কলেরা: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা সারাংশ নেই
 
সম্পাদনা সারাংশ নেই
 
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
[[Category:বাংলাপিডিয়া]]
[[Category:বাংলাপিডিয়া]]
'''কলেরা'''  ''Vibrio cholerae'' নামক জীবাণু ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রদাহ জনিত সংক্রামক ব্যাধি। এ রোগে শরীর থেকে ঘনঘন চাল ধোয়া পানির মত মলত্যাগের সহিত প্রচুর পানি ও লবণ (Eletrolytes) বের হয়ে যায়। ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞানী কক (Koch) Vibrio cholerae জীবাণু আবিষ্কার করেন। এটি একটি কমা (,) আকৃতির  ব্যাকটেরিয়া যা কলেরা আক্রান্ত রোগীর মলে দূষিত পানির মাধ্যমে ছড়ায়। শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর এ জীবাণু ক্ষুদ্রান্ত্রের গায়ে লেগে যায় এবং সেখানে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। এ সময় জীবাণু বিষ (Toxin) উৎপন্ন করে। এ বিষ রিসেপ্টরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গ্যাংলিওসাইড (ganglioside) নামে ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাইগুলিতে অবস্থান করে। এর ফলে জীবাণুর বসবাসের স্থানে ব্যাপকভাবে এডেনাইলেট সাইক্লেজ এনজাইমের (adenylate cyclase) কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। এ এনজাইম মূলত সাইক্লিক এএমপি (cAMP) তৈরির জন্য দায়ী যেটি ভয়ঙ্করভাবে অন্ত্রের নাড়াচাড়া বৃদ্ধি করে যার ফলে প্রচুর পাতলা পায়খানা হয়। প্রাথমিকভাবে কলেরা রোগে দেহের প্রচুর তরল পদার্থ ও Eletrolytes হারিয়ে যায়। কলেরা আক্রান্ত রোগী একদিনেই ৩০ লিটারের মতো তরল পদার্থ (মল) ত্যাগ করতে পারে। কলেরা রোগের কারণে হারিয়ে যাওয়া তরলের জন্য শরীরে যে পানিশূন্যতা দেখা দেয় তা নিয়ন্ত্রণ করা যায় রক্তনালিকার মাধ্যমে বা মুখে শরীরে তরল পদার্থ প্রবিষ্ট করিয়ে, যাতে থাকে সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্লোরাইড আয়ন, গ্লুকোজ এবং অল্প পরিমাণ বাইকার্বনেট।
'''কলেরা'''   ''Vibrio cholerae'' নামক জীবাণু ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রদাহ জনিত সংক্রামক ব্যাধি। এ রোগে শরীর থেকে ঘনঘন চাল ধোয়া পানির মত মলত্যাগের সহিত প্রচুর পানি ও লবণ (Eletrolytes) বের হয়ে যায়। ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞানী কক (Koch) Vibrio cholerae জীবাণু আবিষ্কার করেন। এটি একটি কমা (,) আকৃতির  ব্যাকটেরিয়া যা কলেরা আক্রান্ত রোগীর মলে দূষিত পানির মাধ্যমে ছড়ায়। শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর এ জীবাণু ক্ষুদ্রান্ত্রের গায়ে লেগে যায় এবং সেখানে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। এ সময় জীবাণু বিষ (Toxin) উৎপন্ন করে। এ বিষ রিসেপ্টরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গ্যাংলিওসাইড (ganglioside) নামে ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাইগুলিতে অবস্থান করে। এর ফলে জীবাণুর বসবাসের স্থানে ব্যাপকভাবে এডেনাইলেট সাইক্লেজ এনজাইমের (adenylate cyclase) কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। এ এনজাইম মূলত সাইক্লিক এএমপি (cAMP) তৈরির জন্য দায়ী যেটি ভয়ঙ্করভাবে অন্ত্রের নাড়াচাড়া বৃদ্ধি করে যার ফলে প্রচুর পাতলা পায়খানা হয়। প্রাথমিকভাবে কলেরা রোগে দেহের প্রচুর তরল পদার্থ ও Eletrolytes হারিয়ে যায়। কলেরা আক্রান্ত রোগী একদিনেই ৩০ লিটারের মতো তরল পদার্থ (মল) ত্যাগ করতে পারে। কলেরা রোগের কারণে হারিয়ে যাওয়া তরলের জন্য শরীরে যে পানিশূন্যতা দেখা দেয় তা নিয়ন্ত্রণ করা যায় রক্তনালিকার মাধ্যমে বা মুখে শরীরে তরল পদার্থ প্রবিষ্ট করিয়ে, যাতে থাকে সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্লোরাইড আয়ন, গ্লুকোজ এবং অল্প পরিমাণ বাইকার্বনেট।


একসময় গাঙ্গেয় বদ্বীপ এলাকায় কলেরা মহামারী আকারে আবির্ভূত হত আর এতে পুরুষ, নারী ও শিশুসহ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ মারা যেত। ওলাবিবি/দেবী গ্রামে/অঞ্চলে উঠে আসার সহিত এর সম্পৃক্ততা রয়েছে এধারণা থেকে ওলাউঠা নামেও এ রোগটি অভিহিত ছিল। এলাকায় ওলাবিবি/দেবীর উঠে আসা প্রতিরোধে আর উঠে আসলে একে বের  করে দেয়ার নিমিত্তে বিভিন্ন আচরন ও রীতির কুসংষ্কার তখন প্রচলিত ছিল।
একসময় গাঙ্গেয় বদ্বীপ এলাকায় কলেরা মহামারী আকারে আবির্ভূত হত আর এতে পুরুষ, নারী ও শিশুসহ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ মারা যেত। ওলাবিবি/দেবী গ্রামে/অঞ্চলে উঠে আসার সহিত এর সম্পৃক্ততা রয়েছে এধারণা থেকে ওলাউঠা নামেও এ রোগটি অভিহিত ছিল। এলাকায় ওলাবিবি/দেবীর উঠে আসা প্রতিরোধে আর উঠে আসলে একে বের  করে দেয়ার নিমিত্তে বিভিন্ন আচরন ও রীতির কুসংষ্কার তখন প্রচলিত ছিল।


বাংলাদেশ এ রোগটিকে পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, রক্তনালির মধ্যে তরল প্রবেশ করানোর পাশাপাশি মুখের ওরস্যালাইন (Oral Rehydration Solution/ORS) ও তরল গ্রহণ পদ্ধতি উন্নয়নের মাধ্যমে শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা, কলেরা জীবাণুর বিরুদ্ধে টিকা ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার উন্নয়ন করা। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র ([[আইসিডিডিআর,বি|আইসিডিডিআর]][[আইসিডিডিআর,বি|,বি]]) প্রতিষ্ঠিত হয় যা এককভাবে কলেরা এবং পাতলা পায়খানাজনিত এবং সংশ্লিষ্ট রোগ ও চিকিৎসা গবেষণার জন্য নিবেদিত। [জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও এম.কে.আই কাইয়ুম চৌধুরী]
বাংলাদেশ এ রোগটিকে পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, রক্তনালির মধ্যে তরল প্রবেশ করানোর পাশাপাশি মুখের ওরস্যালাইন (Oral Rehydration Solution/ORS) ও তরল গ্রহণ পদ্ধতি উন্নয়নের মাধ্যমে শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা, কলেরা জীবাণুর বিরুদ্ধে টিকা ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার উন্নয়ন করা। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র ([[আইসিডিডিআর,বি|আইসিডিডিআর,বি]]) প্রতিষ্ঠিত হয় যা এককভাবে কলেরা এবং পাতলা পায়খানাজনিত এবং সংশ্লিষ্ট রোগ ও চিকিৎসা গবেষণার জন্য নিবেদিত। [জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও এম.কে.আই কাইয়ুম চৌধুরী]


[[en:Cholera]]
[[en:Cholera]]

১০:০৯, ৫ আগস্ট ২০১৪ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

কলেরা   Vibrio cholerae নামক জীবাণু ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রদাহ জনিত সংক্রামক ব্যাধি। এ রোগে শরীর থেকে ঘনঘন চাল ধোয়া পানির মত মলত্যাগের সহিত প্রচুর পানি ও লবণ (Eletrolytes) বের হয়ে যায়। ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞানী কক (Koch) Vibrio cholerae জীবাণু আবিষ্কার করেন। এটি একটি কমা (,) আকৃতির  ব্যাকটেরিয়া যা কলেরা আক্রান্ত রোগীর মলে দূষিত পানির মাধ্যমে ছড়ায়। শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর এ জীবাণু ক্ষুদ্রান্ত্রের গায়ে লেগে যায় এবং সেখানে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। এ সময় জীবাণু বিষ (Toxin) উৎপন্ন করে। এ বিষ রিসেপ্টরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গ্যাংলিওসাইড (ganglioside) নামে ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাইগুলিতে অবস্থান করে। এর ফলে জীবাণুর বসবাসের স্থানে ব্যাপকভাবে এডেনাইলেট সাইক্লেজ এনজাইমের (adenylate cyclase) কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। এ এনজাইম মূলত সাইক্লিক এএমপি (cAMP) তৈরির জন্য দায়ী যেটি ভয়ঙ্করভাবে অন্ত্রের নাড়াচাড়া বৃদ্ধি করে যার ফলে প্রচুর পাতলা পায়খানা হয়। প্রাথমিকভাবে কলেরা রোগে দেহের প্রচুর তরল পদার্থ ও Eletrolytes হারিয়ে যায়। কলেরা আক্রান্ত রোগী একদিনেই ৩০ লিটারের মতো তরল পদার্থ (মল) ত্যাগ করতে পারে। কলেরা রোগের কারণে হারিয়ে যাওয়া তরলের জন্য শরীরে যে পানিশূন্যতা দেখা দেয় তা নিয়ন্ত্রণ করা যায় রক্তনালিকার মাধ্যমে বা মুখে শরীরে তরল পদার্থ প্রবিষ্ট করিয়ে, যাতে থাকে সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্লোরাইড আয়ন, গ্লুকোজ এবং অল্প পরিমাণ বাইকার্বনেট।

একসময় গাঙ্গেয় বদ্বীপ এলাকায় কলেরা মহামারী আকারে আবির্ভূত হত আর এতে পুরুষ, নারী ও শিশুসহ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ মারা যেত। ওলাবিবি/দেবী গ্রামে/অঞ্চলে উঠে আসার সহিত এর সম্পৃক্ততা রয়েছে এধারণা থেকে ওলাউঠা নামেও এ রোগটি অভিহিত ছিল। এলাকায় ওলাবিবি/দেবীর উঠে আসা প্রতিরোধে আর উঠে আসলে একে বের  করে দেয়ার নিমিত্তে বিভিন্ন আচরন ও রীতির কুসংষ্কার তখন প্রচলিত ছিল।

বাংলাদেশ এ রোগটিকে পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, রক্তনালির মধ্যে তরল প্রবেশ করানোর পাশাপাশি মুখের ওরস্যালাইন (Oral Rehydration Solution/ORS) ও তরল গ্রহণ পদ্ধতি উন্নয়নের মাধ্যমে শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা, কলেরা জীবাণুর বিরুদ্ধে টিকা ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার উন্নয়ন করা। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআর,বি) প্রতিষ্ঠিত হয় যা এককভাবে কলেরা এবং পাতলা পায়খানাজনিত এবং সংশ্লিষ্ট রোগ ও চিকিৎসা গবেষণার জন্য নিবেদিত। [জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও এম.কে.আই কাইয়ুম চৌধুরী]