হার্বিসাইড
হার্বিসাইড (Herbicide) বা আগাছানশক হলো এমন এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যা শস্যক্ষেত, বাগানে আগাছা হিসেবে জন্মানো উদ্ভিদগুলোকে বেছে বেছে মেরে ফেলে। ১৯৫০-এর দশকে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশের ওপর পরিচালিত গবেষণার ফলে এমন কিছু রাসায়নিক আবিষ্কৃত হয়, যা বিভিন্ন উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশের ওপর সুনির্দিষ্ট বিষাক্ত প্রভাব প্রদর্শন করে। চওড়া পাতাবিশিষ্ট আগাছা দমনে ব্যবহৃত কিছু সাধারণ আগাছানাশক হলো 2, 4 ফোসামিন (Fosamine), ডাইক্যাম্বা (Dicamba) এবং পিকলোরাম (Picloram)। আবার কিছু আগাছানাশক রয়েছে যা সুনির্দিষ্টভাবে সরু পাতাবিশিষ্ট ঘাস জাতীয় আগাছা ধ্বংস করে, যেমন- ড্যাপালোন (Dapalon)। বেশিরভাগ আগাছানাশক তরল হিসেবে স্প্রে করা হয়, তবে কিছু কিছু রাসায়নিক সারের সাথে দানাদার আকারেও প্রয়োগ করা হয়।
বাংলাদেশে শস্যক্ষেত থেকে অনাকাক্সিক্ষত আগাছা দূর করার কাজটি দীর্ঘদিন ধরে লাঙল ও কোদালের মতো সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। এই পদ্ধতিটি বেশ শ্রমঘন, তবে সস্তা শ্রমের সহজলভ্যতার কারণে পাট, রবিশস্য (যেমন- তামাক, টমেটো, বেগুন, মরিচ, সরিষা, ডাল ইত্যাদি) ক্ষেতের আগাছা দমনে তেমন কোনো বিশেষ সমস্যা দেখা দেয়নি। বাংলাদেশে শস্যক্ষেত এবং বাগানের আগাছা এখনো মূলত হাত দিয়েই পরিষ্কার করা হয়, যার ফলে এখানে আগাছানাশকের ব্যবহার বেশ সীমিত। বর্তমানে এর প্রধান প্রয়োগ দেখা যায় চা বাগানগুলোতে।
১৯৯০-১৯৯১ সালের দিকে বাংলাদেশ প্রায় ২৪,০০০ কেজি আগাছানাশক ও ঘাস মারার ওষুধ আমদানি করেছিল। বাংলাদেশের ধানক্ষেতগুলোতে কোনো আগাছানাশক ব্যবহার করা হয় না; কারণ এ দেশের সমতল ভূপ্রকৃতির কারণে ক্ষেত থেকে পানি সহজে নেমে যেতে পারে না। ফলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কৃষিজমিতে বিষাক্ততার মাত্রা অনেক বেড়ে যাওয়ার একটা বড় ঝুঁকি থাকে। এর পরিবর্তে, সেচযুক্ত ধানক্ষেতে আগাছা নিয়ন্ত্রণের জন্য পানির স্তরকে স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে প্রায় ৫০% বেশি ধরে রাখা হয়। [জিয়া উদ্দিন আহমেদ]
আরও দেখুন আগাছা।
