<?xml version="1.0"?>
<feed xmlns="http://www.w3.org/2005/Atom" xml:lang="bn">
	<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?action=history&amp;feed=atom&amp;title=%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A6%BE</id>
	<title>আগাছা - সংশোধনের ইতিহাস</title>
	<link rel="self" type="application/atom+xml" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?action=history&amp;feed=atom&amp;title=%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A6%BE"/>
	<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A6%BE&amp;action=history"/>
	<updated>2026-05-02T15:44:52Z</updated>
	<subtitle>এই উইকিতে এই পাতার সংশোধনের ইতিহাস</subtitle>
	<generator>MediaWiki 1.40.0</generator>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A6%BE&amp;diff=2307&amp;oldid=prev</id>
		<title>০৫:১০, ১৫ জুন ২০১৪-এ Mukbil</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A6%BE&amp;diff=2307&amp;oldid=prev"/>
		<updated>2014-06-15T05:10:01Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;b&gt;নতুন পাতা&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;আগাছা&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;  অবাঞ্চিত, সমস্যা সৃষ্টিকারী বা অনিষ্টকর উদ্ভিদ যা বপন ছাড়াই অতিমাত্রায় জন্মায়। আগাছা সাধারণত প্রতিযোগী ও অদম্য এবং অধিক বংশবিস্তারে সক্ষম। এদের জীবনচক্র স্বল্পমেয়াদি। আগাছাকে সরুপাতা বা প্রশস্ত পাতাবিশিষ্ট হিসেবে বর্ণনা করা হয়। বিভিন্ন ধরনের ঘাস অত্যন্ত সাধারণ সরু পাতাবিশিষ্ট আগাছা যা একবীজপত্রীর অন্তর্ভুক্ত। প্রশস্ত পাতাবিশিষ্ট আগাছা অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ যা দ্বিবীজপত্রীভুক্ত। আগাছাকে কোনো কোনো সময় জলজ, স্থলজ, আরোহী ও উভচর হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। প্রায় সকল আগাছাই স্বভোজী কিন্তু কিছু পরজীবী আগাছাও রয়েছে। নির্দিষ্ট সময় ও ক্ষেত্রবিশেষে আগাছাকে সাধারণভাবে অবাঞ্চিত হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এগুলি  [[ঔষধ|ঔষধ]],  [[শাকসবজি|শাকসবজি]], পশুখাদ্য ও জ্বালানি হিসেবে এবং জমির জৈব পদার্থ আবর্তনে ব্যবহূত হতে পারে। বাংলাদেশে আবাদকৃত জমির আগাছা হিসেবে প্রায় ৩৫০ প্রজাতির উল্লেখ করা হয়েছে। একটি স্থানের প্রজাতির সংখ্যা ভূমির ব্যবহারের ধরন ও এর বাস্ত্তসংস্থানিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। আগাছার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ  [[একবীজপত্রী উদ্ভিদ|একবীজপত্রী উদ্ভিদ]] আর বাকি সব দ্বিবীজপত্রী। সাধারণ আগাছাসমূহ Poaceae, Cyperaceae, Leguminosae, Asteraceae, Euphorbiaceae, Scrophulariaceae, Amaranthaceae, Solanaceae ও Acanthaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। Cyperus, Lindernia, Eragrostis, Panicum, Cynodon, Hygropylla, Euphorbia, Phyllanthus, Leucas, Scoparia, Croton, Celosia, Alternanthera ও Solanum হচ্ছে অত্যন্ত সফল ও সাধারণ গণ। জলজ পরিবেশে Eichornia, Potamogeton, Pistia ও Monochoria গণের প্রজাতিসমূহ গভীর পানির ধানক্ষেতের সাধারণ আগাছা। ফার্নের তিনটি প্রজাতিকেও (Marselia, Ceratopteris ও Salvinia) বৃষ্টিনির্ভর ধানের জমির আগাছা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসে ফুল ও ফল আসতে দেখা যায়। মে থেকে অক্টোবরের মধ্যে অনেক বীজ অঙ্কুরিত হয়, সর্বোচ্চ সংখ্যক অঙ্কুরোদগম ঘটে জুন-জুলাই মাসে। বর্তমান আগাছা উদ্ভিদসমূহের প্রায় ২০% স্থানীয় পরিবেশে খাপ খাওয়ানো বিদেশি আগাছা হিসেবে চিহ্নিত। এদের মধ্যে &amp;#039;&amp;#039;Argemone maxicana&amp;#039;&amp;#039;, &amp;#039;&amp;#039;Alternanthera philoxeroides&amp;#039;&amp;#039;, &amp;#039;&amp;#039;Croton bonplandianum&amp;#039;&amp;#039;, &amp;#039;&amp;#039;Nicotiana plumbaginifolia&amp;#039;&amp;#039;, &amp;#039;&amp;#039;Lathyrus aphaca&amp;#039;&amp;#039;, &amp;#039;&amp;#039;Celosia argentea&amp;#039;&amp;#039; এবং &amp;#039;&amp;#039;Vicia angustifolia&amp;#039;&amp;#039; এর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।  [মোস্তফা কামাল পাশা]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;জলজ আগাছা&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;  আংশিক বা সম্পূর্ণ জলজ কোনো প্রজাতি যা জলজ বাস্ত্তসংস্থানের ওপর বিরূপ ভৌত, রাসায়নিক বা জৈব প্রভাব বিস্তার করে এবং অর্থনৈতিক ও নান্দনিক ক্ষতি ঘটায়। এসব  [[জলজ উদ্ভিদ|জলজ উদ্ভিদ]] বিভিন্ন বর্গভুক্ত, যেমন  [[শৈবাল|শৈবাল]],  [[ব্রায়োফাইট|ব্রায়োফাইট]],  [[টেরিডোফাইট|টেরিডোফাইট]] ও গুপ্তবীজ যারা বিভিন্ন বাস্ত্তসংস্থানিক ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিতে অভিযোজিত। এগুলি বদ্ধ, বহমান, ক্ষারীয়, অম্লীয়, স্বাদু বা লবণাক্ত পানিতে জন্মাতে পারে এবং অভিযোজনার ধরন অনুযায়ী প্লাঙ্কটনিক, ভাসমান, তলজীবী (benthic), নিমজ্জিত বা উদগত (emergent) হতে পারে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
চাষ বহির্ভূত নিম্নাঞ্চলে,  [[হাওর|হাওর]],  [[বাঁওড়|বাঁওড়]], বিল ও ডোবায় পর্যাপ্ত জলজ উদ্ভিদ জন্মে, সেখানে স্বাভাবিক গাছগাছড়ার নিবিড় ঝাড় গড়ে ওঠে, কখনও কখনও আগাছা বলা হলেও আসলে এগুলি তা নয়। এতে থাকে সোলা (&amp;#039;&amp;#039;Aeschynomene aspera, A. indica&amp;#039;&amp;#039;), পানিফল (&amp;#039;&amp;#039;Trapa species&amp;#039;&amp;#039;), কলমি (&amp;#039;&amp;#039;Impomoea aquatica&amp;#039;&amp;#039;),  [[পদ্ম|পদ্ম]] (&amp;#039;&amp;#039;Nelumbo nucifera&amp;#039;&amp;#039;),  [[শাপলা|শাপলা]] (&amp;#039;&amp;#039;Nymphaea nouchali&amp;#039;&amp;#039;), শালুক (N. stellata), জংলি ধান (&amp;#039;&amp;#039;Hygroryza aristata&amp;#039;&amp;#039;) এবং &amp;#039;&amp;#039;Cyperus, Elcocharis&amp;#039;&amp;#039;, Hydrilla, Utricularia, Sagittaria, Monochoria, Aponogeton, Potamogeton, Ottelia, Ceratopteris প্রভৃতি গণের এবং ঘাসের নানা প্রজাতি ও অন্যান্য গোত্রের গাছগাছালি। এ ‘আগাছা’ প্রজাতি জলবাসী পাখি, মাছ ও অন্যান্য জীবজন্তুর আশ্রয় ও খাদ্য যোগায় এবং কোনো কোনোটি মানুষের জন্যও প্রয়োজনীয়। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[Image:Weed.jpg|thumb|400px|right|কয়েক প্রজাতির আগাছা]]&lt;br /&gt;
অনেক জলজ উদ্ভিদ বাস্ত্তসংস্থানিক ও অন্যান্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে কিছু নিমজ্জিত ও ভাসমান প্রজাতি স্রোততাড়িত মাটি ও পলিকণা তলায় জমিয়ে নদী, পুকুর, হ্রদ ইত্যাদির ভরাট প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে, ফলে এগুলি ক্রমশ নাব্যতা হারায়।  [[কচুরিপানা|কচুরিপানা]] এবং অন্যান্য নিমজ্জিত বা উদ্গত গাছগাছড়া প্লাবনভূমি বা  [[নদী|নদী]] ও খালে অত্যধিক জন্মালে, বিশেষত বর্ষাকালে নৌচলাচল ও অন্যান্য নৌপরিবহণে বিঘ্ন ঘটে। বাংলাদেশের মতো আর্দ্র-উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলের হাওর, বিল, পুকুর ও ডোবায় পর্যাপ্ত উদ্ভিদ (macrophyte) জন্মে, এদের প্রাথমিক উৎপাদনশীলতা অত্যধিক হলেও ট্রোপিক স্তরগুলি (trophic level) নিয়মিত ক্রমপর্যায়ী নয়, কেননা পুষ্টিবস্ত্তর সিংহভাগই এসব উদ্ভিদে সঞ্চিত থাকে যাদের অধিকাংশই ভাসমান বা উদগত ধরনের। এ পরিস্থিতিতে অবরুদ্ধ আলো ও মুক্ত পুষ্টিবস্ত্তর অভাবে উদ্ভিদ প্লাঙ্কটন বা নিমজ্জিত গাছগাছড়া গজাতে পারে না। অনেক উদ্ভিদ বহুবর্ষজীবী বিধায় খাদ্যশৃঙ্খল বা খাদ্যজাল সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় এ বাস্ত্তভিতগুলি অন্তত আংশিক হলেও পরিষ্কার করা প্রয়োজন যাতে খাদ্যবস্ত্তর পুনরাবর্তন (recycling) প্রক্রিয়া শুরু এবং ট্রোপিক স্তরগুলি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হতে পারে। আরেকটি সমস্যাও উল্লেখযোগ্য যে, কোনো কোনো জলজ উদ্ভিদ নদী, হ্রদ ও পুকুর ইত্যাদি থেকে নিকটস্থ নগর ও শহরে পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায়। অনেক জলজ উদ্ভিদ, বিশেষত শৈবাল ও গুপ্তবীজ রোগজীবাণুর বাহক হিসেবে রোগ ছড়িয়ে বিপজ্জনক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের সব গাছগাছড়াই ‘আগাছা’।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ধান|ধান]],  [[পাট|পাট]] ও অন্যান্য ফসলের ক্ষেতে আপাতদৃষ্টিতে নির্দোষ বেশ কিছু গাছগাছড়া অবাঞ্ছিত। কারণ এগুলি ক্ষেতের ফসলের সঙ্গে খাদ্যবস্ত্ত, আলো ইত্যাদিতে ভাগ বসায়। অবশ্য খাদ্যবস্ত্ত ও আলোর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী না হওয়ায় &amp;#039;&amp;#039;Ipomoea aquatica&amp;#039;&amp;#039; ও Ceratopteris ধানের মতো ফসলের ক্ষেত থেকে তুলে ফেলার প্রয়োজন হয় না। তবে কিছু জলজ আগাছা ফসলের জন্য ক্ষতিকর এবং সমস্যাও বটে। ধানক্ষেতে অত্যধিক ঝরা বা চিটা ধান (&amp;#039;&amp;#039;O. rupipogon&amp;#039;&amp;#039;) থাকলে শস্যহানি ঘটে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
নিম্নোক্ত নির্বাচিত জলজ উদ্ভিদগুলিকে সাধারণভাবে ‘আগাছা’ বলা হলেও কোনো কোনোটির কিছু ব্যবহার্যতা থাকা সম্ভব। অন্যগুলির কোনো উপকারিতা আজও জানা যায় নি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কিছু ভাসমান জলজ উদ্ভিদ ধানক্ষেত ও অন্যান্য জলজ শস্যক্ষেতে  অনুপ্রবেশ করে, কিন্তু তাতে ক্ষতির বদলে উপকারই হয়। উদাহরণ হিসেবে &amp;#039;&amp;#039;Azolla pinnata&amp;#039;&amp;#039; (&amp;#039;&amp;#039;Anabaena azollae&amp;#039;&amp;#039; নামের নীল-সবুজ শৈবালবাহী একটি জলজ ফার্ন) বা কোনো কোনো সুত্রকার  [[নীল-সবুজ শৈবাল|নীল]][[নীল-সবুজ শৈবাল|-সবুজ শৈবাল]] (Aulosira, Tolypothrix, Scytonema, Nostoc, Cylindrospermum) গণের প্রজাতি উল্লেখ্য। এসব নীল-সবুজ শৈবাল বাতাস থেকে নাইট্রোজেন বন্ধনে সমর্থ বিধায় তাতে মাটি ও পানির উর্বরতা বাড়ে ও ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&amp;#039;&amp;#039;Eichhornia crassipes&amp;#039;&amp;#039;, &amp;#039;&amp;#039;Lemna perpusilla&amp;#039;&amp;#039;, &amp;#039;&amp;#039;Spirodela polyrhiza&amp;#039;&amp;#039; অত্যন্ত দূষিত পানি থেকে বিভিন্ন গুরুধাতু ও পুষ্টিবস্ত্ত শুষে নেয়। প্রথমটি কাগজের কল ও চামড়া কারখানা থেকে Mn, Fe, Ca, ও Zn এবং সার কারখানা ও চামড়া শিল্প থেকে ছড়ানো PO4-3 ও SO4-2 শোষণ করে।  [[ক্ষুদিপানা|ক্ষুদিপানা]] ৫০% N এবং P, Al, Mn, Fe, Ti, Cu, Co ইত্যাদি গুরুধাতুর ৬৭% অপসারণ করে। নানাভাবে এ জলজ আগাছা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, যেমন যান্ত্রিকভাবে (হাত বা যন্ত্র দিয়ে), রাসায়নিক বস্ত্ত ছিটিয়ে, জীববিদ্যাগতভাবে আগাছাগুলি নানা কাজে (বায়োগ্যাস উৎপাদন, কুটির শিল্প, কৃত্রিমবস্ত্ত প্রস্ত্তত) লাগিয়ে ও কিছুকাল পর পর সংগ্রহ করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উল্লেখ্য, সবগুলি জলজ আগাছা দেশজ প্রজাতি নয়। কিছু প্রজাতি আবার বিদেশি, যাদের কয়েকটি বাংলাদেশে বা লাগোয়া অঞ্চলে আনা হয়েছিল চমৎকার ফুল, অ্যাকুয়ারিয়ামের গাছ হিসেবে বা অন্য উদ্দেশ্যে এবং পরে যথাস্থান থেকে জলজ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন একটি উদাহরণ হলো ব্রাজিলের কচুরিপানা। প্রায় ৩০ বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকার আরেকটি জলজ আগাছা (&amp;#039;&amp;#039;Limnocharis flava&amp;#039;&amp;#039;) চট্টগ্রাম শহরের আশেপাশে প্রাকৃতিক পরিবেশে পাওয়া গিয়েছিল, যা সম্ভবত একদিন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। &amp;#039;&amp;#039;Vallisneria spiralis&amp;#039;&amp;#039;, &amp;#039;&amp;#039;Lagarosiphon alternifolia&amp;#039;&amp;#039; ইত্যাদিও বিদেশি এবং প্রবর্তিত। আজকাল নানা Nymphaea প্রজাতির চাষ চলছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কেবল ধান বা অন্যতর কোনো একক ফসল চাষের জন্য বিল, হাওর, বাঁওড় ইত্যাদি শত শত জলজ উদ্ভিদ প্রজাতির সমৃদ্ধ ভান্ডার সমূলে উৎখাত কোনোক্রমেই কাম্য নয়। জলজ উদ্ভিদের জীববৈচিত্র্যনাশ প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে এবং এতে পাখি ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর সংখ্যা হ্রাসের কুফলগুলি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।  [এ.কে.এম নূরুল ইসলাম]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;সামুদ্রিক আগাছা&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;  বড় আকারের বহুকোষী শৈবাল, জন্মে প্রধানত সমুদ্রকূলে। কিছু শৈবাল স্বল্পলোনা পানিতে থাকে আর অল্প কয়েকটি থাকে স্বাদুপানিতে। Phaeophyta (বাদামি শৈবাল), Rhodophyta (লোহিত শৈবাল) ও Chlorophyta (সবুজ শৈবাল) বর্গের শৈবাল  প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগর ও উত্তর মহাসাগরের পাথুরে উপকূলের ভাটি অঞ্চলে দেখা যায়। মধ্য-জোয়াররেখার অগভীর পানি থেকে ৬০ মিটার পর্যন্ত এগুলি ছড়িয়ে থাকে।  শীতল পানিধৌত আর্দ্র উপকূলে এসব শৈবাল কয়েক ঘণ্টা রোদ সহ্য করতে পারে এবং আন্তঃজোয়ারভাটা অঞ্চলের পাথরগুলি ঢেকে রাখে। উষ্ণমন্ডলে উপতটীয় অঞ্চলের মধ্যেই এ শৈবালরা সীমিত থাকে এবং সেখানে লোহিত শৈবালেরই আধিক্য, বিশেষত লেগুন ও প্রবাল প্রাচীরের চারপাশে। সামুদ্রিক শৈবালেরা কান্ড, মূল, পত্র ও পরিবহণতন্ত্র বর্জিত আদিম উদ্ভিদ। বিশালাকৃতির কোনো কোনো সামুদ্রিক শৈবালের অভ্যন্তরীণ অঙ্গসংস্থান উচ্চতর উদ্ভিদবর্গের পরিবহণতন্ত্রের মতোই যথেষ্ট জটিল। এগুলি ধারকের (holdfast) সাহায্যে কঠিন আশ্রয় অাঁকড়ে ধরে, সরাসরি পানি থেকে পুষ্টিবস্ত্ত শুষে নেয় এবং সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য প্রস্ত্তত করে। বাদামি ও লোহিত শৈবালের রঞ্জকগুলি বস্ত্তত সালোকসংশ্লেষণক্ষম সবুজ রঙের পত্রহরিৎকে (chlorophyll) ঢেকে রাখে এবং সম্ভবত আলোকশক্তি শোষণ ও তা পত্রহরিতে সরবরাহ করে সালোকসাংশ্লেষিক বিপাকক্রিয়ায় সহায়তা যোগায়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কেলপ (Kelp) হলো বাদামি শৈবাল, এরা আকারে বেশ বড়, যেমন Macrocystis ও Nereocystis। এগুলির কাঠামো বাহ্যত কান্ড ও পাতার মতো। এগুলিতে আরও আছে বায়ুস্থলী ও মজবুত ধারক। লোহিত শৈবাল উষ্ণমন্ডলীয় সমুদ্রের স্বচ্ছ পানিতে অঢেল জন্মে এবং সেখানকার গভীর পানিতে লোহিতকণার (phycoerythrin) সাহায্যে স্বচ্ছন্দে সালোকসংশ্লেষণ চালাতে পারে যা কোনো সবুজ শৈবালের পক্ষে ওই গভীরতায় সম্ভব নয়। প্রাচ্যে ৭০ প্রজাতির বেশি (প্রধানত বাদামি ও লোহিত শৈবাল) এবং পাশ্চাত্যে কিছুটা কমসংখ্যক সামুদ্রিক শৈবাল খাদ্য হিসেবে ব্যবহূত হয়ে থাকে। জাপানে নদী মোহনায় ডুবানো বাঁশের দরমায় &amp;#039;&amp;#039;Porphyra tenera&amp;#039;&amp;#039; নামের লোহিত শৈবালের ব্যাপক চাষ চলছে। লোহিত শৈবাল থেকে তৈরীর আগার (agar) হলো প্রাচ্যের একটি উপাদেয় খাবার এবং তা অণুজীব চাষ ও কোষকলাচাষ প্রযুক্তিতে মাধ্যম হিসেবে, টিনজাত খাদ্য প্যাকিংয়ে ও মৃদুভেদক হিসেবে ব্যাপক ব্যবহূত হয়। শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে সামুদ্রিক শৈবালজাত অ্যালজিনিক এসিডের ব্যবহারও যথেষ্ট ব্যাপক। এ থেকে পানিতে অদ্রাব্য রেশমের মতো সুতা, প্লাস্টিক সামগ্রী বানানো যায় যা ফিল্ম, জেল, রাবার ও লিনোলিয়ম প্রস্ত্ততে এবং প্রসাধনী সামগ্রী, গাড়ির পালিশ ও রঙের কোলয়েড হিসেবে ব্যবহার্য। অ্যালজিনিক এসিডের জৈব উৎপাদকগুলি আইসক্রিম, পুডিং ও প্রসেসিং-কৃত পনির প্রস্ত্ততে আহার্য আঠা হিসেবে কাজে লাগে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বাংলাদেশের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত থাকলেও সামুদ্রিক শৈবাল জন্মে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের  [[সেন্টমার্টিনস দ্বীপ|সেন্টমার্টিন দ্বীপে]]।  [[সুন্দরবন|সুন্দরবন]] ও চকোরিয়ার ম্যানগ্রোভ বনের স্বল্পলোনা পানিতেও এগুলি পাওয়া যায়। এগুলির মধ্যে প্রধানত নিম্নোক্ত গণসমূহ রয়েছে, যেমন: সবুজ শৈবাল Enteromorpha, Ulva, Bryopsis, Caulerpa, Codium, Halimeda, Acetabularia; লোহিত শৈবাল Derbesia, Liagora, Galaxaura, Euthora, Gelidiella, Gelidium, Jania, Amphiroa, Melobesia, Kylinia, Hypnea, Gracilaria, Catenella, Champia, Chrysymenia, Halymenia, Caloglossa; বাদামি শৈবাল Ectocarpus, Giffordia, Dictyota, Dictyopteris, Padina, Colpomenia, Hydroclathrus, Rosenvingea, Sargassum; নীল-সবুজ শৈবালের কিছু প্রজাতিও আছে, তবে এগুলি আণুবীক্ষণিক।  [জেড.এন তাহমিদা বেগম]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&amp;#039;&amp;#039;আরও দেখুন&amp;#039;&amp;#039;  [[ক্ষুদিপানা|ক্ষুদিপানা]]; [[জলজ উদ্ভিদ|জলজ উদ্ভিদ]]; [[টেরিডোফাইট|টেরিডোফাইট]]; [[ব্রায়োফাইট|ব্রায়োফাইট]]; [[শৈবাল|শৈবাল]]।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;আগাছানাশক&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;&amp;#039; (Herbicide)  ফসলের ক্ষেত, বাগান ও তৃণভূমিতে গজানো আগাছা বাছাইক্রমে ধ্বংস করতে সমর্থ রাসায়নিক পদার্থ। পঞ্চাশের দশকে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশের গবেষণায় বিশেষ বিশেষ গাছপালার ওপর কিছু রাসায়নিকের নির্বাচক বিষক্রিয়ার প্রভাব ধরা পড়ে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
চ্যাপ্টা পাতা উদ্ভিদের সাধারণ আগাছানাশকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য 2, 4 Fosamine, Dicamba এবং Picloram। অধিকাংশ আগাছানাশক তরল হিসেবে ব্যবহূত হলেও কোনো কোনটি গুঁড়া হিসেবে রাসায়নিক সারে মিশিয়ে ছড়ানো যায়। বাংলাদেশে  [[ফসল|ফসল]] ক্ষেতের আগাছা নাশে আজও চিরাচরিত পদ্ধতিতে [[লাঙল|লাঙল]] এবং নিড়ানি ব্যবহূত হচ্ছে। এখনও বাংলাদেশে আগাছানাশকের ব্যবহার অত্যন্ত সীমিত। ১৯৯০-৯১ সালে বাংলাদেশ প্রায় ২৪,০০০ কেজি আগাছানাশক আমদানি করে। বাংলাদেশে ধানক্ষেতে আগাছানাশক ব্যবহূত হয় না, কারণ এখানকার জমি সমতল বিধায় পানি জমে থাকে এবং তাতে ছোট ছোট ক্ষেত বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। সেচকৃত ধানক্ষেতে ধানের স্বাভাবিক প্রয়োজনের তুলনায় পানির    স্তর ৫০% বেশি উঁচুতে রেখে আগাছানাশক ছাড়াই আগাছা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।  [জিয়া উদ্দিন আহমেদ]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Weed]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Mukbil</name></author>
	</entry>
</feed>