"সায়েম, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(Added Ennglish article link)
 
 
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
 
[[Category:বাংলাপিডিয়া]]
 
[[Category:বাংলাপিডিয়া]]
'''সায়েম, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ '''(১৯১৬-১৯৯৭)  বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। তিনি ১৯১৬ সালে রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন। রংপুর শহরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে রংপুর কারমাইকেল কলেজ ও পরবর্তী সময়ে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে তিনি অধ্যয়ন করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ডিগ্রি লাভ করে তিনি ১৯৪৪ সালে কলকাতা হাইকোর্টে আইনব্যবসা শুরু করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং শেরে-বাংলা এ.কে ফজলুল হকের জুনিয়র হিসেবে ঢাকা হাইকোর্টে আইনব্যবসা শুরু করেন। তিনি পাকিস্তান স্টেট ব্যাঙ্কের লোকাল বোর্ডের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। তিনি ঢাকা হাইকোর্ট আইনজীবী সমিতির অন্যতম উদ্যোক্তা এবং কয়েক মেয়াদে এ সমিতির সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্ট বেঞ্চে যোগদানের পূর্ব পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তান বার কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন।
+
[[Image:SayemJusticeAbusadatMohammad.jpg|thumb|right|বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম]]
 +
'''সায়েম, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ''' (১৯১৬-১৯৯৭)  বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। তিনি ১৯১৬ সালে রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন। রংপুর শহরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে রংপুর কারমাইকেল কলেজ ও পরবর্তী সময়ে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে তিনি অধ্যয়ন করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ডিগ্রি লাভ করে তিনি ১৯৪৪ সালে কলকাতা হাইকোর্টে আইনব্যবসা শুরু করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং শেরে-বাংলা এ.কে ফজলুল হকের জুনিয়র হিসেবে ঢাকা হাইকোর্টে আইনব্যবসা শুরু করেন। তিনি পাকিস্তান স্টেট ব্যাঙ্কের লোকাল বোর্ডের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। তিনি ঢাকা হাইকোর্ট আইনজীবী সমিতির অন্যতম উদ্যোক্তা এবং কয়েক মেয়াদে এ সমিতির সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্ট বেঞ্চে যোগদানের পূর্ব পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তান বার কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন।
  
 
সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগ ও উচ্ছেদের কারণ অনুসন্ধানের জন্য ১৯৬৭ সালে গঠিত কমিশনের সদস্য ছিলেন মোহাম্মদ সায়েম। ১৯৭০ সালে তিনি সীমানা চিহ্নিতকরণ কমিশনের সদস্য মনোনীত হন। ১৯৭০-৭১ সালে তিনি নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন। ওই বছর ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর বিচারপতি সায়েম বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি সংসদ ও মন্ত্রী পরিষদ ভেঙে দিয়ে সারা দেশে সামরিক আইন জারী করেন এবং নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন এবং ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি অবসর জীবনে রচনা করেন তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ At Bangabhaban: Last Phase (১৯৮৮)। ১৯৯৭ সালের ৮ জুলাই তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।  [সালেহ আতহার খান]
 
সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগ ও উচ্ছেদের কারণ অনুসন্ধানের জন্য ১৯৬৭ সালে গঠিত কমিশনের সদস্য ছিলেন মোহাম্মদ সায়েম। ১৯৭০ সালে তিনি সীমানা চিহ্নিতকরণ কমিশনের সদস্য মনোনীত হন। ১৯৭০-৭১ সালে তিনি নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন। ওই বছর ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর বিচারপতি সায়েম বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি সংসদ ও মন্ত্রী পরিষদ ভেঙে দিয়ে সারা দেশে সামরিক আইন জারী করেন এবং নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন এবং ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি অবসর জীবনে রচনা করেন তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ At Bangabhaban: Last Phase (১৯৮৮)। ১৯৯৭ সালের ৮ জুলাই তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।  [সালেহ আতহার খান]
  
[[Image:SayemJusticeAbusadatMohammad.jpg|thumb|right|বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম]]
 
  
 
[[en:Sayem, Justice Abusadat Mohammad]]
 
[[en:Sayem, Justice Abusadat Mohammad]]

১০:১২, ২২ মার্চ ২০১৫ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম

সায়েম, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ (১৯১৬-১৯৯৭)  বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। তিনি ১৯১৬ সালে রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন। রংপুর শহরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে রংপুর কারমাইকেল কলেজ ও পরবর্তী সময়ে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে তিনি অধ্যয়ন করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ডিগ্রি লাভ করে তিনি ১৯৪৪ সালে কলকাতা হাইকোর্টে আইনব্যবসা শুরু করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং শেরে-বাংলা এ.কে ফজলুল হকের জুনিয়র হিসেবে ঢাকা হাইকোর্টে আইনব্যবসা শুরু করেন। তিনি পাকিস্তান স্টেট ব্যাঙ্কের লোকাল বোর্ডের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। তিনি ঢাকা হাইকোর্ট আইনজীবী সমিতির অন্যতম উদ্যোক্তা এবং কয়েক মেয়াদে এ সমিতির সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্ট বেঞ্চে যোগদানের পূর্ব পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তান বার কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন।

সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগ ও উচ্ছেদের কারণ অনুসন্ধানের জন্য ১৯৬৭ সালে গঠিত কমিশনের সদস্য ছিলেন মোহাম্মদ সায়েম। ১৯৭০ সালে তিনি সীমানা চিহ্নিতকরণ কমিশনের সদস্য মনোনীত হন। ১৯৭০-৭১ সালে তিনি নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন। ওই বছর ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর বিচারপতি সায়েম বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি সংসদ ও মন্ত্রী পরিষদ ভেঙে দিয়ে সারা দেশে সামরিক আইন জারী করেন এবং নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন এবং ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি অবসর জীবনে রচনা করেন তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ At Bangabhaban: Last Phase (১৯৮৮)। ১৯৯৭ সালের ৮ জুলাই তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।  [সালেহ আতহার খান]