ইউসুফজয়ী, নওশের আলী খান

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০০:৫৩, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

ইউসুফজয়ী, নওশের আলী খান (১৮৬৪-১৯২৪)  লেখক ও সমাজহিতৈষী। টাঙ্গাইল জেলার চারান গ্রামে তাঁর জন্ম। তিনি দেলদুয়ার স্কুল থেকে ছাত্রবৃত্তি (১৮৭৭), ঢাকার পোগোজ স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৮৮১) এবং  ঢাকা কলেজ থেকে এফ এ (১৮৮৭) পাস করেন। তারপর ১৮৯০ সালে বি এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে তিনি অকৃতকার্য হন। উল্লেখ্য যে বর্তমান টাঙ্গাইল জেলায় তিনিই ছিলেন প্রথম এফ এ পাস মুসলিম ব্যক্তি। ১৮৮৮ সালে বি এ শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে তিনি পাকুল্লার জমিদারকন্যা রহিমন্নেসাকে বিবাহ করেন। পরের বছর পাকুল্লার সাব-রেজিস্ট্রার পদে নিযুক্ত হয়ে তিনি ১৮৯১ সালে সাব-ডেপুটি রেজিস্ট্রার হন। টাঙ্গাইল অঞ্চলের মুসলমানদের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এ পদে অধিষ্ঠিত হন। ১৯১৯ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

নওশের আলী স্থানীয় ও কলকাতার সমাজ-শিক্ষামূলক বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি একজন সুবক্তাও ছিলেন। পশ্চাৎপদ মুসলমান সমাজের উন্নয়ন ছিল তাঁর চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু। এ বিষয়সহ অন্যান্য বিষয় অবলম্বনে গদ্যে-পদ্যে তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেন। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: বঙ্গীয় মুসলমান (১৮৯১), শৈশব কুসুম (কবিতা, ১৮৯৫), দলিল রেজিস্ট্রারি শিক্ষা (১৮৯৭), উচ্চ বাঙ্গালা শিক্ষাবিধি (১৯০১), নোটস অন মহামেডান এডুকেশন ইন বেঙ্গল (১৯০৩), মোসলমান জাতীয় সঙ্গীত (১৯০৯), সাহিত্য প্রতিভা (১৯১৪), সাহিত্য শিক্ষা (১৯১৫) ইত্যাদি। এগুলির মধ্যে প্রথম ও পঞ্চম গ্রন্থদুটি তাঁকে সুধীমহলে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। গ্রন্থদুটিতে তাঁর সমাজজ্ঞান, স্বজাতিপ্রীতি, স্বদেশচেতনা, মানবহিতৈষণা, শিক্ষানুরাগ, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকবোধ প্রতিফলিত হয়েছে। ১৯২৪ সালের ৯ মে স্বগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।  [ওয়াকিল আহমদ]