মালদা জামে মসজিদ

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৪:৪৩, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)

মালদা জামে মসজিদ  পুরানো মালদাহ শহরের দক্ষিণাংশে অবস্থিত। এটিকে বাংলার সুলতানী ও মুগল স্থাপত্যের মধ্যবর্তী অবস্থার ইমারত বলে বিবেচনা করা হয়। শিলালিপি অনুযায়ী, এ অঞ্চল যখন প্রাথমিক মুগলদের অধিকারে ছিল, তখন ১৫৯৬ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। নদীর ঠিক পূর্ব পার্শ্বেই নির্মিত মসজিদটি বিপরীত দিকে অবস্থিত নিমসরাই মিনার থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এর নকশা পুরোপুরিভাবেই ছিল মুগল যা ইতোমধ্যে উত্তর ভারতে বিকাশ লাভ করেছিল। মসজিদটি সম্মুখে আচ্ছাদিত অঙ্গনসহ আয়তাকার নামায কক্ষ নিয়ে গঠিত এবং চারদিকে বেষ্টনী দেওয়াল দ্বারা ঘেরা। অঙ্গনের মাঝে রয়েছে অবতরণের জন্য তিনটি ধাপ ও একটি ঝর্ণাসহ একটি জলাধার। কোণার মোটা বুরুজগুলি দেওয়ালগুলিকে অধিকতর দৃঢ়তা দিয়েছে। এগুলির মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রশস্তটি ছিল দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে। এটি প্রাথমিক মুসলিম রীতি অনুযায়ী মুয়াজ্জিনের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহূত হতো। পূর্বাংশের বেষ্টনী দেওয়ালের মাঝখানে মসজিদে প্রবেশ করার জন্য একটি প্রবেশপথ আছে। এটি প্রার্থনা কক্ষের প্রক্ষিপ্ত প্রবেশ পথের মতোই ছিল।

নামায কক্ষের সঠিক পরিমাপ হলো উত্তর-দক্ষিণে ২২ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ৮মিটার। এটিতে তিনটি অংশ বিদ্যমান। এর মধ্যে বক্রাকৃতির উচ্চতাসহ দুটি পার্শ্ব অংশ আছে এবং তা মুগল প্রকৃতির গম্বুজ দ্বারা আচ্ছাদিত। এর কেন্দ্রীয় চোঙ্গাকৃতি খিলান ছাদের মূল অংশে অদ্ভুত ধরনের পিশতাক আছে যা সম্মুখে পর্দা দিয়ে ঢাকা ছিল। পিশতাক বড় আকারের প্রক্ষিপ্ত প্রবেশপথের মতো দেখালেও মুগল স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ইওয়ান (উন্মুক্ত খিলান ছাদ) আকারের ছিল না। কিন্তু এটি সালতানাত রীতির প্রধান প্রবেশপথের আকারদান করে, কিন্তু পার্শ্বস্থ দুটি ক্ষুদ্রবুরুজসহ এর দ্বি-কেন্দ্রিক ও খাঁজবিশিষ্ট খিলান ছিল বৈশিষ্ট্যসূচকভাবে মুগল রীতির।নির্মাণ রীতির এ মিশ্রণ নির্মাতার ইচ্ছা এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত কারিগরদের ঐতিহ্যগত পরিকল্পনার মধ্যে সমঝোতার কারণে হয়েছিল।

মালদা জামে মসজিদ

সুলতানি যুগের মসজিদগুলির মতো এ ইমারতের পার্শ্বস্থ অংশের কার্নিসগুলি ধনুকাকৃতির এবং কোণার বুরুজগুলি আংটি নকশায় সজ্জিত। অন্যদিকে সুলতানি যুগে ইমারতগুলির ইট ছিল অনাবৃত, কিন্তু এ ইমারতের সব অংশ ছিল আস্তর দিয়ে ঢাকা। এ রীতি বাংলার মুগলবৈশিষ্ট্যসূচক।

সমকালীন রাজমহলের মসজিদের (আনু. ১৫৯৫-১৬০৫ খ্রি) মতো মসজিদটি প্রবেশপথ পরিকল্পনাসহ ধারাবাহিক পরীক্ষাসমূহের মধ্যে শেষ উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়। এ রীতি হযরত পান্ডুয়ার আদিনা মসজিদ থেকে শুরু করে গৌড়-লখনৌতির গুণমন্ত মসজিদ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। মুগলরীতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সাথে সাথে পুরানো মিশ্ররীতি বিলুপ্ত স্থাপত্য হয়ে যায় এবং সেখানে ইওয়ান প্রক্ষিপ্ত প্রবেশপথ বাংলার মুগল স্থাপত্য নকশার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রূপে পরিগণিত হয়।    [এ.বি.এম হোসেন]