ভাদুঘর মসজিদ

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৪:৩৫, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)

ভাদুঘর মসজিদ  ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা সদর থেকে প্রায় ৩ কিমি দক্ষিণে ভাদুঘর গ্রামে অবস্থিত। কিছুদিন পূর্বে মসজিদটির আমূল সংস্কার করা হয়েছে। সে সময়ে এর উত্তর, দক্ষিণ এবং পূর্ব দিকে সম্প্রসারণ করা হয়। মসজিদের বর্ধিত অংশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে একটি নতুন মিনারও সংযোজন করা হয়।

সম্পূর্ণ ইটের তৈরি এবং পলেস্তারায় আচ্ছাদিত মসজিদটির ভূমি পরিকল্পনা বর্গাকার (অভ্যন্তরভাগে প্রতিবাহুর দৈর্ঘ্য ৬.৫৮ মি)। এর বাইরের দিকের চারকোণে রয়েছে চারটি অষ্টভুজাকৃতি পার্শ্ববুরুজ। সবগুলি পার্শ্ববুরুজই বপ্র (Parapet) ছাড়িয়ে উপরে উঠেছে এবং এগুলির শীর্ষে রয়েছে ছত্রী এবং ক্ষুদ্রাকৃতির গম্বুজ (Cupola)। এগুলি বর্তমানে সংস্কার করা হয়েছে। মসজিদটির পূর্ব দিকের সম্মুখভাগে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে একটি করে খিলানযুক্ত প্রবেশপথ রয়েছে। পূর্ব দেয়ালের কেন্দ্রীয় প্রবেশ পথটি এর দুই পার্শ্বস্থ প্রবেশপথ দুটির চেয়ে বড়। পশ্চিম দেয়ালের ভিতরের অংশে রয়েছে তিনটি অবতল আকৃতির মিহরাব। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় মিহরাবটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং খানিকটা বাইরের দিকে প্রক্ষিপ্ত। এই প্রক্ষেপণের দুই প্রান্তে রয়েছে ক্ষুদ্রাকৃতির মিনার (Turret)। পূর্ব দিকের কেন্দ্রীয় প্রবেশপথেও এরকম ক্ষুদ্রাকৃতির মিনার শোভিত প্রক্ষেপণ ছিল, যার চিহ্ন এখনও দৃশ্যমান।

বর্গাকৃতির প্রার্থনা কক্ষের ছাদটি বৃত্তাকার ড্রামের উপর স্থাপিত একটি বৃহৎ অর্ধগোলাকার গম্বুজে আচ্ছাদিত। গম্বুজের শীর্ষে রয়েছে পদ্ম-কলস শোভিত শীর্ষচূড়া (Finial), যা বর্তমানে খুবই ত্রুটিপূর্ণ। চার দেয়ালে চারটি বদ্ধ খিলান এবং চারকোণে চারটি অর্ধগম্বুজ আকৃতির স্কুইঞ্চ (Squinch) গম্বুজটির ভার বহন করছে। এই বদ্ধ খিলান এবং স্কুইঞ্চ-এর মধ্যবর্তী ত্রিকোণ অংশগুলি সুলতানি বাংলায় প্রচলিত রীতিতে উপর্যুপরি সজ্জিত ইট দ্বারা নির্মিত বাংলা পেন্ডেন্টিভ দিয়ে পূরণ করা হয়েছে। মুগল রীতি অনুযায়ী মসজিদটির বপ্র এবং কার্নিস সমান্তরালভাবে নির্মিত।

ভাদুঘর মসজিদ, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া

বর্তমানে মসজিদটির বাইরের দেয়াল পুরোপুরি পলেস্তারা দিয়ে আচ্ছাদিত এবং চুনকাম করা। তবে আদিতে দেয়ালগাত্রে যে আয়তাকার এবং বর্গাকার খোপ নকশা ছিল, তার চিহ্ন এখনও খুঁজে পাওয়া যায়। কেন্দ্রীয় মিহরাবের আয়তাকার প্যানেলটির গায়ে রয়েছে সম্প্রতিকালে সংযোজিত ফুল নকশা, গম্বুজের ভেতরের দিকে শীর্ষে পলেস্তারা নির্মিত স্তরীকৃত গোলাপ নকশা।

কেন্দ্রীয় প্রবেশপথের উপরে স্থাপিত ফারসি শিলালিপি অনুসারে জানা যায়, সম্রাট আওরঙ্গজেবএর শাসনামলে ১৬৭৩ খ্রিস্টাব্দে জনৈক নূর মুহম্মদ এই মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদটি সম্ভবত এ পর্যন্ত জানা বাংলায় ক্ষুদ্রাকৃতির মিনার শোভিত প্রক্ষেপণযুক্ত এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদের প্রাচীনতম নিদর্শন। মুগল স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্যসূচক এ প্রক্ষেপণ বগুড়ার শেরপুরে অবস্থিত তিন গম্বুজ বিশিষ্ট খন্দকারতলা মসজিদএ (১৬৩২ খ্রি) সর্বপ্রথম পরিলক্ষিত হয়।  [এম.এ বারি]