"জামান, সুলতানা" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(Added Ennglish article link)
 
 
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
 
[[Category:বাংলাপিডিয়া]]
 
[[Category:বাংলাপিডিয়া]]
 +
[[Image:ZamanSultana.jpg|thumb|400px|right|সুলতানা জামান]]
 
'''জামান, সুলতানা''' (১৯৩৫-২০১২)  চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, প্রযোজক। জন্ম ২ সেপ্টেম্বর ১৯৩৫, নাটোর জেলা। বাবা সৈয়দ আবদুর রাজ্জাক ছিলেন নাটোরের একজন জোতদার, মা রহিমা খাতুন। তাঁর পারিবারিক নাম মোসাম্মৎ হোসনে আরা শরিফা বেগম। চলচ্চিত্র জগতে তিনি সুলতানা জামান নামে সমধিক পরিচিত। নাটোর শহরের মিরপাড়ায় তাঁর শৈশব ও কৈশোর অতিবাহিত হয়। তিনি নাটোর গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি এবং রাজশাহী কলেজ থেকে এইচ এসসি পরীক্ষায় পাস করেন। উক্ত কলেজে তিনি বিএ ক্লাসে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে তিনি কিউ এম জামানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিউ এম জামান চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি) এর প্রথম চিত্রগ্রাহক ছিলেন। তাছাড়া তিনি প্রথম বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ (১৯৫৬)- অনেক ছবির চিত্রগ্রাহক ছিলেন।
 
'''জামান, সুলতানা''' (১৯৩৫-২০১২)  চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, প্রযোজক। জন্ম ২ সেপ্টেম্বর ১৯৩৫, নাটোর জেলা। বাবা সৈয়দ আবদুর রাজ্জাক ছিলেন নাটোরের একজন জোতদার, মা রহিমা খাতুন। তাঁর পারিবারিক নাম মোসাম্মৎ হোসনে আরা শরিফা বেগম। চলচ্চিত্র জগতে তিনি সুলতানা জামান নামে সমধিক পরিচিত। নাটোর শহরের মিরপাড়ায় তাঁর শৈশব ও কৈশোর অতিবাহিত হয়। তিনি নাটোর গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি এবং রাজশাহী কলেজ থেকে এইচ এসসি পরীক্ষায় পাস করেন। উক্ত কলেজে তিনি বিএ ক্লাসে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে তিনি কিউ এম জামানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিউ এম জামান চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি) এর প্রথম চিত্রগ্রাহক ছিলেন। তাছাড়া তিনি প্রথম বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ (১৯৫৬)- অনেক ছবির চিত্রগ্রাহক ছিলেন।
  
৫ নং লাইন: ৬ নং লাইন:
  
 
পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুলতানা জামান বাংলা ও উর্দু ভাষায় নির্মিত বেশসংখ্যক ছবিতে অভিনয় করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবি: সোনার কাজল (১৯৬২, কলিম শরাফি ও [[রায়হান, জহির|জহির রায়হান]]-এর যৌথ পরিচালনা), চান্দা (১৯৬২, এহতেশাম পরিচালিত), জোয়ার এলো (১৯৬২, আবদুল জববার খান পরিচালিত), সাতরং (১৯৬৫, [[লোহানী, ফতেহ|ফতেহ লোহানী]] পরিচালিত), জানাজানি (১৯৬৫, আলী মনসুর পরিচালিত), মালা (১৯৬৫, মোস্তাফিজ পরিচালিত), উজালা (১৯৬৬), আবার বনবাসে (১৯৬৬), রূপবান (১৯৬৬), পয়ুরপঙ্খি (১৯৬৮), সপ্তডিঙ্গা (১৯৬৮), নতুন দিগন্ত (১৯৬৮), মনের মত বউ (১৯৬৯), ভানুমতি (১৯৬৯), মিশর কুমারী (১৯৭০), নয়নমনি (১৯৭৬), নিশান (১৯৭৭), অনুভব (১৯৭৭), তৃষ্ণা (১৯৭৮)। তিনি ভানুমতি (১৯৬৯) ও ছদ্মবেশী ছবি দুটি প্রযোজনা করেন। তাছাড়া তিনি রেডিও বেতারের নাটকে অভিনয় এবং এর কমার্সিয়াল সার্ভিসে ’ছায়াছন্দ’ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেছেন।
 
পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুলতানা জামান বাংলা ও উর্দু ভাষায় নির্মিত বেশসংখ্যক ছবিতে অভিনয় করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবি: সোনার কাজল (১৯৬২, কলিম শরাফি ও [[রায়হান, জহির|জহির রায়হান]]-এর যৌথ পরিচালনা), চান্দা (১৯৬২, এহতেশাম পরিচালিত), জোয়ার এলো (১৯৬২, আবদুল জববার খান পরিচালিত), সাতরং (১৯৬৫, [[লোহানী, ফতেহ|ফতেহ লোহানী]] পরিচালিত), জানাজানি (১৯৬৫, আলী মনসুর পরিচালিত), মালা (১৯৬৫, মোস্তাফিজ পরিচালিত), উজালা (১৯৬৬), আবার বনবাসে (১৯৬৬), রূপবান (১৯৬৬), পয়ুরপঙ্খি (১৯৬৮), সপ্তডিঙ্গা (১৯৬৮), নতুন দিগন্ত (১৯৬৮), মনের মত বউ (১৯৬৯), ভানুমতি (১৯৬৯), মিশর কুমারী (১৯৭০), নয়নমনি (১৯৭৬), নিশান (১৯৭৭), অনুভব (১৯৭৭), তৃষ্ণা (১৯৭৮)। তিনি ভানুমতি (১৯৬৯) ও ছদ্মবেশী ছবি দুটি প্রযোজনা করেন। তাছাড়া তিনি রেডিও বেতারের নাটকে অভিনয় এবং এর কমার্সিয়াল সার্ভিসে ’ছায়াছন্দ’ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেছেন।
 
[[Image:ZamanSultana.jpg|thumb|400px|right|সুলতানা জামান]]
 
 
  
 
বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে সহকারী ক্যামেরাম্যান ও চিত্র প্রযোজক আবু জাফর আহমেদ সুলতানা জামানের জীবনী অবলম্বনে সুলতানা জামানের জীবন ও কর্ম শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। প্রামান্যচিত্রটিতে সুলতানা জামান সম্পর্কে বিভিন্ন অভিনেতা-অভিনেত্রী (শবনম, হাসান ইমাম, আমজাদ হোসেন, রাজ্জাক এবং পরিবারের সদস্য)-র মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সুলতানা জামান এদেশের প্রথম ‘আর্টিস্টি এসোসিয়েশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং এর কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তাছাড়া তিনি পাকিস্তান এ্যাডভাইজারি কাউন্সিলের মেম্বার ছিলেন। সুলতানা জামান অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ অনেক সম্মাননা এবং পুরস্কার লাভ করেন সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: চিত্রাকাশ পুরস্কার, পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিগার চলচ্চিত্র পুরস্কার, ২০০৯ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ২০১১ সালে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কর্তৃক পুরস্কার। মৃত্যু ২০ মে, ১৯১২ ঢাকায় ।  [শামীমা আক্তার]
 
বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে সহকারী ক্যামেরাম্যান ও চিত্র প্রযোজক আবু জাফর আহমেদ সুলতানা জামানের জীবনী অবলম্বনে সুলতানা জামানের জীবন ও কর্ম শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। প্রামান্যচিত্রটিতে সুলতানা জামান সম্পর্কে বিভিন্ন অভিনেতা-অভিনেত্রী (শবনম, হাসান ইমাম, আমজাদ হোসেন, রাজ্জাক এবং পরিবারের সদস্য)-র মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সুলতানা জামান এদেশের প্রথম ‘আর্টিস্টি এসোসিয়েশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং এর কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তাছাড়া তিনি পাকিস্তান এ্যাডভাইজারি কাউন্সিলের মেম্বার ছিলেন। সুলতানা জামান অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ অনেক সম্মাননা এবং পুরস্কার লাভ করেন সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: চিত্রাকাশ পুরস্কার, পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিগার চলচ্চিত্র পুরস্কার, ২০০৯ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ২০১১ সালে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কর্তৃক পুরস্কার। মৃত্যু ২০ মে, ১৯১২ ঢাকায় ।  [শামীমা আক্তার]
  
 
[[en:Zaman, Sultana]]
 
[[en:Zaman, Sultana]]

১৩:৪০, ১০ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

সুলতানা জামান

জামান, সুলতানা (১৯৩৫-২০১২)  চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, প্রযোজক। জন্ম ২ সেপ্টেম্বর ১৯৩৫, নাটোর জেলা। বাবা সৈয়দ আবদুর রাজ্জাক ছিলেন নাটোরের একজন জোতদার, মা রহিমা খাতুন। তাঁর পারিবারিক নাম মোসাম্মৎ হোসনে আরা শরিফা বেগম। চলচ্চিত্র জগতে তিনি সুলতানা জামান নামে সমধিক পরিচিত। নাটোর শহরের মিরপাড়ায় তাঁর শৈশব ও কৈশোর অতিবাহিত হয়। তিনি নাটোর গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি এবং রাজশাহী কলেজ থেকে এইচ এসসি পরীক্ষায় পাস করেন। উক্ত কলেজে তিনি বিএ ক্লাসে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে তিনি কিউ এম জামানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিউ এম জামান চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি) এর প্রথম চিত্রগ্রাহক ছিলেন। তাছাড়া তিনি প্রথম বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ (১৯৫৬)- অনেক ছবির চিত্রগ্রাহক ছিলেন।

প্রথম বাঙালি ও মুসলিম চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে সুলতানা জামানের চলচ্চিত্রে প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৫৯ সালে মাটির পাহাড় (পরিচালক মহীউদ্দিন এবং প্রযোজক এস এম পারভেজ)-এ অভিনয়ের মাধ্যমে। মাটির পাহাড় এবং চান্দা ও জোয়ার এলো চলচ্চিত্র দুটিতে তিনি রাজিয়া এবং মিনা জামান নামে অভিনয় করেন। পরে, খান আতাউর রহমান পরিচালিত অনেক দিনের চেনা (১৯৬৪) ছবিতে নাম বদল করে তিনি হন সুলতানা জামান।

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুলতানা জামান বাংলা ও উর্দু ভাষায় নির্মিত বেশসংখ্যক ছবিতে অভিনয় করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবি: সোনার কাজল (১৯৬২, কলিম শরাফি ও জহির রায়হান-এর যৌথ পরিচালনা), চান্দা (১৯৬২, এহতেশাম পরিচালিত), জোয়ার এলো (১৯৬২, আবদুল জববার খান পরিচালিত), সাতরং (১৯৬৫, ফতেহ লোহানী পরিচালিত), জানাজানি (১৯৬৫, আলী মনসুর পরিচালিত), মালা (১৯৬৫, মোস্তাফিজ পরিচালিত), উজালা (১৯৬৬), আবার বনবাসে (১৯৬৬), রূপবান (১৯৬৬), পয়ুরপঙ্খি (১৯৬৮), সপ্তডিঙ্গা (১৯৬৮), নতুন দিগন্ত (১৯৬৮), মনের মত বউ (১৯৬৯), ভানুমতি (১৯৬৯), মিশর কুমারী (১৯৭০), নয়নমনি (১৯৭৬), নিশান (১৯৭৭), অনুভব (১৯৭৭), তৃষ্ণা (১৯৭৮)। তিনি ভানুমতি (১৯৬৯) ও ছদ্মবেশী ছবি দুটি প্রযোজনা করেন। তাছাড়া তিনি রেডিও বেতারের নাটকে অভিনয় এবং এর কমার্সিয়াল সার্ভিসে ’ছায়াছন্দ’ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেছেন।

বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে সহকারী ক্যামেরাম্যান ও চিত্র প্রযোজক আবু জাফর আহমেদ সুলতানা জামানের জীবনী অবলম্বনে সুলতানা জামানের জীবন ও কর্ম শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। প্রামান্যচিত্রটিতে সুলতানা জামান সম্পর্কে বিভিন্ন অভিনেতা-অভিনেত্রী (শবনম, হাসান ইমাম, আমজাদ হোসেন, রাজ্জাক এবং পরিবারের সদস্য)-র মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সুলতানা জামান এদেশের প্রথম ‘আর্টিস্টি এসোসিয়েশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং এর কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তাছাড়া তিনি পাকিস্তান এ্যাডভাইজারি কাউন্সিলের মেম্বার ছিলেন। সুলতানা জামান অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ অনেক সম্মাননা এবং পুরস্কার লাভ করেন সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: চিত্রাকাশ পুরস্কার, পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিগার চলচ্চিত্র পুরস্কার, ২০০৯ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ২০১১ সালে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কর্তৃক পুরস্কার। মৃত্যু ২০ মে, ১৯১২ ঢাকায় ।  [শামীমা আক্তার]