"বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(Added Ennglish article link)
 
 
৪ নং লাইন: ৪ নং লাইন:
 
কারিগরি ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি তথা মাঠ পর্যায়ের সার্ভেয়র তৈরি করার লক্ষ্যে ১৮৭৬ সালে ঢাকা সার্ভে স্কুল নামে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক ও মূল ভিত্তি। ১৯০৫ সালে ঢাকার নওয়াব আহসানউল্লাহ এই স্কুলটির সার্বিক উন্নয়নের জন্য সহযোগিতাসহ আর্থিক অনুদান দেন। ১৯০৮ সালে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্কুলটির নামকরণ করা হয় আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল। ১৮৭৬ সাল থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত নলগোলায় একটি ভাড়াবাড়িতে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। স্কুলটি ১৯০৬ সালে নওয়াব সলিমুল্লাহর সময় সরকারি উদ্যোগে প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ্ হলের নিকটবর্তী স্থানে এবং ১৯২০ সালে বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয়।
 
কারিগরি ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি তথা মাঠ পর্যায়ের সার্ভেয়র তৈরি করার লক্ষ্যে ১৮৭৬ সালে ঢাকা সার্ভে স্কুল নামে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক ও মূল ভিত্তি। ১৯০৫ সালে ঢাকার নওয়াব আহসানউল্লাহ এই স্কুলটির সার্বিক উন্নয়নের জন্য সহযোগিতাসহ আর্থিক অনুদান দেন। ১৯০৮ সালে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্কুলটির নামকরণ করা হয় আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল। ১৮৭৬ সাল থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত নলগোলায় একটি ভাড়াবাড়িতে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। স্কুলটি ১৯০৬ সালে নওয়াব সলিমুল্লাহর সময় সরকারি উদ্যোগে প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ্ হলের নিকটবর্তী স্থানে এবং ১৯২০ সালে বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয়।
  
 +
[[Image:BUET2.jpg|thumb|right|400px|বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়]]
 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৎকালীন সরকার এই অঞ্চলের উন্নয়নের বিষয় বিবেচনা করে দক্ষ জনশক্তির অভাবের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উপলব্ধি করে একটি কমিটি গঠন করে এবং উক্ত কমিটি যন্ত্রকৌশল, তড়িৎ কৌশল, কেমিকৌশল ও পুরকৌশলে ৪ বছর মেয়াদি ডিগ্রির জন্য ঢাকায় একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে। এর ভিত্তিতেই ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সে ২৪০ জন ছাত্রভর্তির ব্যবস্থা করা হয়।
 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৎকালীন সরকার এই অঞ্চলের উন্নয়নের বিষয় বিবেচনা করে দক্ষ জনশক্তির অভাবের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উপলব্ধি করে একটি কমিটি গঠন করে এবং উক্ত কমিটি যন্ত্রকৌশল, তড়িৎ কৌশল, কেমিকৌশল ও পুরকৌশলে ৪ বছর মেয়াদি ডিগ্রির জন্য ঢাকায় একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে। এর ভিত্তিতেই ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সে ২৪০ জন ছাত্রভর্তির ব্যবস্থা করা হয়।
  
১১ নং লাইন: ১২ নং লাইন:
  
 
১৯৬২ সালেই স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদ গঠিত হয় এবং টেক্সাস এ অ্যান্ড এম কলেজের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এভাবেই প্রথমে প্রকৌশল ও স্থাপত্য এ দুটি অনুষদের অধীন পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, কেমিকৌশল, ধাতব কৌশল ও স্থাপত্য বিভাগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাকালে মোট আসন সংখ্যা ছিল ২৪০। ১৯৬৪ সালে ৭ তলাবিশিষ্ট পুরকৌশল ভবনের ভিত্তি স্থাপিত হয় এবং আসন সংখ্যা ৩৬০-এ উন্নীত করা হয়। ১৯৬৯-৭০ সাল পর্যন্ত আসন সংখ্যা ছিল ৪২০। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে এর নামকরণ হয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৭৬-৭৮ শিক্ষাবর্ষে এর আসন সংখ্যা ৫১০-এ বৃদ্ধি করা হয়। পরবর্তীকালে বিদেশি, আদিবাসী এবং সামরিক বাহিনীর জন্য অতিরিক্ত ৫০টি আসন চালু করা হয়েছিল। এ পরিক্রমায় ২০১০-১১ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদের অধীনে ১৬টি বিভাগে স্নাতক পর্যায়ে মোট ৯৬৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে চারটি আসন আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল।
 
১৯৬২ সালেই স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদ গঠিত হয় এবং টেক্সাস এ অ্যান্ড এম কলেজের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এভাবেই প্রথমে প্রকৌশল ও স্থাপত্য এ দুটি অনুষদের অধীন পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, কেমিকৌশল, ধাতব কৌশল ও স্থাপত্য বিভাগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাকালে মোট আসন সংখ্যা ছিল ২৪০। ১৯৬৪ সালে ৭ তলাবিশিষ্ট পুরকৌশল ভবনের ভিত্তি স্থাপিত হয় এবং আসন সংখ্যা ৩৬০-এ উন্নীত করা হয়। ১৯৬৯-৭০ সাল পর্যন্ত আসন সংখ্যা ছিল ৪২০। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে এর নামকরণ হয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৭৬-৭৮ শিক্ষাবর্ষে এর আসন সংখ্যা ৫১০-এ বৃদ্ধি করা হয়। পরবর্তীকালে বিদেশি, আদিবাসী এবং সামরিক বাহিনীর জন্য অতিরিক্ত ৫০টি আসন চালু করা হয়েছিল। এ পরিক্রমায় ২০১০-১১ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদের অধীনে ১৬টি বিভাগে স্নাতক পর্যায়ে মোট ৯৬৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে চারটি আসন আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল।
 
 
[[Image:BUET2.jpg|thumb|right|বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়]]
 
 
  
 
বর্তমানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৭,০০০ জন ছাত্র-ছাত্রীর জন্য রয়েছে মোট ৮টি আবাসিক ছাত্রাবাস, তন্মধ্যে ছাত্রীদের জন্য ১টি পৃথক ছাত্রীনিবাস ছাড়াও কেবল স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছাত্রদের জন্য ১টি ছাত্রাবাস আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক এবং প্রভাষকসহ মোট শিক্ষক পদের সংখ্যা ৫৯২ জন। ২০১১ সালে প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন এবং বাকিরা বিভিন্ন গবেষণা ও উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশে অবস্থান করছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনার জন্য নিয়োজিত আছেন ২৩০ জন কর্মকর্তা ও ৯৫২ জন কর্মচারি। বিভিন্ন পাঠ্যক্রম ও শিক্ষা কার্যক্রম ছাড়াও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে।
 
বর্তমানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৭,০০০ জন ছাত্র-ছাত্রীর জন্য রয়েছে মোট ৮টি আবাসিক ছাত্রাবাস, তন্মধ্যে ছাত্রীদের জন্য ১টি পৃথক ছাত্রীনিবাস ছাড়াও কেবল স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছাত্রদের জন্য ১টি ছাত্রাবাস আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক এবং প্রভাষকসহ মোট শিক্ষক পদের সংখ্যা ৫৯২ জন। ২০১১ সালে প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন এবং বাকিরা বিভিন্ন গবেষণা ও উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশে অবস্থান করছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনার জন্য নিয়োজিত আছেন ২৩০ জন কর্মকর্তা ও ৯৫২ জন কর্মচারি। বিভিন্ন পাঠ্যক্রম ও শিক্ষা কার্যক্রম ছাড়াও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে।
২৪ নং লাইন: ২১ নং লাইন:
 
লেখাপড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও শরীরচর্চামূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তর প্রতিবছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে থাকে। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বরাবরই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রথম পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে এবং প্রায়ই পুরস্কার অর্জন করে।
 
লেখাপড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও শরীরচর্চামূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তর প্রতিবছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে থাকে। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বরাবরই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রথম পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে এবং প্রায়ই পুরস্কার অর্জন করে।
  
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মধ্যে ২০ জন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন।
+
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মধ্যে ২০ জন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন। [মাকসুদ হেলালী]
 
 
[মাকসুদ হেলালী]
 
 
 
[[en:Bangladesh University of Engineering and Technology]]
 
 
 
[[en:Bangladesh University of Engineering and Technology]]
 
 
 
[[en:Bangladesh University of Engineering and Technology]]
 
  
[[en:Bangladesh University of Engineering and Technology]]
 
  
 
[[en:Bangladesh University of Engineering and Technology]]
 
[[en:Bangladesh University of Engineering and Technology]]

১৩:১৯, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়  প্রকৌশল তথা কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষস্থানীয় ও প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রধানত পাঁচটি বহুতলবিশিষ্ট ভবন সমন্বয়ে রাজধানী শহর ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।

কারিগরি ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি তথা মাঠ পর্যায়ের সার্ভেয়র তৈরি করার লক্ষ্যে ১৮৭৬ সালে ঢাকা সার্ভে স্কুল নামে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক ও মূল ভিত্তি। ১৯০৫ সালে ঢাকার নওয়াব আহসানউল্লাহ এই স্কুলটির সার্বিক উন্নয়নের জন্য সহযোগিতাসহ আর্থিক অনুদান দেন। ১৯০৮ সালে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্কুলটির নামকরণ করা হয় আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল। ১৮৭৬ সাল থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত নলগোলায় একটি ভাড়াবাড়িতে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। স্কুলটি ১৯০৬ সালে নওয়াব সলিমুল্লাহর সময় সরকারি উদ্যোগে প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ্ হলের নিকটবর্তী স্থানে এবং ১৯২০ সালে বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৎকালীন সরকার এই অঞ্চলের উন্নয়নের বিষয় বিবেচনা করে দক্ষ জনশক্তির অভাবের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উপলব্ধি করে একটি কমিটি গঠন করে এবং উক্ত কমিটি যন্ত্রকৌশল, তড়িৎ কৌশল, কেমিকৌশল ও পুরকৌশলে ৪ বছর মেয়াদি ডিগ্রির জন্য ঢাকায় একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে। এর ভিত্তিতেই ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সে ২৪০ জন ছাত্রভর্তির ব্যবস্থা করা হয়।

১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে রূপান্তরিত হয়। ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পূর্ব পাকিস্তান সরকার এই কলেজকে পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, কেমিকৌশল ও তড়িৎ কৌশলে ডিগ্রি প্রদানের অনুমোদন দেয় এবং এ সময় কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়।

কলেজের পাঠক্রম ও ল্যাবরেটরি উন্নয়নে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় (তৎকালীন টেক্সাস এ অ্যান্ড এম কলেজ) পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ ও লাইব্রেরি উন্নয়নে এশিয়াটিক সোসাইটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ১৯৬১ সালে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ ড. এম.এ রশীদ কারিগরি শিক্ষা পরিচালকের পদে যোগদান করেন এবং তাঁর সক্রিয় সহযোগিতায় ১৯৬২ সালের ১ জুন থেকে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে পূর্ব পাকিস্তান প্রকৌশল ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। ড. এম.এ রশীদ প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর নিযুক্ত হন। খ্যাতনামা গণিতজ্ঞ এম.এ জববার ছিলেন প্রথম রেজিস্ট্রার এবং কম্পট্রোলার ছিলেন মমতাজউদ্দিন আহমেদ।

১৯৬২ সালেই স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদ গঠিত হয় এবং টেক্সাস এ অ্যান্ড এম কলেজের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এভাবেই প্রথমে প্রকৌশল ও স্থাপত্য এ দুটি অনুষদের অধীন পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, কেমিকৌশল, ধাতব কৌশল ও স্থাপত্য বিভাগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাকালে মোট আসন সংখ্যা ছিল ২৪০। ১৯৬৪ সালে ৭ তলাবিশিষ্ট পুরকৌশল ভবনের ভিত্তি স্থাপিত হয় এবং আসন সংখ্যা ৩৬০-এ উন্নীত করা হয়। ১৯৬৯-৭০ সাল পর্যন্ত আসন সংখ্যা ছিল ৪২০। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে এর নামকরণ হয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৭৬-৭৮ শিক্ষাবর্ষে এর আসন সংখ্যা ৫১০-এ বৃদ্ধি করা হয়। পরবর্তীকালে বিদেশি, আদিবাসী এবং সামরিক বাহিনীর জন্য অতিরিক্ত ৫০টি আসন চালু করা হয়েছিল। এ পরিক্রমায় ২০১০-১১ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদের অধীনে ১৬টি বিভাগে স্নাতক পর্যায়ে মোট ৯৬৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে চারটি আসন আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল।

বর্তমানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৭,০০০ জন ছাত্র-ছাত্রীর জন্য রয়েছে মোট ৮টি আবাসিক ছাত্রাবাস, তন্মধ্যে ছাত্রীদের জন্য ১টি পৃথক ছাত্রীনিবাস ছাড়াও কেবল স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছাত্রদের জন্য ১টি ছাত্রাবাস আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক এবং প্রভাষকসহ মোট শিক্ষক পদের সংখ্যা ৫৯২ জন। ২০১১ সালে প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন এবং বাকিরা বিভিন্ন গবেষণা ও উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশে অবস্থান করছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনার জন্য নিয়োজিত আছেন ২৩০ জন কর্মকর্তা ও ৯৫২ জন কর্মচারি। বিভিন্ন পাঠ্যক্রম ও শিক্ষা কার্যক্রম ছাড়াও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে।

এই বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক ডিগ্রি ছাড়াও স্নাতকোত্তর কোর্সে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে এম.এসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, এম ইঞ্জিনিয়ারিং, এম.ফিল, এম.ইউআরপি, এম.আর্ক এবং পিএইচ.ডি ডিগ্রি প্রদান করে চলেছে। বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত সমাবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিগ্রি ছাড়াও উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়ে থাকে।

শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষদের অধীনে বিভিন্ন বিভাগ ছাড়াও গবেষণা কার্যক্রমের অগ্রগতি সাধনের জন্য দুটি ইনস্টিটিউট, দুটি সেন্টার এবং একটি কনটিনিউইং এডুকেশন পরিদপ্তর রয়েছে। এগুলি বিভিন্ন গবেষণা কাজে অব্যাহতভাবে অবদান রেখে চলেছে। দেশের শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থা, উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মাণ কাজের মান বজায় রাখার কাজে ব্যুরো অব রিসার্চ অ্যান্ড টেস্টিং ও কম্পিউটার সেন্টার কাজ করে যাচ্ছে।

লেখাপড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও শরীরচর্চামূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তর প্রতিবছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে থাকে। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বরাবরই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রথম পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে এবং প্রায়ই পুরস্কার অর্জন করে।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মধ্যে ২০ জন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন। [মাকসুদ হেলালী]