিটির সুপারিশসমূহ ছিল:

ইউনিয়ন, থানা ও জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত স্থানীয় পরিষদ গঠন।

ইউনিয়ন, থানা ও জেলা পর্যায়ে সরাসরি নির্বাচিত চেয়ারম্যান থাকবেন। জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন ও থানা পরিষদের সদস্য সমন্বয়ে একটি বিকল্প নির্বাচক মন্ডলীর সুপারিশ করা হয়।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ থানা পরিষদের সদস্য থাকবেন।

থানা পরিষদের চেয়ারম্যানগণ জেলা পরিষদের সদস্য থাকবেন।

ইউনিয়ন, থানা ও জেলা পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট পরিষদ সভায় যোগদানের অধিকার থাকবে।

জেলা ও থানা পরিষদে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হবে।

ইউনিয়ন, থানা ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানগণ তাদের স্ব স্ব আওতায় ও বিচারকার্য ব্যতীত সকল সরকারি কর্মকান্ডের সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করবেন।

নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিতে হবে যাতে তারা স্থানীয় কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারেন।

রেগুলেটরি প্রশাসনকে একটি মেয়াদী কর্মসূচির অধীনে স্থানীয় পরিষদের আওতায় আনতে হবে।

গ্রামীন আদালতগুলিকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজে শক্তিশালী করতে হবে।

কিছু নীতির উপর ভিত্তি করে গ্রামীণ আদালতের রায়ের উপর আপিলের বিষয়ে বিধিনিষেধ রাখা হবে।

মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করে এবং বিভাগকে প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে বিলুপ্ত করে বর্তমান প্রশাসনিক ইউনিটগুলোকে পুনর্গঠন করতে হবে।

বিভাগীয় কমিশনারের পদটি  ‘তদারকি কমিশনার’ পদে পরিবর্তন করা যেতে পারে। অন্যদিকে বিভাগ ভিত্তিক অন্যান্য কর্মকর্তাদের পরিদর্শক বা কারিগরি সহায়তা কর্মকর্তারূপে গণ্য করা যেতে পারে।

বর্তমানে থানা পর্যায়ের সকল কমিটি বিলুপ্ত করা যেতে পারে এবং থানা পরিষদকে প্রয়োজনে কমিটি গঠন করার অধিকার প্রদান করা যাবে।

মাঠ পর্যায় বিশেষত থানা পর্যায়ে কর্মচারীর সংখ্যা এখনই হ্রাস করতে হবে। বর্তমানে কর্মরত জনশক্তিকে বিশেষ অঞ্চলসমূহে যৌক্তিক ভিত্তিতে অস্থায়ীভাবে মোতায়েন করতে হবে।

প্রাসঙ্গিক ধারাবলে পুলিশের কার্যক্রমের উপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য জেলা পরিষদ/থানা পরিষদকে ক্ষমতা প্রদান করা হবে।

সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের জন্য একটি স্থায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হবে।

থানা পর্যায়ে কারাগার সুবিধার উন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান মহকুমা পর্যায় থেকে বিচার প্রশাসন কাজ করে যাবে। তবে ভ্রাম্যমান ম্যাজিষ্ট্রেট দ্বারা থানা পর্যায়ে বিচারকার্য সম্পন্ন করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

স্থানীয় সরকারের নির্বাচনী ইউনিট হিসেবে মৌজা/ওয়ার্ডকে ১০০০ থেকে ১৫০০ ভোটার নিয়ে একটি ইউনিট হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।

অধিক সংখ্যায় জেলা সৃষ্টির ফলে আঞ্চলিক পরিকল্পনা ও পরিদর্শনের প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান চারটি বিভাগ নিয়ে এ ধরনের সাতটি কেন্দ্র গঠিত হতে পারে। যথা: (১) বরিশালে সদর দফতর সহ বরিশাল, পটুয়াখালি ও ফরিদপুর জেলা; (২) চট্টগ্রামে সদর দফতর সহ চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলা; (৩) কুমিল্লায় সদর দফতরসহ সিলেট, কুমিল্লা ও নোয়াখালী জেলা; (৪) রংপুরে সদর দফতর সহ দিনাজপুর ও রংপুর জেলা; (৫) বগুড়ায় সদর দফতরসহ বগুড়া, পাবনা ও রাজশাহী জেলা।

সামরিক সরকার সবগুলি সুপারিশ গ্রহণ বা বাস্তবায়ন করে নি। যেসব ক্ষেত্রে সংস্কার সাধিত হয়েছিল তা হচ্ছে: (ক) থানা প্রশাসনে ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তদারকি ও উন্নয়ন প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উন্নীত করা; (খ) প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে মহকুমা বিলুপ্তি; (গ) পুরনো মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করা ছাড়াও কিছু নতুন জেলা সৃষ্টি; (ঘ) থানার উন্নয়ন প্রশাসন (পরবর্তী সময়ে উপজেলা) একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যানের উপর ন্যস্ত করা।  [এ.এম.এম শওকত আলী]