আহম্মেদ, ইয়াজউদ্দিন: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য
NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) অ (Added Ennglish article link) |
সম্পাদনা সারাংশ নেই |
||
| (একই ব্যবহারকারী দ্বারা সম্পাদিত একটি মধ্যবর্তী সংশোধন দেখানো হচ্ছে না) | |||
| ৭ নং লাইন: | ৭ নং লাইন: | ||
ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১২৫ টি গবেষণামূলক নিবন্ধ প্রণেতা। গবেষণাক্ষেত্রে তিনি যে দুটি প্রধান বিষয়ে কাজ করেছেন তা হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলে ধানক্ষেতের লবণাক্ততা ও গাছের প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহের জন্য মাটির নিচে গাছের খাদ্য সংরক্ষণ। মাটির নিচে গাছের খাদ্য সংরক্ষণ বিষয়ক তাঁর উদ্ভাবিত নতুন পদ্ধতি দেশে-বিদেশে বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি ১৯৮৭ সালে ইব্রাহিম স্মৃতি পদক এবং ১৯৯০ সালে অতীশ দীপঙ্কর পদক লাভ করেন। শিক্ষার মানোন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১৯৯৫ সালে একুশে পদক পুরস্কারে ভূষিত হন। | ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১২৫ টি গবেষণামূলক নিবন্ধ প্রণেতা। গবেষণাক্ষেত্রে তিনি যে দুটি প্রধান বিষয়ে কাজ করেছেন তা হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলে ধানক্ষেতের লবণাক্ততা ও গাছের প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহের জন্য মাটির নিচে গাছের খাদ্য সংরক্ষণ। মাটির নিচে গাছের খাদ্য সংরক্ষণ বিষয়ক তাঁর উদ্ভাবিত নতুন পদ্ধতি দেশে-বিদেশে বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি ১৯৮৭ সালে ইব্রাহিম স্মৃতি পদক এবং ১৯৯০ সালে অতীশ দীপঙ্কর পদক লাভ করেন। শিক্ষার মানোন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১৯৯৫ সালে একুশে পদক পুরস্কারে ভূষিত হন। | ||
ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১৯৯১ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে খাদ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ২০০২ | ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১৯৯১ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে খাদ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ২০০২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ২০০২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। | ||
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগে রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ প্রধান উপদেষ্টার অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু সংসদীয় নির্বাচন নিয়ে অব্যাহত রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে তিনি ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি উপদেষ্টার পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০০৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায় নেন। | তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগে রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ প্রধান উপদেষ্টার অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু সংসদীয় নির্বাচন নিয়ে অব্যাহত রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে তিনি ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি উপদেষ্টার পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০০৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায় নেন। | ||
০৯:২৩, ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

আহম্মেদ, ইয়াজউদ্দিন (১৯৩১-২০১২) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। ১৯৩১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর থানার নয়াগাঁও গ্রামে তাঁর জন্ম। ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১৯৪৮ সালে মুন্সিগঞ্জ হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৫০ সালে হরগঙ্গা কলেজ থেকে আই.এসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫২ সালে বি.এসসি এবং ১৯৫৪ সালে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে এম.এসসি ডিগ্রি লাভ করেন। অতঃপর উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি আমেরিকা যান এবং উইসকন্সিন ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৫৮ সালে এম.এস এবং ১৯৬২ সালে পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন। উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে সহকারি অধ্যাপক পদে যোগ দেন।
কর্মজীবনে অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান, (১৯৬৮-১৯৬৯; ১৯৭৬-১৯৭৯), সলিমুল্লাহ হলের প্রভোস্ট (১৯৭৫-১৯৮৩), জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন (১৯৮৯-১৯৯১), সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান (১৯৯১-১৯৯৩), বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান (১৯৯৫-১৯৯৯), এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর উপাচার্য (২০০২) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি ১৯৮৪ সালে কর্নেল ইউনিভার্সিটি (যুক্তরাষ্ট্র), জার্মান টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং গোটিনজেন্স ইউনিভার্সিটি অব জার্মানি-র ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কাজ করেন।
ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১২৫ টি গবেষণামূলক নিবন্ধ প্রণেতা। গবেষণাক্ষেত্রে তিনি যে দুটি প্রধান বিষয়ে কাজ করেছেন তা হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলে ধানক্ষেতের লবণাক্ততা ও গাছের প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহের জন্য মাটির নিচে গাছের খাদ্য সংরক্ষণ। মাটির নিচে গাছের খাদ্য সংরক্ষণ বিষয়ক তাঁর উদ্ভাবিত নতুন পদ্ধতি দেশে-বিদেশে বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি ১৯৮৭ সালে ইব্রাহিম স্মৃতি পদক এবং ১৯৯০ সালে অতীশ দীপঙ্কর পদক লাভ করেন। শিক্ষার মানোন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১৯৯৫ সালে একুশে পদক পুরস্কারে ভূষিত হন।
ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১৯৯১ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে খাদ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ২০০২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ২০০২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগে রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ প্রধান উপদেষ্টার অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু সংসদীয় নির্বাচন নিয়ে অব্যাহত রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে তিনি ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি উপদেষ্টার পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০০৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায় নেন।
ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। [হেলাল উদ্দিন আহমেদ]
