রাবার শিল্প: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(Added Ennglish article link)
 
সম্পাদনা সারাংশ নেই
 
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
[[Category:বাংলাপিডিয়া]]
[[Category:বাংলাপিডিয়া]]
'''রাবার শিল্প''' বাংলাদেশের''' '''পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকার অবস্থানগত দিক, মাটির ক্ষয় ও কম উর্বরতার কারণে ফসলের আবাদ ভালো হয় না। এ সকল ভূমিতে কেবলমাত্র রাবার, চা ও বনায়ন করা সম্ভব। তবে আর্থিক লাভ, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার সর্বোপরি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় চা ও বনায়নের তুলনায় রাবার চাষ লাভজনক।
'''রাবার শিল্প''' বাংলাদেশের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকার অবস্থানগত দিক, মাটির ক্ষয় ও কম উর্বরতার কারণে ফসলের আবাদ ভালো হয় না। এ সকল ভূমিতে কেবলমাত্র রাবার, চা ও বনায়ন করা সম্ভব। তবে আর্থিক লাভ, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার সর্বোপরি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় চা ও বনায়নের তুলনায় রাবার চাষ লাভজনক।


বাংলাদেশে বন বিভাগ প্রথম ১৯৫২ সালে মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকা হতে কয়েক হাজার রাবার বীজ ও কিছু বাডেড স্ট্যাম্প এনে পরীক্ষামূলকভাবে চট্টগ্রাম ও মধুপুর অঞ্চলে রোপণ করে। ১৯৫৯ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) একজন রাবার বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে রাবার চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন এবং তাঁর সুপারিশের ভিত্তিতে তৎকালীন সরকার বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রাবার চাষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৯৬০ সালে বন বিভাগ ‘রাবার চাষ প্রকল্প’ নামে ৭১০ একরের একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করে এবং ১৯৬০-৬৫ সালের মধ্যে তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়। উক্ত প্রকল্পটি সংশোধন করে ৩,০০০ একর রাবার বাগান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন বিভাগ ১৯৬২ সালে বর্তমান বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফআইডিসি)-এর উপর রাবার চাষ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব ন্যস্ত করে। ১৯৬৫ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত আরও ১০,৫০০ একর রাবার বাগান সৃষ্টি ও প্রাথমিকভাবে রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য আরও একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
বাংলাদেশে বন বিভাগ প্রথম ১৯৫২ সালে মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকা হতে কয়েক হাজার রাবার বীজ ও কিছু বাডেড স্ট্যাম্প এনে পরীক্ষামূলকভাবে চট্টগ্রাম ও মধুপুর অঞ্চলে রোপণ করে। ১৯৫৯ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) একজন রাবার বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে রাবার চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন এবং তাঁর সুপারিশের ভিত্তিতে তৎকালীন সরকার বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রাবার চাষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৯৬০ সালে বন বিভাগ ‘রাবার চাষ প্রকল্প’ নামে ৭১০ একরের একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করে এবং ১৯৬০-৬৫ সালের মধ্যে তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়। উক্ত প্রকল্পটি সংশোধন করে ৩,০০০ একর রাবার বাগান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন বিভাগ ১৯৬২ সালে বর্তমান বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফআইডিসি)-এর উপর রাবার চাষ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব ন্যস্ত করে। ১৯৬৫ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত আরও ১০,৫০০ একর রাবার বাগান সৃষ্টি ও প্রাথমিকভাবে রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য আরও একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
১৬ নং লাইন: ১৬ নং লাইন:
রাবার গাছ সাধারণত ৩২-৩৪ বছর বয়সে উৎপাদন আয়ু শেষ করে। আয়ু অতিক্রান্ত গাছগুলি কেটে পুনঃবাগান সৃষ্টি করা হয়। এ সকল গাছ থেকে গড়ে ৫-৮ ঘনফুট গোল কাঠ পাওয়া যায়। আমাদের দেশে প্রকৃতপক্ষে কি পরিমাণ প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদন ও ব্যবহূত হয় এবং দেশে এ যাবত কি পরিমাণ রাবার ভিত্তিক শিল্প ও কারখানা গড়ে উঠেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। বাংলাদেশে রাবার উৎপাদন ও ব্যবহারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান (মেট্রিক টনে) নিম্নরূপ:
রাবার গাছ সাধারণত ৩২-৩৪ বছর বয়সে উৎপাদন আয়ু শেষ করে। আয়ু অতিক্রান্ত গাছগুলি কেটে পুনঃবাগান সৃষ্টি করা হয়। এ সকল গাছ থেকে গড়ে ৫-৮ ঘনফুট গোল কাঠ পাওয়া যায়। আমাদের দেশে প্রকৃতপক্ষে কি পরিমাণ প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদন ও ব্যবহূত হয় এবং দেশে এ যাবত কি পরিমাণ রাবার ভিত্তিক শিল্প ও কারখানা গড়ে উঠেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। বাংলাদেশে রাবার উৎপাদন ও ব্যবহারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান (মেট্রিক টনে) নিম্নরূপ:


বছর #১৯৭৮-১৯৭৯ #১৯৮৯-১৯৯০ #১৯৯৯-২০০০ #২০০৯-২০১০
{| class="table table-bordered table-hover"
 
|-
মোট উৎপাদন #৫০০ #১,৯০০ #১৫,০০০ #১৩,৫০০
| বছর || ১৯৭৮-১৯৭৯ || ১৯৮৯-১৯৯০ || ১৯৯৯-২০০০ || ২০০৯-২০১০
 
|-
মোট ব্যবহার #৫,৫০০ #১১,৪০০ #২১,৯০০ #৪৪,৪০০
| মোট উৎপাদন || ৫০০ || ১,৯০০ || ১৫,০০০ || ১৩,৫০০
 
|-
আমদানি #৫,০০০ #৯,৫০০ #৬,৯০০ #৩০,৯০০
| মোট ব্যবহার || ৫,৫০০ || ১১,৪০০ || ২১,৯০০ || ৪৪,৪০০
|-
| আমদানি || ৫,০০০ || ৯,৫০০ || ৬,৯০০ || ৩০,৯০০
|}


স্বাধীনতার পূর্বে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১০-১৫টি রাবারভিত্তিক ছোট-ছোট কারখানা ছিল। স্বাধীনতাত্তোর সময়ে পর্যায়ক্রমে রাবারের উৎপাদন ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেসরকারি মালিকানায় বিভিন্ন সময়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের প্রায় ৪০০টির মতো রাবারভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। এ সকল শিল্পকারখানায় দেশে উৎপাদিত রাবার দিয়ে রিক্সা ও অন্যান্য হালকা যানবাহনের টায়ার-টিউব, জুতা, স্যান্ডেল, হোসপাইপ, বাকেট, গ্যাসকেট, ওয়েলসিল, অটোমোবাইল পার্টস, টেক্সটাইল জুট স্পেয়ার্স ইত্যাদি পণ্য তৈরি হচ্ছে। ইতোমধ্যেই কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় ব্যক্তিমালিকানায় একটি ল্যাটেক্স (রাবার) কনসেনট্রেটেড কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
স্বাধীনতার পূর্বে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১০-১৫টি রাবারভিত্তিক ছোট-ছোট কারখানা ছিল। স্বাধীনতাত্তোর সময়ে পর্যায়ক্রমে রাবারের উৎপাদন ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেসরকারি মালিকানায় বিভিন্ন সময়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের প্রায় ৪০০টির মতো রাবারভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। এ সকল শিল্পকারখানায় দেশে উৎপাদিত রাবার দিয়ে রিক্সা ও অন্যান্য হালকা যানবাহনের টায়ার-টিউব, জুতা, স্যান্ডেল, হোসপাইপ, বাকেট, গ্যাসকেট, ওয়েলসিল, অটোমোবাইল পার্টস, টেক্সটাইল জুট স্পেয়ার্স ইত্যাদি পণ্য তৈরি হচ্ছে। ইতোমধ্যেই কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় ব্যক্তিমালিকানায় একটি ল্যাটেক্স (রাবার) কনসেনট্রেটেড কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

০৮:৪২, ৯ মার্চ ২০১৫ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

রাবার শিল্প বাংলাদেশের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকার অবস্থানগত দিক, মাটির ক্ষয় ও কম উর্বরতার কারণে ফসলের আবাদ ভালো হয় না। এ সকল ভূমিতে কেবলমাত্র রাবার, চা ও বনায়ন করা সম্ভব। তবে আর্থিক লাভ, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার সর্বোপরি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় চা ও বনায়নের তুলনায় রাবার চাষ লাভজনক।

বাংলাদেশে বন বিভাগ প্রথম ১৯৫২ সালে মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকা হতে কয়েক হাজার রাবার বীজ ও কিছু বাডেড স্ট্যাম্প এনে পরীক্ষামূলকভাবে চট্টগ্রাম ও মধুপুর অঞ্চলে রোপণ করে। ১৯৫৯ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) একজন রাবার বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে রাবার চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন এবং তাঁর সুপারিশের ভিত্তিতে তৎকালীন সরকার বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রাবার চাষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৯৬০ সালে বন বিভাগ ‘রাবার চাষ প্রকল্প’ নামে ৭১০ একরের একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করে এবং ১৯৬০-৬৫ সালের মধ্যে তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়। উক্ত প্রকল্পটি সংশোধন করে ৩,০০০ একর রাবার বাগান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন বিভাগ ১৯৬২ সালে বর্তমান বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফআইডিসি)-এর উপর রাবার চাষ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব ন্যস্ত করে। ১৯৬৫ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত আরও ১০,৫০০ একর রাবার বাগান সৃষ্টি ও প্রাথমিকভাবে রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য আরও একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

রাবার বাগান সৃষ্টির জন্য বিএফআইডিসি’র অধীনে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে ১৯৬০ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরে ৭,৭০০ একর এলাকাকে রাবার বাগানের জন্যে নির্বাচন করা হয়। তবে উক্ত সময়কালে প্রত্যাশিত উৎপাদনশীল এলাকা ২,০০০ একরের মধ্যে মাত্র ৪৪০ একর উৎপাদনের আওতায় আসে। এ পরিস্থিতিতে ১৯৭৪ সালে সরকার রাবার চাষ প্রকল্পের জন্য একটি পুনর্বাসন কর্মসূচি প্রণয়ন করে পুনঃবাগান সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থিক বিনিয়োগ, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সুবিধা প্রবর্তনের সুপারিশ করে।

বাংলাদেশের যে সকল ভূমি খাদ্যশস্য বা অন্যান্য ফসলাদির জন্য অনুপযুক্ত, ঐ সকল অনাবাদি/পতিত জমিতে ব্যাপকভাবে রাবার চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা বিবেচনায় সরকার দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ১৯৮০-৮১ থেকে ১৯৮৪-৮৫ সাল পর্যন্ত সরকারি খাতে ৪০,০০০ একর এবং ব্যক্তিমালিকানায় ৩০,০০০ একর অর্থাৎ মোট ৭০,০০০ একরে রাবার বাগান সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

১৯৮০-৮১ সাল থেকে বিএফআইডিসি উচ্চফলনশীল জাতের রাবার চাষ শুরু করে। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বিএফআইডিসি চট্টগ্রাম, সিলেট ও মধুপুর অঞ্চলে ১৬টি রাবার বাগানের অধীনে মোট ৩২,৬৩৫ একরে রাবার বাগান সৃষ্টি করে। বিএফআইডিসি’র উত্তোলিত রাবার বাগানের প্রায় ৮০% গাছ মালয়েশিয়ার RRIM-600 (১৯৩৭-১৯৪১ সাল) এবং PB-235 Clone দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। এ সকল ক্লোনের প্রতি গাছ হতে গড়ে বার্ষিক ৩ কেজি হারে রাবার পাওয়া যায়। বর্তমানে বিএফআইডিসি’র বাগানসমূহে প্রায় ৩৫ লাখ রাবার গাছ রয়েছে যার মধ্যে ২০ লাখ রাবার গাছ উৎপাদনের আওতায় আছে।

অন্যদিকে দেশে রাবার চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান করে ১৮ সদস্যের একটি স্থায়ী কমিটির মাধ্যমে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ২৫ একর হারে ১৩০২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৩২,৫৫০ একর জমি বরাদ্দ দেয়। তাছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ১৩ হাজার একর এবং বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি, চা বাগান মালিকসহ ছোট ও ক্ষুদ্র আকারের ব্যক্তি মালিকানাধীনে আরও ২০,৮০০ একর রাবার বাগানের তথ্য পাওয়া যায়।

১৯৬৭-৬৮ সালে বাণিজ্যিকভাবে দেশে প্রথম বিএফআইডিসি ০.৭ মেট্রিক টন রাবার উৎপাদন করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭২-৭৩ সালে ৫৫ মেট্রিক টন এবং ১৯৭৮-৮৯ সালে ৪২৯ মেট্রিক টন রাবার উৎপাদিত হয়। ২০০৮-০৯ সালে বিএফআইডিসি প্রায় ৬,১০০ মেট্রিক টন এবং প্রাইভেট সেক্টরে প্রায় ৫,৫০০ মেট্রিক টন রাবার উৎপাদিত হয়েছে। বিএফআইডিসি’র উৎপাদিত রাবার খোলা টেন্ডারে প্রতি কেজি ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ হিসেবে কেবলমাত্র ২০০৮-০৯ সালে দেশে উৎপাদিত ১১,৬০০ মেট্রিক টন রাবারের গড় বিক্রয়মূল্য ২৫৫ কোটি টাকা।

রাবার গাছ সাধারণত ৩২-৩৪ বছর বয়সে উৎপাদন আয়ু শেষ করে। আয়ু অতিক্রান্ত গাছগুলি কেটে পুনঃবাগান সৃষ্টি করা হয়। এ সকল গাছ থেকে গড়ে ৫-৮ ঘনফুট গোল কাঠ পাওয়া যায়। আমাদের দেশে প্রকৃতপক্ষে কি পরিমাণ প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদন ও ব্যবহূত হয় এবং দেশে এ যাবত কি পরিমাণ রাবার ভিত্তিক শিল্প ও কারখানা গড়ে উঠেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। বাংলাদেশে রাবার উৎপাদন ও ব্যবহারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান (মেট্রিক টনে) নিম্নরূপ:

বছর ১৯৭৮-১৯৭৯ ১৯৮৯-১৯৯০ ১৯৯৯-২০০০ ২০০৯-২০১০
মোট উৎপাদন ৫০০ ১,৯০০ ১৫,০০০ ১৩,৫০০
মোট ব্যবহার ৫,৫০০ ১১,৪০০ ২১,৯০০ ৪৪,৪০০
আমদানি ৫,০০০ ৯,৫০০ ৬,৯০০ ৩০,৯০০

স্বাধীনতার পূর্বে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১০-১৫টি রাবারভিত্তিক ছোট-ছোট কারখানা ছিল। স্বাধীনতাত্তোর সময়ে পর্যায়ক্রমে রাবারের উৎপাদন ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেসরকারি মালিকানায় বিভিন্ন সময়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের প্রায় ৪০০টির মতো রাবারভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। এ সকল শিল্পকারখানায় দেশে উৎপাদিত রাবার দিয়ে রিক্সা ও অন্যান্য হালকা যানবাহনের টায়ার-টিউব, জুতা, স্যান্ডেল, হোসপাইপ, বাকেট, গ্যাসকেট, ওয়েলসিল, অটোমোবাইল পার্টস, টেক্সটাইল জুট স্পেয়ার্স ইত্যাদি পণ্য তৈরি হচ্ছে। ইতোমধ্যেই কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় ব্যক্তিমালিকানায় একটি ল্যাটেক্স (রাবার) কনসেনট্রেটেড কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

নিকট অতীতেও বাংলাদেশে রাবার কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহূত হতো। বর্তমানে বিএফআইডিসি’র রাবার গাছ হতে আহরিত কাঠ কর্পোরেশনের কাঠ প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ইউনিটে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ট্রিটমেন্ট ও সিজনিং করে উন্নতমানের আসবাবপত্র যথা: সোফাসেট, খাট, দরজা-জানালা ইত্যাদি তৈরি করা হচ্ছে। রাবার কাঠ শক্ত, টেকসই ও উন্নতমানের, যা প্রায় প্রথম শ্রেণির কাঠের সঙ্গে তুলনীয়।  [মো. ইলিয়াস]