স্পারসো

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ২৩:১৩, ৪ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

স্পারসো (Space Research and Remote Sensing Organisation-SPARRSO)  মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, যা দেশের মহাকাশ বিজ্ঞান এবং দূর অনুধাবন প্রযুক্তি গবেষণার সঙ্গে জড়িত। একটি পরিচালনা পরিষদ স্পারসো পরিচালনা করে। মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচিত একজন চেয়ারম্যান এই পরিষদের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পরমাণু শক্তি কেন্দ্র, ঢাকা-র ক্যাম্পাসে ১৯৬৮ সালে একটি অটোমেটিক পিকচার ট্রান্সমিশন-এপিটি (Automatic Picture Transmission-APT) গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশ মহাকাশ প্রযুক্তির জগতে প্রবেশ করে। এই গ্রাউন্ড স্টেশনের মাধ্যমে আবহাওয়া উপগ্রহ থেকে সরাসরি প্রকৃত আবহাওয়া চিত্র লাভ করা হতো। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন-এ মহাকাশ ও বায়ুমন্ডলীয় গবেষণা কেন্দ্র-এসএআরসি (Space and Atmospheric Research Centre-SARC) স্থাপন করা হয় এবং এপিটি গ্রাউন্ড স্টেশনটিকে এর আওতায় নিয়ে আসা হয়। ভূমি সম্পদ প্রযুক্তি উপগ্রহ-ইআরটিএস (Earth Resource Technology Satellite-ERTS) আবির্ভাবের পর ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ ইআরটিএস প্রোগ্রাম নামে একটি কর্মসূচি গ্রহণ করে। ইআরটিএস-কে পরবর্তীতে ল্যান্ডস্যাট স্যাটেলাইট হিসেবে নামকরণ করা হলে বাংলাদেশের ইআরটিএস প্রোগ্রামকেও বাংলাদেশ ল্যান্ডস্যাট স্যাটেলাইট প্রোগাম-বিএলপি (Bangladesh Landsat Programme-BLP) নামে পুনর্নামকরণ করা হয়। ১৯৮০ সালে এক নির্বাহী আদেশ বলে এসএআরসি এবং বিএলপি উভয়কে একীভূত করে স্পারসো প্রতিষ্ঠা করা হয়।

স্পারসোর প্রধান কার্যক্রমসমূহ হচ্ছে: (১) দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ জরিপ এবং পরিবেশ ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ পর্যবেক্ষণের জন্য মহাকাশ ও দূর অনুধাবন প্রযুক্তি ব্যবহার করা; (২) জাতীয় অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ উপযোগী উপগ্রহ ও বিমানচিত্র লব্ধ উপাত্তের সংগ্রহ কেন্দ্র ও প্রাপ্ত উপাত্তের সাধারণ ও কম্পিউটারভিত্তিক বিশে­ষণের নিমিত্তে জনশক্তি ও যান্ত্রিক সুবিধার উন্নয়ন ঘটানোর কেন্দ্র হিসেবে স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড রিসিভিং স্টেশনসমূহকে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা; (৩) দেশে মহাকাশ ও দূর অনুধাবন কার্যক্রম পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করা এবং মহাকাশ বিজ্ঞান ও দূর অনুধাবন প্রযুক্তি বিষয়ে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নীতি প্রণয়নে সরকারকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত সরবরাহ করা এবং টেকসই উন্নয়নে এসকল উপাত্ত ব্যবহার করা; (৪) মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করা।

বিজ্ঞানী, কারিগরি ও অন্যান্য সাধারণ কর্মকর্তা মিলিয়ে স্পারসোর মোট জনশক্তি সংখ্যা ১৯০। বিমানচিত্র (Aerial Photographs) ও উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত উপাত্তের (Satellite Data) প্রক্রিয়াকরণ, বিশে­ষণ, সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের জন্য স্পারসোর নিজস্ব প্রযুক্তিগত, প্রশিক্ষিত জনশক্তিগত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা রয়েছে। যুক্তরাষ্টের নোয়া (NOAA) উপগ্রহ এবং জাপানের জিএমএস উপগ্রহ (Geostationary Meteorological Satellite- GMS) থেকে উচ্চ ও নিম্ন ক্ষমতার উপাত্ত ও চিত্র (High and low resolution imagery) গ্রহণের জন্য এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে উন্নত প্রযুক্তির আবহাওয়া উপগ্রহ গ্রাউন্ড স্টেশন (Advanced Meteorological Satellite Ground Station-AMSGS)। প্রতিদিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদান, কৃষি-জলবায়ুগত পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং পানি সম্পদ সমীক্ষার কাজে গৃহীত উপগ্রহ উপাত্তসমূহ ব্যবহূত হয়। আবহাওয়াগত ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংশি­ষ্ট উপগ্রহ উপাত্তের নিখুঁত বিশে­ষণের জন্য স্পারসোর রয়েছে নিজস্ব অত্যাধুনিক ডিজিটাল চিত্র প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা। ডিজিটাল চিত্রসমূহ প্রক্রিয়াকরণের জন্য স্পারসো এরডাস (ERDAS) সফটওয়ার ব্যবহার করে। এ ছাড়াও এর রয়েছে জিআইএস সুবিধা, যেখানে ব্যবহূত প্রধান জিআইএস সফটওয়ারগুলো হচ্ছে: মেইনফ্রেম আর্ক/ইনফো (Mainframe ARC/INFO), পিসি আর্ক/ইনফো (PC ARC/INFO), এরিম জিআইএস (ERIM GIS), ইদ্রিসি (EDRISI) প্রভৃতি।

স্পারসোর রয়েছে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, যাতে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ৫,০০০-এরও অধিক বই রয়েছে। এছাড়াও এই গ্রন্থাগারে মহাকাশ বিজ্ঞান ও দূর অনুধাবন প্রযুক্তির ওপর অনেক দেশি-বিদেশী জার্নাল ও সময়িকী পাওয়া যায়। স্পারসো নিয়মিত বার্ষিক প্রতিবেদন, ত্রৈমাসিক নিউজ লেটার এবং দূর অনুধাবন সাময়িকী নামে একটি বাংলা পত্রিকা প্রকাশ করে। এই প্রকাশনাসমূহ দেশে ও বিদেশে প্রচারিত হয়ে থাকে।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরিবেশ কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রয়োগে জাতিসংঘ, এসকাপ (ESCAP) সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একযোগে কাজ করে। স্পারসো এশিয়ান এসোসিয়েশন অব রিমোট সেনসিং (Asian Association of Remote Sensing)-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং আন্তর্জাতিক নভো ফেডারেশনের (International Astronautical Federation) সদস্য।

নিজস্ব বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী এবং স্থানীয় ও বিদেশী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের জন্য স্পারসো বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে।  [মাসুদ হাসান চৌধুরী]