রাষ্ট্রীয় মূলনীতি

Mukbil (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ১৪:৩০, ৯ মার্চ ২০১৫ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

রাষ্ট্রীয় মূলনীতি  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৮ থেকে ১১ এবং ১৩ থেকে ২৫ অনুচ্ছেদে এ নীতিগুলো বর্ণিত হয়েছে। ১৯৭৭ সালের ১ নং আদেশে সংশোধনী অনুসারে  সংবিধানের এসব অনুচ্ছেদে বর্ণিত রাষ্ট্রীয় মূলনীতিসমূহ হচ্ছে:

অনুচ্ছেদ: ৮     সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র অর্থাৎ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার। এ নীতিসমূহ এবং তৎসহ এ নীতিসমূহ হতে উদ্ভুত এ ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলে পরিগণিত হবে। সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসই হবে যাবতীয় কার্যাবলির ভিত্তি। দ্বিতীয় অধ্যায়ে বর্ণিত নীতিসমূহ বাংলাদেশ পরিচালনার মূলসূত্র হবে, আইন প্রণয়নকালে রাষ্ট্র তা প্রয়োগ করবেন, সংবিধান ও বাংলাদেশের অন্যান্য আইনের ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে তা নির্দেশক হবে এবং তা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হবে; তবে এ সকল নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হবে না।

অনুচ্ছেদ: ৯   রাষ্ট্র স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে উৎসাহ দান করবেন এবং এ সকল প্রতিষ্ঠানে কৃষক, শ্রমিক এবং মহিলাদের যথাসম্ভব বিশেষ প্রতিনিধিত্ব দেয়া হবে।

অনুচ্ছেদ: ১০   জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনুচ্ছেদ: ১১  (১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী এবং ১৯৯১ সালের সংশোধনী মোতাবেক) প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

অনুচ্ছেদ: ১২   বিলুপ্ত (এই ধারায় রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সকল ধর্মের স্বাধীনতার কথা উল্লেখ ছিল)।

অনুচ্ছেদ: ১৩   রাষ্টীয় মালিকানা, সমবায় মালিকানা ও ব্যক্তিমালিকানার মাধ্যমে উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বণ্টন ব্যবস্থার  মালিক বা নিয়ন্ত্রক হবেন জনগণ।

অনুচ্ছেদ: ১৪   রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হবে মেহনতী মানুষ তথা কৃষক ও শ্রমিকের এবং জনগণের অনগ্রসর অংশকে সকল প্রকার শোষণ থেকে মুক্তি দান করা।

অনুচ্ছেদ: ১৫   রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হবে জনগণের জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা, কর্মের অধিকার, যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবসরের অধিকার, এবং সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা।

অনুচ্ছেদ: ১৬   নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য দূর করার উদ্দেশ্যে গ্রামাঞ্চলের উন্নয়ন সাধন করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অনুচ্ছেদ: ১৭   রাষ্ট্র সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং যত দ্রুত সম্ভব নিরক্ষরতা দূর করবেন।

অনুচ্ছেদ : ১৮   জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় ও স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার এবং গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অনুচ্ছেদ: ১৯   রাষ্ট্র সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করবেন এবং সারাদেশে সমভাবে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অনুচ্ছেদ: ২০   কর্ম হচ্ছে কর্মক্ষম প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার, কর্তব্য ও সম্মানের বিষয়, এবং প্রত্যেকে তার কর্মের জন্য যথাযথ পারিশ্রমিক লাভ করবেন রাষ্ট্র এমন অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা    করবেন যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক বা কায়িক যে কোন ধরনের শ্রম সৃষ্টিধর্মী প্রয়াসের ও মানবিক ব্যক্তিত্বের পূর্ণতার অভিব্যক্তিতে পরিণত হবে।

অনুচ্ছেদ: ২১   সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা  প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য, এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক কর্মচারী বা কর্মকর্তার কর্তব্য সকল সময়ে জনগণের সেবা করা।

অনুচ্ছেদ: ২২   রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করবেন।

অনুচ্ছেদ: ২৩   রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার সংরক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং জাতীয় ভাষা, সাহিত্য ও শিল্পকলা বিকাশের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

অনুচ্ছেদ: ২৪   জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্যকর্ম সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্র যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অনুচ্ছেদ: ২৫   জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপন করবেন, অপর দেশের আভ্যন্তরিণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবেন না, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন। ১৯৭৭ সালের ১ নং আদেশে সংবিধানের সংশোধনীতে রাষ্ট্রকে ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সংহত, সংরক্ষণ ও জোরদার করার ক্ষেত্রে সচেষ্ট হওয়ার তাগিদ দেয়া হয়েছে। [এনামুল হক]