মার্শম্যান, জন ক্লার্ক

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৪:৪৩, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

মার্শম্যান, জন ক্লার্ক (১৭৯৪-১৮৭৭)  মিশনারি, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক। তিনি জশুয়া মার্শম্যান ও হান্নাহ্ শেফার্ড দম্পতির প্রথম পুত্র। জশুয়া মার্শম্যান ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ব্রিস্টলে তাঁর জন্ম। মার্শম্যান পাঁচ বছর বয়সে প্রটেস্ট্যান্ট মতবাদী পিতামাতার সঙ্গে শ্রীরামপুরের ডেনিশ বণিক বসতিতে আসেন।

কেরী ও ওয়ার্ড নামের দুই বিখ্যাত প্রটেস্ট্যান্ট পন্ডিতের তত্ত্বাবধানে মার্শম্যান শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ও মাতা মিশনারি উদ্দেশ্য নিয়েই ভারতে এসেছিলেন। ১৮১২ সাল থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যান শ্রীরামপুর মিশনে তাঁর কর্মতৎপরতা শুরু করেন। মিশনারি কাজে বাস্তব প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য তিনি ইতালি, রোম ও গ্রিস ভ্রমণ করেন। ১৮১৮ সালে তিনি  শ্রীরামপুর মিশনারি প্রেসে যোগ দেন এবং একই বছর সমাচার দর্পণ পত্রিকায় কাজ শুরু করেন। ১৮৪১ সাল পর্যন্ত তিনি এই পত্রিকা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। ১৮১৮ সাল থেকে ১৮২৭ সাল পর্যন্ত মার্শম্যান প্রভাবশালী পত্রিকা Friend of India (মাসিক ও ত্রৈমাসিক) সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। ১৮১৮ সালে মার্শম্যান শ্রীরামপুর কলেজ এর অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। এছাড়াও তিনি ১৮৩৩ সালে সরকারের অনুবাদক এবং ১৮৪০ সালে Government Gazette এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।

ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসের সঙ্গে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। স্থানীয় অধিবাসীদের শিক্ষার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রেখে তিনি শুধু তাঁর পত্রিকায় বহুসংখ্যক নিবন্ধই লেখেননি, স্কুলের ছেলেমেয়েদের জন্য অনেক পাঠ্যপুস্তক রচনা ও অনুবাদও করেছিলেন। মার্শম্যানের চিন্তা ও উদ্যোগের ফলস্বরূপ ১৮১৭ সালে কলিকাতা স্কুল-বুক সোসাইটি স্থাপিত হয়। ভারতের কল্যাণের জন্য ব্রিটিশ প্রশাসনকে আরও সদয় ও মনোযোগী করার লক্ষ্যে তিনি প্রচুর যুক্তিনির্ভর লেখালেখি করেন। স্কুলের ছাত্রদের জন্য তিনি বেশ কয়েকটি ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেন। এসব ইতিহাস গ্রন্থ ঊনিশ শতকের ছাত্র ও সাধারণ পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে Outline of the History of Bengal এবং The History of India। তাঁর লিখিত How Wars Arrive in India  গ্রন্থটি ছিল খুবই বিশ্লেষণধর্মী এবং তা সমসাময়িক পাঠকদের চিন্তাকে উদ্দীপ্ত করেছিল। সাংবাদিক, ব্যবস্থাপক ও লেখক হিসেবে মার্শম্যান ছিলেন সফল। শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে মানব সম্পদের উন্নয়ন ছিল তাঁর রচনার প্রিয় বিষয়। [সিরাজুল ইসলাম]