"জামিল, গওহর" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(fix: image tag)
 
 
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
 
[[Category:Banglapedia]]
 
[[Category:Banglapedia]]
'''জামিল'''''', ''''''গওহর '''(১৯২৫-১৯৮০)  নৃত্যশিল্পী। ১৯২৫ সালে বিক্রমপুরের সিরাজদীখান গ্রামে এক হিন্দু পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিল গণেশনাথ, কিন্ত রওশন নামে এক মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করার পর তাঁর নাম হয় গওহর জামিল। তাঁর স্ত্রীই বাংলাদেশের প্রখ্যাত অভিনেত্রী  [[জামিল, রওশন|রওশন জামিল]]।  
+
[[Image:JamilGauhar.jpg|thumb|400px|right|গওহর জামিল]]
 +
'''জামিল, গওহর''' (১৯২৫-১৯৮০)  নৃত্যশিল্পী। ১৯২৫ সালে বিক্রমপুরের সিরাজদীখান গ্রামে এক হিন্দু পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিল গণেশনাথ, কিন্ত রওশন নামে এক মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করার পর তাঁর নাম হয় গওহর জামিল। তাঁর স্ত্রীই বাংলাদেশের প্রখ্যাত অভিনেত্রী  [[জামিল, রওশন|রওশন জামিল]]।  
  
গওহর জামিল শৈশব থেকেই নৃত্যকলার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন এবং মারু থাপা পিল্লাই ([[১০৪৩০৭|ভরতনাট্যম]]), বালকেষ্ট মেনন (কথাকলি), রামনারায়ণ মিত্র ([[১০০৮০৬|কত্থক]]) প্রমুখ প্রখ্যাত নৃত্যগুরুর নিকট নৃত্য শিক্ষা করেন।  [[১০০৬২৫|উদয়শঙ্কর]] এবং ভাস্করদেবও তাঁর নৃত্যগুরু ছিলেন। তিনি কিছুদিন  [[১০৪১১৯|বুলবুল ললিতকলা একাডেমী]] এবং কামরুন্নেসা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি তাঁর নিজস্ব শিক্ষালয়  [[১০১৯৮৮|জাগো আর্ট সেন্টার]] প্রতিষ্ঠা করেন।  
+
গওহর জামিল শৈশব থেকেই নৃত্যকলার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন এবং মারু থাপা পিল্লাই ([[ভরতনাট্যম|ভরতনাট্যম]]), বালকেষ্ট মেনন (কথাকলি), রামনারায়ণ মিত্র ([[কত্থক|কত্থক]]) প্রমুখ প্রখ্যাত নৃত্যগুরুর নিকট নৃত্য শিক্ষা করেন।  [[উদয়শঙ্কর|উদয়শঙ্কর]] এবং ভাস্করদেবও তাঁর নৃত্যগুরু ছিলেন। তিনি কিছুদিন  [[বুলবুল ললিতকলা একাডেমী|বুলবুল ললিতকলা একাডেমী]] এবং কামরুন্নেসা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি তাঁর নিজস্ব শিক্ষালয়  [[জাগো আর্ট সেন্টার|জাগো আর্ট সেন্টার]] প্রতিষ্ঠা করেন।  
  
গওহর জামিল বহু  [[১০২৯৬৪|নৃত্যনাট্য]] রচনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য নৃত্যনাট্যের মধ্যে রয়েছে ‘সামান্য ক্ষতি’, ‘আনারকলি’, ‘বিচার’, ‘কাঞ্চনমালা’, ‘ইতিহাসের একটি পাতা’, ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ ইত্যাদি। তাঁর কয়েকটি জনপ্রিয় খন্ডনৃত্যের মধ্যে রয়েছে ‘ঝুমুর’, ‘কৃষাণ-কৃষাণি’, ‘জেলে’, ‘সাপুড়ে’ এবং ‘নবান্ন’। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। এ উপলক্ষে তিনি রাশিয়া, চীন, হংকং, মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর অনেক দেশে নৃত্য পরিবেশন করে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণকালে তিনি সেখানকার বিভিন্ন সঙ্গীত ও নৃত্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। তিনি চলচ্চিত্রের নৃত্যপরিচালক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৮০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।[লায়লা হাসান]  
+
গওহর জামিল বহু  [[নৃত্যনাট্য|নৃত্যনাট্য]] রচনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য নৃত্যনাট্যের মধ্যে রয়েছে ‘সামান্য ক্ষতি’, ‘আনারকলি’, ‘বিচার’, ‘কাঞ্চনমালা’, ‘ইতিহাসের একটি পাতা’, ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ ইত্যাদি। তাঁর কয়েকটি জনপ্রিয় খন্ডনৃত্যের মধ্যে রয়েছে ‘ঝুমুর’, ‘কৃষাণ-কৃষাণি’, ‘জেলে’, ‘সাপুড়ে’ এবং ‘নবান্ন’। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। এ উপলক্ষে তিনি রাশিয়া, চীন, হংকং, মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর অনেক দেশে নৃত্য পরিবেশন করে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণকালে তিনি সেখানকার বিভিন্ন সঙ্গীত ও নৃত্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। তিনি চলচ্চিত্রের নৃত্যপরিচালক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৮০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। [লায়লা হাসান]  
 
 
<nowiki>#</nowiki> #[[Image:জামিল, গওহর_html_88407781.png]]
 
 
 
[[Image:JamilGauhar.jpg|thumb|400px]]
 
 
 
# #গওহর জামিল
 
 
 
<!-- imported from file: জামিল, গওহর.html-->
 
  
 
[[en:Jamil, Gauhar]]
 
[[en:Jamil, Gauhar]]

১৪:২৪, ১০ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

গওহর জামিল

জামিল, গওহর (১৯২৫-১৯৮০)  নৃত্যশিল্পী। ১৯২৫ সালে বিক্রমপুরের সিরাজদীখান গ্রামে এক হিন্দু পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিল গণেশনাথ, কিন্ত রওশন নামে এক মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করার পর তাঁর নাম হয় গওহর জামিল। তাঁর স্ত্রীই বাংলাদেশের প্রখ্যাত অভিনেত্রী  রওশন জামিল

গওহর জামিল শৈশব থেকেই নৃত্যকলার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন এবং মারু থাপা পিল্লাই (ভরতনাট্যম), বালকেষ্ট মেনন (কথাকলি), রামনারায়ণ মিত্র (কত্থক) প্রমুখ প্রখ্যাত নৃত্যগুরুর নিকট নৃত্য শিক্ষা করেন।  উদয়শঙ্কর এবং ভাস্করদেবও তাঁর নৃত্যগুরু ছিলেন। তিনি কিছুদিন  বুলবুল ললিতকলা একাডেমী এবং কামরুন্নেসা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি তাঁর নিজস্ব শিক্ষালয়  জাগো আর্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন।

গওহর জামিল বহু  নৃত্যনাট্য রচনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য নৃত্যনাট্যের মধ্যে রয়েছে ‘সামান্য ক্ষতি’, ‘আনারকলি’, ‘বিচার’, ‘কাঞ্চনমালা’, ‘ইতিহাসের একটি পাতা’, ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ ইত্যাদি। তাঁর কয়েকটি জনপ্রিয় খন্ডনৃত্যের মধ্যে রয়েছে ‘ঝুমুর’, ‘কৃষাণ-কৃষাণি’, ‘জেলে’, ‘সাপুড়ে’ এবং ‘নবান্ন’। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। এ উপলক্ষে তিনি রাশিয়া, চীন, হংকং, মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর অনেক দেশে নৃত্য পরিবেশন করে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণকালে তিনি সেখানকার বিভিন্ন সঙ্গীত ও নৃত্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। তিনি চলচ্চিত্রের নৃত্যপরিচালক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৮০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। [লায়লা হাসান]