"রহমান, মুখলেসুর" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(Added Ennglish article link)
 
 
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
 
[[Category:বাংলাপিডিয়া]]
 
[[Category:বাংলাপিডিয়া]]
 +
[[Image:RahmanMukhlesur.jpg|thumb|right|400px|মুখলেসুর রহমান]]
 
'''রহমান, মুখলেসুর''' (১৯২৪-১৯৯৩)  ঐতিহাসিক। তিনি শিল্পকলার ইতিহাসে বিশেষজ্ঞ ছিলেন। ১৯২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার মুগবেলাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলভী মিজানুর রহমান ছিলেন পুলিশ বিভাগের একজন অফিসার।
 
'''রহমান, মুখলেসুর''' (১৯২৪-১৯৯৩)  ঐতিহাসিক। তিনি শিল্পকলার ইতিহাসে বিশেষজ্ঞ ছিলেন। ১৯২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার মুগবেলাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলভী মিজানুর রহমান ছিলেন পুলিশ বিভাগের একজন অফিসার।
  
৫ নং লাইন: ৬ নং লাইন:
  
 
মুখলেসুর রহমান এম.এ পাস করে বেসামরিক সরবরাহ বিভাগে ৫ বছর চাকরি করার পর ১৯৫০ সালের সেপ্টেম্বরে রাজশাহী কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৮ সালের আগস্ট মাসে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়এ প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৯ সালের ১৬ এপ্রিল তিনি  বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের অবৈতনিক কিউরেটর নিযুক্ত হন। ১৯৬৪ সালে জাদুঘর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃত্বাধীনে যাওয়ার পর ১৯৬৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি খন্ডকালীন কিউরেটরের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি জাদুঘরের পরিচালক পদে উন্নীত হন এবং ১৯৮২ সালে একই প্রতিষ্ঠানে ‘শিল্পকলার ইতিহাসের’ অধ্যাপক (Professor of ‘Art History’) পদে নিযুক্ত হন। ১৯৮৬ সালের ৩১ জানুয়ারি মুখলেসুর রহমানের কর্ম জীবনের অবসান ঘটে।
 
মুখলেসুর রহমান এম.এ পাস করে বেসামরিক সরবরাহ বিভাগে ৫ বছর চাকরি করার পর ১৯৫০ সালের সেপ্টেম্বরে রাজশাহী কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৮ সালের আগস্ট মাসে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়এ প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৯ সালের ১৬ এপ্রিল তিনি  বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের অবৈতনিক কিউরেটর নিযুক্ত হন। ১৯৬৪ সালে জাদুঘর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃত্বাধীনে যাওয়ার পর ১৯৬৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি খন্ডকালীন কিউরেটরের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি জাদুঘরের পরিচালক পদে উন্নীত হন এবং ১৯৮২ সালে একই প্রতিষ্ঠানে ‘শিল্পকলার ইতিহাসের’ অধ্যাপক (Professor of ‘Art History’) পদে নিযুক্ত হন। ১৯৮৬ সালের ৩১ জানুয়ারি মুখলেসুর রহমানের কর্ম জীবনের অবসান ঘটে।
 
 
[[Image:RahmanMukhlesur.jpg|thumb|rightমুখলেসুর রহমান
 
]]
 
  
 
মুখলেসুর রহমান ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক ও শিক্ষক। তাঁর প্রচেষ্টায় বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের যথেষ্ট শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে এবং এর একটি সফল উদাহরণ হলো তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত জাদুঘর সাময়িকী Journal of the Varendra Research Museum। শিল্পকলার ইতিহাসের নানা শাখায় গবেষক হিসেবে তিনি দেশে এবং বিদেশে যথেষ্ট প্রশংসা অর্জন করেছেন। ইতিহাস, সাহিত্য এবং জাদুঘরতত্ত্ব নিয়ে তাঁর অর্ধশতকের অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বাংলা ভাষায় গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর ‘মাতৃকা’ এবং ‘পৃথ্বীমাতা ও অন্যান্য প্রবন্ধ’ তবে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি Sculpture in the Varendra Research Museum, A Descriptive Catalogue, যেটি তাঁর মৃত্যুর চার বছর পর ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৯৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।  [মোঃ মুক্তাদির আরিফ মোজাম্মেল]
 
মুখলেসুর রহমান ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক ও শিক্ষক। তাঁর প্রচেষ্টায় বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের যথেষ্ট শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে এবং এর একটি সফল উদাহরণ হলো তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত জাদুঘর সাময়িকী Journal of the Varendra Research Museum। শিল্পকলার ইতিহাসের নানা শাখায় গবেষক হিসেবে তিনি দেশে এবং বিদেশে যথেষ্ট প্রশংসা অর্জন করেছেন। ইতিহাস, সাহিত্য এবং জাদুঘরতত্ত্ব নিয়ে তাঁর অর্ধশতকের অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বাংলা ভাষায় গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর ‘মাতৃকা’ এবং ‘পৃথ্বীমাতা ও অন্যান্য প্রবন্ধ’ তবে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি Sculpture in the Varendra Research Museum, A Descriptive Catalogue, যেটি তাঁর মৃত্যুর চার বছর পর ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৯৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।  [মোঃ মুক্তাদির আরিফ মোজাম্মেল]

১৪:৫৪, ৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

মুখলেসুর রহমান

রহমান, মুখলেসুর (১৯২৪-১৯৯৩)  ঐতিহাসিক। তিনি শিল্পকলার ইতিহাসে বিশেষজ্ঞ ছিলেন। ১৯২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার মুগবেলাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলভী মিজানুর রহমান ছিলেন পুলিশ বিভাগের একজন অফিসার।

মুখলেসুর রহমানের শিক্ষা জীবন শুরু হয় বর্ধমানের বৈদ্য দোগাছী মিডল ইংরেজি স্কুলে। তিনি ১৯৩৮ সালে খড়গপুরের বেঙ্গল নাগপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর কলকাতার রিপন কলেজ (বর্তমান সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) থেকে ১৯৪০ সালে আই.এ পাস করেন এবং ১৯৪৩ সালে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৪৫ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে এম.এ পাস করেন। ১৯৬৫ সালে মুখলেসুর রহমান লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ থেকে পি-এইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর অভিসন্দর্ভের বিষয় ছিল The Origin, Development and Iconography of Mahadevi Durga in Indian Hindu Religion (ভারতীয় হিন্দুধর্মে মহাদেবী দুর্গার উদ্ভব, ক্রম বিকাশ এবং মূর্তিতত্ত্ব)।

মুখলেসুর রহমান এম.এ পাস করে বেসামরিক সরবরাহ বিভাগে ৫ বছর চাকরি করার পর ১৯৫০ সালের সেপ্টেম্বরে রাজশাহী কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৮ সালের আগস্ট মাসে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়এ প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৯ সালের ১৬ এপ্রিল তিনি  বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের অবৈতনিক কিউরেটর নিযুক্ত হন। ১৯৬৪ সালে জাদুঘর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃত্বাধীনে যাওয়ার পর ১৯৬৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি খন্ডকালীন কিউরেটরের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি জাদুঘরের পরিচালক পদে উন্নীত হন এবং ১৯৮২ সালে একই প্রতিষ্ঠানে ‘শিল্পকলার ইতিহাসের’ অধ্যাপক (Professor of ‘Art History’) পদে নিযুক্ত হন। ১৯৮৬ সালের ৩১ জানুয়ারি মুখলেসুর রহমানের কর্ম জীবনের অবসান ঘটে।

মুখলেসুর রহমান ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক ও শিক্ষক। তাঁর প্রচেষ্টায় বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের যথেষ্ট শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে এবং এর একটি সফল উদাহরণ হলো তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত জাদুঘর সাময়িকী Journal of the Varendra Research Museum। শিল্পকলার ইতিহাসের নানা শাখায় গবেষক হিসেবে তিনি দেশে এবং বিদেশে যথেষ্ট প্রশংসা অর্জন করেছেন। ইতিহাস, সাহিত্য এবং জাদুঘরতত্ত্ব নিয়ে তাঁর অর্ধশতকের অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বাংলা ভাষায় গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর ‘মাতৃকা’ এবং ‘পৃথ্বীমাতা ও অন্যান্য প্রবন্ধ’ তবে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি Sculpture in the Varendra Research Museum, A Descriptive Catalogue, যেটি তাঁর মৃত্যুর চার বছর পর ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৯৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।  [মোঃ মুক্তাদির আরিফ মোজাম্মেল]