বায়োসেফটি

বায়োসেফটি (Biosafety) বিজ্ঞানের এমন একটি শাখা যা বিভিন্ন বায়োহ্যাজার্ড (ক্ষতিকর অনুজীব এবং বিপদজনক জৈবিক পদার্থসমূহ) এর নিরাপদ ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রণ নির্দেশ করে, এবং পাশাপাশি জৈবিক অখন্ডতার ক্ষয় রোধ করে।

স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসাক্ষেত্রে বায়োসেফটি একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি যা বায়োহ্যাজার্ড সনাক্তকরণ, মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ সকল ঝুঁকিপূর্ণ জৈব পদার্থের কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা এবং পরিবেশে ছড়িয়ে যাওয়া রোধ করতে কাজ করে। বায়োসেফটির কার্যক্রম দুইটি মূলনীতির উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত- ১) বায়োরিস্ক মূল্যায়ন এবং ২) বায়োকন্টামিনেশন। বায়োরিস্ক মূল্যায়ন কার্যক্রম মূলত গ্রহণযোগ্য এবং অগ্রহণযোগ্য বিভিন্ন ঝুঁকি সনাক্তকরণ, বায়োহ্যাজার্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট বায়োসিকিউরিটির ঝুঁকি এবং তার সম্ভাব্য পরিণতি নির্ণয় করে। ঝুঁকি মূল্যায়নের ফলাফল অনুসারে এটি ক্ষতিকর অণুজীবসমূহকে ৪টি রিস্ক গ্রুপে (RG) বিভক্ত করে, যা ঝুঁকির উর্ধক্রমানুসারে RG1 থেকে RG4 পর্যন্ত যায়। অনিচ্ছাকৃত বিস্তার, দূর্ঘটনাজনিত মুক্তি, হারিয়ে যাওয়া, অপব্যবহার, অননুমোদিত ব্যবহার, বা ইচ্ছাকৃত অননুমোদিত মুক্তি (বায়োটেররিজম) প্রভৃতি কারণে এ ধরনের বায়োরিস্ক দেখা দিতে পারে। অপরদিকে, প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক বায়োকন্টেইনমেন্ট কর্মসূচি কর্মক্ষেত্রে এসকল বায়োহ্যাজার্ড সামলানোর সঠিক পদ্ধতির বর্ণনা দেয় যেখানে এদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সুতরাং, বায়োসেফটি লেভেল (BSL) হচ্ছে একগুচ্ছ বায়োকন্টেইনমেন্টের নির্দেশনা, যা আবদ্ধ পরিমন্ডলে বিপদজনক বায়োহ্যাজার্ডসমূহ ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজন। বায়োসেফটির এসব স্তর কন্টেইনমেন্টের রেঞ্জ অনুসারে সামান্য সতর্কতা সম্পন্ন সর্বনিম্ন BSL-1 (P1) থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা সম্পন্ন BSL-4 (P4) পর্যন্ত হয়ে থাকে। এভাবেই একেকটা বায়োসেফটি লেভেল ব্যবহৃত জীব, উপস্থিত সুযোগ-সুবিধাসমূহ, বিভিন্ন যন্ত্র-সামগ্রীর ব্যবহার এবং কাজের আলোচনা করে থাকে। বায়োসেফটি বিজ্ঞানের অন্যান্য আরো বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমনÑ কৃষি, জৈবপ্রযুক্তি, পরিবেশ বিজ্ঞান, রসায়ন, সিন্থেটিক বায়োলজি এবং এক্সোবায়োলজির সাথেও সংশ্লিষ্ট। এদের মধ্যে কৃষিক্ষেত্রের বায়োসেফটি সম্ভাব্য জিন ফ্লো এর প্রভাব, প্রতিযোগিতা, অন্যান্য জীবে এর প্রভাব, এবং পাশাপাশি এর উৎপাদের অন্যান্য মানুষ বা জীবের উপর ক্ষতিকর কোনো প্রভাব থাকলে তা পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করে। কৃষিক্ষেত্রে এটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ আটকাতে এবং পরিবেশে (মাটি, পানি, বায়ু) ক্ষতিকর জীবাণুর বিস্তার রোধ করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করে। বায়োটেকনোলোজিকাল বায়োসেফটি বলতে জৈবপ্রযুক্তি থেকে উদ্ভূত জীব এবং তাদের তৈরি উৎপাদের থেকে বিভিন্ন সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জীব ও পরিবেশ রক্ষা করতে প্রণীত নীতিকে বোঝায়, যা সিন্থেটিক বায়োলজির বায়োসেফটির সাথে সংগতিপূর্ণ। এক্সোবায়োলজির বায়োসেফটি মূলত বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং আন্তঃগ্রহীয় দূষণরোধের উদ্দেশ্যে কাজ করে। [মো. রাকিবুল ইসলাম]