"ঘোষ, মনোমোহন" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(Added Ennglish article link)
 
 
৫ নং লাইন: ৫ নং লাইন:
  
 
ইংল্যান্ডে অবস্থানকালে মনোমোহন বার-এট-ল’ সমাপ্ত করেন। ১৮৬৬ সালে দেশে ফিরে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে প্রাকটিস শুরু করেন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিজেকে একজন সফল আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ব্যারিস্টারি প্রাকটিসকালে তিনি ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনে যোগ দেন। তিনি ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। এছাড়া তিনি ষষ্ঠ কলিকাতা কংগ্রেস (১৮৯০) এবং বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল কনফারেন্সে কৃষ্ণনগর সেসনের (১৮৯৬) অভ্যর্থনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।
 
ইংল্যান্ডে অবস্থানকালে মনোমোহন বার-এট-ল’ সমাপ্ত করেন। ১৮৬৬ সালে দেশে ফিরে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে প্রাকটিস শুরু করেন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিজেকে একজন সফল আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ব্যারিস্টারি প্রাকটিসকালে তিনি ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনে যোগ দেন। তিনি ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। এছাড়া তিনি ষষ্ঠ কলিকাতা কংগ্রেস (১৮৯০) এবং বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল কনফারেন্সে কৃষ্ণনগর সেসনের (১৮৯৬) অভ্যর্থনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।
 
<nowiki># # </nowiki>
 
 
# #
 
  
 
মনোমোহন স্ত্রীশিক্ষার পক্ষপাতী ছিলেন। এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি পত্নী স্বর্ণলতাকে লরেটো কনভেন্টে পাঠিয়েছিলেন। ১৮৭২ সালে তিনি প্রগ্রেসিভ ব্রাহ্মগণ কর্তৃক আয়োজিত সিম্পোজিয়ামে নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কারণসমূহ তুলে ধরেন। ১৮৭৩ সালে তিনি বেথুন স্কুলের সেক্রেটারি মনোনীত হন এবং হিন্দু মহিলা বিদ্যালয়ের অন্যতম পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকা পালন করেন। ১৮৭৬ সালে তিনি বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
 
মনোমোহন স্ত্রীশিক্ষার পক্ষপাতী ছিলেন। এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি পত্নী স্বর্ণলতাকে লরেটো কনভেন্টে পাঠিয়েছিলেন। ১৮৭২ সালে তিনি প্রগ্রেসিভ ব্রাহ্মগণ কর্তৃক আয়োজিত সিম্পোজিয়ামে নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কারণসমূহ তুলে ধরেন। ১৮৭৩ সালে তিনি বেথুন স্কুলের সেক্রেটারি মনোনীত হন এবং হিন্দু মহিলা বিদ্যালয়ের অন্যতম পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকা পালন করেন। ১৮৭৬ সালে তিনি বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

১২:৫৮, ১ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

ঘোষ, মনোমোহন (১৮৪৪-১৮৯৬)  উনিশ শতকে বাংলার পুনর্জাগরণের অগ্রদূত, দেশহিতৈষী ও জাতীয় কংগ্রেসের অন্যতম নেতা। কৃষ্ণনগরে এক উচ্চমধ্যবিত্ত  কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের বৈরাগাদিতে। পিতা রামলোচন ঘোষ ছিলেন রামমোহন রায়ের সহযোগী। পিতার প্রগতিশীল ও দেশাত্মবোধক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর দুই পুত্র মনোমোহন ও লালমোহনকে অনুপ্রাণিত করেছিল।

মনোমোহন ১৮৫৯ সালে কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাস করে ১৮৬১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। পরের বছর ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য তিনি সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে ইংল্যান্ড যান; কিন্তু আইসিএস পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হন। এ সময় তিনি Lincoln’s Inn-এ যোগ দেন।

ইংল্যান্ডে অবস্থানকালে মনোমোহন বার-এট-ল’ সমাপ্ত করেন। ১৮৬৬ সালে দেশে ফিরে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে প্রাকটিস শুরু করেন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিজেকে একজন সফল আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ব্যারিস্টারি প্রাকটিসকালে তিনি ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনে যোগ দেন। তিনি ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। এছাড়া তিনি ষষ্ঠ কলিকাতা কংগ্রেস (১৮৯০) এবং বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল কনফারেন্সে কৃষ্ণনগর সেসনের (১৮৯৬) অভ্যর্থনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।

মনোমোহন স্ত্রীশিক্ষার পক্ষপাতী ছিলেন। এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি পত্নী স্বর্ণলতাকে লরেটো কনভেন্টে পাঠিয়েছিলেন। ১৮৭২ সালে তিনি প্রগ্রেসিভ ব্রাহ্মগণ কর্তৃক আয়োজিত সিম্পোজিয়ামে নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কারণসমূহ তুলে ধরেন। ১৮৭৩ সালে তিনি বেথুন স্কুলের সেক্রেটারি মনোনীত হন এবং হিন্দু মহিলা বিদ্যালয়ের অন্যতম পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকা পালন করেন। ১৮৭৬ সালে তিনি বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের সঙ্গে মনোমোহনের বন্ধুসুলভ সম্পর্ক ছিল এবং তিনি মাইকেলের কবিতার অনুরাগীও ছিলেন। মধুসূদনকে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতাও করেছেন।

মনোমোহন ঘোষ ছিলেন একজন অসাধারণ বাগ্মী। পরবর্তীকালে একাধিকবার ইংল্যান্ড ভ্রমণকালে তিনি বাংলা তথা ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্বন্ধে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন এবং ভারতের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

মনোমোহন ঘোষ বহু জনহিতকর কাজে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৮৬০ সালে নীলচাষীদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি  হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকায় প্রবন্ধ লেখেন। তিনি শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ আন্দোলনের অগ্রদূত ছিলেন। The Administration of Justice in India নামক বইটি এ বিষয়ে তাঁর মূল্যবান রচনা। বাল্যবিবাহের বিপক্ষে থেকে তিনি ‘বিবাহে সম্মতিদান’ বিল (১৮৯১) সমর্থন করেন। ১৮৬১ সালে তিনি ইন্ডিয়ান মিরর পত্রিকা প্রকাশ করেন এবং ১৮৬২ সালের মার্চ পর্যন্ত এর সম্পাদক ছিলেন।  [সমবারু চন্দ্র মহন্ত]