জববার, আবদুল: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(Added Ennglish article link)
 
সম্পাদনা সারাংশ নেই
 
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
[[Category:বাংলাপিডিয়া]]
[[Category:বাংলাপিডিয়া]]
[[Image:JabbarAbdul.jpg|thumb|200px|right|আবদুল জববার]]
'''জববার, আবদুল '''(১৯১৯-১৯৫২)  ভাষা শহীদ। ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাঁচুয়া গ্রামে ১৩২৬ সনের ২৬ আশ্বিন (১৯১৯ খ্রি) তিনি জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় পাঠশালায় কিছুকাল অধ্যয়নের পর দারিদ্রে্যর কারণে লেখাপড়া ছেড়ে তিনি পিতাকে কৃষিকাজে সাহায্য করেন। পনেরো বছর বয়সে অধিক রোজগারের আশায় একদিন সবার অজান্তে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ট্রেনযোগে বাণিজ্যকেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ চলে আসেন। সেখানে জাহাজঘাটে তিনি এক ইংরেজ সাহেবের সান্নিধ্যে আসেন এবং তারই সহায়তায় আবদুল জববার একটি চাকুরি নিয়ে বার্মায় চলে যান। বার্মায় অবস্থানকালে তিনি ইংরেজি ভাষা রপ্ত করেন। প্রায় বারো বছর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
'''জববার, আবদুল '''(১৯১৯-১৯৫২)  ভাষা শহীদ। ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাঁচুয়া গ্রামে ১৩২৬ সনের ২৬ আশ্বিন (১৯১৯ খ্রি) তিনি জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় পাঠশালায় কিছুকাল অধ্যয়নের পর দারিদ্রে্যর কারণে লেখাপড়া ছেড়ে তিনি পিতাকে কৃষিকাজে সাহায্য করেন। পনেরো বছর বয়সে অধিক রোজগারের আশায় একদিন সবার অজান্তে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ট্রেনযোগে বাণিজ্যকেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ চলে আসেন। সেখানে জাহাজঘাটে তিনি এক ইংরেজ সাহেবের সান্নিধ্যে আসেন এবং তারই সহায়তায় আবদুল জববার একটি চাকুরি নিয়ে বার্মায় চলে যান। বার্মায় অবস্থানকালে তিনি ইংরেজি ভাষা রপ্ত করেন। প্রায় বারো বছর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।


১৯৫২ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত শাশুড়ির চিকিৎসার জন্য তিনি স্ত্রীসহ ঢাকায় আসেন (২০ ফেব্রুয়ারি) এবং শাশুড়িকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে ব্যাপক জনসমাবেশ ঘটে। আবদুল জববারও ওই সমাবেশে যোগ দেন। সে সময় ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালালে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই রাতেই তিনি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৫২ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত শাশুড়ির চিকিৎসার জন্য তিনি স্ত্রীসহ ঢাকায় আসেন (২০ ফেব্রুয়ারি) এবং শাশুড়িকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে ব্যাপক জনসমাবেশ ঘটে। আবদুল জববারও ওই সমাবেশে যোগ দেন। সে সময় ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালালে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই রাতেই তিনি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
[[Image:JabbarAbdul.jpg|thumb|400px|right|আবদুল জববার]]


২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।  [দিলরুবা বেগম]
২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।  [দিলরুবা বেগম]


[[en:Jabbar, Abdul]]
[[en:Jabbar, Abdul]]

১০:২৭, ১ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

আবদুল জববার

জববার, আবদুল (১৯১৯-১৯৫২)  ভাষা শহীদ। ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাঁচুয়া গ্রামে ১৩২৬ সনের ২৬ আশ্বিন (১৯১৯ খ্রি) তিনি জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় পাঠশালায় কিছুকাল অধ্যয়নের পর দারিদ্রে্যর কারণে লেখাপড়া ছেড়ে তিনি পিতাকে কৃষিকাজে সাহায্য করেন। পনেরো বছর বয়সে অধিক রোজগারের আশায় একদিন সবার অজান্তে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ট্রেনযোগে বাণিজ্যকেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ চলে আসেন। সেখানে জাহাজঘাটে তিনি এক ইংরেজ সাহেবের সান্নিধ্যে আসেন এবং তারই সহায়তায় আবদুল জববার একটি চাকুরি নিয়ে বার্মায় চলে যান। বার্মায় অবস্থানকালে তিনি ইংরেজি ভাষা রপ্ত করেন। প্রায় বারো বছর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।

১৯৫২ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত শাশুড়ির চিকিৎসার জন্য তিনি স্ত্রীসহ ঢাকায় আসেন (২০ ফেব্রুয়ারি) এবং শাশুড়িকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে ব্যাপক জনসমাবেশ ঘটে। আবদুল জববারও ওই সমাবেশে যোগ দেন। সে সময় ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালালে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই রাতেই তিনি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।  [দিলরুবা বেগম]