মাহীসন্তোষ

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৪:৪৩, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

মাহীসন্তোষ  মধ্যযুগের প্রশাসনিক ও শিক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। নওগাঁ জেলার পত্নীতলাধীন বর্তমান মাহীগঞ্জ ও সন্তোষ ‘মাহীসন্তোষ’ হিসেবে পরিচিত। লোককাহিনীর বর্ণনা অনুযায়ী এক দরবেশ মাছের পিঠে চড়ে এ স্থানে এসেছিলেন। জনগণের নিকট তিনি ‘মাহীসওয়ার’ (মাহী=মাছ) নামে পরিচিত হন। এ থেকেই স্থানটির নামকরণ হয়েছে। এ বিষয়ে আরও একটি জনশ্রুতি অনুসারে প্রথম মহীপালের (৯৯৫-১০৪৩ খ্রি) নামানুসারে এ স্থানের নামকরণ করা হয়েছে। স্থানটির সাধারণ নকশা ও কিছু সংখ্যক অস্ত্র-শস্ত্রের আবিষ্কার, বিশেষ করে একটি বন্দুক ও কয়েকটি তরবারি (যা বর্তমানে বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে) নির্দেশ করে যে, মুসলমানদের আগমনের বহু পূর্বেই পরিখা ও কিল্লাসহ এস্থানটি একটি সুরক্ষিত সামরিক চৌকি ছিল। একটি মিহরাব এ লিপি এবং লিপিটির উল্টোদিকে খোদাইকৃত বিষ্ণু ও সূর্যের মূর্তি আবিষ্কার সাক্ষ্য দেয় যে, মুসলমানদের দ্বারা এ অঞ্চল সরকার-এর প্রধান কার্যালয় হওয়ার পূর্বেই একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে মাহীসন্তোষের অস্তিত্ব ছিল।

তেরো শতকের মধ্যভাগে স্থানটি শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়। বলা হয় যে, শেখ ইয়াহিয়া মানেরী প্রসিদ্ধ সাধক শায়খ তাকিউদ্দীনের তত্ত্বাবধানে এখানে বিদ্যার্জন করেন। ফারসি উপাদানসমূহ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এ স্থানটি সুহরাওয়ার্দী তরিকার সাধকদের ঘাঁটি ছিল। রুকনুদ্দীন বারবক শাহ এর (১৪৫৯-১৪৭৪) রাজত্বকালে ১৪৫৯ সালে এটি একটি  টাকশাল শহরে (mint town) পরিণত হয় এবং সুলতানের নামানুসারে এর পুনঃনামকরণ করা হয় ‘বারবকাবাদ’। সুলতানি আমলের বেশ কিছু সংখ্যক মসজিদ আবিষ্কারে মনে হয় যে, এ শহরটিতে বিপুল সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল। টাকশাল শহর হিসেবে এটি ১৫২১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চালু ছিল। আইন-ই-আকবরীতে ‘বারবকাবাদ’কে সরকার ও নগর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নগরকেন্দ্র হিসেবে ষোল শতকের শেষের দিকে সম্ভবত এটি তার গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। সতেরো শতক থেকে উল্লেখযোগ্য স্থান হিসেবে এর উল্লেখ পাওয়া যায় না।

বিশাল এলাকাটি বর্তমানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত, ঘন জঙ্গলে ঢাকা। চার-পাঁচটি মসজিদ, মুহম্মদ শিরাণ খলজীর সমাধিসৌধ এবং দুজন সুফি-দরবেশের সমাধিসৌধ সবই এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত। তবকাত-ই-নাসিরীতে বলা হয়, শিরাণ খলজীর সমাধিসৌধটি এখন কয়েকটি ইটের কাঠামো, অট্টালিকাদির অংশভুক্ত পরিবেষ্টিত স্থান, একটি দিঘি এবং প্রাচীরবেষ্টিত গড় (garh) এর ইতস্তত বিক্ষিপ্ত ধ্বংসাবশেষের মধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। [মোঃ আখতারুজ্জামান]