"জরিপ ও বন্দোবস্ত" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(Added Ennglish article link)
 
 
৪ নং লাইন: ৪ নং লাইন:
 
জরিপ ও বন্দোবস্ত অপারেশন শুরু হয় কতিপয় বিচ্ছিন্ন এলাকা ধরে। যেমন, বাকেরগঞ্জের দক্ষিণ শাহবাজপুর এস্টেট (১৮৮৯-৯৫), সিলেট জেলার জৈন্তিয়া পরগনা (১৮৯২-৯৯), ত্রিপুরা ও নোয়াখালী জেলার রওশনাবাদ পরগনা (১৮৯২-৯৯), বাকেরগঞ্জ, ঢাকা ও ফরিদপুর জেলায় অবস্থিত বাসুদেব রায় ও কালীশঙ্কর সেন এস্টেটদ্বয় (১৮৯৪-৯৫ থেকে ১৯০০-১৯০১), বগুড়া জেলার জয়পুর এস্টেট (১৮৯৮), ত্রিপুরা জেলার পাটিকারা ওয়ার্ড এস্টেট (১৯০৫-০৬), বাকেরগঞ্জ দিয়ারা অপারেশন (নদী জরিপ), এবং বাকেরগঞ্জ জেলার তুষখালী সরকারি এস্টেট (১৯০৫-০৬)। জেলা জরিপ ও বন্দোবস্ত অপারেশন প্রধান দুটি পর্বে সম্পাদিত হয়।
 
জরিপ ও বন্দোবস্ত অপারেশন শুরু হয় কতিপয় বিচ্ছিন্ন এলাকা ধরে। যেমন, বাকেরগঞ্জের দক্ষিণ শাহবাজপুর এস্টেট (১৮৮৯-৯৫), সিলেট জেলার জৈন্তিয়া পরগনা (১৮৯২-৯৯), ত্রিপুরা ও নোয়াখালী জেলার রওশনাবাদ পরগনা (১৮৯২-৯৯), বাকেরগঞ্জ, ঢাকা ও ফরিদপুর জেলায় অবস্থিত বাসুদেব রায় ও কালীশঙ্কর সেন এস্টেটদ্বয় (১৮৯৪-৯৫ থেকে ১৯০০-১৯০১), বগুড়া জেলার জয়পুর এস্টেট (১৮৯৮), ত্রিপুরা জেলার পাটিকারা ওয়ার্ড এস্টেট (১৯০৫-০৬), বাকেরগঞ্জ দিয়ারা অপারেশন (নদী জরিপ), এবং বাকেরগঞ্জ জেলার তুষখালী সরকারি এস্টেট (১৯০৫-০৬)। জেলা জরিপ ও বন্দোবস্ত অপারেশন প্রধান দুটি পর্বে সম্পাদিত হয়।
  
'''প্রথম পর্বের জেলা জরিপ'''  জেলাওয়ারি ভূমির জরিপ ও বন্দোবস্ত অপারেশন শুরু হয় ১৮৮৮ সাল থেকে এবং শেষ হয় ১৯৪০ সালে। সারণি-১-এ জেলাভিত্তিক জরিপ ও বন্দোবস্ত অপারেশনের স্থান, সময় ও সেটেলমেন্ট অফিসার-এর তালিকা দেওয়া হয়েছে।
+
'''''প্রথম পর্বের জেলা জরিপ'''''  জেলাওয়ারি ভূমির জরিপ ও বন্দোবস্ত অপারেশন শুরু হয় ১৮৮৮ সাল থেকে এবং শেষ হয় ১৯৪০ সালে। সারণি-১-এ জেলাভিত্তিক জরিপ ও বন্দোবস্ত অপারেশনের স্থান, সময় ও সেটেলমেন্ট অফিসার-এর তালিকা দেওয়া হয়েছে।
  
সারণি ১  প্রথম পর্বের জেলা জরিপ
+
''সারণি'' ১  প্রথম পর্বের জেলা জরিপ।
 +
{| class="table table-bordered table-hover"
 +
|-
 +
| জেলার নাম || সময়কাল || সেটেলমেন্ট অফিসার
 +
|-
 +
| চট্টগ্রাম || ১৮৮৮-৯৮  || সি. জি অ্যালেন
 +
|-
 +
| বাকেরগঞ্জ || ১৯০৪-১৬  || জে. সি জ্যাক
 +
|-
 +
| ফরিদপুর || ১৯০৪-১৪  || জে. সি জ্যাক
 +
|-
 +
| ময়মনসিংহ || ১৯০৮-১৯  || এফ. এ স্যাকসে
 +
|-
 +
| ঢাকা || ১৯১০-১৭ || এফ. ডি এসকোলি
 +
|-
 +
| রাজশাহী || ১৯১২-২২ || ডব্লিউ. এইচ নেলসন
 +
|-
 +
| নোয়াখালী || ১৯১৪-১৯ || ডব্লিউ. এইচ টমসন
 +
|-
 +
| ত্রিপুরা  (কুমিল্লা) || ১৯১৫-১৯  || ডব্লিউ. এইচ টমসন
 +
|-
 +
| যশোর || ১৯২০-২৪  || এম. এ মোমেন
 +
|-
 +
| নদীয়া || ১৯১৮-২৬  || জে. এম প্রিঙ্গল
 +
|-
 +
| খুলনা || ১৯২০-২৬ || এল. আর ফুকাস
 +
|-
 +
| পাবনা-বগুড়া || ১৯২০-২৯  || ডনাল্ড. এফ. সি ফেরসন
 +
|-
 +
| মালদহ || ১৯২৮-৩৫  || ডনাল্ড. এফ. সি ফেরসন
 +
|-
 +
| রংপুর || ১৯৩১-৩৮  || এ. সি হার্টলি
 +
|-
 +
| দিনাজপুর || ১৯৩৪-৪০  || এফ. ও বেল
 +
|-
 +
| সিলেট || ১৯৫০-৬৪ || এন. আহমেদ
 +
|-
 +
| খুলনা (শুধু সুন্দরবন) || ১৯৪০-৫০  || এস.এ মজিদ এবং এম. হক
 +
|}
  
জেলার নাম#সময়কাল#সেটেলমেন্ট অফিসার
+
'''''দ্বিতীয় পর্বের জেলা জরিপ'''''  জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রজন্মান্তর ও অন্যান্য পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভূমি অধিকার কালানুগ করার লক্ষ্যে দ্বিতীয় পর্বের জরিপকাজ শুরু হয় চট্টগ্রাম জেলাকে প্রথম ধরে। সেটেলমেন্ট অফিসার ছিলেন জে. বি কাইন্ডার্সলি। এরপর জরিপ হয় বাকেরগঞ্জ জেলায় (১৯৪০-৪২)। বাকেরগঞ্জ জরিপের অফিসার ছিলেন আর. ডব্লিউ বাস্টিন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কারণে জরিপ বন্ধ রাখা হয়। জরিপকাজ পুনরায় শুরু হয় ১৯৪৫ সালে। এর সেটেলমেন্ট অফিসার ছিলেন এ. কে মুখার্জি। মুখার্জি ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত জরিপ চালানোর পর ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর তিনি উক্ত দায়িত্ব ছেড়ে ভারতে চলে যান। তাঁর স্থলে এম. হক বাকেরগঞ্জের সেটেলমেন্ট অফিসার নিযুক্ত হন।
 
 
চট্টগ্রাম#১৮৮৮-৯৮ #সি. জি অ্যালেন
 
 
 
বাকেরগঞ্জ#১৯০৪-১৬ #জে. সি জ্যাক
 
 
 
ফরিদপুর#১৯০৪-১৪ #জে. সি জ্যাক
 
 
 
ময়মনসিংহ#১৯০৮-১৯ #এফ. এ স্যাকসে
 
 
 
ঢাকা#১৯১০-১৭#এফ. ডি এসকোলি
 
 
 
রাজশাহী#১৯১২-২২#ডব্লিউ. এইচ নেলসন
 
 
 
নোয়াখালী#১৯১৪-১৯#ডব্লিউ. এইচ টমসন
 
 
 
ত্রিপুরা  (কুমিল্লা)#১৯১৫-১৯ #ডব্লিউ. এইচ টমসন
 
 
 
যশোর#১৯২০-২৪ #এম. এ মোমেন
 
 
 
নদীয়া#১৯১৮-২৬ #জে. এম প্রিঙ্গল
 
 
 
খুলনা#১৯২০-২৬#এল. আর ফুকাস
 
 
 
পাবনা-বগুড়া#১৯২০-২৯ #ডনাল্ড. এফ. সি ফেরসন
 
 
 
মালদহ#১৯২৮-৩৫ #ডনাল্ড. এফ. সি ফেরসন
 
 
 
রংপুর#১৯৩১-৩৮ #এ. সি হার্টলি
 
 
 
দিনাজপুর#১৯৩৪-৪০ #এফ. ও বেল
 
 
 
সিলেট#১৯৫০-৬৪#এন. আহমেদ
 
 
 
খুলনা (শুধু সুন্দরবন)#১৯৪০-৫০ #এস.এ মজিদ এবং এম. হক
 
 
 
'''দ্বিতীয় পর্বের জেলা জরিপ'''  জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রজন্মান্তর ও অন্যান্য পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভূমি অধিকার কালানুগ করার লক্ষ্যে দ্বিতীয় পর্বের জরিপকাজ শুরু হয় চট্টগ্রাম জেলাকে প্রথম ধরে। সেটেলমেন্ট অফিসার ছিলেন জে. বি কাইন্ডার্সলি। এরপর জরিপ হয় বাকেরগঞ্জ জেলায় (১৯৪০-৪২)। বাকেরগঞ্জ জরিপের অফিসার ছিলেন আর. ডব্লিউ বাস্টিন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কারণে জরিপ বন্ধ রাখা হয়। জরিপকাজ পুনরায় শুরু হয় ১৯৪৫ সালে। এর সেটেলমেন্ট অফিসার ছিলেন এ. কে মুখার্জি। মুখার্জি ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত জরিপ চালানোর পর ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর তিনি উক্ত দায়িত্ব ছেড়ে ভারতে চলে যান। তাঁর স্থলে এম. হক বাকেরগঞ্জের সেটেলমেন্ট অফিসার নিযুক্ত হন।
 
  
 
১৯৫০ সালের  [[পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০|পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন]] পূর্বেকার জরিপ পদ্ধতি অনেকটা বদলে দেয়। এ আইনের পর ভূমিতে জমিদারি স্বত্ব ও মধ্যস্বত্ব না থাকায় জরিপের ভূস্বত্ব-সক্রান্ত দলিল নতুনভাবে তৈরি করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এ অপারেশনে প্রথম ধরা হয় কোর্ট অব ওয়ার্ডস পরিচালিত এস্টেটগুলি। তারপর একে একে সকল বৃহৎ জমিদারি অধিগ্রহণ করা হয়। জমিদারি অধিগ্রহণ ও বন্দোবস্ত জরিপ একই সঙ্গে শুরু হয়। সারা দেশকে মোট আটটি ব্লকে বিভক্ত করে এ জরিপ অপারেশন শুরু হয়। সারণি-২-এ এতদসংক্রান্ত তথ্য সন্নিবেশ করা হয়েছে।
 
১৯৫০ সালের  [[পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০|পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন]] পূর্বেকার জরিপ পদ্ধতি অনেকটা বদলে দেয়। এ আইনের পর ভূমিতে জমিদারি স্বত্ব ও মধ্যস্বত্ব না থাকায় জরিপের ভূস্বত্ব-সক্রান্ত দলিল নতুনভাবে তৈরি করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এ অপারেশনে প্রথম ধরা হয় কোর্ট অব ওয়ার্ডস পরিচালিত এস্টেটগুলি। তারপর একে একে সকল বৃহৎ জমিদারি অধিগ্রহণ করা হয়। জমিদারি অধিগ্রহণ ও বন্দোবস্ত জরিপ একই সঙ্গে শুরু হয়। সারা দেশকে মোট আটটি ব্লকে বিভক্ত করে এ জরিপ অপারেশন শুরু হয়। সারণি-২-এ এতদসংক্রান্ত তথ্য সন্নিবেশ করা হয়েছে।
  
সারণি ২ দ্বিতীয় পর্বের জেলা জরিপ
+
''সারণি'' ২ দ্বিতীয় পর্বের জেলা জরিপ।
 
+
{| class="table table-bordered table-hover"
ব্লক#জরিপ এলাকা #সেটেলমেন্ট অফিসার
+
|-
 
+
| ব্লক || জরিপ এলাকা || সেটেলমেন্ট অফিসার
কুমিল্লা#কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম #টি. হোসেন
+
|-
 
+
| কুমিল্লা || কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম || টি. হোসেন
ঢাকা#ঢাকা#এস. আহমদ
+
|-
 
+
| ঢাকা || ঢাকা || এস. আহমদ
ফরিদপুর #ফরিদপুর, কুষ্টিয়া#এ. এম. কে মাসুদ
+
|-
 
+
| ফরিদপুর || ফরিদপুর, কুষ্টিয়া || এ. এম. কে মাসুদ
রাজশাহী#রাজশাহী, পাবনা#এস. জি শাহ
+
|-
 
+
| রাজশাহী || রাজশাহী, পাবনা || এস. জি শাহ
রংপুর #রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া#এম. ইসলাম
+
|-
 
+
| রংপুর || রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া || এম. ইসলাম
খুলনা#খুলনা, যশোর, বাকেরগঞ্জ #এম. হক
+
|-
 
+
| খুলনা || খুলনা, যশোর, বাকেরগঞ্জ || এম. হক
ময়মনসিংহ #ময়মনসিংহ#এন. আহমেদ
+
|-
 
+
| ময়মনসিংহ || ময়মনসিংহ || এন. আহমেদ
সিলেট#সিলেট#এ. কে আহমদ খান
+
|-
 +
| সিলেট || সিলেট || এ. কে আহমদ খান
 +
|}
  
 
জমিদারি অধিগ্রহণ বন্দোবস্তের প্রধানত দুটি উদ্দেশ্য ছিল: প্রথমত, জমিদারদের ক্ষতিপূরণ নির্ণয় করার লক্ষ্যে একটি সংশোধিত খতিয়ান ও মানচিত্র তৈরি করা; আর দ্বিতীয়ত, সরকার কর্তৃক ভূমিরাজস্ব সংগ্রহের সুবিধার্থে মৌজাওয়ারি খাজনা তালিকা প্রস্ত্তত করা। সরকার দ্বিতীয় লক্ষ্যটির ওপর সমধিক জোর দেয়। আপাতত, জমির ছকওয়ারি পূর্ণ জরিপ না করে শুধু জমিদারি কাগজের ওপর ভিত্তি করেই খাজনা ও তালিকা প্রস্ত্তত করা হয়, যেন এর ওপর ভিত্তি করেই সরকারের তহসিল অফিস ভূমিরাজস্ব সংগ্রহ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। এ পদ্ধতি অবলম্বনের ফলে অল্পকালের মধ্যে সারা দেশে জরিপকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত এ জরিপকাজ চলে।
 
জমিদারি অধিগ্রহণ বন্দোবস্তের প্রধানত দুটি উদ্দেশ্য ছিল: প্রথমত, জমিদারদের ক্ষতিপূরণ নির্ণয় করার লক্ষ্যে একটি সংশোধিত খতিয়ান ও মানচিত্র তৈরি করা; আর দ্বিতীয়ত, সরকার কর্তৃক ভূমিরাজস্ব সংগ্রহের সুবিধার্থে মৌজাওয়ারি খাজনা তালিকা প্রস্ত্তত করা। সরকার দ্বিতীয় লক্ষ্যটির ওপর সমধিক জোর দেয়। আপাতত, জমির ছকওয়ারি পূর্ণ জরিপ না করে শুধু জমিদারি কাগজের ওপর ভিত্তি করেই খাজনা ও তালিকা প্রস্ত্তত করা হয়, যেন এর ওপর ভিত্তি করেই সরকারের তহসিল অফিস ভূমিরাজস্ব সংগ্রহ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। এ পদ্ধতি অবলম্বনের ফলে অল্পকালের মধ্যে সারা দেশে জরিপকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত এ জরিপকাজ চলে।
৭২ নং লাইন: ৭৬ নং লাইন:
 
এদিকে সিলেট জেলা জরিপের জন্য একটি আলাদা ব্যবস্থা উদ্ভাবন করতে হয়। সিলেট জেলা ইতঃপূর্বে আসামের অন্তর্ভুক্ত থাকায় ওই জেলায় কখনও বাংলার জেলাসমূহের মতো পূর্ণমাত্রায় ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ হয় নি। ১৯৫০ থেকে ১৯৬৪ সালের মধ্যে একটি পূর্ণ ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ ও বন্দোবস্ত অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।
 
এদিকে সিলেট জেলা জরিপের জন্য একটি আলাদা ব্যবস্থা উদ্ভাবন করতে হয়। সিলেট জেলা ইতঃপূর্বে আসামের অন্তর্ভুক্ত থাকায় ওই জেলায় কখনও বাংলার জেলাসমূহের মতো পূর্ণমাত্রায় ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ হয় নি। ১৯৫০ থেকে ১৯৬৪ সালের মধ্যে একটি পূর্ণ ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ ও বন্দোবস্ত অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।
  
'''নতুন জরিপ ও বন্দোবস্ত পর্ব'''  জরিপ ও বন্দোবস্তের সংশোধন ও হাল অবস্থায় আনার জন্য ১৯৬৫ সাল থেকে নব পর্যায়ে জরিপ ও বন্দোবস্ত প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের জন্য প্রথম জরিপ করা হয় রাজশাহী জেলা। একই সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান ব্যাপী দিয়ারা জরিপও শুরু হয়। ১৯৭৮ সাল নাগাদ যেসব জেলার সংশোধন জরিপ শেষ হয় সেগুলি হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, পাবনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও জামালপুর।
+
'''''নতুন জরিপ ও বন্দোবস্ত পর্ব'''''  জরিপ ও বন্দোবস্তের সংশোধন ও হাল অবস্থায় আনার জন্য ১৯৬৫ সাল থেকে নব পর্যায়ে জরিপ ও বন্দোবস্ত প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের জন্য প্রথম জরিপ করা হয় রাজশাহী জেলা। একই সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান ব্যাপী দিয়ারা জরিপও শুরু হয়। ১৯৭৮ সাল নাগাদ যেসব জেলার সংশোধন জরিপ শেষ হয় সেগুলি হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, পাবনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও জামালপুর।
  
 
১৯৮৪ সালে জরিপ ব্যাপারে একটি নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়। ওই  প্রকল্পে ২২টি মূল জেলা সদরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে মোট ২২টি জোনে বিভক্ত করে জরিপকাজ আরম্ভ হয়। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জোনের জরিপ ও বন্দোবস্ত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে, প্রয়োজনীয় দক্ষ লোকবলের প্রকট অভাবের কারণে সকল জেলার জরিপকাজ পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। প্রথমে দশটি জোন ধরে জরিপ শুরু হয়। এগুলি হচ্ছে, খুলনা, বরিশাল, যশোর, ফরিদপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সিলেট, টাঙ্গাইল, রংপুর ও বগুড়া। পরে দেখা যায় যে, উক্ত দশটি জেলার জন্যও দক্ষ লোকবলের অভাব রয়েছে। বাস্তব অসুবিধার প্রেক্ষাপটে শুধু কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, রংপুর এবং বগুড়ায় জরিপ ও বন্দোবস্ত অপারেশন শুরু করতে হয়। তিন বছরের মধ্যে এ জেলাগুলির জরিপ শেষ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
 
১৯৮৪ সালে জরিপ ব্যাপারে একটি নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়। ওই  প্রকল্পে ২২টি মূল জেলা সদরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে মোট ২২টি জোনে বিভক্ত করে জরিপকাজ আরম্ভ হয়। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জোনের জরিপ ও বন্দোবস্ত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে, প্রয়োজনীয় দক্ষ লোকবলের প্রকট অভাবের কারণে সকল জেলার জরিপকাজ পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। প্রথমে দশটি জোন ধরে জরিপ শুরু হয়। এগুলি হচ্ছে, খুলনা, বরিশাল, যশোর, ফরিদপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সিলেট, টাঙ্গাইল, রংপুর ও বগুড়া। পরে দেখা যায় যে, উক্ত দশটি জেলার জন্যও দক্ষ লোকবলের অভাব রয়েছে। বাস্তব অসুবিধার প্রেক্ষাপটে শুধু কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, রংপুর এবং বগুড়ায় জরিপ ও বন্দোবস্ত অপারেশন শুরু করতে হয়। তিন বছরের মধ্যে এ জেলাগুলির জরিপ শেষ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
  
'''বন্দোবস্ত প্রতিবেদন'''  জরিপ ও বন্দোবস্ত প্রতিবেদনের একটি নির্দিষ্ট ছক রয়েছে। বন্দোবস্ত অপারেশন সমাপ্তির পর জরিপ ও সেটেলমেন্ট অফিসার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করেন। প্রতিবেদনে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বিশদ বিবরণ থাকে, যেমন ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, ঐতিহাসিক ও আর্থসামাজিক বিবরণ, ভূমি ব্যবস্থা ও ভূমি নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে ঐতিহাসিক ও পরিসংখ্যানগত তথ্য, কৃষি অবকাঠামো ও কৃষিফসল সংক্রান্ত তথ্য, একরভিত্তিক শস্য ফলন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।  [তফাজ্জল হোসেন]
+
'''''বন্দোবস্ত প্রতিবেদন'''''  জরিপ ও বন্দোবস্ত প্রতিবেদনের একটি নির্দিষ্ট ছক রয়েছে। বন্দোবস্ত অপারেশন সমাপ্তির পর জরিপ ও সেটেলমেন্ট অফিসার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করেন। প্রতিবেদনে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বিশদ বিবরণ থাকে, যেমন ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, ঐতিহাসিক ও আর্থসামাজিক বিবরণ, ভূমি ব্যবস্থা ও ভূমি নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে ঐতিহাসিক ও পরিসংখ্যানগত তথ্য, কৃষি অবকাঠামো ও কৃষিফসল সংক্রান্ত তথ্য, একরভিত্তিক শস্য ফলন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।  [তফাজ্জল হোসেন]
  
 
[[en:Survey and Settlement Operations]]
 
[[en:Survey and Settlement Operations]]

১১:৪১, ২ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

জরিপ ও বন্দোবস্ত  ভূমিতে  জমিদার ও রায়তের অধিকার শনাক্তকরণের একটি প্রাচীন পদ্ধতি। ১৮৮৮ থেকে  বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, ১৮৮৫এর অধীনে জরিপের মাধ্যমে বন্দোবস্ত করে ভূমিতে সকল স্বার্থসংশ্লিষ্ট শ্রেণির দায় অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি অপারেশন শুরু হয়। ব্রিটিশ শাসনের অবসান পর্যন্ত এ অপারেশন অব্যাহত ছিল। ভূমি জরিপের কাজ ভিন্নরূপে এখনও অব্যাহত রয়েছে।

জরিপ ও বন্দোবস্ত অপারেশন শুরু হয় কতিপয় বিচ্ছিন্ন এলাকা ধরে। যেমন, বাকেরগঞ্জের দক্ষিণ শাহবাজপুর এস্টেট (১৮৮৯-৯৫), সিলেট জেলার জৈন্তিয়া পরগনা (১৮৯২-৯৯), ত্রিপুরা ও নোয়াখালী জেলার রওশনাবাদ পরগনা (১৮৯২-৯৯), বাকেরগঞ্জ, ঢাকা ও ফরিদপুর জেলায় অবস্থিত বাসুদেব রায় ও কালীশঙ্কর সেন এস্টেটদ্বয় (১৮৯৪-৯৫ থেকে ১৯০০-১৯০১), বগুড়া জেলার জয়পুর এস্টেট (১৮৯৮), ত্রিপুরা জেলার পাটিকারা ওয়ার্ড এস্টেট (১৯০৫-০৬), বাকেরগঞ্জ দিয়ারা অপারেশন (নদী জরিপ), এবং বাকেরগঞ্জ জেলার তুষখালী সরকারি এস্টেট (১৯০৫-০৬)। জেলা জরিপ ও বন্দোবস্ত অপারেশন প্রধান দুটি পর্বে সম্পাদিত হয়।

প্রথম পর্বের জেলা জরিপ  জেলাওয়ারি ভূমির জরিপ ও বন্দোবস্ত অপারেশন শুরু হয় ১৮৮৮ সাল থেকে এবং শেষ হয় ১৯৪০ সালে। সারণি-১-এ জেলাভিত্তিক জরিপ ও বন্দোবস্ত অপারেশনের স্থান, সময় ও সেটেলমেন্ট অফিসার-এর তালিকা দেওয়া হয়েছে।

সারণি ১  প্রথম পর্বের জেলা জরিপ।

জেলার নাম সময়কাল সেটেলমেন্ট অফিসার
চট্টগ্রাম ১৮৮৮-৯৮ সি. জি অ্যালেন
বাকেরগঞ্জ ১৯০৪-১৬ জে. সি জ্যাক
ফরিদপুর ১৯০৪-১৪ জে. সি জ্যাক
ময়মনসিংহ ১৯০৮-১৯ এফ. এ স্যাকসে
ঢাকা ১৯১০-১৭ এফ. ডি এসকোলি
রাজশাহী ১৯১২-২২ ডব্লিউ. এইচ নেলসন
নোয়াখালী ১৯১৪-১৯ ডব্লিউ. এইচ টমসন
ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ১৯১৫-১৯ ডব্লিউ. এইচ টমসন
যশোর ১৯২০-২৪ এম. এ মোমেন
নদীয়া ১৯১৮-২৬ জে. এম প্রিঙ্গল
খুলনা ১৯২০-২৬ এল. আর ফুকাস
পাবনা-বগুড়া ১৯২০-২৯ ডনাল্ড. এফ. সি ফেরসন
মালদহ ১৯২৮-৩৫ ডনাল্ড. এফ. সি ফেরসন
রংপুর ১৯৩১-৩৮ এ. সি হার্টলি
দিনাজপুর ১৯৩৪-৪০ এফ. ও বেল
সিলেট ১৯৫০-৬৪ এন. আহমেদ
খুলনা (শুধু সুন্দরবন) ১৯৪০-৫০ এস.এ মজিদ এবং এম. হক

দ্বিতীয় পর্বের জেলা জরিপ  জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রজন্মান্তর ও অন্যান্য পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভূমি অধিকার কালানুগ করার লক্ষ্যে দ্বিতীয় পর্বের জরিপকাজ শুরু হয় চট্টগ্রাম জেলাকে প্রথম ধরে। সেটেলমেন্ট অফিসার ছিলেন জে. বি কাইন্ডার্সলি। এরপর জরিপ হয় বাকেরগঞ্জ জেলায় (১৯৪০-৪২)। বাকেরগঞ্জ জরিপের অফিসার ছিলেন আর. ডব্লিউ বাস্টিন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কারণে জরিপ বন্ধ রাখা হয়। জরিপকাজ পুনরায় শুরু হয় ১৯৪৫ সালে। এর সেটেলমেন্ট অফিসার ছিলেন এ. কে মুখার্জি। মুখার্জি ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত জরিপ চালানোর পর ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর তিনি উক্ত দায়িত্ব ছেড়ে ভারতে চলে যান। তাঁর স্থলে এম. হক বাকেরগঞ্জের সেটেলমেন্ট অফিসার নিযুক্ত হন।

১৯৫০ সালের  পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পূর্বেকার জরিপ পদ্ধতি অনেকটা বদলে দেয়। এ আইনের পর ভূমিতে জমিদারি স্বত্ব ও মধ্যস্বত্ব না থাকায় জরিপের ভূস্বত্ব-সক্রান্ত দলিল নতুনভাবে তৈরি করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এ অপারেশনে প্রথম ধরা হয় কোর্ট অব ওয়ার্ডস পরিচালিত এস্টেটগুলি। তারপর একে একে সকল বৃহৎ জমিদারি অধিগ্রহণ করা হয়। জমিদারি অধিগ্রহণ ও বন্দোবস্ত জরিপ একই সঙ্গে শুরু হয়। সারা দেশকে মোট আটটি ব্লকে বিভক্ত করে এ জরিপ অপারেশন শুরু হয়। সারণি-২-এ এতদসংক্রান্ত তথ্য সন্নিবেশ করা হয়েছে।

সারণি ২ দ্বিতীয় পর্বের জেলা জরিপ।

ব্লক জরিপ এলাকা সেটেলমেন্ট অফিসার
কুমিল্লা কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম টি. হোসেন
ঢাকা ঢাকা এস. আহমদ
ফরিদপুর ফরিদপুর, কুষ্টিয়া এ. এম. কে মাসুদ
রাজশাহী রাজশাহী, পাবনা এস. জি শাহ
রংপুর রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া এম. ইসলাম
খুলনা খুলনা, যশোর, বাকেরগঞ্জ এম. হক
ময়মনসিংহ ময়মনসিংহ এন. আহমেদ
সিলেট সিলেট এ. কে আহমদ খান

জমিদারি অধিগ্রহণ বন্দোবস্তের প্রধানত দুটি উদ্দেশ্য ছিল: প্রথমত, জমিদারদের ক্ষতিপূরণ নির্ণয় করার লক্ষ্যে একটি সংশোধিত খতিয়ান ও মানচিত্র তৈরি করা; আর দ্বিতীয়ত, সরকার কর্তৃক ভূমিরাজস্ব সংগ্রহের সুবিধার্থে মৌজাওয়ারি খাজনা তালিকা প্রস্ত্তত করা। সরকার দ্বিতীয় লক্ষ্যটির ওপর সমধিক জোর দেয়। আপাতত, জমির ছকওয়ারি পূর্ণ জরিপ না করে শুধু জমিদারি কাগজের ওপর ভিত্তি করেই খাজনা ও তালিকা প্রস্ত্তত করা হয়, যেন এর ওপর ভিত্তি করেই সরকারের তহসিল অফিস ভূমিরাজস্ব সংগ্রহ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। এ পদ্ধতি অবলম্বনের ফলে অল্পকালের মধ্যে সারা দেশে জরিপকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত এ জরিপকাজ চলে।

এদিকে সিলেট জেলা জরিপের জন্য একটি আলাদা ব্যবস্থা উদ্ভাবন করতে হয়। সিলেট জেলা ইতঃপূর্বে আসামের অন্তর্ভুক্ত থাকায় ওই জেলায় কখনও বাংলার জেলাসমূহের মতো পূর্ণমাত্রায় ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ হয় নি। ১৯৫০ থেকে ১৯৬৪ সালের মধ্যে একটি পূর্ণ ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ ও বন্দোবস্ত অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।

নতুন জরিপ ও বন্দোবস্ত পর্ব  জরিপ ও বন্দোবস্তের সংশোধন ও হাল অবস্থায় আনার জন্য ১৯৬৫ সাল থেকে নব পর্যায়ে জরিপ ও বন্দোবস্ত প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের জন্য প্রথম জরিপ করা হয় রাজশাহী জেলা। একই সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান ব্যাপী দিয়ারা জরিপও শুরু হয়। ১৯৭৮ সাল নাগাদ যেসব জেলার সংশোধন জরিপ শেষ হয় সেগুলি হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, পাবনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও জামালপুর।

১৯৮৪ সালে জরিপ ব্যাপারে একটি নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়। ওই  প্রকল্পে ২২টি মূল জেলা সদরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে মোট ২২টি জোনে বিভক্ত করে জরিপকাজ আরম্ভ হয়। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জোনের জরিপ ও বন্দোবস্ত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে, প্রয়োজনীয় দক্ষ লোকবলের প্রকট অভাবের কারণে সকল জেলার জরিপকাজ পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। প্রথমে দশটি জোন ধরে জরিপ শুরু হয়। এগুলি হচ্ছে, খুলনা, বরিশাল, যশোর, ফরিদপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সিলেট, টাঙ্গাইল, রংপুর ও বগুড়া। পরে দেখা যায় যে, উক্ত দশটি জেলার জন্যও দক্ষ লোকবলের অভাব রয়েছে। বাস্তব অসুবিধার প্রেক্ষাপটে শুধু কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, রংপুর এবং বগুড়ায় জরিপ ও বন্দোবস্ত অপারেশন শুরু করতে হয়। তিন বছরের মধ্যে এ জেলাগুলির জরিপ শেষ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বন্দোবস্ত প্রতিবেদন  জরিপ ও বন্দোবস্ত প্রতিবেদনের একটি নির্দিষ্ট ছক রয়েছে। বন্দোবস্ত অপারেশন সমাপ্তির পর জরিপ ও সেটেলমেন্ট অফিসার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করেন। প্রতিবেদনে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বিশদ বিবরণ থাকে, যেমন ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, ঐতিহাসিক ও আর্থসামাজিক বিবরণ, ভূমি ব্যবস্থা ও ভূমি নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে ঐতিহাসিক ও পরিসংখ্যানগত তথ্য, কৃষি অবকাঠামো ও কৃষিফসল সংক্রান্ত তথ্য, একরভিত্তিক শস্য ফলন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।  [তফাজ্জল হোসেন]