পামরিপোকা

Mukbil (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ১৬:৫৪, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

পামরিপোকা (Rice Hispa)  Coleoptera বর্গের Hispidae গোত্রের ক্ষতিকর পোকা Dicladispa armigera। ধানের ক্ষতিকর প্রাণী হিসেবে পামরিপোকা প্রথম দেখা যায় বরিশালে ১৯০৫ সালে, তারপর ১৯১২ সালের জুন মাসে সিলেটে এবং ১৯১৩ সালের সেপ্টেম্বরে নোয়াখালীতে। এরপর থেকে একটি প্রধান ও অনিয়মিত বালাই হিসেবে পামরিপোকার ব্যাপক প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশের অনেক জেলায়ই লক্ষ্য করা গেছে। এদের আক্রমণ ১৯৭৮ সালে থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষত বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, খুলনা, যশোর ও ফরিদপুর জেলায় প্রায় নিয়মিত দেখা গেছে যা ১৯৮১, ১৯৮৪, ১৯৮৫, ১৯৯২ ও ১৯৯৯ সালে অত্যন্ত মারাত্মক আকার ধারণ করে। ১৯৮৫ সালে ৭,০৭,৬০০ হেক্টর জমিতে এদের আক্রমণের ফলে ফলন প্রায় ২০% হ্রাস পায়।

পামরিপোকা

প্রাপ্তবয়স্ক এই পোকা খুব ছোট, উজ্জ্বল রঙের নীল-কালো একটি বিটল, ৫.৫ মিমি লম্বা, বর্ম কাঁটাযুক্ত। স্ত্রী পোকা গড়ে ৫৫টি একক ডিম পাড়ে যেগুলি ধানের পাতার উল্টো পিঠের উপরিত্বকের নিচে কিছুটা ঢুকানো থাকে। আর্দ্র আবহাওয়ার সঙ্গে উচ্চতর তাপমাত্রা এদের বৃদ্ধির অনুকূল। জীবনচক্র ১৩-২০ দিনে, গড়ে ১৬.৫ দিন। সর্বাধিক আক্রান্ত হয় কচি ধানগাছ তাতে প্রাপ্তবয়স্ক পোকা ও লার্ভা উভয়ই থাকে।

প্রাপ্তবয়স্ক বিটল পাতার সবুজ অংশ খেয়ে পাতাকে পুরোপুরি উপত্বকীয় পর্দায় পরিণত করে। ভুক্ত অংশগুলি লম্বা সাদা দাগ হিসেবে পাতায় লম্বালম্বি ছড়িয়ে থাকে। জন্মের পরপরই লার্ভা পাতায় উপত্বকীয় পর্দায় গর্ত করে এবড়োথেবড়ো লম্বালম্বী সাদা দাগ সৃষ্টি করে। পাতার আগার কাছে ডিমপাড়ার স্থান থেকে পাতার পচন ধরে এবং তা পাতার গোটা ফলকের নিচে অবাধে বিস্তৃত হতে পারে। আক্রান্ত পাতা ধীরে ধীরে নেতিয়ে পড়ে ও শুকিয়ে যায়।

পামরিপোকা সাধারণত চারাধান আক্রমণ করলেও মহামারী পরিস্থিতিতে বয়স্ক গাছও খেতে থাকে। প্রাদুর্ভাবপ্রবণ এলাকায় ডিসেম্বরে স্থানীয় বোরো ধানে ভয়াবহ আক্রমণ শুরু হয় এবং পরবর্তী নভেম্বরের রোপা-আমন পর্যন্ত তা লাগাতার চলতে থাকে। আক্রমণ ঘটে প্রধানত দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে যেখানে মাঝারি ধরনের শীত (১৬-১৭০ সে) ও অনুকূল কৃষি-বাস্ত্ততন্ত্রের সুবাদে এই পোকা সারা বছর টিকে থাকতে পারে। ধানের পামরিপোকা সক্রিয়ভাবে উড়তে পারে এবং পরিযায়ী স্বভাবের, কয়েক কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে অন্য মাঠেও পৌঁছতে পারে।

বর্তমানে পামরিপোকা দমন পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে পোকা ধরার জাল দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক পোকা সংগ্রহ, পাতার আগা কেটে লার্ভা ধ্বংস এবং কীটনাশক ব্যবহার।পামরিপোকা সাধারণত চারাধান আক্রমণ করলেও মহামারী পরিস্থিতিতে বয়স্ক গাছও খেতে থাকে। প্রাদুর্ভাবপ্রবণ এলাকায় ডিসেম্বরে স্থানীয় বোরো ধানে ভয়াবহ আক্রমণ শুরু হয় এবং পরবর্তী নভেম্বরের রোপা-আমন পর্যন্ত তা লাগাতার চলতে থাকে।

আক্রমণ ঘটে প্রধানত দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে যেখানে মাঝারি ধরনের শীত (১৬-১৭০ সে) ও অনুকূল কৃষি-বাস্ত্ততন্ত্রের সুবাদে এই পোকা সারা বছর টিকে থাকতে পারে। ধানের পামরিপোকা সক্রিয়ভাবে উড়তে পারে এবং পরিযায়ী স্বভাবের, কয়েক কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে অন্য মাঠেও পৌঁছতে পারে।

বর্তমানে পামরিপোকা দমন পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে পোকা ধরার জাল দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক পোকা সংগ্রহ, পাতার আগা কেটে লার্ভা ধ্বংস এবং কীটনাশক ব্যবহার। প্রাকৃতিক শত্রু দিয়ে কমই দমন করা যায় এবং প্রতিরোধক্ষম ধানের জাতও অনাবিষ্কৃত। কীটনাশকে নিয়ন্ত্রণ কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হলেও এগুলির উচ্চমূল্যের দরুন ব্যবহার সীমিত। ধানের পামরিপোকা মায়ানমার, ভারত, থাইল্যান্ড, কাম্পুচিয়া, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, চীন, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কাতেও রয়েছে।  [এস.এম হুমায়ুন কবির]

আরও দেখুন ধান