রায়চৌধুরী, শম্ভুচন্দ্র

রায়চৌধুরী, শম্ভুচন্দ্র (১৮০০-১৮৬৮) জমিদার, কবি ও লেখক। জন্ম ১৮০০ সালে রংপুরের কাকিনায়। তাঁর পিতা রামরূদ্র রায় ছিলেন কাকিনার জমিদার। পিতার মৃত্যুর পর শম্ভুচন্দ্র ১৮২৩ সালে কাকিনার জমিদারি লাভ করেন। তাঁর আমলে কাকিনায় বহু সুরম্য অট্টালিকা নির্মিত হয় এবং প্রাসাদ সন্নিকটে শম্ভুসাগর নামে এক বৃহৎ দিঘি খনন করা হয় (১৮৬০)। তাঁর আমলে কাকিনায়- ১টি মধ্য ইংরেজি স্কুল, ১টি মধ্য ভার্নাকিউলার স্কুল, ১টি বালিকা বিদ্যালয় এবং রংপুরের মাহিগঞ্জ শহরে প্রয়াত দত্তকপুত্র কৈলাশরঞ্জনের স্মৃতি রক্ষার্থে কৈলাশরঞ্জন মধ্য ভার্নাকিউলার স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়।

রংপুরের প্রথম পত্রিকা রঙ্গপুর বার্তাবহ এর মালিকানা ক্রয় করে রঙ্গপুর দিকপ্রকাশ নামে এর প্রকাশনা অব্যাহত রাখা শম্ভুচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য কাজ। রংপুরের কুণ্ডির জমিদার কালীচন্দ্র রায় চৌধুরী ১৮৪৭ সালে রঙ্গপুর বার্তাবহের প্রকাশনা শুরু করেন। ১৮৫৪ সালে তিনি মারা গেলে শম্ভুচন্দ্র ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকার প্রকাশনা অব্যাহত রাখেন। এরপর সরকারি আদেশে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে গেলে ১৮৬০ সালে রঙ্গপুর দিকপ্রকাশ নামে এর প্রকাশনা শুরু করেন। পত্রিকা প্রকাশের জন্য দিকদর্শন নামে একটি প্রেস স্থাপন করেন (কাকিনায়) এবং মধুসূদন ভট্টাচার্যকে পত্রিকার সম্পাদক নিয়োগ করা হয়। বিক্রমাদিত্যের রাজত্বকালে পৌরাণিক পদ্ধতি অবলম্বনে তিনি বিক্রমভারত নামক একটি কাব্য রচনা করেন যেখানে প্রধান দেবতা হিসেবে শিবের মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি উর্দু, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষায় বুৎপত্তি অর্জন করেন এবং আনন্দসভারঞ্জন চম্পু তাঁর বিখ্যাত কবিতা গ্রন্থ। তিনি বেদান্ত সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতেন এবং কবিরত্ন শ্রীধরকে নিয়ে কাকিনায় এক মহাপণ্ডিতসভা গঠন করেন।

রচনাবলী নামক মাসিক পত্রিকা (জানুয়ারি ১৮৬৪) প্রকাশ শম্ভুচন্দ্রের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অবদান। কাকিনা থেকে প্রকাশিত রচনাবলী হচ্ছে তৎকালীন বঙ্গদেশের প্রথম দিকের গ্রামীণ পত্রিকা যা ১৯০৯ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। [মুহম্মদ মনিরুজ্জামান]