<?xml version="1.0"?>
<feed xmlns="http://www.w3.org/2005/Atom" xml:lang="bn">
	<id>https://bn.banglapedia.org/api.php?action=feedcontributions&amp;feedformat=atom&amp;user=Nasirkhan</id>
	<title>বাংলাপিডিয়া - ব্যবহারকারীর অবদান [bn]</title>
	<link rel="self" type="application/atom+xml" href="https://bn.banglapedia.org/api.php?action=feedcontributions&amp;feedformat=atom&amp;user=Nasirkhan"/>
	<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7:%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%A8/Nasirkhan"/>
	<updated>2026-05-02T04:23:26Z</updated>
	<subtitle>ব্যবহারকারীর অবদান</subtitle>
	<generator>MediaWiki 1.40.0</generator>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%85%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE&amp;diff=20681</id>
		<title>অ্যাজোলা</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%85%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE&amp;diff=20681"/>
		<updated>2023-07-05T07:41:27Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: &lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;&#039;&#039;&#039;অ্যাজোলা&#039;&#039;&#039; (Azolla)  এক ধরনের ভাসমান ফার্ন (বিভাগ Pteridophyta, বর্গ Salviniales, গোত্র Azollaceae)। অ্যাজোলা দুটি দলে বিভক্ত: Euazolla (trichome কেবল পাতায়) ও Rhizosperma (trichome পাতা ও কান্ডে)। বাংলাদেশে &#039;&#039;Azolla pinnata&#039;&#039; দেখা যায়। এটি উষ্ণমন্ডল ও নাতিশীতোষ্ণমন্ডলের সর্বত্র স্বাদুপানির ডোবা, পুকুর, ধানক্ষেত ইত্যাদি বদ্ধ জলাশয়ের সাধারণ উদ্ভিদ। উদ্ভিদ মূল, কান্ড (rhizome) ও পাতা নিয়ে গঠিত। প্রজাতিটি প্রায় ১.৫ সেমি লম্বা, সাধারণত ত্রিভুজাকার। পাতাগুলি চতুষ্কোণী, কান্ডপৃষ্ঠ থেকে উদগত দুটি সারিতে বিন্যস্ত। প্রতিটি পাতা দ্বিখন্ডিত, পৃষ্ঠলতি পুরু ও সালোকসংশ্লেষী এবং বক্ষলতি পাতলা ও বর্ণহীন অথবা অ্যান্মোসায়ানিন এর জন্য লাল হয়। প্রতিটি পত্রকক্ষ থেকে পার্শ্বশাখা গজায়। কান্ড ও শাখার নিচ থেকে বের হয় লোমসহ কয়েকটি অস্থানিক মূল। প্রতিটি পাতার পৃষ্ঠলতি গর্তযুক্ত আর সেগুলিতে থাকে কিছু মিথোজীবী &#039;&#039;Anabaena azollae&#039;&#039; (Cyanobacteria বা নীল-সবুজ শৈবাল), একাধিক গণভুক্ত কিছু Eubacteria প্রধানত Azotobacter-এর প্রজাতি। &#039;&#039;Anabaena azollae&#039;&#039; হেটারোসিস্টপ্রসূ এবং Nitrogenase উৎসেচকের সাহায্যে লিগুম ব্যাকটেরিয়ার ন্যায় বাতাসের নাইট্রোজেন সংবন্ধনে সমর্থ।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[Image:Azolla.jpg|thumb|400px|right|লাল Azolla pinnata, সবুজ &#039;&#039;A. pinnata&#039;&#039;, মিথোজীবী &#039;&#039;Anabaena azollae&#039;&#039;, &#039;&#039;A. pinnata&#039;&#039;-এর পৃষ্ঠীয় দিক, &#039;&#039;A. pinnata&#039;&#039;-এর অঙ্কীয় দিক]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অ্যাজোলা অঙ্গজ ও যৌন উভয় ধরনের প্রজননেই সক্ষম। অঙ্গজ প্রজননে কান্ডের গোড়ার বয়স্কতম পার্শ্বশাখাটি খন্ডিত হয়ে তা থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মায়। অনুকূল পরিস্থিতিতে উদ্ভিদ দ্বিগুণ হতে সময় লাগে প্রায় ৩ দিন। মুখ্য রেণুধর এ উদ্ভিদ ক্ষুদ্র লিঙ্গধর পর্যায়ের সঙ্গে প্রত্যাবৃত হয়। এতে দু প্রকার স্পোরোকার্প থাকে ক্ষুদ্রাকার মেগাস্পোরোকার্প (স্ত্রী) ও বৃহৎ মাইক্রোস্পোরোকার্প (পুং) এবং এগুলি উষ্ণমন্ডলে শীতকাল বা বসন্তের শুরুতে পার্শ্বশাখার বয়স্কতম (প্রথম) পাতার কক্ষে জন্মে। আলোককাল ও তাপমাত্রা রেণু উৎপাদন প্রভাবিত করে। মেগাস্পোরোকার্প ও মাইক্রোস্পোরোকার্প সর্বদা সজোড় ও পাশাপাশি থাকে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সারা বছরই পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যাজোলার চাষ সম্ভব। এজন্য ১০০ সেমি গভীর ও আলোময় একটি পুকুরই যথেষ্ট। প্রতিদিন হেক্টর প্রতি ১০ কেজি ইউরিয়া ও ৫ কেজি মিউরেট অব পটাশের দ্রবণ পানিতে প্রয়োগে হেক্টর প্রতি ১.০-১.৫ টন তাজা অ্যাজোলা ফলানো যায়। পানিতে প্রতিদিন তরল সারের পরিবর্তে পাতায় সার স্প্রে করা অধিকতর ফলপ্রসূ।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অ্যাজেলা নানাভাবে ব্যবহার্য। International Network in Soil Fertility and Fertilizer Evaluation for Rice বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ৩৭টি স্থানে পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছে যে ধান রোপার আগে বা পরে ক্ষেতে অ্যাজোলার একটি ফসল (হেক্টর/প্রায় ১৫ টন) ছড়ালে হেক্টর প্রতি ৩০ কেজি ইউরিয়া প্রয়োগের সমান ফল পাওয়া যায়। শুকনো এবং কোম্পোস্ট অ্যাজোলা জৈব সার হিসেবে ব্যবহার্য। অ্যাজোলা মাটিতে অন্যান্য পুষ্টিদ্রব্য যোগায়, মৃৎবিন্যাসের উন্নতি ঘটায়, এবং ধানের সঙ্গে জন্মালে জমি থেকে জলীয় বাষ্পায়ন হ্রাস ও আগাছার উৎপাত কমায়। এতে ২৪.৪-৩১.৪% প্রোটিন, ৪.১-৫.৮% চর্বি, ১১-২১% অাঁশ থাকার দরুন মাছ, হাঁস-মুরগি এবং গবাদি পশুরও উত্তম খাদ্য। শতকরা দু ভাগ অ্যাজোলার গুঁড়া খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দিলে মুরগির ডিমের উৎপাদন শতকরা চার ভাগ বৃদ্ধি পায়, কুসুমের রং হয় কমলা। এটি বর্জ্যপানি শোধনেও কার্যকর। &#039;&#039;A. filiculoides&#039;&#039; ভূগর্ভস্থ পানির আর্সেনিক দূষণের একটি জৈব নির্দেশক। অ্যাজোলা মিথেন উৎপাদনের উপকরণও হতে পারে।  [আবদুল আজিজ]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;আরও দেখুন&#039;&#039; [[জলজ উদ্ভিদ|জলজ উদ্ভিদ]]।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Azolla]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0:Nasir_khan_saikat_profile.jpg&amp;diff=20680</id>
		<title>চিত্র:Nasir khan saikat profile.jpg</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0:Nasir_khan_saikat_profile.jpg&amp;diff=20680"/>
		<updated>2023-07-05T07:40:14Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: &lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B2&amp;diff=20679</id>
		<title>খেয়াল</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B2&amp;diff=20679"/>
		<updated>2023-07-05T07:12:29Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: &lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;&#039;&#039;&#039;খেয়াল&#039;&#039;&#039;  এক ধরনের  [[উচ্চাঙ্গসঙ্গীত|উচ্চাঙ্গসঙ্গীত]]। এটি উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের দ্বিতীয় শাখা; প্রথম শাখা ধ্রুপদের চেয়ে এটি লঘু এবং এতে কল্পনা অনুযায়ী নানাবিধ অলঙ্কার প্রয়োগ ও তানবিস্তার দ্বারা সৌন্দর্য রচনার সুযোগ আছে। খেয়াল ধ্রুপদের মতো কঠোর নিয়মশৃঙ্খলে আবদ্ধ নয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
খেয়ালের উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন মতবাদ প্রচলিত আছে; তবে যে মতবাদটি সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য তা হলো:  [[কাওয়ালি|কাওয়ালি]] থেকে খেয়ালের উৎপত্তি হয়েছে। দিল্লির পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের কাওয়াল নামক একটি যাযাবর সম্প্রদায় সাধারণত ভক্তিমূলক যে গান গাইত তার নাম কাওয়ালি। এ কাওয়ালি থেকেই কালক্রমে খেয়াল গানের উৎপত্তি হয়। বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ আমীর খসরু (১২৫৩-১৩২৫) কাওয়ালি গানের সংস্কার করে একে একটি প্রথাবদ্ধ রূপদানের মাধ্যমে খেয়াল গানের সূচনা করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
খেয়াল দু প্রকার–ছোট খেয়াল (Fast Kheyal) ও বড় খেয়াল (Slow Kheyal)। আমীর খসরু প্রবর্তিত খেয়ালই ছোট খেয়াল এবং পনেরো শতকে জৌনপুরের সুলতান হুসেন শাহ্ শর্কী যে খেয়াল প্রবর্তন করেন তা বড় খেয়াল নামে পরিচিত। উপরিউক্ত দুপ্রকার খেয়ালেই দুটি বিভাগ থাকে–স্থায়ী ও অন্তরা; আবার প্রতিটি বিভাগে থাকে দুটি বা তিনটি করে চরণ।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ছোট খেয়াল চপল গতির, তাই এর রচনা খুব সংক্ষিপ্ত। এর স্থায়ী ও অন্তরা সাধারণত দুচরণে রচিত। এ গানের বন্দিশ সাধারণত ত্রিতাল বা দ্রুত একতালে বাঁধা হয়। ছোট খেয়ালে বিস্তারের সুযোগ নেই। প্রথমে মধ্যলয়ে, পরে দ্রুতলয়ে গান শেষ করা হয়। গানকে ছোট-বড় তান, বোলতান, সরগম ইত্যাদির মাধ্যমে অলঙ্কৃত করা হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বড় খেয়াল বিলম্বিত লয়ের। এতে বিলম্বিত লয়ে বিশেষ প্রণালীতে আলাপ করা হয়, যাকে বলা হয় বিস্তার। বড় খেয়ালের সঙ্গে আ-কার বা বাণী যোগ করে মন্থর গতিতে এর বিস্তার ঘটানো হয়। এতে স্থায়ী ও অন্তরা উভয়েরই বিস্তার হয়। বিস্তার হওয়ার পর চারগুণ বা আটগুণ লয়ে অধিকাংশ তান করা হয়। এতে বিভিন্ন প্রকার তান ও বোলতান করারও নিয়ম আছে। বড় খেয়ালে কণ্ বা স্পর্শস্বরের প্রয়োগ দ্বারা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
খেয়াল গানের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয় আঠারো শতকে সম্রাট মোহাম্মদ শাহের দরবারের প্রসিদ্ধ বীণকার নেয়ামৎ খাঁর (সদারঙ্গ) হাতে। তিনি অজস্র খেয়াল গান রচনা করেন এবং খেয়ালে নানা প্রকার বিস্তার ও বোলতান প্রয়োগ করে নতুনরূপে খেয়ালের প্রচলন করেন। তিনি তাঁর শিষ্যদের যে খেয়ালরীতি শিক্ষা দেন, শিষ্যপরম্পরায় তা-ই পরবর্তীকালে বিস্তার লাভ করে। খেয়াল গানের উন্নতির ক্ষেত্রে তাঁর পুত্র ফিরোজ খাঁর (অদারঙ্গ) অবদানও অসামান্য।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
খেয়াল এক চমৎকার সঙ্গীতশৈলী। এর বিষয় সাধারণত শৃঙ্গাররসাত্মক এবং এর প্রকাশ ঘটে সঙ্গীতের শিল্পসৌন্দর্যের মাধ্যমে। খেয়ালে ভক্তিরসেরও প্রাধান্য থাকে। হিন্দি ও  উর্দু ভাষায় খেয়ালগুলি রচিত। খেয়াল গানের সঙ্গে তালযন্ত্র হিসেবে তবলা সঙ্গত করা হয়। একতাল, ত্রিতাল, আড়াচৌতাল, ঝুমরা ইত্যাদি তাল খেয়ালের সঙ্গে বাজানো হয়। সুন্দর তাল ও সঠিক নিয়ম অনুযায়ী গীত হলে খেয়াল শ্রোতার মনে অপূর্ব আনন্দ সঞ্চার করে। তাই সঙ্গীতজগতে খেয়াল বেশ জনপ্রিয় এবং অধিক প্রচলিত একটি গায়ন পদ্ধতি। বর্তমানে রাগসঙ্গীতের শাখাসমূহের মধ্যে খেয়ালের স্থান সর্বাগ্রে। বাংলায় যেসব সঙ্গীত-ঘরানার প্রচলন আছে, সেসবের মধ্যে খেয়াল-ঘরানা অন্যতম।  [মোবারক হোসেন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
[[en:Kheyal]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF:Common.css&amp;diff=20094</id>
		<title>মিডিয়াউইকি:Common.css</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF:Common.css&amp;diff=20094"/>
		<updated>2021-06-17T18:33:21Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: &lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;@import url(//fonts.googleapis.com/earlyaccess/notosansbengaliui.css);&lt;br /&gt;
* { font-family: &#039;Noto Sans Bengali UI&#039;, sans-serif; }&lt;br /&gt;
body {font-size: 16px;}&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF:Common.css&amp;diff=20093</id>
		<title>মিডিয়াউইকি:Common.css</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF:Common.css&amp;diff=20093"/>
		<updated>2021-06-17T18:32:54Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: &lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;@import url(//fonts.googleapis.com/earlyaccess/notosansbengaliui.css);&lt;br /&gt;
* { font-family: &#039;Noto Sans Bengali UI&#039;, sans-serif; }&lt;br /&gt;
body {font-size: 14px;}&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF:Common.css&amp;diff=20092</id>
		<title>মিডিয়াউইকি:Common.css</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF:Common.css&amp;diff=20092"/>
		<updated>2021-06-17T18:29:17Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: &amp;quot;@import url(//fonts.googleapis.com/earlyaccess/notosansbengaliui.css); * { font-family: &amp;#039;Noto Sans Bengali UI&amp;#039;, sans-serif; }&amp;quot; দিয়ে পাতা তৈরি&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;@import url(//fonts.googleapis.com/earlyaccess/notosansbengaliui.css);&lt;br /&gt;
* {&lt;br /&gt;
font-family: &#039;Noto Sans Bengali UI&#039;, sans-serif;&lt;br /&gt;
}&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:NasirkhanBot&amp;diff=20063</id>
		<title>ব্যবহারকারী:NasirkhanBot</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:NasirkhanBot&amp;diff=20063"/>
		<updated>2021-01-18T09:58:22Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: &lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;I am &#039;&#039;&#039;Nasir Khan Saikat&#039;&#039;&#039;, you can contact me via my website https://nasirkhn.com&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:Nasirkhan&amp;diff=20062</id>
		<title>ব্যবহারকারী:Nasirkhan</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:Nasirkhan&amp;diff=20062"/>
		<updated>2021-01-18T09:57:48Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: &lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;I am &#039;&#039;&#039;Nasir Khan Saikat&#039;&#039;&#039;, you can contact me via my website https://nasirkhn.com&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=Main_Page&amp;diff=20061</id>
		<title>Main Page</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=Main_Page&amp;diff=20061"/>
		<updated>2021-01-15T15:13:55Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Created page with &amp;quot;{{DISPLAYTITLE:বাংলাপিডিয়ায় স্বাগতম!}} &amp;lt;div class=&amp;quot;col-xm-12 col-sm-9 col-md-9 col-lg-9&amp;quot;&amp;gt; &amp;#039;&amp;#039;&amp;#039;বাংলাপিডিয়া&amp;#039;&amp;#039;...&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{DISPLAYTITLE:বাংলাপিডিয়ায় স্বাগতম!}}&lt;br /&gt;
&amp;lt;div class=&amp;quot;col-xm-12 col-sm-9 col-md-9 col-lg-9&amp;quot;&amp;gt;&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;বাংলাপিডিয়া&#039;&#039;&#039; - &#039;&#039;&#039;বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ&#039;&#039;&#039;। এ জ্ঞানকোষে প্রায় ১৪৫০ জন পন্ডিতের সৃজনশীল কাজের সমন্বয় ঘটেছে। বাংলাদেশের প্রাচীনতমকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বর্ণনা বাংলাপিডিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এটি অধ্যয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ সংক্রান্ত সকল বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞান লাভ করা সম্ভব। প্রথম প্রকাশের পর বাংলাপিডিয়া ব্যাপক উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পেয়েছে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ফলে বাংলাপিডিয়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, পেশাজীবী এবং সাধারণ পাঠকদের অপরিহার্য সহচরে পরিণত হয়েছে। বর্তমান দ্বিতীয় সংস্করণটি (২০১২) ইতিপূর্বে প্রকাশিত প্রথম সংস্করণের (২০০৩) একটি পরিবর্ধিত ও হালনাগাদ রূপ।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অনলাইন বাংলাপিডিয়ার কোথাও কোন ভুল অথবা অসংগতি আপনার দৃষ্টিগোচর হলে তা অনুগ্রহ করে আমাদেরকে [[Special:Contact|&#039;&#039;&#039;অবহিত করুন&#039;&#039;&#039;]], যেন আমরা সংশোধনের উদ্যোগ নিতে পারি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&amp;lt;/div&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;div class=&amp;quot;spancol-xm-12 col-sm-3 col-md-3 col-lg-3&amp;quot;&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;div class=&amp;quot;alert alert-info&amp;quot;&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;ul class=&amp;quot;unstyled&amp;quot;&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;li&amp;gt;[[ট্রাস্টি বোর্ড]]&amp;lt;/li&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;li&amp;gt;[[সম্পাদকবৃন্দ]]&amp;lt;/li&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;li&amp;gt;[[অনলাইন সংস্করণ]]&amp;lt;/li&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;li&amp;gt;[[লেখকবৃন্দ]]&amp;lt;/li&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;li&amp;gt;[http://www.asiaticsociety.org.bd এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ]&amp;lt;/li&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;li&amp;gt;[[ওয়েব ডেভলপমেন্ট]]&amp;lt;/li&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;li&amp;gt;[[Special:Contact|যোগাযোগ]]&amp;lt;/li&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;/ul&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;/div&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;/div&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;div class=&amp;quot;clearfix&amp;quot;&amp;gt;&amp;lt;/div&amp;gt;&lt;br /&gt;
ব্রাউজ করুন (বর্ণানুক্রমিক)&lt;br /&gt;
&amp;lt;div class=&amp;quot;table-responsive&amp;quot;&amp;gt; &lt;br /&gt;
&amp;lt;table class=&amp;quot;table&amp;quot;&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;tr&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/অ|অ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/অ্যা|অ্যা]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/আ|আ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ই|ই]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ঈ|ঈ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;/tr&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;tr&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/উ|উ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ঊ|ঊ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ঋ|ঋ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/এ|এ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ঐ|ঐ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;/tr&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;tr&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ও|ও]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ঔ|ঔ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;/tr&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;/table&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;table class=&amp;quot;table table-responsive&amp;quot;&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;tr&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ক|ক]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/খ|খ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/গ|গ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ঘ|ঘ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/চ|চ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ছ|ছ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/জ|জ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ঝ|ঝ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;/tr&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;tr&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ট|ট]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ঠ|ঠ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ড|ড]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ঢ|ঢ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ত|ত]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/থ|থ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/দ|দ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ধ|ধ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ন|ন]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;/tr&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;tr&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/প|প]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ফ|ফ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ব|ব]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ভ|ভ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ম|ম]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/য|য]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/র|র]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ল|ল]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/শ|শ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;/tr&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;tr&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ষ|ষ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ষ|স]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/হ|হ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;[[Special:Allpages/ক্ষ|ক্ষ]]&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
  &amp;lt;td class=&amp;quot;oe&amp;quot;&amp;gt;&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;td class=&amp;quot;oo&amp;quot;&amp;gt;&amp;lt;/td&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;/tr&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;/table&amp;gt;&lt;br /&gt;
&amp;lt;/div&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Main_Page]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF:Sidebar&amp;diff=20018</id>
		<title>মিডিয়াউইকি:Sidebar</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF:Sidebar&amp;diff=20018"/>
		<updated>2015-05-04T06:08:59Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: &lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;&lt;br /&gt;
* navigation&lt;br /&gt;
** mainpage|mainpage-description&lt;br /&gt;
** randompage-url|যেকোনো পাতা&lt;br /&gt;
** Special:Contact|যোগাযোগ&lt;br /&gt;
* SEARCH&lt;br /&gt;
* TOOLBOX&lt;br /&gt;
* LANGUAGES&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A6%95_%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%A8&amp;diff=20017</id>
		<title>কৃষক আন্দোলন</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A6%95_%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%A8&amp;diff=20017"/>
		<updated>2015-04-17T16:39:51Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;সোহ্রাওয়ার্দী&amp;quot; to &amp;quot;সোহ্‌রাওয়ার্দী&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;কৃষক আন্দোলন&#039;&#039;&#039;  ‘কৃষক’ শব্দটির সংজ্ঞা নানাবিধ। এরিক উলফ-এর ব্যাখ্যায়, কৃষক হল চাষী বা আবাদকারী, যাদের অস্তিত্ব চাষাবাদের প্রক্রিয়া সংক্রান্ত স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে কৃষি কাজের সঙ্গে সংম্পৃক্ত। এ সংজ্ঞা প্রকৃতপক্ষে অসম্পূর্ণ, কেননা এতে ভূমিহীন শ্রমিকদের বাদ দেয়া হয়। বাংলার ভূমিহীন শ্রমিকরা সবসময়ই ভূস্বামী এবং শোষণের অন্যান্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদেরকে কৃষক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এখানে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো এক বা একাধিক শ্রেণি যখন নিজেদেরকে ‘কৃষক’ বলে পরিগণিত করে, এবং রাজনৈতিক কারণে এ কৃষক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিজেকে এক করে চিহ্নিত করে, তখন তাদেরকে ‘কৃষক’ হিসেবেই পরিগণিত করা উচিত। তাদেরকে ‘ধনী’ ‘মধ্যবিত্ত’ এবং ‘দরিদ্র’ এ তিন শ্রেণিবদ্ধ করা যায়। সাধারণভাবে, জোতদার বা [[তালুকদার|তালুকদার]], [[রায়ত|রায়ত]] এবং নিম্ন-রায়ত যথাক্রমে উপরোক্ত তিন শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
জমিদার ছাড়া পূর্ব বাংলার কৃষকদের ওপর শোষণকারী [[মহাজন|মহাজন]] (অর্থ ঋণপ্রদানকারী) এবং [[ভদ্রলোক|ভদ্রলোক]] (মধ্যবিত্ত শ্রেণির পেশাজীবীরা যাতে আইনজীবী ও ডাক্তাররাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন) শ্রেণি ছিলেন হিন্দুধর্মাবলম্বী। অন্যদিকে, কৃষকদের একটি বিরাট অংশ ছিল মুসলমান। ঔপনিবেশিক সরকার তাদের পরোক্ষ শাসনকার্য ও সাধারণ জনগণ থেকে তাদের দূরত্বের কারণে কৃষক সম্প্রদায়ের কাছে শোষণকারী হিসেবে পরিগণিত হয় নি। ফলে উনিশ শতকের শেষ অংশে ও বিশ শতকের প্রথমাংশে কৃষক রাজনীতির মূল লক্ষ্যই ছিল জমিদার-মহাজন-ভদ্রলোক-এ ত্রিমুখী ক্ষমতা ও আধিপত্য থেকে নিজেদের মুক্ত করা। তবে, ব্রিটিশ রাজের প্রথম প্রায় একশত বছর, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রভুরাই অধিকাংশ কৃষকের দৃষ্টিতে প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত ছিল। এর কারণ ছিল সরকারের জমিদারি ব্যবস্থার প্রসার ও নীল চাষের স্বার্থরক্ষাকারী কার্যকলাপ যা কিনা প্রত্যক্ষভাবে কৃষকদের স্বার্থের পরিপন্থি ছিল।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এ সমস্যাটিকে অনুধাবন করার জন্য জানতে হবে যে, এসব কৃষক কি রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয়, অসচেতন বা উদাসীন ছিল কীনা। অথবা, কৃষক রাজনীতির গূঢ়ার্থ সাময়িকভাবে যে সমস্ত কৃষক সম্প্রদায়ের স্ফূরণ ঘটতো তার বাইরেও বিস্তৃত ছিল কীনা। কৃষকরা সাধারণভাবে অদৃষ্টবাদী এবং নেহায়েত প্রাণধারণের জন্য যতটুকু প্রয়োজন তাতেই তাদের জীবনযাত্রা কেন্দ্রীভূত থাকে। এদের চাহিদা যেমন সীমিত, সমাজ থেকে এদের প্রত্যাশাও তেমনি নিতান্তই সামান্য।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অ-কৃষক বহিরাগতদের’কে এরা সবসময়ই শোষণকারী হিসেবে ঘৃণা করে এবং সন্দেহের চোখে দেখে, অথচ সাহায্য এবং নেতৃত্বের জন্য আবার এসব বহিরাগতদেরই দারস্থ হয়। এদের ধার্মিকতা, নিয়তির ওপর নির্ভরশীলতা এবং কুসংস্কারাচ্ছান্ন বিশ্বাস ও যাদুবিদ্যা ক্ষমতাহীন ও নির্ভরশীল সম্প্রদায়ের রাজনীতির ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। এর পরিণতিতে ধর্মীয় নেতারা ধর্মের নামে রাজনৈতিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে কৃষকদের সমর্থন অর্জন করতে সক্ষম হয়। যদিও কৃষকরা সাধারণভাবে অদৃষ্টবাদী এবং রাজনৈতিকভাবে নিশ্চেষ্ট, তথাপি তারা ‘গ্রাম্য নির্বোধ’ নয়। তাদের ব্যবহার প্রায়শই যুক্তিপূর্ণ, এবং যেহেতু তারা সবসময় নিছক বেঁচে থাকাতে সন্তুষ্ট থাকেনা তাই উন্নততর ভবিষ্যতের জন্য যে কোনোরকম ঝুঁকি নিতে বা বাজি ধরতে তারা প্রস্ত্তত থাকে। ধনি এবং মধ্যবিত্ত কৃষকশ্রেণীর ক্ষেত্রে এ তত্ত্ব আরও বেশি প্রযোজ্য।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আঠারো শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ব্রিটিশ রাজ প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে সাধারণ বাঙালিদের মধ্যে বিশেষত মধ্যবিত্ত ও অভিজাত উভয়শ্রেণীর মুসলমান জনগণের জন্য দুর্দশা নেমে আসে। [[পলাশীর যুদ্ধ|পলাশীর যুদ্ধ]] এবং ঠিক তার পরপরই দ্রুত কতকগুলি প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন একটি নতুন ভূ-সম্পত্তির মালিক শ্রেণি এবং পেশাজীবী অভিজাত শ্রেণির (অধিকাংশই হিন্দু) জন্ম দেয়। অন্যদিকে, সাধারণ মুসলমান জনগোষ্ঠী ও অভিজাত শ্রেণি উভয়ই সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা হারিয়ে ক্রমশ নিঃস্ব ও গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। [[চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত|চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত]]এর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ভূমি ব্যবস্থা ভূসম্পত্তির অধিকারী মুসলমান শ্রেণির ওপর বিশেষ বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে। সামগ্রিকভাবে বাংলার মুসলমানরা এসব পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে এবং হিন্দু পেশাজীবী (বাবু ও ভদ্রলোক) ও [[জমিদার|জমিদার]]-মহাজন শ্রেণির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কুলিয়ে উঠতে ব্যর্থ হয়। [[বানিয়া|বানিয়া]] ও মুৎসুদ্দি শ্রেণির মধ্যে, যার অধিকাংশই ছিল হিন্দু, অঢেল ধনসম্পদ গড়ে তোলার জন্য লাগামহীন প্রতিযোগিতা ও দুর্নীতি, কোম্পানি রাজের সূত্রপাতের অল্পদিনের মধ্যেই বাঙালি মুসলমান এবং কৃষক-তাঁতি শ্রেণিকে আরও হতদরিদ্র ও নিঃস্ব করে দেয়। এ সমস্ত পরিবর্তনের পরিণতিতে এক বিশাল পদদলিত এবং হতাশাগ্রস্ত জনসমষ্টির সৃষ্টি হয়। এতদিন পর্যন্ত যে শ্রেণিগুলি প্রধান ছিল যেমন কৃষক, দক্ষকারিগর ও তাঁতি শ্রেণি, তাদের ভাগ্যে যে আকস্মিক ও দ্রুত পরিবর্তন ঘটে তার ফলে পলাশীর যুদ্ধের অল্পকাল পরেই বেশ কতকগুলি কৃষক ও গণবিদ্রোহ দেখা দেয়। তবে এসব বিদ্রোহের অধিকাংশই ছিল সাংগঠনিকভাবে দুর্বল ও বিক্ষিপ্ত এগুলির মূল লক্ষ্য ছিল বিদ্রোহকারীদের তাৎক্ষণিক দুর্দশা ও অভিযোগের প্রতিকার করা এবং এসব বিদ্রোহ পরিচালিত হয়েছিল প্রত্যক্ষ শোষকদের বিরুদ্ধে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৭৭০ এর দশকে ফকির ও সন্ন্যাসীদের নেতৃত্বে পরিচালিত [[ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন|ফকির]][[ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন|-সন্ন্যাসী আন্দোলন]]এর সঙ্গে দৈব যোগসূত্র ঘটে ১৭৬৯-৭০ এর মহাদুর্ভিক্ষের, যার উৎপত্তির প্রকৃত কারণ ছিল অর্থলোভ, লোভী ভূস্বামী এবং তাদের প্রতিনিধিদের দ্বারা গ্রামাঞ্চলে সংঘটিত নিয়মিত লুটতরাজ। ফকির [[মজনু শাহ|মজনু শাহ]] ছিলেন এ আন্দোলনের অন্যতম নেতা। হিন্দু-মুসলমান সাধারণ জনগণ, কৃষক, এমনকি অ-কৃষক জনগোষ্ঠী এ আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করা এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আন্দোলনকারীদের দুঃখ দুর্দশার পেছনের কারণ, অথবা রাজনীতির ক্ষেত্রে যে বিরাট পরিবর্তন সাধিত হচ্ছিল সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই ছিল না। পলাশীর যুদ্ধের পর থেকেই রাজনৈতিক রূপান্তর ক্রমশ কিভাবে ইংরেজদেরকে তাদের শাসকে পরিণত করছিল তা’ বুঝবার মতো ক্ষমতাও তাদের ছিল না। ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহকে আঠারো শতকে সংঘটিত অন্যতম প্রধান, বিক্ষিপ্ত, প্রাক-রাজনৈতিক গণ-আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ওহাবী|ওহাবী]] ও [[ফরায়েজী আন্দোলন|ফরায়েজী]] আন্দোলনসমূহের নেতৃত্ব দিয়েছিল প্রধানত স্থানীয় নেতৃবৃন্দ যাদের স্থানীয় মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল বাংলার বাইরে থেকে আগত (আরবীয় ওহাবী ও উত্তর ভারতীয় সৈয়দ আহমেদ ব্রেল্ভী এবং অন্যান্যদের) ইসলামি শুদ্ধিবাদ ও সংস্কারের ভাবাদর্শ। ওহাবী ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ চবিবশ পরগনার একজন স্থানীয় কৃষক, [[তিতুমীর|তিতুমীর]], মুসলমান কৃষকদের ওপর আরোপিত আবওয়াব এবং অবমাননাকর শ্মশ্রু কর চাপিয়ে দেওয়ার কারণে স্থানীয় হিন্দু জমিদারদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। তাঁর এ আন্দোলন ছিল ক্ষণস্থায়ী ও বিচ্ছিন্ন, এবং এর উদ্দেশ্য ছিল প্রত্যক্ষ শোষককর্তৃক শোষণের তাৎক্ষণিক প্রতিকার।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অন্যদিকে, ফরায়েজীরা চেয়েছিল ব্রিটিশ ইন্ডিয়াকে, যাকে তারা দার-উল-হারব (বিদ্রোহীদের আবাস) হিসেবে মনে করত, জিহাদের মাধ্যমে দার-উল-ইসলাম (ইসলামের আবাস) এ পরিণত করতে। এরা অমুসলিম ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার (প্রধানত ফরিদপুর, বরিশাল, ঢাকা এবং পাবনা জিলায়) অঞ্চলসমূহে ‘জুম্মা’ এবং ঈদের নামায পড়তে হবে না এমন কথা প্রচার করছিলেন যাতে করে শেষপর্যন্ত তারা দেশকে দার-উল-ইসলাম বা একটি ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারেন। তারা শোষণকারী জমিদার (হিন্দু) এবং ব্রিটিশ নীলকরদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন। ফরায়েজীরা আরও চেয়েছিলেন যে তাঁদের ‘নৈতিক অর্থনীতি’ (moral economy), অথবা যা তাঁরা ওহাবী, ফকির-সন্ন্যাসী এবং অন্যান্য কৃষক নেতৃবৃন্দের মতো নৈতিকভাবে সঠিক বিবেচনা করেছিলেন, তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৮৭২-৭৩ এর সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিদ্রোহ ছিল স্থানীয় জমিদার কর্তৃক স্বেচ্ছাক্রমে খাজনা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। এ বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। এতে হিন্দু ও মুসলিম কৃষকরাও অংশ গ্রহণ করেছিল। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে পরিচালিত এ বিদ্রোহ ছিল সীমিত সহিংস, বিক্ষিপ্ত এবং প্রাক-রাজনৈতিক চরিত্রের, কেননা জমিদারি প্রথা বিলোপ করা এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল না। তারা এসব জমিদারের কাছে অন্যায্য খাজনা থেকে রেহাই চেয়েছিল। ‘নৈতিক অর্থনীতি’র দৃষ্টিকোণ থেকে এদের অস্তিত্ব তাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য ছিল না, যেহেতু সরকার সহিংস আন্দোলনের বিকল্প হিসেবে অহিংস ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পক্ষে ছিল এবং কৃষকদের শান্ত করার উদ্দেশ্যে তাদের জন্য অধিকতর অধিকার নিশ্চিত করতে চেয়েছিল এ বিদ্রোহ পরবর্তী সময়ে ১৮৮৫-র [[বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব (সংশোধনী) আইন, ১৯২৮|বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন]] (Bengal Tenancy Act, 1885) কার্যকর করতে এবং শেষপর্যন্ত [[ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস|ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস]] (Indian National Congress) প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বেশ ভূমিকা রাখে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[স্বদেশী আন্দোলন|স্বদেশী আন্দোলন ]]এর (১৯০৫-১৯১১) ক্ষেত্রে মুসলমান কৃষকদের সম্পৃক্ততা ছিল নেতিবাচক, কেননা তাঁদের নেতৃবৃন্দ (শহুরে ‘আশরাফ’ এবং গ্রামীণ ‘জোতদার’ উভয়েই) নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বঙ্গভঙ্গের সুফল সম্বন্ধে তাদেরকে সচেতন করে তুলেছিল। ঢাকার নওয়াব [[সলিমুল্লাহ, খাজা|খাজা সলিমুল্লাহ ]]এবং অন্যান্য মুসলমান অভিজাত শ্রেণির ব্যক্তিবর্গ (যাঁরা ১৯০৬ সালে [[মুসলিম লীগ|মুসলিম লীগ]] গঠন করেন), মুসলমান কৃষকদের সবচাইতে বেশি উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তাঁরা স্বদেশী ও সন্ত্রাসী আন্দোলনের পৃষ্ঠপোষক হিন্দু ‘ভদ্রলোক’দেরকে প্রচন্ডভাবে অপছন্দ করতেন। হিন্দু ‘স্বদেশী’ (যারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে ছিলেন) দ্বারা মুসলমানদের ওপর আক্রমণ এবং তথাকথিত মা-কালীর বোমা হামলার পরিণতিতে ১৯০৭ সালে জামালপুর, কুমিল্লা এবং অন্যান্য জায়গায় সাম্প্রদায়িক হামলার উদ্ভব হয়। ১৯১৪ সালের মধ্যেই মুসলিম ‘আশরাফ’ ও জোতদার নেতৃবৃন্দের অধীনে একত্রিত হয়ে মুসলমান কৃষকরা প্রজা সম্মেলনের আয়োজন করতে এবং তাতে যোগ দিতে শুরু করেছিল। সর্বাপেক্ষা বৃহৎ সম্মেলনটি হয়েছিল ১৯১৪ সালে ময়মনসিংহের কামারের চর অঞ্চলে। এ সম্মেলনগুলি ক্রমান্বয়ে কৃষকদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতার জন্ম দেয়। তারা তাদের শোষণকারীদের বিরুদ্ধে জমির ওপর নিজেদের অধিকতর দাবি, আরও কম খাজনা এবং ঋণের ওপর আরও কম হারে সুদ আদায়ের জন্য সংগ্রামের ক্ষেত্রে অহিংস ও দীর্ঘসূত্রী রাজনৈতিক আন্দোলনের ফলপ্রসূতা সম্পর্কে অধিকতর সচেতন ও নিশ্চিত হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ সরকারের প্রতি মুসলমানদের আস্থাতে প্রচন্ডভাবে আঘাত করলেও, তা সমগ্র অঞ্চল জুড়ে তাদেরকে ব্রিটিশ বিরোধী করার চেয়ে বরং তাদেরকে আরও বেশি হিন্দু বিরোধী করে তোলে। ইতোমধ্যে তারা ১৯০৬ সালে একটি জাতীয় মুসলিম সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও ১৯০৯ সালে পৃথক ভোটব্যবস্থা (Separate Electorates) লাভ করে এবং লেজিসলেটিভ ও এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে (Lesislative &amp;amp;amp; Executive Councial) বেশ কয়েকজন সোচ্চার মুসলমান প্রতিনিধি নির্বাচন করে পাঠাতে সক্ষম হয়। এদের মধ্যে নওয়াব সৈয়দ [[চৌধুরী, নওয়াব আলী|নওয়াব আলী চৌধুরী]], নওয়াব সৈয়দ শামসুল হুদা, [[হক, এ.কে ফজলুল|এ]][[হক, এ.কে ফজলুল|.কে ফজলুল হক]] এবং ঢাকার নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ ছিলেন  উল্লেখযোগ্য।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯১৪ এবং তার পরবর্তী সময় ছিল কেবল উলামাদের দ্বারাই নয়, বরং সে সঙ্গে সে অঞ্চলের পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত মুসলমান এবং  নমঃশূদ্র নেতৃবৃন্দের দ্বারা সামগ্রিকভাবে কৃষকদের রাজনৈতিকক্ষেত্রে সচেতন করে তোলার কাল। ১৯১৪ সালে কৃষকদের স্বার্থে আনীত প্রজাসত্ত্ব আইন (Tenancy Act) এর প্রস্তাবিত সংশোধন, জোতদার এবং স্বচ্ছল কৃষক যারা তাদের দখলি জমির ওপর আরও সুনিশ্চিত অধিকার আশা করছিলো, তাদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহের সৃষ্টি করে। ১৯১৪ সালে তারা জামালপুরের (ময়মনসিংহ) কামারের চরে প্রথম প্রজা সম্মেলনের আয়োজন করেন যেখানে, ফজলুল হক, [[খাঁ, মোহাম্মদ আকরম|মওলানা আকরম খাঁ]], মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, মৌলভী রাজীবুদ্দীন তরফদার এবং অন্যান্য মুসলমান নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ নেতাগণের একটি উচ্চশ্রেণীর কৃষকপরিচিতি এবং যোগসূত্রতা ছিল। তাঁরা জমিদারি প্রথার সমালোচনা করনে এবং প্রজাদের অধিকতর অধিকার সংরক্ষণের জন্য দাবি জানান। শীঘ্রই গভর্নর রোনাল্ডশে এর পৃষ্ঠপোষকতায় বেশ কয়েকটি কৃষক ও নমঃশূদ্র সংগঠনের আবির্ভাব ঘটে। ১৯১৭ সালের শেষ দিকে ফজলুল হক এবং মুসলমান আইনজীবী ও সাংবাদিকদের একটি দল ‘‘কলকাতা কৃষি অ্যাসোসিয়েশন’’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২০ সালে ‘বেঙ্গল জোতদার এবং রায়ত অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠিত হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সমসাময়িক তথ্যাবলি থেকে স্পষ্ট হয় যে, কৃষকরা ‘সার্ভে ও সেটেলমেন্ট অপারেশন’, সমবায় আন্দোলন, ইউনিয়ন বোর্ড এবং অন্যান্য সরকারি উদ্যোগ, এমনকি মহাজনদের ক্ষমতা খর্বকারী  ‘ঋণ সেটেলমেন্ট বোর্ড’ (Debt Settlement Boards) প্রতিষ্ঠায় বিশেষভাবে আশান্বিত ও উৎসাহিত বোধ করে। ‘সেটেলমেন্ট অপারেশন’-এর কার্যক্রমগুলি প্রজাদেরকে তাদের অধিকার সম্বন্ধে সচেতন করে তzুলছিলো। ফলে তারা ভূস্বামীদের খাজনা বৃদ্ধির প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে সচেষ্ট হয়। কোনো কোনো জেলায় এ কার্যক্রমগুলি প্রজাদের কাছ থেকে [[আবওয়াব|আবওয়াব ]]আদায়ের প্রথাকে নিরুৎসাহিত করে। ১৯২০ সালের মাঝামাঝিতে প্রজাসত্ত্ব সংশোধনী বিল (Tenancy Amendament Bill) যখন রায়ের মাধ্যমে বাতিল হতে যাচ্ছিল, তখন প্রজারা জমিদার ও জমির ভোগদখলকারীদের বিরুদ্ধে তাদের নিজেদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য নিজস্ব বিভিন্ন সংগঠন গড়ে তোলে। কিছু জেলায় ভোগদখল অধিকারের ভাবনা থেকে বর্গাচাষীরাও নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রজাসত্ত্ব আইনের প্রভাবে, এবং ভোটদানের অধিকার স্বচ্ছল কৃষকদের পর্যন্ত পৌঁছানোর ফলে এর পরবর্তীকালে পূর্ব বঙ্গের কৃষকদের আচরণে এক পরিবর্তন আসে। ‘আবওয়াব’ এবং ‘নজর’ (উপহার) থেকে প্রাপ্ত আয় হতে যাতে বঞ্চিত হতে না হয় তার জন্য জমিদার মধ্যবর্তী পক্ষের বিলোপ চান, কেননা জোতদাররা প্রজাদের কাছ থেকে এগুলি সংগ্রহ করত। ১৯৪০ সালে  [[ফ্লাউড কমিশন|ফ্লাউড কমিশন ]]এর কাছে প্রদত্ত ভূস্বামীদের বিভিন্ন স্মারকে এ রকম মনোভাবই প্রতিফলিত হয়। জোতদাররা স্বত্বাধিকার বা মালিকের পদমর্যাদা দাবি করে এবং সামাজিকভাবে নিজেদের অবস্থান উন্নীত করার জন্য নিজেদেরকে তালুকদার বলে অভিহিত করে। ভোগদখলকারী রায়তরা অপেক্ষাকৃত কম হারে খাজনা এবং তাদের দখলি জমির ওপর অধিকতর নিশ্চিত অধিকার দাবি করে, আর অন্যদিকে অ-ভোগদখলকারী রায়তরা স্থায়ী ভোগদখলের অধিকার চায়, বর্গাচাষীরা দাবী স্থায়ী অধিকার এবং ফসলের দুতৃতীয়াংশ, এবং ভূমিহীন শ্রমিকরা উচ্চতর সামাজিক অবস্থান ও স্থায়ী ভোগদখল কাল উভয়ই নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নিজেদের জন্য ‘গৃহস্থ’ বা ‘গৃহস্বামী’র মর্যাদা দাবি করে। সমগ্র এলাকা জুড়ে কৃষক রাজনীতির মূল বিষয়টিই ছিল মধ্যবিত্ত এবং ধনী কৃষকদের ‘ভদ্রলোক’ হওয়ার উচ্চাভিলাষ।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯২০-৪৭ সময়ের মধ্যে স্বচ্ছল কৃষকদের মনে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে এবং কয়েকটি সরকারি পদক্ষেপ গৃহীত হওয়ার কারণে জমিদারদের দখলকারী রায়ত ও জোতদারদের আশা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। কৃষক সম্প্রদায়ের গুরুত্ব এবং এর রাজনৈতিক প্রভাবের মূল কারণ ছিল কৃষি নির্ভর সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী (১৯২১ সালে প্রায় ৮০.৬৬ শতাংশ)। ১৯২১ সালে কৃষক-জমির আনুপাতিক হার ছিল মোটামুটি ভাবে ১:২.৫ একর। সমগ্র জনসংখ্যার জন্য কৃষিকাজই ছিল জীবিকার একমাত্র উপায়। ১৯২১ সালের মধ্যে পূর্ববঙ্গের জনসংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২৯,৬৮৭,৭০১, যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই ছিল মুসলমান, আর জনসংখ্যার গড় ঘনত্ব ছিল প্রতি বর্গ মাইলে ৬৬০ জন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ভোটদানের অধিকার পাওয়ার পরপরই স্বচ্ছল কৃষকরা ইউনিয়ন বোর্ড এবং অন্যান্য স্থানীয় স্ব-শাষিত প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা নির্বাচিত করতে তাদের ভোটের মূল্য অনুধাবন করলেও, একই সঙ্গে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ফসলের মন্দ ফলন এবং পাটের আকস্মিক মূল্য হ্রাসের কারণে তারা ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। অচিরেই সরকারের সঙ্গে গান্ধীর অসহযোগিতার ডাক, যা স্বশাসন এবং নাগরিক অধিকারের বিষয়টিকে সামনে তুলে ধরেছিল। কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ যখন ‘স্বরাজ’ বা স্বশাসনের নামে কৃষকদেরকে একত্রিত করছিল তখন পূর্ব বঙ্গের কৃষকশ্রেণী তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়। এ সময় এ অঞ্চলের কৃষকেরা স্বরাজ বলতে বুঝেছিল ‘‘এমন একটি স্বর্ণযুগ যখন দ্রব্যমূল্যা হ্রাস পাবে, কর প্রদান স্থগিত হবে, এবং যখন রাষ্ট্র আর ব্যক্তি মানুষের আনন্দের কর্মকান্ডে হস্তক্ষেপ করবে না।’’&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইতোমধ্যে গান্ধী এবং কংগ্রেস পার্টির অন্যান্য প্রথম সারির হিন্দু ও মুসলমান নেতৃবৃন্দ অসহযোগ আন্দোলনের ইস্যুর সঙ্গে খিলাফত এর ইস্যুটিও যোগ করে দেন। ফলে ভারতীয় মুসলমানরা স্বদেশের ভূমি ছাড়িয়েও বাইরের প্রতি তাদের আনুগত্যে উজ্জীবিত হয়, আর এটা হয় ‘আলেমদের এক অংশের ভাববিলাসী চিন্তাভানা ও উৎসাহের অতিশয্যের কারণে। সমগ্র দেশ জুড়ে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে [[আইন অমান্য আন্দোলন|আইন অমান্য আন্দোলন]] গড়ে উঠেছিল। গান্ধী এ ইস্যুটিকে ‘মুসলিম কাউ’ (Muslim Cow) হিসেবে তুলে ধরলেন এবং হিন্দু-মুসলমান ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে খিলাফত আন্দোলনকে সমর্থন করলেন। পূর্ব বঙ্গে, কৃষক এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে ‘খিলাফত’ প্রকৃতপক্ষে কি সে সম্বন্ধে কোনো ধারণাই ছিল না। কৃষকরা খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল এ ভেবে যে এ আন্দোলন তাদেরকে স্বরাজ বা একটি ‘কৃষক স্বর্গরাজ্য’ এনে দেবে। তাদের এ লক্ষ্য অর্জনের পথে কৃষকেরা তাদের প্রত্যক্ষ শোষণকারী এবং গ্রামীণ সম্প্রদায়ের প্রতিপক্ষকে নানাভাবে বয়কট এবং সামাজিকভাবে একঘরে করা থেকে শুরু করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডদ্বারা ভীত করে রাখে। ‘স্বরাজ’ বা ‘খিলাফত’ সাধারণ একজন কৃষকের কাছে প্রাক্-রাজনৈতিক এ লক্ষ্য অর্জনের উপায় ছাড়া আর বেশি কিছুই ছিল না। ‘জাতীয়তাবাদ’ বা ব্রিটিশদের কাছ থেকে ভারতের স্বাধীনতার ধারণা ১৯২০ সালে তাদের বোধশক্তির বাইরে ছিল।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯২২ সালে গান্ধীর [[খিলাফত|খিলাফত]] ও  [[অসহযোগ আন্দোলন|অসহযোগ আন্দোলন]] প্রত্যাহারের ফলে কৃষকরা যেভাবে স্বরাজ বা জাতীয়তাবাদকে বুঝেছিল তাদের নিকট তার গুরুত্ব অনেকাংশে হ্রাস পায়। রাজনৈতিকভাবে স্বরাজের চাইতে প্যান ইসলাম ও মুসলিম সংহতি তাদের কাছে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১৮৭০-এর দশকে সংঘটিত ওহাবী আন্দোলনের প্রায় ৫০ বছর পর খিলাফত আন্দোলনের সময় বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে উলামাদের (মোল্লা, মৌলবি, পীর এবং সুফি) পুনরাবির্ভাব বাংলার কৃষকের মনে ইসলামের ভাবাবেগকে পুনর্জাগরিত করে। পরবর্তী সময়ে বাঙালি মুসলমান কৃষকেরা তাদের হিন্দু প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ইসলামকে একটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। এ আন্দোলন একদিকে যেমন কৃষকদেরকে তাদের প্রভুদের কর্তৃত্ব অমান্য করার লক্ষ্যে কিভাবে বিক্ষোভে ব্যবহার করা যায় তা শিক্ষা দেয়, অন্যদিকে তেমনি এ আন্দোলন উলামাদের আধিপত্য বিস্তারে বিশেষ ভূমিকা রাখে। জনগণকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে এবং রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে উলামাদের গুরুত্ব ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পরও অনেকদিন পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রধান অর্থকরী ফসল পাটের মূল্যের দ্রুত ওঠা-নামা, এবং ১৯২৯-৩৬ এর [[মন্দা|মন্দা]] (Great Depression) ১৯২০ এবং ১৯৩০ এর দশকের কৃষকদের রাজনৈতিক আচরণে বিশেষ পরিবর্তন আনতে সহায়তা করে। পাটের মূল্যে আকস্মিক ধ্বস নামার ফলে যখন ১৯২৩ এবং ১৯২৪ পাট উৎপাদনকারীদের জন্য চরম খারাপ বছর ছিল, তখন ১৯২৫ এবং ১৯২৬ সালে হঠাৎ করে পাটের মূল্য বৃদ্ধি তাদের জন্য সমৃদ্ধি বয়ে আনে। অবশ্য এ সমৃদ্ধি ছিল ক্ষণস্থায়ী। ১৯২৯-৩৬ এর মহামন্দা খুব শীঘ্রই কৃষকদের এ সমৃদ্ধিকে গ্রাস করে। কৃষিজাত দ্রব্যের নিম্নমূল্য এবং বেকারত্ব সর্বত্র, বিশেষ করে পূর্ব বাংলার গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। যেহেতু তৎকালীন ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল, পাবনা এবং রাজশাহী জেলার অধিকাংশ জমিদার এবং মহাজনরা ছিলেন হিন্দু, সেহেতু প্রজা-ভূস্বামী এবং ঋণদানকারী-ঋণগ্রহীতার মধ্যকার দ্বন্দ্ব অচিরেই হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বের রূপ নেয়। আশরাফ-উলামা-জোতদার এ তিন শক্তির যৌথ নেতৃত্বে যে সমস্ত ব্যক্তি সাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধু হয়েছিল, প্রধান হিন্দু শ্রেণিগুলির সঙ্গে যাদের স্বার্থের দ্বন্দ্ব ছিল, তারা মুসলমান কৃষক ও তাদের হিন্দু প্রভুদের মধ্যকার শ্রেণিদ্বন্দ্বকে সাম্প্রদায়িকীকরণের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এটা উল্লেখযোগ্য যে, যদিও স্বরাজ অথবা একটি স্বর্ণ যুগ অর্জনের লক্ষ্যে বাঙালি মুসলমান কৃষকদের এক বিরাট অংশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেছিল, তথাটি অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহারের অল্প কিছুকালের মধ্যেই কৃষক অভ্যুত্থানের এক নতুন যুগ শুরু হয়। এ যুগে কৃষকেরা বেশ কিছু স্থানে সমাজের প্রতিষ্ঠিত শ্রেণি বিন্যাস ও আইনের প্রতি সম্পূর্ণ অবজ্ঞা প্রদর্শন করতে শুরু করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
নিম্ন কৃষক পরিবার হতে উদ্ভূত এবং বাজার ও প্রজাস্বত্ত্ব অধিকারের সম্পর্ক অজ্ঞ সকল পল্লী কবি এবং সাহিত্যিক, ১৯২৫-১৯২৬ সালে যখন পাটের বাজার অত্যন্ত ভালো তখনও, পাট চাষ করার জন্য কৃষকদেরকে ব্যঙ্গ করতে শুরু করেছিল। কেউ কেউ হিন্দু এবং মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীদেরকে (হিন্দু জমিদার ও মহাজন সহ) পাটের মূল্যের দ্রুত পরিবর্তন এবং তাতে ধ্বংস নামার জন্য দায়ী করে তাদের লেখায় তা উপস্থাপন করে। ময়মনসিংহের এক পল্লী কবি (আব্দুল সামেদ মিঞা, ১৯২১) অ-বাঙালিদের (উত্তর-পশ্চিম ভারতীয়) দ্বারা কৃষক শোষণ সম্বন্ধে লেখেন, ‘‘যখন এদেশে পাট আসল পশ্চিমারাও (উত্তর-পশ্চিম ভারতীয়রা) তখন আসল এবং এদেশকে দখল করল... এখন তারাই হলো বিত্তশালী ব্যক্তি। বাঙালিদেরকে তারা এখন অবজ্ঞা করে। এসব বিজাতীয়রা যাদের এক সময় ছাতু মিলতো না, দেখ! আজ তারা বালাম চাল খাচ্ছে। অন্যদিকে বাঙালিরা খাচ্ছে মোটা রেঙ্গুন চাল। বাঙালিরা বোবা হয়ে গেছে। পশ্চিমারা কেবলমাত্র বাংলাতেই আশ্রয় পেয়েছে, অন্য কোনো স্থানে তাদের কোনো জায়গা মিলবে না।’’&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
পল্লী লেখকদের আরেকজন, (আবেদ আলী মিঞা) লিখলেন, ‘‘মাড়োয়ারি কোটিপতিরা পাটের জন্য একবছর তোমাদেরকে ভাল মূল্য দেয়, পরবর্তী তিন বছর তোমাদেরকে শোষণ করার জন্য।’’ এভাবে পল্লী সাহিত্যে হিন্দু মহাজন, দোকানদার, জমিদারদের কর্মচারী, [[জমিদার|জমিদার]] এবং এরূপ অন্যান্যদের প্রতি কৃষকসহ সকল মুসলমানের অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
পল্লী সাহিত্য, যা কিনা আগেই হিন্দুদেরকে ‘বিজাতি’ (অন্য ধর্মাবলম্বী) এবং কৃষকদের শোষণের প্রতিশোধ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রমাণ করে যে, ‘সাম্প্রদায়িকতা’ কেবল রাজনৈতিকভাবে সৃষ্ট, উপর থেকে চাপানো কোনো ধারণা ছিল না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কলকাতা এবং উপমহাদেশের অন্যান্য স্থানে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা গ্রামাঞ্চলে তৃণমূল পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক ঘৃণার বাষ্পকে আরও ঘনীভূত করে। মুসলমান পল্লী কবিগণ প্রায়শই কলকাতার দাঙ্গার (১৯২৬) গল্প আরও ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে মুসলমান গ্রামবাসীদের কাছে বর্ণনা করে এবং এভাবে গ্রামীণ মুসলমানদের মধ্যে হিন্দুদের বিরদ্ধে তীব্র সাম্প্রদায়িক চেতনার জন্ম দেয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
পরস্পরবিরোধী মনে হলেও কৃষকদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি’র কালে (১৯২৫-২৬), যখন পাটের মূল্য পূর্ববর্তী যে কোনো সময়ের চাইতে অনেক বেশি ছিল, তখন কৃষকদের মধ্যে অস্থিরতা ছিল তীব্রতর। কৃষকদের দ্বারা দখলিজমির ভোগদখল হ্রাস (জনসংখ্যাবৃদ্ধির এবং ভূস্বামীদের দ্বারা ১৯২৩ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ত্ব আইন সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করার প্রচেষ্টার কারণে) এবং ১৯২৫-২৬ সালে পাটের তেজী বাজারের সময় ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি, অবস্থার আরও অবনতি ঘটায়। ১৯২৫-২৬ সালে, যখন পাটের মূল্য অপ্রত্যাশিতভাবে উচ্চ ছিল (১৯২৩-২৪ সালে প্রতি বেল পাটের মূল্য ২৫.০০ টাকা থেকে ৬০.০০ টাকার পরিবর্তে প্রতি বেল ৯৪.০০ টাকা থেকে ১৪২.০০ টাকা), তখন তৎকালীন ভোগদখলকারী প্রজা, যারা ততদিনে আংশিক অথবা সম্পূর্ণভাবে ‘বর্গাদার’ কিংবা ‘আধিয়া’তে রূপান্তরিত হয়েছিল, তারা জোতদারকে (যারা বহুক্ষেত্রে কৃষকের ঋণ শোধ করতে না পারলে তাদের জমি দখল করে নিচ্ছিল) দেয় ফসলের (পাটের) অর্ধেক কিংবা তারও অধিক অংশ ছেড়ে দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইতোমধ্যে, ঔপনিবেশিক সরকার তাদের সহযোগী বা মিত্র হিসেবে কৃষকদের সম্ভাবনার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারার ফলে কয়েকটি আইন প্রণয়ন সম্বন্ধকীয় এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যেমন আরও বেশি সংখ্যক কৃষককে ভোগদখলের অধিকার দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯২৩ সালে বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ত্বে আইন সংশোধনী বিল প্রণয়ন; পার্লামেন্টে আরও অধিক সংখ্যক কৃষক প্রতিনিধি যেন স্থান পায় সেজন্য ভোটাধিকারকে আরও ব্যাপকীকরণ এবং ১৯২৬ সালে Royal Commission on Agriculture-এর প্রতিষ্ঠা। হিন্দু জমিদার-ভদ্রলোক-মহাজন এ তিন যৌথ শক্তি এবং হিন্দু সংবাদ মাধ্যম জাতীয়তাবাদ-বিরোধী অভিহিত করে সরকারের এ সব পদক্ষেপের বিরুদ্ধাচরণ করে। ফলে ১৯২৮ সালে প্রজাস্বত্ত্ব সংশোধনী বিল কার্যকর হওয়ার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত সাধারণভাবে বাঙালি হিন্দুরা, যারা জমিদার-ভদ্রলোক-মহাজন এ তিনশক্তির প্রতিনিধিত্ব করছিল, তারা এ বিলের বিরুদ্ধাচারণ করে। অন্যদিকে, আশরাফ-উলামা-জোতদার এ যৌথ শক্তির নেতৃত্বাধীন বাঙালি মুসলমানেরা এর পূর্ণ সমর্থন করে। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, অনেক মুসলমান জমিদারও এ বিলকে সমর্থন করে। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, প্রধানত মুসলিম অধ্যুষিত পূর্ব বাংলার কৃষক আন্দোলনকে সাম্প্রদায়িকীকরণের ক্ষেত্রে অ-কৃষক নেতারা এবং তাদের শ্রেণি শত্রুরাই (জমিদার ও জোতদাররা) প্রধান ভূমিকা রাখে। এর ফলে ‘আশরাফ’ এর সঙ্গে ‘জোতদার’ এবং ‘জোতদারের সঙ্গে নিম্ন কৃষকের, যারা ধর্মে মুসলমান ছিল, তাদের একত্রিত হওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়, যা টেনে নিয়ে যায় ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের দিকে। একদিকে যেমন দেশবন্ধু [[দাশ, চিত্তরঞ্জন|চিত্তরঞ্জন দাস]]-এর নেতৃত্বে হিন্দু অভিজাত শ্রেণির এক অংশ মুসলমান মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণিকে প্রকাশিত করার লক্ষ্যে ১৯২৩ এর আশ্বস্তকারী চুক্তি [[বেঙ্গল প্যাক্ট, ১৯২৩|বেঙ্গল প্যাক্ট]] (হিন্দু-মুসলিম প্যাক্ট হিসেবেও পরিচিত) স্বাক্ষর করেছিল যেখানে স্বরাজ বা স্বাধীনতা অর্জিত হলে অন্তত ৫৫% চাকুরি মুসলমানদেরকে দেওয়া হবে এমন অঙ্গীকার ছিল। অন্যদিকে তেমনি হিন্দু অভিজাত শ্রেণির অন্যান্য সদস্যরা মুসলমানদের খুশি করার এ ধরনের যে কোনো প্রয়াসেরই চরম বিরুদ্ধাচারণ করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
হিন্দুদের দ্বারা এ প্যাক্টের বিরোধিতা মুসলিম গোড়াপন্থিদেরকে দেশ জুড়ে হিন্দু বিরোধী প্রচারণা শুরু করার সুযোগ করে দেয়। যা পরিণতিতে তৃণমূল পর্যায়ের মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে এক সাম্প্রদায়িক চেতনার জন্ম দেয়। উচ্চবর্ণ হিন্দু রাজনীতিবিদ ও স্বচ্ছল ব্যক্তিরা, যাদের অনেকেই শুদ্ধি সংগঠন, হিন্দু মহাসভা এবং ল্যান্ডলর্ডস অ্যাসোসিয়েশনের মত হিন্দু সাম্প্রদায়িক সংগঠনের উচ্চপদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তাদের অসহিষ্ণু মনোভাব সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কৃষকদের একত্রীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করে। মুসলিম প্রজাসম্প্রদায়কে জোতদার, নিম্ন রায়ত/বর্গাদার (রায়ত/বর্গাদারের অধীনে জোতদার) হিসেবে পৃথকভাবে চিহ্নিত করার সকল প্রয়াস ব্যর্থ হয়। কারণ প্রথমত, নিম্নশ্রেণীর কৃষকদের সঙ্গে হিন্দু উচ্চশ্রেণীর প্রায় কোনোরকম যোগাযোগ ছিল না। দ্বিতীয়ত, তাদের পৃষ্ঠপোষক ও সহ-ধর্মাবলম্বী হিসেবে জোতদারদের নিম্নশ্রেণীর কৃষকদের ওপর অধিকতর কর্তৃত্ব ছিল। সর্বশেষে, মুসলমানদের মনে বিরাজমান এ ধারণা যে, তারা হচ্ছে ‘বাঙালি সমাজের কিছু নাই’র দল, যাদের অবস্থান হলো কোনো রকম নির্দিষ্ট আকারবিহীন এক প্রজা সম্প্রদায়ের মধ্যে, এ শ্রেণি চেতনা তাদের সাম্প্রদায়িকতা বোধকে গ্রথিত করতে সাহায্য করেছিল। এ চেতনাই জমিদার-ভদ্রলোক-মহাজন এ তিন শ্রেণি শত্রুর বিরুদ্ধে আশরাফ-উলামা-জোতদার তিন যৌথ শক্তির নেতৃত্বাধীনে ধনী-মধ্যবিত্ত এবং দরিদ্র কৃষকদের একত্রিত করে  [[যুক্তফ্রণ্ট|যুক্তফ্রন্ট]] (United front) প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ধনুকাকৃতির ক্ষমতা-কাঠামো যার শীর্ষে অবস্থিত ছিল জমিদার তা যখন দুর্বল হয়ে পড়ল, তখন জোতদাররা, যাদেরকে নিম্ন কৃষকেরা তাদের অধিকতর সৌভাগ্যবান সমগোত্রীয় এবং একই সঙ্গে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে গণ্য করত, তারা জমিদাররা ক্রমশ ক্ষমতা থেকে সরে যেতে থাকার (retreat) ফলে সৃষ্ট শূন্যস্থানগুলি দখল করল। এর ফলে জোতদার-প্রজা দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত জমিদার-জোতদার দ্বন্দ্বে রূপ নেয় এবং এটা তখনই সম্ভব হলো যখন শেষোক্তজন ইসলাম বা মুসলিম ধর্মীয় ঐক্যের নামে নিম্ন কৃষক (এবং মুসলমানদের) এবং আশরাফ জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস অর্জনে সক্ষম হলো। এ ব্যবধান দূর করতে ‘উলামারা’ এক বিশেষ ভূমিকা রাখে। কৃষকদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সাধনে বহিরাগত দু’টি উপাদান, ‘আশরাফ’ এবং ‘উলামা’-র নেতৃত্বে একজন কৃষক প্রথমে সাম্প্রদায়িক ও তারপর রাজনৈতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কৃষক সম্প্রদায়ের যখন এভাবে সাম্প্রদায়িকীকরণ ঘটছিল, ১৯২৯-৩৬ এর মহামন্দার (Great Depression) আকস্মিক সর্বগ্রাসী প্রভাব পূর্ব বাংলাতেও এসে লাগে। ফলে, পল্লী ঋণদাতা, ভূ-স্বামী এবং তাদের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কৃষকের যে ক্ষোভ ক্রমশ দানা বেঁধে উঠছিল তার জোড়ালো বহি: প্রকাশ ঘটে ‘আর খাজনা নয়’ (no-rent) এ দাবির সমর্থনে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত কৃষক আন্দোলনের বুৎপত্তি অর্জনের মাধ্যমে। বহু মুসলমান কৃষকদেরকে তাদের কৃষক এবং অ-কৃষক উভয় নেতারাই বোঝাল যে, হিন্দু জমিদার এবং মহাজনরাই ফসলের নিম্নমূল্য তথা তাদের দুঃখ দুর্দশার জন্য দায়ী।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৩০ সালে সমগ্র বাংলায় এবং অন্যান্য প্রদেশে কংগ্রেস ও গান্ধীর নেতৃত্বে আইন অমান্য আন্দোলনের নামে ব্রিটিশ বিরোধী প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ে। যেহেতু পূর্ব বঙ্গের অধিকাংশ কংগ্রেস নেতা হিন্দু ভদ্রলোক শ্রেণি, যাদের সঙ্গে জমিদার ও ঋণদাতাদের ছিল ঘনিষ্ঠ সর্ম্পক, সেহেতু ওই অঞ্চলের মুসলমান জনগোষ্ঠীর ওপর বলতে গেলে তাদের কোনো প্রভাবই ছিল না। ইতোমধ্যে, সরকার জাতীয়তাবাদ, কমিউনিস্ট বা সাম্যবাদ এবং সন্ত্রাসী প্রচারণার থেকে সাধারণ জনগোষ্ঠীকে বিরত রাখার জন্য বেশ কয়েকটি ‘কৃষকদের পক্ষে’ (pro-peasant) পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলির মধ্যে বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ত্ব আইন, ১৯২৮; the Bengal Rural Primary Education Act, 1932; the Bengal Local Self-Government Bill, 1933; এবং ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের উল্লেখ করা যেতে পারে। ১৯৩২ সালে সরকার প্রদত্ত সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ (Communal Award) এবং ১৯৩৫ সালে ভারত শাসন আইন যে কেবল ভোটাধিকারকে আরও বিস্তৃত করল তাই নয়, বরং এ উপমহাদেশের মুসলমান সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে সহায়ক হলো। হিন্দু জমিদার-ভদ্রলোক-মহাজন এ ত্রিশক্তি, কৃষকদের স্বার্থের এবং মুসলমানদের স্বার্থের পক্ষের পদক্ষেপগুলির তীব্র বিরোধিতা করায় এবং কৃষকদের সঙ্গে তাদের শ্রেণি দ্বন্দ্বের ফলে, তারা আর কৃষক জনগোষ্ঠীকে প্রভাবান্বিত করার মতো বা নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অবস্থানে থাকল না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সরকারের পক্ষের মুসলমান নেতৃবৃন্দ, তাদের অর্থ-সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে, সমগ্র পূর্ব বাংলা জুড়ে মুসলমানদেরকে হিন্দু-বিরোধী চেতনায় ঐক্যবদ্ধ করতে শুরু করে। কৃষকদের মধ্যে এ হিন্দু-বিদ্বেষী চেতনার অনুকূলে সাড়া জাগাতে মন্বন্তর একটি বিশেষ সহায়ক হয়। এ আন্দোলনের সংগঠকরা সাধারণ কৃষকদের মধ্যে এ বলে ভয়াবহ সব গুজব ছড়ায় যে, একদিকে যেমন হিন্দু জমিদার ব্যবসায়ী এবং ঋণদাতারা কৃষিজাত দ্রব্যের নিম্নমূল্যের জন্য দায়ী, অন্যদিকে তেমনি ব্রিটিশ সরকার আইন করেছে যে, যে সব মুসলমান তাদের দাঙ্গাবাজ হিন্দু শত্রুপক্ষকে আক্রমণ বা লুট করবে, এমনকি হত্যা পর্যন্ত করবে তাদেরকে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না। ঢাকা এবং ময়মনসিংহ জেলার কিছু অংশে, কিছু মোল্লাদের প্ররোচনায়, কৃষকরা বিশ্বাস করে যে, সরকার সাত দিনের জন্য ‘স্বরাজ’ অনুমোদন করেছে এবং ঢাকার নওয়াব হিন্দু স্বচ্ছ্বল শ্রেণির উপর আক্রমণের ইচ্ছা প্রকাশের মাধ্যমে তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব ঘোষণা করেছেন। এর পরিণতিতে ১৯৩০ সালে ঢাকার রুহিতপুর, মাতুয়াইল, আতি, জিঞ্জিরা ও মিরপুরে এবং কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন গ্রামে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৩০ সালের কিশোরগঞ্জের দাঙ্গা কৃষক ও তাদের শোষণকারী ঋণদাতাদের মধ্যকার অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে আচ্ছন্ন করে। ক্রব্ধ মুসলমানেরা তাদের শত্রু চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সচেতন ছিল। তারা তাদের ক্রোধের আগুন থেকে মুসলমানদেরকে রেহাই দিয়ে শুধু হিন্দু ঋণদাতাদের আক্রমণ ও তাদের সম্পত্তি ধ্বংস করে। কিশোরগঞ্জ ছাড়াও, মুসলমান কৃষকরা মন্বন্তরের সে দারুণ দুর্দশাপূর্ণ সময়ে তৎকালীন ফরিদপুর, বরিশাল, খুলনা এবং নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন স্থানের হিন্দুদেরকে আক্রমণ ও হত্যা করে। এমনকি কংগ্রেসের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত দেশব্যাপী আইন অমান্য আন্দোলনও তাদের হিন্দু প্রতিবেশীদের হত্যা করা থেকে মুসলমানদের বিরত করতে ব্যর্থ হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ঢাকা এবং অন্যান্য স্থানের বিরোধী এবং সরকার সমর্থনকারী মুসলমান অভিজাত শ্রেণিদ্বারা প্রভাবিত এবং স্থানীয় নেতৃত্বাধীন এ সকল স্থানীয়ভাবে উদ্ভূত সম্প্রদায়িক হাঙ্গামাগুলি কৃষকদের কাছে ভারতবর্ষের [[বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি|কমিউনিস্ট পার্টি]] এবং জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি উভয়দলকেই প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বাতিল করতে ভূমিকা রাখে। ইতোমধ্যে, মুসলিম জোতদার-তালুকদার এবং এমনকি আশরাফ-জমিদার শ্রেণি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার এবং সমগ্র অঞ্চল জুড়ে কমিউনিস্ট সংগঠনগুলি ও সরকার বিরোধী জাতীয়তাবাদী শক্তিকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে কৃষক ও প্রজা সংগঠনগুলিকে সংগঠিত ও প্রস্ত্তত করছিল। উল্লেখযোগ্য যে, মুসলমান কৃষক সম্প্রদায়ের এক বিশাল অংশ মুসলমান জমির মালিকদেরকে কৃষক সম্প্রদায়েরই একটি অংশ হিসেবে গণ্য করলেও, হিন্দু ভূ-স্বামীদের তারা কঠোর খাজনা-আদায়কারী এবং কৃষকদের শোষক ব্যতীত অন্য কিছুই ভাবত না। তখন থেকে মুসলমান আশরাফ-উলামা-জোতদার নেতৃবৃন্দ মুসলমান কৃষকদেরকে মৌলিক কাঠামোগত আমূল ভূমি সংস্কার ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষাকারী অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতির প্রলোভন দেখাতে শুরু করল, এবং একই সঙ্গে হিন্দু জমিদার-ভদ্রলোক-মহাজন এ তিন যৌথ শক্তিকে বাংলার উচ্চ ও নিম্ন উভয় শ্রেণির মুসলমানের একমাত্র শত্রু হিসেবে তুলে ধরে। এবং শেষ পর্যন্ত মুসলমান নেতৃবৃন্দ এ অঞ্চলের মুসলমান কৃষক সম্প্রদায়কে সংগঠিত করে এ.কে ফজলুল হকের (১৯৩৭ সালে বাংলার নির্বাচিত প্রধান মন্ত্রী বা Chief Minister) নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ফজলুল হক এবং তাঁর সহকর্মী অন্যান্য মুসলমান রাজনীতিবিদরা যাঁরা উচ্চ কৃষকশ্রেণী হতে উদ্ভূত উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেন, তাঁরা প্রধান প্রভাবশালী হিন্দু শ্রেণিকে পাশ কাটিয়ে নিজেদেরকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে উর্দু ভাষী আশরাফ নেতৃবৃন্দের ([[জিন্নাহ, মোহাম্মদ আলী|মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ]],  [[সোহ্‌রাওয়ার্দী, হোসেন শহীদ|হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী]] এবং  [[নাজিমউদ্দীন, খাজা|খাজা নাজিমউদ্দীন]]) সঙ্গে হাত মিলান। এর ফলে, ১৯৩৭ সালের লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্ব্লি (খবমরংষধঃরাব অংংবসনষু) নির্বাচনের পর [[হক, এ.কে ফজলুল|ফজলুল হক]] এবং কৃষক প্রজা পার্টির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বাধ্য হন তাদের ‘প্রজা স্বত্ত্বা’কে বিসর্জন দিয়ে মুসলিম লীগে যোগ দিতে। ১৯৪৭ এর দেশ বিভাগের সময় পর্যন্ত ঘটনাগুলির মধ্যে যা উল্লেখযোগ্য ছিল, হিন্দু জমিদার-ভদ্রলোক মহাজন এ যৌথ ত্রিশক্তির বিরুদ্ধে প্রজাদের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ‘আশরাফ’ কর্তৃক সফলভাবে নিম্নরায়ত ও বর্গাদারদেরকে একত্রে সংগঠিত করা। একইভাবে উল্লেখযোগ্য যে কীভাবে জাতীয়তাবাদী, সাম্রাজ্যবাদী ও কমিউনিস্ট বা সামন্তবাদীরা একই সময়ে কৃষকদেরকে সংগঠিত করতে ব্যর্থ হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ফজলুল হক এবং তাঁর [[কৃষক প্রজা পার্টি|কৃষক প্রজা পার্টি]] (KPP) যাঁরা জমিদার বিরোধী/মহাজন বিরোধী অর্থনৈতিক কর্মসূচির প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিলেন, যা কিনা কচচ এর নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিফলিত হয়েছিল, তাঁরা ১৯৩৭ সনের এপ্রিল মাসে বাংলায় একটি জোট (coalition) সরকার গঠন করার লক্ষ্যে মুসলিম লীগের সঙ্গে হাত মিলান। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, কতিপয় মুসলমান জমিদার, যাদের মধ্যে ধনবাড়ীর (টাঙ্গাইল) নওয়াবজাদা হাসান আলী খান অন্যতম, ১৯৩৭ এর নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তীকালে জমিদার বিরোধী এবং কৃষকদের পক্ষের কর্মসূচিকে সমর্থন দিয়েছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইতোমধ্যে, সাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ আন্দোলনের পাশাপাশি বেশ কিছু শ্রেণি ভিত্তিক এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনও সংঘঠিত হয়। মনি সিং এবং আরও কয়েকজন কমিউনিস্ট নেতার নেতৃত্বাধীন উত্তর ময়মনসিংহের উপজাতীয় (হাজং) কৃষকদের শ্রেণি ভিত্তিক টংক আন্দোলন (Tonk Movement) এ প্রদেশের অন্যকোন স্থানের অ-উপজাতীয় মুসলমান অথবা [[নমশূদ্র|নমশূদ্র]] কৃষকদের দলে টানতে ব্যর্থ হয়। ১৯৩০ এবং ১৯৪০ এর জাতীয়তাবাদী এবং কমিউনিস্ট আন্দোলনগুলিও সীমিত ছিল নোয়াখালী, কুমিল্লা এবং চট্টগ্রামের মধ্যবিত্ত-কৃষক-প্রধান উপ-অঞ্চলে। উপ-অঞ্চলে প্রধান শোষক হিসেবে হিন্দু জমিদারদের অনুপস্থিতি মুসলমান কৃষকদেরকে একটি অসাম্প্রদায়িক অথবা জাতীয়তাবাদী ধারায় সংগঠিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে, বিশেষত নোয়াখালী এবং কুমিল্লা জেলার কিছু অংশে। উপ-অঞ্চলের কয়েকজন বিশিষ্ট কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট নেতা মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন, যেমন  কুমিল্লার আশরাফউদ্দীন চৌধুরী এবং অসিমুদ্দীন আহমেদ এবং আব্দুল মালেক, মুখলেসুর রহমান, মকবুল মিঞাসহ নোয়াখালী-কুমিল্লা উপ-অঞ্চলের প্রগতিবাদী কৃষক সমিতির অন্যান্য অনেকে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৪১ সনের ঢাকার নৃশংস সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং ১৯৪০ এর [[লাহোর প্রস্তাব|লাহোর প্রস্তাব ]]এর পরিপ্রেক্ষিতে আশরাফ-উলামা-জোতদার যৌথশক্তি কর্তৃক পাকিস্তান গঠনের নামে মুসলমান জনগোষ্ঠীকে সংগঠিতকরণ মুসলিম-জোতদার প্রভাবিত উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও দিনাজপুর জেলার এবং মুসলমান মধ্যবিত্ত কৃষক প্রভাবিত নোয়াখালী এবং কুমিল্লা জেলার জনগোষ্ঠীসহ সমগ্র বাংলা জুড়ে মুসলমান জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণভাবে সাম্প্রদায়িক করে তোলে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উল্লিখিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, প্রজা-আশরাফ জোটবন্ধন ছিল অবশ্যম্ভাবী। আশরাফ ও প্রজাদের (বিশেষকরে জোতদারদের) সৌভাগ্যক্রমে মুসলমান কৃষকদের এক বিরাট অংশের মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদের প্রভাবে কংগ্রেস এবং হিন্দু নেতৃত্বাধীন অন্যান্য সংগঠনগুলি সম্পর্কে সম্পূর্ণ মোহমুক্তি ঘটেছিল। ততদিনে কৃষকদের সামন্ততান্ত্রিক বিরোধী সংগ্রাম বাংলায় একটি ধর্মীয় ধারায় ও বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদের ধর্মীয় চেতনায় প্রবাহিত হতে শুরু করে। আশরাফ ও প্রজার মধ্যে পারস্পরিক সুবিধাজনিত জোটবন্ধন, যা কিনা ১৯৩৭ এর নির্বাচনোত্তর কালে বাংলায় হিন্দু প্রাধান্যকে নিয়ন্ত্রণে রেখে একটি ফলপ্রসূ মুসলিম মন্ত্রীসভা গঠনের জন্য অপরিহার্য ছিল, তা প্রকৃতপক্ষে আশরাফদের নিকট প্রজাদের আত্মসমর্পনের নির্দেশক ছিল।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ফজলুল হক ১৯৪১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে হিন্দু মহাসভা নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর সঙ্গে একত্রিত হয়ে একটি জোট মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে নিজেকে বাংলার মুসলমান সম্প্রদায়সহ কৃষদের থেকে আরও দূরে সরিয়ে ফেলেন। শেষপর্যন্ত খাজা নাজিমউদ্দীন এবং এইচ.এস সোহরাওয়ার্দীর মতো আশরাফ নেতারা ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বাংলার প্রধান মন্ত্রী হিসেবে ফজলুল হকের স্থানে অধিষ্ঠিত থাকলেন, এবং তখন থেকে বেশ কিছুদিন পর্যন্ত আশরাফ নেতৃবৃন্দ কিছু অনুগত প্রজা নেতা, যেমন  নুরুল আমীন, তমিজুদ্দীন খান, ওয়াহিদউজ্জামান (ঠান্ডা মিঞা), ইউসুফ আলী চৌধুরী (মোহন মিঞা), ফজলুল রহমান এবং অন্যান্যের সহযোগিতায় বাংলার মুসলিম রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে থাকেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইতোমধ্যে, ১৯৪৩ সনের বাংলার দুর্ভিক্ষ এবং ১৯৪৬ এর আগস্টের কলকাতার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাহাঙ্গামা পরিবেশকে আরও অবনতির দিকে টেনে নিয়ে যায়। একজন সাধারণ বাঙালি মুসলমানের কাছে হিন্দু ব্যবসায়ী, মজুতদার এবং কালোবাজারীসহ জমিদার এবং মহাজনেরা ছিলেন দুর্ভিক্ষের জন্য মূলত দায়ী ও অপরাধী। সাধারণভাবে হিন্দু নেতৃবৃন্দ, বিশেষকরে জমিদার এবং ভদ্রলোকেরা মুসলমান জনগণের কাছে তাদের বিশ্বস্ততা হারালেন। কৃষকসহ বাংলার মুসলমান জনগণের কাছে পাকিস্তানের ধারণাটি মুক্তির একমাত্র উপায় হিসেবে দেখা দিয়। ১৯৪৬ এর কলকাতার হত্যাযজ্ঞ, যা কিনা মুসলিম লীগের [[প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস|প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস]]এর দ্বারা ত্বরান্বিত হয়েছিল, পাকিস্তানের জন্মকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছিল।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৪৬ এর প্রারম্ভেই মুসলিম লীগ পূর্ববাংলার প্রায় প্রতিটি জেলাতেই তাদের ঘাঁটি সৃদৃঢ় করে তোলে। এর প্রতিফলন ঘটে ১৯৪৬ এর নির্বাচনে। মুসলমানরা পাকিস্তানের প্রতি পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েই মুসলিম লীগকে ভোট প্রদান করে। তবে, ‘পাকিস্তান’ নামক কল্পরাজ্যটি বলতে যারা ভোট দিয়েছিলেন তারা এবং যাদের ভোটাধিকার ছিল না তারা কী বুঝেছিলেন সেটি একটি ভিন্ন প্রশ্ন সাম্প্রদায়িকতার চরম দিনগুলিতে (১৯৪৬-৪৭) ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট পার্টি ভারতের কৃষক সম্প্রদায়কে বিপ্লবীকরণ করতে গিয়ে উপমহাদেশের বিভিন্ন অংশে শ্রেণি-ভিত্তিক কৃষক আন্দোলন সংগঠিত করে। অবিভক্ত বাংলার [[তেভাগা আন্দোলন|তেভাগা আন্দোলন]] ছিল সেইরূপ একটি আন্দোলন, এবং এটা মুখ্যত সীমাবদ্ধ ছিল উত্তরাঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুর, দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ি জেলার  উপজাতি, রাজবংশী, [[সাঁওতাল|সাঁওতাল]] এবং গারোদের মধ্যে। যখন বর্গাদাররা জোরপূর্বক ক্ষেত থেকে তাদের প্রাপ্য অংশ অর্থাৎ ফসলের দু-তৃতীয়াংশ ছিনিয়ে নিল তখন সি.পি.আই নেতৃবর্গ, প্রধানত উচ্চবর্ণ হিন্দু ভদ্রলোকদের নেতৃত্বাধীন এ আন্দোলন এক সহিংস রূপ গ্রহণ করল। অনেক ভূমিহীন কৃষক এবং অন্যান্যরা, বর্গাদারী ব্যবস্থার সঙ্গে যাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না, তারাও এ আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এটা উল্লেখযোগ্য যে, হিন্দু মুসলমান ভদ্রলোক উভয়ই এ আন্দোলনের বিরোধিতা করেন, কেননা গ্রাম সম্প্রদায়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে অতিক্রম করে একটি শ্রেণি যুদ্ধের আশংকা তারা করেছিলেন। মুসলিম লীগ নেতারা মুসলমান কৃষকদের এ বলে নিরস্ত করেন যে, পাকিস্তান অর্জন হলে সমস্ত জমির মালিক তারাই হবে কেননা তখন হিন্দু ভূ-স্বামীদের পাকিস্তান নামক ‘বিশুদ্ধ (মুসলমান) এর আবাসভূমি’ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিতাড়িত করা হবে। কোন কোন মুসলমান নেতা তাদের স্বপ্নের ‘সোনার পাকিস্তানে’ মুসলমান কৃষকদের চৌভাগা অর্থাৎ গোটা ফসলের প্রতিশ্রুতি দিলেন। ফলে, একজন সাধারণ মুসলমান কৃষকের কাছে পাকিস্তানের ‘সাম্প্রদায়িক’ ধারনার আবেদন শ্রেণি সংহতি কিংবা জাতীয়তাবাদের নামে অন্য যেকোনো আবেদনের চাইতে অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল। স্বর্গরাজ্য পাকিস্তানের আবেদন কৃষকদের মধ্যে এতটাই প্রবল ছিল যে, তেভাগা আন্দোলনের অনেক হিন্দু কমিউনিস্ট নেতা মুসলমান নাম গ্রহণ করেন (যেমন বারীণ দত্ত হলেন আব্দুস সালাম), ইসলামের প্রতি সমর্থন প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে মুসলমান কৃষকদের সঙ্গে বাস্তবিকই অংশ গ্রহণ করেন, এবং একই স্থানে কমিউনিস্টদের লাল পতাকা ও মুসলিম লীগের সবুজ পতাকা উত্তোলিত হয়। সি.পি.আই নেতা কর্তৃক আয়োজিত সভায় মুসলমান কৃষকেরা একই সঙ্গে পাকিস্তান ও তে-ভাগার পক্ষে স্লোগান দেয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ক্রমশ সমগ্র অঞ্চল জুড়ে পাকিস্তানের দাবিই মুসলমান কৃষকদের প্রধান স্লোগানে পরিণত হয়, এবং অন্যদিকে তে-ভাগার দাবি, যা কিনা অনেক ক্ষুদ্র পরিসরে কিছু সংখ্যক কৃষক, প্রধানত উপজাতীয়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল তা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দুর্বল হয়ে মিইয়ে যায়। অন্যদিকে কৃষকরা ব্যক্তিগত মালিকানায় দৃঢ় বিশ্বাসী ছিল। এ কারণেই কমিউনিস্ট আন্দোলনের ব্যাপারে তাদের দোটানা মনোভাব ছিল এবং কমিউনিজমের প্রতি তাদের সুস্পষ্ট সমর্থন ছিল না। প্রথমত কৃষকরাই প্রথম এ দাবি তুলেছিল, সি.পি.আই নয়; এবং দ্বিতীয়ত, এ আন্দোলন জমির ব্যক্তিমালিকানার ধারণাকে কখনও প্রশ্ন করে নি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৪৭ সনের মধ্যে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি সাম্প্রদায়িকতা এবং সর্বোপরি, উচ্চবিত্ত কৃষকদের ওপর সাধারণ দরিদ্র কৃষকের নির্ভরশীলতা পূর্ববাংলার কৃষকদের রাজনৈতিক আচরণের প্রকৃতিতে যে উপ-আঞ্চলিক পার্থক্য ছিল তা মুছে দেয়। ত্রিপুরা নোয়াখালী উপ-অঞ্চলের তুলনামূলকভাবে স্বাধীনচেতা মধ্যবিত্ত কৃষক (১৯৩০ ও ১৯৪০ এর ব্রিটিশ বিরোধী কংগ্রেস আন্দোলনের অগ্রগামী সৈনিক), মুসলিম জোতদার অধ্যুষিত রংপুর, দিনাজপুর এবং যশোর, খুলনা উপ-অঞ্চলের মুসলমান নিম্ন কৃষকসহ মুসলিম লীগের ‘ইসলামি’ এবং ‘সোনার পাকিস্তানের’ অধীনে আমূল অর্থনৈতিক সংস্কার ও ’‘বিপন্ন ইসলামের’ নামে আবেদনের প্রলোভনে বশীভূত হয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে, উচ্চবর্ণ হিন্দু কংগ্রেস নেতারা অধিকাংশ নমঃশূদ্র কৃষককে নিজেদের দলে টানতে সক্ষম হয়। [তাজুল ইসলাম হাসমী]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;গ্রন্থপঞ্জি&#039;&#039;&#039;  Ranajit Guha, &#039;&#039;Elementary Aspects of Peasant Insurgency in Colonial India&#039;&#039;, Oxford, 1983; Loel S Migdal, Peasants, Politics, and Revolutio Pressures toward Political and Social Change in the Third World, Princeton, 1974; Sumit Sarkar, &#039;The Condition and Nature of Subaltern Militancy: Bengal from Swadeshi to Non-cooperation, c 1905-22&#039;, in R Guha (ed), Subaltern Studies III, Oxford, 1984; Taj I Hashmi, Pakistan as a Peasant Utopia, Boulder, 1992.&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Peasant Movements]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%AE%E0%A6%A6,_%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%A8&amp;diff=20016</id>
		<title>আহমদ, সুলতানউদ্দিন২</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%AE%E0%A6%A6,_%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%A8&amp;diff=20016"/>
		<updated>2015-04-17T16:39:46Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;আহমদ, সুলতানউদ্দিন২&#039;&#039;&#039; (১৯৩৫-১৯৭১)  প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার সরকারপাড়া গ্রামে ১৯৩৫ সালে তাঁর জন্ম। তিনি ১৯৫০ সালে চাঁদপুর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৫২ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আই.এসসি পাস করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি ঢাকা আহসানুল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে বি.এসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল) ডিগ্রি লাভ করেন। সুলতানউদ্দিন আহমদ ১৯৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহামা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে কারিগরি শিক্ষা বিষয়ে এম.এস ডিগ্রি লাভ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সুলতানউদ্দিন আহমদ ১৯৫৯ সালে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ইনস্ট্রাক্টর (সিভিল) হিসেবে শিক্ষাবিভাগে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি অধ্যক্ষ পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং ফরিদপুর টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। এই ইনস্টিটিউটে অধ্যক্ষ পদে কর্মরত থাকাকালে তিনি উচ্চতর শিক্ষা লাভের জন্য ১৯৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান। যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং ১৯৬৮ সালের মার্চ মাসে যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি সেখানে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল হানাদার পাকবাহিনীর একটি দল তাঁর যশোরস্থ বাসভবনে ঢুকে পরিবারের সকল তরুণ পুরুষ সদস্যসহ তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Ahmed, Sultanuddin2]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8,_%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A6%BE_%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A6_%E0%A6%87%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE&amp;diff=20015</id>
		<title>খান, আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8,_%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A6%BE_%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A6_%E0%A6%87%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE&amp;diff=20015"/>
		<updated>2015-04-17T16:38:58Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
[[Image:KhanAgaMohammadYahya.jpg|thumb|right|আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;খান, আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া&#039;&#039;&#039; (১৯১৭-১৯৮০)  পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট। পাঠান বংশোদ্ভূত আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান ১৯১৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পাঞ্জাবের চাকওয়ালে জন্মগ্রহণ করেন। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর তিনি সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন এবং দেরাদুনে ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমী থেকে ১৯৩৯ সালের ১৫ জুলাই কমিশন লাভ করেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় বালুচ রেজিমেন্টের চতুর্থ পদাতিক ডিভিশনের অফিসার হিসেবে তিনি ইরাক, ইতালি ও উত্তর আফ্রিকায় কর্মরত ছিলেন। ১৯৪৭ সালে তিনি কোয়েটায় ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান স্টাফ কলেজে ইনস্ট্রাক্টর ছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইয়াহিয়া খান ১৯৫১ সালে ব্রিগেডিয়ার পদে উন্নীত হন। তিনি ১৯৫১-৫২ সালে কাশ্মীরে যুদ্ধবিরতি সীমারেখায় নিয়োজিত ১০৫ ইন্ডিপেন্ডেন্ট ব্রিগেডের কমান্ডার ছিলেন। ১৯৫৪ সালে ডেপুটি চীফ অফ জেনারেল স্টাফ হিসেবে ইয়াহিয়া খান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট আইউব খান কর্তৃক গঠিত আর্মি প্ল্যানিং বোর্ডের প্রধান নিযুক্ত হন। ১৯৫৭ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ইয়াহিয়া খান আর্মি চীফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬২-১৯৬৫ সালে একটি পদাতিক বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন। ১৯৬৫ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া খান লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত হন এবং ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চীফ পদে নিয়োগ লাভ করেন। ১৯৬৬ সালের মার্চ মাসে তাকে আর্মি কমান্ডার-ইন-চীফ নিয়োগ করা হয়। ইয়াহিয়া খান তাঁর দু’জন সিনিয়র সহকর্মীকে ডিঙিয়ে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি প্রেসিডেন্ট আইউব খান কর্তৃক সিতারা-এ পাকিস্তান, হিলাল-এ জুরাত এবং হিলাল-এ পাকিস্তান রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত হন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রেসিডেন্ট আইউব খানের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে উদ্ভূত [[ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান|উনসত্তুরের গণঅভ্যুত্থান]]-এর মোকাবিলায় আইউব খান পাকিস্তানের উভয় অংশে প্রকট রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হন এবং ১৯৬৯ সালের ২৪ মার্চ সামরিক বাহিনীর প্রধান ইয়াহিয়া খানের নিকট রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন, সংবিধান স্থগিত করেন এবং জাতীয় ও প্রাদেশিক উভয় পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ক্ষমতা গ্রহণের পর ইয়াহিয়া খান দুটি প্রকট সমস্যার মুখোমুখি হন। এর একটি হলো, দুই দশকব্যাপী চলমান আন্তঃপ্রাদেশিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মতো সাংবিধানিক সমস্যা, আর অন্যটি হলো দীর্ঘ এগারো বছর ধরে এক ব্যক্তি শাসিত একটি দেশকে গণতান্ত্রিক দেশে রূপান্তর। ১৯৬৯ সালের ২৮ জুলাই জাতির উদ্দেশ্যে তাঁর প্রদত্ত ভাষণে ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানে সাংবিধানিক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশ্বাস দেন এবং পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রশমনের লক্ষ্যে তাঁর দৃঢ় সংকল্পের কথা ব্যক্ত করেন। এক্ষেত্রে তাঁর প্রথম বড় ধরনের পদক্ষেপ ছিল প্রতিরক্ষা বাহিনীতে বাঙালিদের কোটা দ্বিগুণ করা। তিনি এক ইউনিট প্রথা বিলোপ করে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রদেশগুলোকে ১৯৫৫ সাল পূর্ববর্তী ব্যবস্থায় ফিরিয়ে নেন এবং পূর্ণবয়স্কের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রত্যক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি প্যারিটি নীতি বাতিল করে আইন পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানীদের অধিকতর সুযোগদানের পদক্ষেপ নেন এবং আশাপোষণ করেন যে, আইন পরিষদে বর্ধিত অংশীদারিত্ব তাদের আঞ্চলিক বঞ্চনার ক্ষোভ কিছুটা হলেও লাঘব করবে। কিন্তু ইয়াহিয়া খানের ঘোষণা ও পদক্ষেপ আসলেই অনেক বিলম্বে আসে এবং এতে করে পাকিস্তানের দুই অঞ্চলের মধ্যকার রাজনৈতিক বিভেদ বরং আরও ঘনীভূত হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইয়াহিয়া খান অবশ্য এক বছরের মধ্যে নির্বাচনের সকল আনুষ্ঠানিকতা ও আয়োজন সম্পন্ন করেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে [[বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ|আওয়ামী লীগ]] (শেখ মুজিবুর রহমান-এর নেতৃত্বে) জাতীয় ও প্রাদেশিক উভয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাকিস্তান পিপলস পার্টির (জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন) অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। কিন্তু ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগের হাতে কেন্দ্রীয় শাসন ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। তিনি ইতোমধ্যে আহূত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ১৯৭১ সালের ১ মার্চ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। এর প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইয়াহিয়া খান ঢাকায় এসে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনায় মিলিত হন (১৬-২৪ মার্চ)। কিন্তু ইয়াহিয়া খান কোনো সমঝোতায় উপনীত হতে ব্যর্থ হন এবং পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক বিক্ষোভ দমনের জন্য সামরিক বাহিনীকে নিয়োজিত করেন। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে সামরিক বাহিনী ব্যাপক গণহত্যা শুরু করে। এরই পরিণতিতে শুরু হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং নয় মাস যুদ্ধের পর অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পরাজয়ের দায় অনেকটাই ইয়াহিয়া খানের উপর চাপানো হয়। পশ্চিম পাকিস্তানে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভের ফলে ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য হন এবং ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর জুলফিকার আলী ভুট্টোর নিকট রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এর স্বল্পকাল পরেই নতুন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো তাঁর পূর্বসুরীকে গৃহবন্দী করেন। ইয়াহিয়া খান ১৯৮০ সালের ১০ আগস্ট রাওয়ালপিন্ডিতে মৃত্যুবরণ করেন।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Khan, Aga Mohammad Yahya]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B9_%E0%A6%B2%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%B9&amp;diff=20014</id>
		<title>শাহ লঙ্গরের দরগাহ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B9_%E0%A6%B2%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%B9&amp;diff=20014"/>
		<updated>2015-04-17T16:38:53Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;শাহ লঙ্গরের দরগাহ&#039;&#039;&#039;  নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার মুয়াজ্জমপুর (মহজমপুর) গ্রামে মুয়াজ্জমপুর শাহী মসজিদের দেয়ালঘেরা প্রাঙ্গণে অবস্থিত। প্রাঙ্গণের দক্ষিণ অংশে উন্মুক্ত দেয়াল বেষ্টনীর অভ্যন্তরে রয়েছে শাহ লঙ্গরের সমাধি। মসজিদ প্রাঙ্গণের প্রবেশপথের ডান পাশে শাহ লঙ্গরের সমাধির সন্নিকটে রয়েছে একটি পুরনো কূপ। কূপটি অদ্যপি ছেদ-কুয়া (ভূগর্ভস্থ নালা বিশিষ্ট কূপ) নামে অভিহিত। লোকশ্রুতি আছে যে, এককালে ভূগর্ভস্থ একটি নালার মাধ্যমে মেঘনা, ধলেশ্বরী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সংগমস্থলের সঙ্গে কূপটির একটি সংযোগ ছিল। কথিত আছে, একসময় কোনো এক লোক ঘটনাচক্রে কূপের মধ্যে পড়ে যায়, এবং পরে তার মৃতদেহ তিন নদীর সংগমস্থলে পানিতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। শাহ লঙ্গরের সমাধি সন্নিহিত দক্ষিণদিকে একটি গোরস্থান রয়েছে। এই গোরস্থানে অজ্ঞাত পরিচয় কিছু লোকের কবরের সঙ্গে রয়েছে শাহ লঙ্গরের স্ত্রীর সমাধি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
শাহ লঙ্গরের সমাধিতে সমাহিত দরবেশের কোনো পরিচয় জানা যায় নি। স্থানীয় লোকেরা তাঁকে শাহ আলম শাহ নামেও অভিহিত করে। সম্ভবত চৌদ্দ শতকের শেষ অথবা পনের শতকের প্রথম দিকে তাঁর আবির্ভাব ঘটে। প্রতি বছর বাংলা মাঘ মাসে চান্দ্র মাসের ১১ তারিখে দরগাহ প্রাঙ্গণে উরস অনুষ্ঠিত হয়। এই উরস সচরাচর সাত দিন পর্যন্ত চলে। এরূপ লোকশ্রুতি আছে যে, এককালে উরসের সময় রাতের বেলায় দলে দলে কুমির এসে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের তীরে ভীড় জমাত।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Shah Langar’s Dargah]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Shah Langar’s Dargah]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Shah Langar’s Dargah]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B0_%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%80&amp;diff=20013</id>
		<title>বাহাদুর গাজী</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B0_%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%80&amp;diff=20013"/>
		<updated>2015-04-17T16:38:36Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;বাহাদুর গাজী&#039;&#039;&#039;  ভাওয়ালের জমিদার এবং বাংলার বিখ্যাত বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম। তিনি চৌরার গাজী বংশোদ্ভুত। গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জের মাইল খানেক উত্তরে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত চৌরায় এ পরিবার প্রথম বসতি স্থাপন করে। বাহাদুর গাজী ছিলেন বিখ্যাত ভূঁইয়া ফজল গাজীর পুত্র ও উত্তরাধিকারী। এ বংশের আদি পুরুষ পাহলোয়ান শাহ ইসলাম প্রচারের লক্ষ্যে ভাওয়াল এলাকায় আসেন এবং চৌদ্দ শতকের গোড়ার দিকে এখানে বসতি স্থাপন করেন। পাহলোয়ান শাহের পুত্র কারফর্মা সাহেবও ছিলেন একজন দরবেশ প্রকৃতির লোক। তিনি দিল্লির সুলতানের নিকট থেকে এক সনদের মাধ্যমে ভাওয়াল পরগণার জায়গির লাভ করেন। বাহাদুর গাজী ছিলেন পাহলোয়ান শাহের অধস্তন নবম পুরুষ।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বাহাদুর গাজী সম্রাট আকবরের সময় দিল্লির রাজদরবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র রক্ষা করতেন। বাহাদুর গাজী সম্রাটের প্রতি তাঁর আনুগত্যের স্মারক হিসেবে ৪৮,৩৭৯ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩৫টি রণতরী উপঢৌকন হিসেবে দিল্লিতে প্রেরণ করেন। একটি রাজকীয় সনদের সাক্ষ্যমতে, সম্রাট আকবর বাহাদুর গাজীকে ভাওয়ালের জমিদারীতে বহাল রাখেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বাহাদুর গাজী ছিলেন [[মুসা খান মসনদ-ই-আলা|মুসা খান]] মসনদ-ই-আলার ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি তাঁর বিপুলসংখ্যক রণতরী নিয়ে মুগলদের বিরুদ্ধে মুসা খানের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং মুসা খানের চূড়ান্ত পরাজয়ের (১৬১১ খ্রি.) পরেই কেবল মুগলের বশ্যতা স্বীকার করেন। মুগলদের বিরুদ্ধে মুসা খানের শেষ যুদ্ধে বাহাদুর গাজীকে ২০০ রণতরীসহ চৌরায় মোতায়েন করা হয়েছিল। মুগল সেনাপতি আবদুল ওয়াহিদের নিকট পরাজয়ের পর বাহাদুর গাজী মুগল সেনাপতির সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর গিয়ে সুবাহদার ইসলাম খানের নিকট আনুগত্য প্রকাশ করেন। সুবাহদার বাহাদুর গাজীকে সসম্মানে গ্রহণ করেন, তাঁকে তাঁর জমিদারিতে বহাল রাখেন। কিন্তু তাঁর সব রণতরী বাজেয়াপ্ত করে রাজকীয় নৌবহরের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সামন্ত জমিদার হিসেবে তিনি মুগলদের বিভিন্ন সামরিক অভিযানে অংশ নেন এবং যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে (১৬১১-১২) ও মুগলদের কামরূপ অভিযানে (১৬১৩) সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আফগান নেতা খাজা উসমানের সহযোগিতায় হাসানপুরের মুগল সেনা-ছাউনিতে নেতৃস্থানীয় মনসবদারদের বন্দি বা হত্যা করা এবং ঢাকায় সুবাহদার ইসলাম খানকে বন্দি করার এক গভীর ষড়যন্ত্র করেছিলেন বানিয়াচঙ্গের জমিদার [[আনোয়ার খান|আনোয়ার খান]]। এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে বাহাদুর গাজী এবং মুসা খানের ভ্রাতা মাহমুদ খান সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। অচিরেই বাহাদুর গাজীর গোপন কার্যকলাপ প্রকাশ পায় এবং গোটা ষড়যন্ত্র বানচাল হয়ে যায়। বাহাদুর গাজীকে শৃঙ্খলিত করে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Bahadur Ghazi]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Bahadur Ghazi]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Bahadur Ghazi]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Bahadur Ghazi]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Bahadur Ghazi]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Bahadur Ghazi]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%81,_%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A7%8E%E0%A6%9A%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0&amp;diff=20012</id>
		<title>বসু, শরৎচন্দ্র</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%81,_%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A7%8E%E0%A6%9A%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0&amp;diff=20012"/>
		<updated>2015-04-17T16:38:01Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;সোহ্রাওয়ার্দী&amp;quot; to &amp;quot;সোহ্‌রাওয়ার্দী&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
[[Image:BoseSaratChandra.jpg|thumb|right|400px|শরৎচন্দ্র বসু]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;বসু, শরৎচন্দ্র&#039;&#039;&#039; (১৮৮৯-১৯৫০)  ব্যারিস্টার, জাতীয়তাবাদী রাজনীতিক, বঙ্গীয় আইন সভায় বিরোধী কংগ্রেস দলীয় নেতা ও [[ফরওয়ার্ড ব্লক|ফরোয়ার্ড ব্লক]] এর নেতা। জানকীনাথ বসুর পুত্র ও [[বসু, সুভাষচন্দ্র|সুভাষচন্দ্র বসু]]র বড় ভাই শরৎচন্দ্র বসু ১৮৮৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতায় স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করে তিনি ১৯১১ সালে ইংল্যান্ড যান। [[দাশ, চিত্তরঞ্জন|চিত্তরঞ্জন দাশ]] এর অনুপ্রেরণায় শরৎচন্দ্র বসু রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৩৬ সালে তিনি বেঙ্গল কংগ্রেসের সভাপতি হন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৩৬ থেকে ১৯৪৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ছিলেন। কেবিনেট মিশন পরিকল্পনা নিয়ে কংগ্রেসের ভূমিকা সম্পর্কিত ইস্যুতে তিনি ১৯৪৭ সালে তাঁর সদস্য পদ ত্যাগ করেন। একজন দেশপ্রেমিক বাঙালি হিসেবে শরৎচন্দ্র বসু বাংলা বিভাগের ঘোর বিরোধী ছিলেন। তিনি সমাজ ও ভাষার ভিত্তিতে গঠিত স্বশাসিত সমাজতান্ত্রিক রাজ্যের সমন্বয়ে একটি অখন্ড ভারত গঠনের পক্ষে ছিলেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী [[সোহ্‌রাওয়ার্দী, হোসেন শহীদ|হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী]]র সাথে তাঁর চিন্তাধারার যথেষ্ট মিল ছিল। সোহরাওয়ার্দীও এ সময় আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মিলিত স্বাধীন বাংলা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। উভয় নেতা পরবর্তী সময়ে একটি অখন্ড স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এক হয়ে কাজ করেন। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কিন্তু সাম্প্রদায়িক রূপরেখার ভিত্তিতে বাংলা ও পাঞ্জাবের বিভক্তি এবং ভারত বিভাগের অনুকূলে রাজনৈতিক অগ্রগতির ফলে সে স্বপ্ন অতিমাত্রায় ‘ইউটোপীয়’ হয়ে যায়। ১৯৫০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি শরৎচন্দ্র বসুর কলকাতায় মৃত্যু হয়।  [চিত্তরঞ্জন মিশ্র]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Bose, Sarat Chandra]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%B0_%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%80_%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%97&amp;diff=20011</id>
		<title>জাহাঙ্গীর কুলী বেগ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%B0_%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%80_%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%97&amp;diff=20011"/>
		<updated>2015-04-17T16:37:59Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:Banglapedia]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;জাহাঙ্গীর কুলী বেগ&#039;&#039;&#039;  বাংলায় কর্মরত মুগল সুবাহদার (১৬০৭-১৬০৮)। তাঁর প্রকৃত নাম লালা বেগ। পিতা নিযাম ছিলেন দিল্লির সম্রাট হুমায়ুনের রাজকীয় গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক। লালা বেগ একসময় কাবুলের শাসনকর্তা শাহজাদা মির্জা হাকিমের ব্যক্তিগত পরিচারক ছিলেন। পরে তিনি সম্রাট আকবরের অধীনে চাকরি গ্রহণ করেন। তাঁকে শাহজাদা সেলিমের ভৃত্যরূপে কাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এভাবেই তিনি জাহাঙ্গীর কুলী (অর্থাৎ জাহাঙ্গীরের ভৃত্য) নামে পরিচিত হন। স্বীয় যোগ্যতাবলে দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে তিনি দিল্লির রাজসভার আমীর পদে অভিষিক্ত হন এবং সাড়ে চার হাজারী মনসব লাভ করেন। বাংলার  [[সুবাহদার|সুবাহদার]] পদে নিয়োগ লাভের প্রাক্কালে তিনি বিহারের শাসনকর্তা ছিলেন। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বাংলার সুবাহদার হিসেবে তাঁর কার্যক্রম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা যায় না। অনেকটা বৃদ্ধ বয়সে তিনি বাংলায় আসেন। কিন্তু বাংলার উষ্ণ জলবায়ু তিনি মোটেও সহ্য করতে পারেন নি। ফলে অচিরেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সুবাহদার হিসেবে যোগদানের এক বছরের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Jahangir Quli Beg]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B6%E0%A6%AB%E0%A7%80,_%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A6&amp;diff=20010</id>
		<title>শফী, মুহাম্মদ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B6%E0%A6%AB%E0%A7%80,_%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A6&amp;diff=20010"/>
		<updated>2015-04-17T16:37:33Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;শফী, মুহাম্মদ&#039;&#039;&#039; (১৯১৫-১৯৭১)  দন্ত চিকিৎসক, শহীদ বুদ্ধিজীবী। ১৯১৫ সালের ৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দিঘড়ে গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা সুফি আবদুল লতিফ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। তাঁর মা আয়েশা খাতুন। মুহাম্মদ শফী ১৯৩০ সালে হুগলি জেলা হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং ১৯৩২ সালে হাওড়া গভর্নমেন্ট কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। তিনি ১৯৩৬ সালে কলকাতা ডেন্টাল কলেজ থেকে দন্ত চিকিৎসায় ডিপ্লোমা এবং ১৯৪২ সালে কলিকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[Image:ShafiMuhammad.jpg|thumb|right|400px|মুহাম্মদ শফী]]&lt;br /&gt;
মুহাম্মদ শফী কলকাতার আর. আহমদ ডেন্টাল ল্যাবরেটরিতে সার্জন হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর তিনি কলিকাতা মেডিক্যাল কলেজে ডেন্টাল সার্জন পদে যোগ দেন। কলকাতার বৌবাজার স্ট্রিটে ছিল তাঁর নিজস্ব ক্লিনিক। ভারত বিভাগের পর মুহাম্মদ শফী ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গে চলে আসেন এবং চট্টগ্রামে স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলেন। তিনি এনায়েত বাজারের বাটালী রোডে তাঁর বাসভবনের নিচতলায় নিজস্ব ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ডাঃ শফী রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় চট্টগ্রাম রেডিও স্টেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। এনায়েত বাজারে তাঁর বাসভবনেই উদ্বোধন হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে তাঁর কার্যক্রম এবং তাঁর পারিবারিক বলয়ে সংস্কৃতি চর্চার বিকাশের ফলে মুহাম্মদ শফী চট্টগ্রামে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। অন্যদিকে তিনি হয়ে উঠেন অবাঙালিদের বিরাগভাজন। ১৯৭১ সালের ৭ এপ্রিল সকালবেলা কয়েকজন পাকসেনা তাঁর বাড়ি থেকে তাঁকে একটি জিপে তুলে সার্কিট হাউজে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে তখন উপস্থিত ছিলেন ডাঃ শফীর এক সময়ের রুগী এবং পাক বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার মির্যা আসলাম বেগ। ব্রিগেডিয়ারের নির্দেশে তখন তাঁকে ছেড়ে দেয়া হয়।কিন্তু মুক্তিলাভের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অপর এক সেনাদল তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মেজর বোখারীর নেতৃত্বে কয়েকজন সশস্ত্র সৈনিক তাঁর বাড়িতে ঢোকে। মেজর তখন এক প্রস্ত কাগজ থেকে মুহাম্মদ শফীর বিরুদ্ধে আনীত ১১ দফা গুরুতর অভিযোগ পড়ে শোনান। অভিযোগগুলো সম্ভবত এলাকার অবাঙালিদের আনীত। সঙ্গে সঙ্গে মেজর বোখারী কয়েকজন সৈনিকসহ দ্রুত বাড়ির উপর তলায় উঠে যান। সেখানে একটি কক্ষের দরজার তালা ভেঙে উদ্ধার করেন অস্ত্র ও গুলিভর্তি কয়েকটি বাক্স। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিতরণের জন্য এসব অস্ত্র ওই কক্ষে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। মুহাম্মদ শফী ও তাঁর শ্যালক খোন্দকার এহসানুল হককে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। কড়া পাহাড়া বসানো হয় ডাঃ শফীর বাড়িতে। মুহাম্মদ শফী ও এহসানুল হককে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা যায়, কিন্তু তাদের মৃতদেহের কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ডাঃ শফীর স্ত্রী মুশতারী শফী তার তিন পুত্র ও চার কন্যাসহ ওই রাতেই গোপনে পালিয়ে মিরের সরাই চলে যান এবং পরে সেখান থেকে আগরতলা পৌঁছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মুহাম্মদ শফী ছিলেন প্রগতিশীল ও রাম রাজনীতির প্রতি অনুরাগী। চট্টগ্রাম কারাগারে রাজনৈতিক বন্দিদের চিকিৎসার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন মুহাম্মদ শফী। এই সুবাদে তিনি কারাগারে এবং প্রায়শ তাঁর ক্লিনিকে নামকরা বামপন্থী রাজনৈতিক নেতাদের সংস্পর্শে আসেন। নিজে একজন লেখক, চিত্রকর, সঙ্গীতজ্ঞ এবং একসময় আকাশবানী কলকাতার তালিকাভুক্ত শিল্পী মুহাম্মদ শফী চট্টগ্রামে সাহিত্য চর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে উদার পৃষ্ঠপোষকতা দান করেন। তাঁর বাড়িটি ছিল নামকরা সাহিত্যিক ও শিল্পীদের মিলনক্ষেত্র। তিনি ছিলেন মহিলাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বান্ধবী সংঘের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, তাঁর স্ত্রী মুশতারী শফী সম্পাদিত মহিলাদের বাংলা মাসিকপত্র বান্ধবী’র প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তিনি চট্টগ্রামের দুটি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘প্রান্তিক’ ও ‘জাগৃতি’র প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মুহাম্মদ শফী ছিলেন সব্যসাচী লেখক। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: জনসংখ্যা ও সম্পদ, প্রেম ও বিবাহের সম্পর্ক, চরিত্র হানির তাৎপর্য, নয়া গণতন্ত্র এবং অনুবাদ গ্রন্থ চিকিৎসা বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস, ঐতিহাসিক বসুতবাদ, শান্তি না শক্তি, হুনানের কৃষক আন্দোলন, জনযুদ্ধের বিজয় দীর্ঘজীবী হোক।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তাঁর রচিত জনসংখ্যা ও সম্পদ গ্রন্থের সৌকর্যের জন্য মুহাম্মদ শফী ১৯৬৪ সালে ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বাংলাদেশ সরকারের ডাকবিভাগ জাতির জন্য তাঁর আত্মদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মুহাম্মদ শফীর নামে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Shafi, Muhammad]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Shafi, Muhammad]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Shafi, Muhammad]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A6_%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC&amp;diff=20009</id>
		<title>চাঁদ রায়</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A6_%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC&amp;diff=20009"/>
		<updated>2015-04-17T16:37:04Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;চাঁদ রায়&#039;&#039;&#039;  বিক্রমপুরের একজন জমিদার। তিনি পনেরো শতকের গোড়ার দিকে কর্নাট থেকে বিক্রমপুরের আরা ফুলবাড়িয়ায় এসে বসতি স্থাপনকারী জনৈক নিম রায়ের বংশধর বলে কথিত। নিম রায় ছিলেন কায়স্থ হিন্দু। সম্ভবত তিনিই ছিলেন এ বংশের প্রথম ভূঁইয়া এবং পুরুষানুক্রমে ‘ভূইয়া’ উপাধি ধারণের সপক্ষে তৎকালীন শাসকের মঞ্জুরিও তিনি লাভ করেছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
জনশ্রুতি ও পৌরাণিক লোককাহিনী চাঁদ রায়ের পরিচয়কে বিতর্কিত করে তুলেছে। শ্রীপুরের জমিদারীতে তাঁর অবস্থান অস্পষ্ট। তাঁকে বিক্রমপুরের জমিদাররূপে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ধারণা করা হয় তাঁর রাজধানী ছিল শ্রীপুর। অথচ প্রায়শ কেদার রায়কে তুলে ধরা হয়েছে জমিদারীর যৌথ-প্রশাসক হিসেবে। জমিদার হিসেবে তাঁর কার্যকাল এবং তাঁর উত্তরাধিকারী কেদার রায়ের কার্যকালের বিস্তৃতি সম্পূর্ণ অস্পষ্ট। আবার কেউ কেউ বলেন, চাঁদ রায় কেদার রায়ের পিতা, পিতৃব্য, কেউ বলেন ভ্রাতা, আবার কেউ তাঁকে শনাক্ত করেছেন কেদার রায়ের পুত্র রূপে। সম্ভবত তিনি যাদব রায়ের পুত্র এবং কেদার রায়ের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
চাঁদ রায় মুগল বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে এবং আরাকানিদের ঝটিকা আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বীরত্বের পরিচয় দেন। ১৫৯৩ খ্রিস্টাব্দে চাঁদ রায় ও কেদার রায় আফগান নেতা খাজা সুলায়মান লোহানীর সহযোগিতায় মুগল অধিকৃত ভূষণা দুর্গ দখল করেন। দুর্গ অবরোধকালে প্রথম পর্যায়ের সংঘর্ষেই চাঁদ রায় নিহত হন।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Chand Rai]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AB%E0%A6%9C%E0%A6%B2_%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%80&amp;diff=20008</id>
		<title>ফজল গাজী</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AB%E0%A6%9C%E0%A6%B2_%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%80&amp;diff=20008"/>
		<updated>2015-04-17T16:36:46Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;ফজল গাজী&#039;&#039;&#039; ভাওয়ালের জমিদার এবং বাংলার বিখ্যাত বারো ভূইয়াদের একজন। তিনি চৌরার গাজী বংশোদ্ভূত। গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জের দুই কিলোমিটার উত্তরে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত চৌরায় এ পরিবার প্রথম বসতি স্থাপন করে। এ বংশের আদি পুরুষ পাহলোয়ান শাহ ইসলাম প্রচারের লক্ষ্যে ভাওয়াল এলাকায় আসেন এবং  চৌদ্দ শতকের গোড়ার দিকে এখানে বসতি স্থাপন করেন। পাহলোয়ান শাহের পুত্র কারফর্মা ছিলেন একজন দরবেশ প্রকৃতির লোক। তিনি দিল্লির সুলতানের নিকট থেকে এক সনদের মাধ্যমে ভাওয়াল পরগনার জায়গির লাভ করেন। ফজল গাজী ছিলেন পাহলোয়ান শাহের অধস্তন অষ্টম পুরুষ।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ফজল গাজী ছিলেন খুবই প্রতাবশালী এবং গাজী বংশের জমিদারদের মধ্যে সর্বাধিক সুবিদিত। তাঁর একটি স্থায়ী স্থল বাহিনী এবং বিপুল সংখ্যক রণতরী সম্বলিত শক্তিশালী নৌবহর ছিল। ফজল গাজী দিল্লির সম্রাট শেরশাহের (১৫৪০-১৫৪৫) সঙ্গে কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তিনি ১৫৪২ খ্রিস্টাব্দে (৯৪৫ হি.) শেরশাহের নিকট বহুমূল্য উপঢৌকন পাঠান। সেই উপঢৌকনের অন্তর্ভুক্ত একটি কামান এখন ঢাকা জাদুঘরে রক্ষিত আছে। সোনারগাঁয়ের দেওয়ানবাগে মাটির তলা থেকে উদ্ধারকৃত সাতটি কামানের অন্যতম এটি। কামানটির গায়ে শেরশাহের নামের সঙ্গে খোদিত আছে : ‘আয্ ফজল গাজী’ (ফজল গাজী থেকে প্রাপ্ত)। ভাটির শাসক [[ঈসা খান|ঈসা খান]] মসনদ-ই-আলার সঙ্গে ফজল গাজীর প্রগাঢ় মিত্রতা ছিল। বাংলায় আগত আফগানদের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল বলেও শোনা যায়। সম্রাট আকবরের বাহিনীর বাংলায় প্রথম অভিযানকালে (১৫৭৪) ফজল গাজী ভাওয়ালের [[জমিদার|জমিদার]] ছিলেন। তিনি মুগল বাহিনীর সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছিলেন কিনা তা জানা যায় নি, তবে তাঁর পুত্র বাহাদুর গাজী ভাটির শাসক মুসা খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে স্বীয় নৌবহর নিয়ে মুগলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তাঁর রাজ্য চাঁদ প্রতাপ (চাঁদ গাজী), তালিপাবাদ (তালা গাজী) ও ভাওয়াল (বড় গাজী) এ তিনটি পরগনায় বিস্তৃত ছিল। তাঁর জমিদারিতে অনেক অধীনস্থ তালুকদার ছিলেন যারা তাঁর কোষাগারে রাজস্ব জমা দিতেন। ফজল গাজী দীর্ঘকাল শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন বলে ধারনা করা হয়। সম্ভবত ১৫৮৮ খ্রিস্টাব্দে  ফজল গাজীর মৃত্যু হয়।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Fazl Ghazi]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Fazl Ghazi]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Fazl Ghazi]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Fazl Ghazi]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%A8,_%E0%A6%A8%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%B2&amp;diff=20007</id>
		<title>আমীন, নূরুল</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%A8,_%E0%A6%A8%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%B2&amp;diff=20007"/>
		<updated>2015-04-17T16:36:21Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;আমীন, নূরুল&#039;&#039;&#039; (১৮৯৩-১৯৭৪)  আইনজীবী, রাজনীতিক ও পূর্ববাংলার মূখ্যমন্ত্রী। নূরুল আমীন ১৮৯৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার শাহবাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার বাহাদুরপুরে। তিনি বাহাদুরপুর এম.ই স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন এবং ১৯১৫ সালে ময়মনসিংহ জেলাস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজ থেকে ১৯১৭ সালে আই.এ এবং ১৯১৯ সালে বি.এ পাস করেন। অতঃপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এল ডিগ্রি লাভের পর তিনি ১৯২৪ সালে ময়মনসিংহ জজকোর্টে আইনব্যবসা শুরু করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[Image:AminNurul.jpg|thumb|400px|right|নূরুল আমীন]]&lt;br /&gt;
ময়মনসিংহ লোক্যাল বোর্ডের সদস্য (১৯২৯) হিসেবে নূরুল আমীনের গণপ্রতিনিধিত্বমূলক জীবনের সূচনা হয়। পরে তিনি ময়মনসিংহ জেলা বোর্ডের সদস্য (১৯৩০) ও ময়মনসিংহ পৌরসভার কমিশনার (১৯৩২) নির্বাচিত হন এবং ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। দীর্ঘকাল তিনি মুসলিম লীগের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন এবং ১৯৪৪ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। নূরুল আমীন ১৯৪৬ সালে বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য এবং অতঃপর আইনসভার স্পিকার নির্বাচিত হন। পাকিস্তান আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তিনি খাজা নাজিমুদ্দীনের প্রাদেশিক মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন। নূরুল আমীন ১৯৪৮ সালে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন এবং পাঁচ বছর এ পদে বহাল ছিলেন। তিনি বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের বিরোধিতা করেন এবং তাঁরই সময়ে ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্রজনতার মিছিলের উপর পুলিশের গুলিবর্ষণে চারজন শহীদ হন। ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে তিনি যুক্তফ্রন্ট প্রার্থীর নিকট পরাজিত হন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
নূরুল আমীন ১৯৬২ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে গঠিত ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টে (এন.ডি.এফ) যোগ দেন এবং আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসন বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর ১৯৬৪ সালে তিনি ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে নূরুল আমীন জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি পরিষদে সম্মিলিত বিরোধী সংসদীয় দলের নেতা ছিলেন (১৯৬৫-৬৯)। ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট, জামায়াতে-ইসলামী, নেজামে ইসলাম, কাউন্সিল মুসলিম লীগ ও আওয়ামী লীগ (৮-দফা পন্থী) সমন্বয়ে ১৯৬৭ সালে গঠিত রাজনৈতিক মোর্চা পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (পি.ডি.এম) তিনি চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৬৯ সালে ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটি (ডাক) গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ফোরামের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যকার রাজনৈতিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান কর্তৃক রাওয়ালপিন্ডিতে আহূত গোলটেবিল বৈঠকে (১৯৬৯) তিনি এনডিএফ-এর প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং এ দলের সভাপতি হন। ১৯৭০ সালে তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয়দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে সংগঠিত বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের বিরোধী ছিলেন নূরুল আমীন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা এবং পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের প্রাক্কালে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থান করছিলেন এবং স্বাধীনতার পরপরই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পাকিস্তানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। নূরুল আমীন ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন এবং ১৯৭৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৭৪ সালের ২ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডিতে তাঁর মৃত্যু হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Amin, Nurul]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%96%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%A4_%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%A8&amp;diff=20006</id>
		<title>খিলাফত আন্দোলন</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%96%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%A4_%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%A8&amp;diff=20006"/>
		<updated>2015-04-17T16:35:44Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;সোহ্রাওয়ার্দী&amp;quot; to &amp;quot;সোহ্‌রাওয়ার্দী&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;খিলাফত আন্দোলন&#039;&#039;&#039; (১৯১৯-১৯২৪)  ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন। ওসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ (১৮৭৬-১৯০৯) প্যান-ইসলামি কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। নিজ দেশে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন নির্মূল করার লক্ষ্যে এবং বিদেশি শক্তির আক্রমণ থেকে তাঁর ক্ষয়িষ্ণু সাম্রাজ্যকে রক্ষা করে বিশ্ব-মুসলিম সম্প্রদায়ের সুলতান-খলিফা’মর্যাদায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে তিনি এ আন্দোলনের সূচনা করেন। উনিশ শতকের শেষের দিকে তাঁর দূত জামালউদ্দীন আফগানি প্যান-ইসলামবাদ প্রচারের জন্য ভারত সফর করার পর এ মতবাদের প্রতি কিছু ভারতীয় মুসলমানের মধ্যে অনুকূল সাড়া জাগে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ রদ (১৯১১), তুরস্কের ওপর ইতালীয় (১৯১১) ও বলকান আক্রমণ (১৯১১-১৯১২) এবং তুরস্কের বিপক্ষে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে (১৯১৪-১৮) গ্রেট ব্রিটেনের অংশগ্রহণের ফলে বিশ শতকের শুরুতে প্যান-ইসলামি আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের পরাজয় এবং সেভার্স চুক্তির (আগস্ট ১০, ১৯২০) অধীনে তুরস্কের ভূখন্ড ইউরোপীয় শক্তিগুলির মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হওয়ায় ইসলামের পবিত্র স্থানসমূহের ওপর খলিফার অভিভাবকত্ব নিয়ে ভারতে আশংকা দেখা দেয়। এ কারণে তুর্কি খিলাফত রক্ষা এবং গ্রেট ব্রিটেন ও ইউরোপীয় শক্তিগুলির তুরস্ক সাম্রাজ্যকে বাঁচানোর জন্য ১৯১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি গোঁড়া সাম্প্রদায়িক আন্দোলন হিসেবে খিলাফত আন্দোলন শুরু হয়। আলী ভ্রাতৃদ্বয় মুহম্মদ আলী ও শওকত আলী,  [[আজাদ, মওলানা আবুল কালাম|আবুল কালাম আজাদ]], ড. এম.এ আনসারী ও হসরত মোহানীর নেতৃত্বে এ আন্দোলন সূচিত হয়। উত্তর ভারতের বেশ কয়েকটি শহরে খিলাফত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রাদেশিক শাখার বিধানসহ বোম্বাই শহরে একটি কেন্দ্রীয় খিলাফত কমিটি গঠিত হয়। শেঠ ছোটানী নামীয় এক ধনী ব্যবসায়ীকে এ কমিটির সভাপতি ও মওলানা শওকত আলীকে সম্পাদক করা হয়। ১৯২০ সালে আলী ভ্রাতৃদ্বয় খিলাফত ইশতেহার ঘোষণা করেন। কেন্দ্রীয় খিলাফত কমিটি তুরস্কে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে সহায়তা দান এবং দেশে খিলাফত আন্দোলন সংগঠিত করার জন্য একটি তহবিল গঠন করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এসময়ে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ১৯১৯ সালের এপ্রিলে সংঘটিত জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড এবং ১৯১৯ সালের রাওলাট অ্যাক্টকে সরকারি নির্যাতনের প্রমাণরূপে চিহ্নিত করে এর প্রতিবাদে অহিংস জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ‘সত্যাগ্রহ’ শুরু করেন। তাঁর আন্দোলনের প্রতি মুসলমানদের সমর্থন নিশ্চিত করার জন্য গান্ধী খিলাফত আন্দোলনকে সমর্থন করেন এবং কেন্দ্রীয় খিলাফত কমিটির সদস্য হন। সর্ব ভারতীয় কংগ্রেসের নাগপুর সম্মেলনে (১৯২০) গান্ধী ‘স্বরাজ’ কর্মসূচিকে খিলাফত আন্দোলনের দাবির সঙ্গে যুক্ত করেন এবং উভয় লক্ষ্য অর্জনের জন্য অসহযোগ পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে খিলাফত আন্দোলনের প্রতি গান্ধীর সমর্থনের বিনিময়ে খিলাফত নেতৃবৃন্দ গান্ধীর অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। এভাবে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায় একটি সম্মিলিত ফ্রন্ট গড়ে তোলে। জামিয়াতুল উলামা-ই-হিন্দের মাধ্যমে মুসলিম ধর্মতত্ত্ববিদদের সমর্থনও পাওয়া যায়। কেন্দ্রীয় নির্বাহি ও সাংবিধানিক কমিটিতে বাংলার [[খাঁ, মোহাম্মদ আকরম|মওলানা  ]][[খাঁ, মোহাম্মদ আকরম|আকরম খাঁ]] একজন সদস্য ছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অবশ্য কিছু বড় ধরনের ঘটনা এ আন্দোলনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অহিংস উদ্দেশ্য সাধনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। এসব ঘটনার মধ্যে ছিল ১৯২০ সালে ১৮ হাজার মুসলিম কৃষকের হিজরত, এদের অধিকাংশই ছিল সিন্ধু ও উত্তর পশ্চিম প্রদেশসমূহের অধিবাসী; ভারতকে ‘দারুল হারব’ বিবেচনা করে এ নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে বাড়াবাড়ি; ১৯২১ সালে দক্ষিণ ভারতে মোপলা বিদ্রোহ; ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মধ্য প্রদেশের চৌরি-চৌরাতে উচ্ছৃঙখল জনতা একটি থানাতে আগুন দিলে ২২ জন পুলিশের মৃত্যু। এর পরপরই গান্ধী [[অসহযোগ আন্দোলন|অসহযোগ আন্দোলন]] প্রত্যাহার করেন। খিলাফত আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এ পদক্ষেপকে বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
শেষ পর্যন্ত তুর্কিদের কাছ থেকেই আসে [[খিলাফত|খিলাফত]] নেতৃবৃন্দের বহিরানুগত্যের প্রতি চরমতম আঘাত। তুর্কি জাতীয়তাবাদী নেতা মোস্তফা কামালের চমকপ্রদ সেক্যুলার রেনেসাঁ, হানাদার গ্রিক বাহিনীর ওপর তাঁর বিজয় এবং পরিণামে ১৯২২ সালের নভেম্বর মাসে সালতানাতের বিলুপ্তি ও ১৯২৩ সালের অক্টোবর মাসে তুরস্কের প্রজাতন্ত্রে রূপান্তর, ১৯২৪ সালের মার্চ মাসে খিলাফতের বিলুপ্তি ঘটায় খিলাফতীদের মোহভঙ্গ হয়। এরপর প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্বহীন অবস্থায় ১৯২৪ সালে খিলাফত আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের একাদশতম অধিবেশনে সর্বপ্রথম খেলাফত আন্দোলনের উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বাংলা থেকে আগত [[হক, এ.কে ফজলুল|এ]][[হক, এ.কে ফজলুল|.কে ফজলুল হক]] সভাপতির ভাষণে পরাজিত ওসমানীয় সাম্রাজ্যের ভূখন্ড ভাগবাটোয়ারা করার জন্য ব্রিটেন ও তার মিত্রশক্তিগুলি যে মনোভাব গ্রহণ করে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্যারিস শান্তি সম্মেলনে (১৯১৯) এ সম্ভাবনা ও উদ্বেগ অনুমোদন লাভ করলে বাঙালি খিলাফত নেতৃবৃন্দ মওলানা আকরম খাঁ, আবুল কাশেম, মুজিবুর রহমান খান কলকাতায় ১৯১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারিতে এক জনসভার আয়োজন করেন। ওসমানীয় সাম্রাজ্যের অখন্ডতা এবং খিলাফতকে রক্ষা করার সপক্ষে জন সমর্থন আদায় করাই ছিল এর লক্ষ্য।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বাংলায় খিলাফত-অসহযোগ আন্দোলন (১৯১৮-১৯২৪) একটি গণআন্দোলনে পরিণত হয় এবং এতে হিন্দু ও মুসলমানরা অংশ নেয়। কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক নেতৃবৃন্দের সমন্বিত পদক্ষেপের কারণে বাংলায় আন্দোলন প্রসার লাভ করে। গ্রাম বাংলায় খিলাফত মতাদর্শ প্রচার করেন মওলানা আবুল কালাম আজাদ। প্রাথমিক পর্যায়ে এ আন্দোলনকে জনপ্রিয় করে তোলেন বাঙালি নেতৃবৃন্দ মওলানা আকরম খাঁ, [[ইসলামাবাদী, মওলানা মনিরুজ্জামান|মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী]], মুজিবুর রহমান খান, [[কাফী, মুহম্মদ আবদুল্লাহ-হিল|মুহজ্ঞঞ্ছদ আবদুত্মদ্দাহ]][[কাফী, মুহম্মদ আবদুল্লাহ-হিল|-]][[কাফী, মুহম্মদ আবদুল্লাহ-হিল|হিল ]][[কাফী, মুহম্মদ আবদুল্লাহ-হিল|কাফী]], [[বাকী, মুহম্মদ আবদুল্লাহিল|মুহম্মদ আবদুল্লাহিল বাকী]], [[সিরাজী, ইসমাইল হোসেন|ইসমাইল হোসেন সিরাজী]], আবুল কাশেম ও এ.কে ফজলুল হক। মওলানা আকরম খাঁ ও মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী বাংলা সফর করেন এবং বিশেষভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে খিলাফত সভা সংগঠিত করেন। ‘অসহযোগিতা ও আমাদের কর্তব্য’ শীর্ষক নিবন্ধে মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ঘোষণা করেন যে, খিলাফত রক্ষা করা ও স্বরাজ অর্জন করা আমাদের আন্দোলনের দু’টি উদ্দেশ্য এবং এ আন্দোলনকে সমর্থন করা প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের পবিত্র কর্তব্য।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯১৯ সালের ১৭ অক্টোবর প্রথম খিলাফত দিবস পালনের সময় কলকাতার অধিকাংশ ভারতীয় মালিকানাধীন দোকানপাট বন্ধ থাকে, বিভিন্ন মসজিদে প্রার্থনা করা হয় এবং সারা বাংলায় জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯১৯ সালের ২৩-২৪ নভেম্বর দিল্লিতে বাংলা থেকে আগত এ.কে ফজলুল হকের সভাপতিত্বে নিখিল ভারত খিলাফত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। খিলাফত সমস্যা ঝুলিয়ে রাখায় প্রস্তাবিত শান্তি সম্মেলনে অংশ না নেওয়া, ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করা এবং সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতার নীতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯২০ সালের প্রথম দিকে বঙ্গীয় প্রাদেশিক খিলাফত কমিটি গঠিত হয়। মওলানা আবদুর রউফকে কমিটির সভাপতি, মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীকে সহসভাপতি, মওলানা আকরম খাঁকে সাধারণ সম্পাদক এবং মুজিবুর রহমান ও মজিদ বখশকে যুগ্ম সম্পাদক করা হয়। কলকাতার কলুটোলা স্ট্রীটের হিরণবাড়ি লেনে সংগঠনের কার্যালয় স্থাপিত হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯২০ সালের ২৮-২৯ ফেব্রুয়ারি [[কলকাতা টাউন হল|কলকাতা টাউন হল]]এ প্রথম বঙ্গীয় প্রাদেশিক খিলাফত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় খিলাফত কমিটির কয়েকজন নেতৃত্বস্থানীয় নেতা এ সম্মেলনে যোগ দেন। সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট বাঙালি খিলাফত নেতৃবৃন্দ এ.কে ফজলুল হক, আবুল কাশেম, মুজিবুর রহমান ও অন্যান্যরা খিলাফত সমস্যা সম্পর্কিত দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অসহযোগ ও বয়কট অব্যাহত রাখার কর্মসূচি পুনর্ব্যক্ত করেন। সম্মেলনে ১৯২০ সালের ১৯ মার্চ দ্বিতীয় খিলাফত দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯২০ সালের মার্চ মাসে খিলাফত প্রশ্নে আলোচনার জন্য মওলানা মুহম্মদ আলীর নেতৃত্বে একটি খিলাফত প্রতিনিধি দল ইংল্যান্ড গমন করে। এ দলে আবুল কাশেম বাংলা থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন। স্থানীয় খিলাফত কমিটিও গঠিত হয়। কলকাতা খিলাফত কমিটিতে মওলানা আবুল কালাম আজাদ ও মৌলবি আবদুর রহমান যথাক্রমে সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর ঢাকার [[আহসান মঞ্জিল|আহসান মঞ্জিল]] এ ঢাকা কমিটি গঠিত হয়। কমিটির সভাপতি হন [[হাবিবুল্লাহ, খাজা|খাজা হাবিবুল্লাহ]], বিকল্প সভাপতি সৈয়দ আবদুল হাফিজ এবং সম্পাদক নির্বাচিত হন গোলাম কুদ্দুস। ঢাকা শহরের নাগরিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি ‘সদর খিলাফত কমিটি’ গঠিত হয়। খাজা সুলায়মান কাদের কমিটির সভাপতি, মওলানা আবদুল জব্বার আনসারী, হাফেজ আবদুর রাজ্জাক, হাফেজ আবদুল হাকিমকে সহ-সভাপতি এবং মৌলবি সামসুল হুদাকে সম্পাদক করা হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯২০ সালের ১৯ মার্চ বাংলায় দ্বিতীয় খিলাফত দিবস পালিত হয়। এ দিনে কলকাতার জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়ে এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে বহুসংখ্যক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সবচেয়ে বড় সভাটি অনুষ্ঠিত হয় টাঙ্গাইলে এবং এতে সভাপতিত্ব করেন উদার জাতীয়তাবাদী মুসলিম জমিদার আবদুল হালিম গজনবী। এ সভায় মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী খিলাফত আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে ‘সত্যাগ্রহ’ অনুশীলনের জন্য জনসাধারণের প্রতি আহবান জানান।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কংগ্রেস কমিটিগুলির পাশাপাশি বাংলার অধিকাংশ জেলায় বহুসংখ্যক খিলাফত কমিটি গড়ে ওঠে। এসব কমিটিতে প্রায়শ একই সদস্যের পুনঃ পুনঃ অন্তর্ভুক্তি দেখা যেত। এটা ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম গণ-আন্দোলন যেখানে হিন্দু মুসলমান সমান উদ্দীপনা নিয়ে অংশগ্রহণ করে। হিন্দু-মুসলিম সংবাদপত্রগুলি আন্দোলনে গণসমর্থন লাভের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব পত্রিকার মধ্যে মোহাম্মদী, আল-ইসলাম, ও দি মুসলমান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মওলানা আজাদ, আকরম খাঁ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, [[পাল, বিপিনচন্দ্র|বিপিনচন্দ্র পাল]] ও চিত্তরঞ্জন দাসের নেতৃত্বে খিলাফত আন্দোলন সারা বাংলায় একটি মুসলিম রাজনৈতিক চেতনাকে বিকশিত করে। খিলাফত আন্দোলন মূলত একটি গোঁড়াপন্থি আন্দোলন হলেও হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সমঝোতার ফলে মুসলমানদের মধ্যে উদার মনোভাবের সৃষ্টি করে। কলকাতার কর্মসূচির অনুসরণে বিদেশি পণ্য বর্জন, আদালত ও সরকারি অফিস বয়কট কার্যক্রম জোরদার করার উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দানের জন্য গ্রামবাংলায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তোলা হয়। এসব স্বেচ্ছাসেবকদের চরকায় সুতা কাটা, দেশিয় দ্রব্যাদি জনপ্রিয় করে তোলা এবং খিলাফত আন্দোলনের অনুদান সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত করা হয়। ঢাকার কিছু কিছু এলাকায় মুসলিম জমিদারগণ নিজেদের তুর্কি সুলতানের প্রতিনিধি ঘোষণা করে মুসলিম প্রজাদের কাছ থেকে ‘খিলাফত সালামী’ আদায় করেন। জমিদারগণ খিলাফত অবলুপ্তির বহুকাল পরেও প্রজাদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে এ সালামী আদায় অব্যাহত রাখে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আন্দোলনের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে বাংলা সরকার ১৯২১ সালের ১৯ নভেম্বর একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে খিলাফত ও কংগ্রেস স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা করে। সরকারি কর্মকর্তারা খিলাফত অফিসসমূহে হানা দিয়ে দলিল দস্তাবেজ বাজেয়াপ্ত করে, সভা নিষিদ্ধ করে এবং সংগঠনের কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করে। ১৯২১ সালের ১০ ডিসেম্বর কলকাতায় মওলানা আজাদ,  [[দাশ, চিত্তরঞ্জন|চিত্তরঞ্জন দাস]], আকরম খান ও অম্বিকা প্রসাদ বাজপেয়ীসহ প্রায় দেড়শ’ নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এ সঙ্কটময় সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আইন পরিষদ বর্জন প্রশ্লে খিলাফত ও অসহযোগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি হয়। কোনো কোনো মুসলিম নেতা এ ধরনের বর্জনকে মুসলমানদের জন্য আত্মঘাতী বলে মনে করেন। ১৯১৯ সালের ইন্ডিয়া অ্যাক্টে ভারতে স্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠানের যে প্রতিশ্রুতি ছিল তার পরিপ্রেক্ষিতে তারা ওই আইনের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এ গ্রুপের স্বরাজ নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিশিষ্ট ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাস, বিপিনচন্দ্র পাল, মতিলাল নেহরু, [[ব্যানার্জী, সুরেন্দ্রনাথ|সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী]], আশুতোষ চৌধুরী, [[মুখার্জী, আশুতোষ|আশুতোষ মুখার্জী]] ও [[বসু, শরৎচন্দ্র|শরৎচক্টদন্ড বস]]। একই মতাদর্শী বিশিষ্ট মুসলিম নেতৃবৃন্দ ছিলেন এ.কে ফজলুল হক, আবুল কাশেম, খাজা মুহম্মদ আজম, খাজা আফজাল, নওয়াব  খাজা হাবিবুল্লাহ, [[রহমান, হাকিম হাবিবুর|হাকিম হাবিবুর রহমান]], সৈয়দ [[চৌধুরী, আলী নওয়াব|নওয়াব আলী চৌধুরী]], স্যার সৈয়দ শামসুল হুদা, স্যার আবদুল্লাহ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবুবকর সিদ্দিকী, (ফুরফুরার পীর), শাহ আহসান উল্লাহ, কাজেম আলী ও [[সোহ্‌রাওয়ার্দী, হোসেন শহীদ|হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী]]। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং মুসলিম জাতীয়তাবাদীরা আইন পরিষদে যোগদানের তীব্র বিরোধিতা করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
খিলাফত আন্দোলন সমর্থক বিশিষ্ট হিন্দু ব্যক্তিত্ব হলেন বিপিনচন্দ্র পাল, শ্রীশ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কামিনী কুমার বন্দোপাধ্যায়, ড. রায় কুমার চক্রবর্তী, পি.সি ঘোষ, বসন্ত কুমার মজুমদার, [[দত্ত, অশ্বিনীকুমার|অশ্বিনীকুমার দত্ত]], পিয়ারী লাল রায়, গুরুচরণ আইচ, শরৎকুমার গুপ্ত, কবি মুকুন্দ দাশ, হরনাথ ঘোষ, নগেন্দ্র ভট্টাচার্য, সতীন্দ্র সেন, ড. তারিনী গুপ্ত, সরল কুমার দত্ত, নিশিকান্ত গাঙ্গুলি, মনোরনজন গুপ্ত, শরৎকুমার ঘোষ, নগেন্দ্র বিজয় ভট্টাচার্য, নলিনী দাস, শৈলেন্দ্র নাথ দাস, ক্ষিতিশচন্দ্র রায়চৌধুরী প্রমুখ।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আকস্মিকভাবে খিলাফত আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটলেও এ আন্দোলনের ফলে যে রাজনৈতিক তৎপরতার সৃষ্টি এবং অভিজ্ঞতা অর্জিত হয় তা ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তির পর বাঙালি মুসলমানদের নিকট খুবই মূল্যবান বিবেচিত হয়। বাংলা থেকে খিলাফত আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী অসংখ্য ব্যক্তিদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ হলেন মওলানা [[ভাসানী, মওলানা আবদুল হামিদ খান|আবদুল হামিদ খান ভাসানী]] (যাঁর আদি নিবাস ছিল পাবনা, পরে টাঙ্গাইল জেলার কাগমারিতে বসতি করেন), জহিরুদ্দীন তরফদার (ময়মনসিংহ),  [[আহমদ, আবুল মনসুর|আবুল মনসুর আহমদ]] (ময়মনসিংহ), আবুল কালাম শামসুদ্দীন (ময়মনসিংহ), হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (কলকাতা), মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ (পাবনা), হাবিবুর রহমান চৌধুরী (কুমিল্লা), আশরাফ উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী (কুমিল্লা), শাহ বদরুল আলম (চট্টগ্রাম), মৌলবি আমান আলী (চট্টগ্রাম), নূরুল হক চৌধুরী (চট্টগ্রাম), মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ (চট্টগ্রাম), কাজেম আলী মিয়া (চট্টগ্রাম), তমিজউদ্দীন খান (ফরিদপুর), পীর বাদশা মিয়া (ফরিদপুর), মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী ওরফে লাল মিয়া (ফরিদপুর), বিচারপতি মোহাম্মদ ইবরাহিম (ফরিদপুর), মজিদ বখশ (বরিশাল), আবুল কাশেম (বরিশাল), খান বাহাদুর হেমায়েত উদ্দীন আহমেদ (বরিশাল), কবি মোজাম্মেল হক (ভোলা), হাশেম আলী খান (বরিশাল), ওয়াহেদ রেজা চৌধুরী (উলানিয়া, বরিশাল), সুলতান আহমেদ চৌধুরী (বরিশাল), মাজেদ কাজী (কসবা, বরিশাল), খান সাহেব হাতেম আলী জমাদার (বরিশাল), সৈয়দ মুহম্মদ আফজল (পিরোজপুর), ইসমাইল খান চৌধুরী (বরিশাল), মৌলবি মুহম্মদ ইবরাহিম (নোয়াখালী), আবদুল জববার খদ্দর (নোয়াখালী), আবদুল গোফরান (নোয়াখালী), সৈয়দ আহমদ খান (নোয়াখালী), নাসির আহমদ ভূইয়া (নোয়াখালী), সুরেনচন্দ্র দাসগুপ্ত (বগুড়া), হোসেন আহমদ (গাইবান্ধা), রাজিব উদ্দীন তরফদার (বগুড়া), কবিরাজ শেখ আবদুল আজিজ (বগুড়া), ইসহাক গোকুলী (বগুড়া), মওলানা মনিরউদ্দীন আনওয়ারী (দিনাজপুর), সোমেশ্বর প্রসাদ চৌধুরী (বর্ধমান), শাহ আবদুল হামিদ (রংপুর), আফসার উদ্দীন আহমেদ (খুলনা), সুকুমার বন্দোপাধ্যায় (কুষ্টিয়া), মৌলবি শামসুদ্দীন আহমেদ (কুষ্টিয়া), সৈয়দ মজিদ বখ্শ (যশোর) এবং মওলানা আহমদ আলী (খুলনা)।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
খিলাফত আন্দোলনের প্রথম সারির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও এ সময়ে শহর এলাকা এবং প্রধানত বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি নতুন মুসলিম নেতৃশ্রেণীর উদ্ভব ঘটে। জনগণকে সংগঠিত ও উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁরা অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। খিলাফত আন্দোলন মফস্বল ভিত্তিক এক নতুন নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি করে। এ নেতৃত্ব বাঙালি মুসলমানদের একটি সমন্বিত আত্মসচেতন রাজনৈতিক পরিচিতি তুলে ধরার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। [সুফিয়া আহমেদ]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Khilafat Movement]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%AE%E0%A6%A6,_%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%97%E0%A6%AE_%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%BE&amp;diff=20005</id>
		<title>আহমদ, বেগম বদরুন্নেসা</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%AE%E0%A6%A6,_%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%97%E0%A6%AE_%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%BE&amp;diff=20005"/>
		<updated>2015-04-17T16:35:30Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;আহমদ, বেগম বদরুন্নেসা&#039;&#039;&#039; (১৯০৩-১৯৮০)  সমাজকর্মী ও নারীমুক্তি আন্দোলনের নেত্রী। মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার পারিল-নওহাদ্দা গ্রামে এক জমিদার পরিবারে ১৯০৩ সালে তাঁর জন্ম। পিতা মোয়াজ্জেম হোসেন খান। বদরুন্নেসা (ডাক নাম মতিবিবি) বাল্যকালেই পিতামাতাকে হারান এবং তাঁর নানা পারিলের জমিদার নজরুল ইসলাম খানের তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন। কলকাতার এক ব্যবসায়ী মোসলেহউদ্দীন আহমদের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কলকাতায় অবস্থানকালে বদরুন্নেসা নারীশিক্ষার উন্নতি এবং মুসলিম সমাজের কল্যাণমূলক কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। তিনি শামসুন নাহার মাহমুদ, আনোয়ারা বাহার চৌধুরী, হাসিনা মুর্শেদ, সুফিয়া কামাল, বেগম শায়েস্তা ইকরামুল্লাহ প্রমুখ বিশিষ্ট মহিলার সান্নিধ্যে আসেন। তিনি কলকাতার মির্জাপুর স্ট্রিটে অবস্থিত আবদুল্লাহ সোহরাওয়ার্দী বালিকা বিদ্যালয়ের (১৯৩০) পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। মির্জাপুর মহিলা সমিতির সক্রিয় সদস্য হিসেবে তিনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৪৬ সালে কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় বেগম বদরুন্নেসা আহমদের সাহসিকতার জন্য হিন্দু মুসলমানের মধ্যকার আসন্ন সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়। তিনি গোপন সংবাদ পান যে, মির্জাপুর স্ট্রিটের মুসলমানদের আক্রমণ করার জন্য হিন্দুরা শ্রদ্ধানন্দ পার্কে সমবেত হচ্ছে। এ খবর পেয়ে তিনি তাঁর কতিপয় সতীর্থ মহিলাসহ কালো বোরখা পরে হাতে সাদা পতাকা নিয়ে মির্জাপুর স্ট্রিট ও হ্যারিসন রোডের মোড়ে গিয়ে দাঁড়ান। সংবাদ পেয়ে [[সোহ্‌রাওয়ার্দী, হোসেন শহীদ|হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী]] এবং  [[রায়, কিরণ শংকর|কিরণ শংকর রায় ]]ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে একটি শান্তি কমিটি গঠন করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ভারত বিভাগের পর বদরুন্নেসা আহমদ ১৯৫১ সালে ঢাকায় চলে আসেন এবং গেন্ডারিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি স্থানীয় মহিলা কর্মীদের নিয়ে গেন্ডারিয়া মহিলা সমিতি গঠন করেন এবং গেন্ডারিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সমাজকল্যাণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। শিল্প ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বদরুন্নেসা আহমদ তাঁর বাড়িকে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের এক প্রাণচঞ্চল কেন্দ্রে পরিণত করেন এবং অচিরেই এটি শিল্পীদের মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। তিনি ছিলেন বুলবুল ললিত কলা একাডেমীর (তৎকালীন বুলবুল শিল্পকলা একাডেমী) প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বেগম বদরুন্নেসা আহমদ নিখিল পাকিস্তান মহিলা সমিতি, পাকিস্তান শিশু কিশোর কাউন্সিল, পাকিস্তান সমাজকল্যাণ সংস্থা, মানিকগঞ্জ সমিতি প্রভৃতি সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। সমাজকল্যাণ মূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে তমঘা-ই-পাকিস্তান খেতাবে ভূষিত করা হয়। তবে ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি তাঁর এ পদবি বর্জন করেন। দীর্ঘদিন পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত থেকে ১৯৮০ সালের ২০ এপ্রিল ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। আজিমপুর গোরস্তানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Ahmed, Begum Badrunnessa]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6_%E0%A6%86%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%80_%E0%A6%B2%E0%A7%80%E0%A6%97&amp;diff=20004</id>
		<title>বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6_%E0%A6%86%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%80_%E0%A6%B2%E0%A7%80%E0%A6%97&amp;diff=20004"/>
		<updated>2015-04-17T16:35:15Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;সোহ্রাওয়ার্দী&amp;quot; to &amp;quot;সোহ্‌রাওয়ার্দী&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ&#039;&#039;&#039;  বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও বৃহৎ রাজনৈতিক দলের অন্যতম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে আওয়ামী লীগ মুখ্য ভূমিকা পালন করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন এই দলের নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি, আতাউর রহমান খান, শওকত হোসেন ও আলী আহমদ খানকে সহ-সভাপতি, শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক, [[রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর |শেখ মুজিবুর রহমান]] (তখন কারাবন্দি), খোন্দকার মোশতাক আহমদ ও এ.কে রফিকুল হোসেনকে যুগ্ম-সম্পাদক, এবং ইয়ার মোহাম্মদ খানকে কোষাধ্যক্ষ করে আওয়ামী লীগ গঠিত হয়। জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক দল ছিল। ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবরের তৃতীয় কাউন্সিল সভায় ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হিসেবে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়। দলটি কল্যাণমূলক অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে। ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, যুবক ও মহিলাদের মধ্যে এই দলের অঙ্গ-সংগঠন রয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগই ছিল প্রথম বিরোধী দল। দলটি জন্মলগ্নেই প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবির উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে ৪২-দফা কর্মসূচি গ্রহণ করে। পাকিস্তানি শাসনের সূচনালগ্ন থেকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাভাষাকে স্বীকৃতি, এক মানুষ এক ভোট, গণতন্ত্র, শাসনতন্ত্র প্রণয়ন, সংসদীয় সরকার পদ্ধতি, আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং দুই প্রদেশের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণ ইত্যাদি ছিল আওয়ামী লীগের প্রধান দাবি। ১৯৪৮-৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আওয়ামী লীগ এবং এর ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ (১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্র হত্যার পূর্বে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠনে আওয়ামী লীগ মুখ্যভূমিকা পালন করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৫৪ সালে পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে [[সোহ্‌রাওয়ার্দী, হোসেন শহীদ|হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী]], [[ভাসানী, মওলানা আবদুল হামিদ খান|মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী]] এবং  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ অন্য তিনটি বিরোধী দল এ.কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক পার্টি, মৌলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজামে-ই-ইসলাম পার্টি এবং হাজি মোহাম্মদ দানেশের নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্রী দল নিয়ে পূর্ব বাংলায় সরকার বিরোধী নির্বাচনী জোট ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠন করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
২১ দফার ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। এই ব্যাপক সামাজিক-রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে ‘রাষ্ট্রভাষার প্রশ্ন’ এবং ‘পূর্ববাংলার স্বায়ত্তশাসনের দাবি’ ছিল এই রাজনৈতিক মঞ্চের মূল বিষয়। ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন লাভ করে, যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩টি আসন। যুক্তফ্রন্টের শরিক দল আওয়ামী লীগ লাভ করে ১৪৩টি আসন। যুক্তফ্রন্টের অন্য শরিক দলগুলো লাভ করে বাকি ৭২টি আসন। পাকিস্তানি শাসনামলের ২৪ বছরের মধ্যে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক ক্ষমতায় ছিল মাত্র ২ বছর (১৯৫৬-৫৮) এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে কোয়ালিশন সরকার হিসেবে কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল মাত্র ১৩ মাস (১২ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬- ১১ অক্টোবর ১৯৫৭)। এ.কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট শরিক দল নিয়ে সরকার গঠন করে এবং আওয়ামী লীগ ছিল এই সরকারের প্রধান অংশীদার। কিন্তু ৫৬ দিনের মধ্যে ফজলুল হক সরকারকে বরখাস্ত করা হয়। এর ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয় এবং ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন হতে থাকে। এই সংক্ষিপ্ত সময়কালের মধ্যেও আতাউর রহমান সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এই পদক্ষেপসমূহের মধ্যে রয়েছে : মারাত্মক খাদ্য ঘাটতি সমস্যা আয়ত্তে আনা, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি প্রদান, ভূমিহীন কৃষকদের টেস্ট রিলিফ প্রদান, ভাষা শহীদ পরিবারকে আর্থিক অনুদান প্রদান, ২১ ফেব্রুয়ারিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা, পহেলা বৈশাখকে বাংলা নববর্ষের দিন হিসেবে উদযাপন, ময়মনসিংহে পশুচিকিৎসা কলেজ, ফেঞ্চুগঞ্জে সার কারখানা, সাভারে ডেইরি ফার্ম এবং ঢাকায় চলচিত্র উন্নয়ন সংস্থা (এফডিসি) স্থাপন। সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান শিল্প, বাণিজ্য এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার কেন্দ্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এই পদক্ষেপসমূহের মধ্যে রয়েছে : পাকিস্তানের দুই প্রদেশে সকল ক্ষেত্রে সমতা আনয়ন, পাকিস্তান জাতীয় সংসদের অধিবেশন প্রথম বারের মতো ঢাকায় অনুষ্ঠান, জাতীয় সংসদে যৌথ নির্বাচনী ব্যবস্থা (অক্টোবর ১৯৫৬) প্রবর্তনের আইন পাসকরণ, পাট বাজারজাতকরণ, অভ্যন্তরীণ জল পরিবহন সংস্থা (আইডব্লিউটিএ) এবং পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন সংস্থা (ওয়াপদা) প্রতিষ্ঠা।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৫৭ সালে বৈদেশিক নীতিকে কেন্দ্র করে দলটি বিভক্ত হয়ে পড়ে। ফলে দলটি মারাত্মক সাংগঠনিক সমস্যার সম্মুখীন হয়। সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানী মূলত পাকিস্তানের বৈদেশিক নীতিকে কেন্দ্র করে ভিন্নমত পোষণ করেন। সোহরাওয়ার্দী পাশ্চাত্যের সঙ্গে বিশেষ করে আমেরিকার সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের পক্ষপাতি হলেও ভাসানী জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের পক্ষে মত দেন। কাগমারি সম্মেলনে (টাংগাইল) দলটির (৭-৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৭) বিভক্তি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৮ মার্চ মওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ এবং এর সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এই পদত্যাগের ফলে দলের ওয়ার্কিং কমিটির ৩৭ জন সদস্যের মধ্যে ৯ জন ভাসানীকে সমর্থন করেন। পরিণামে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি নামে একটি নতুন দল জন্মলাভ করে এবং মওলানা ভাসানী এই দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫৭ সালের ২৫-২৬ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে দলীয় সমর্থকদের এক সম্মেলনে দলটি রূপলাভ করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই সংকটময় মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংগঠনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। মাত্র নয় মাস মন্ত্রীত্ব করার পর আওয়ামী লীগে পূর্ণকালীন সময় দেয়ার জন্য তিনি মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ (৩১ মে ১৯৫৭) করেন। মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগিশ দলের সভাপতি নির্বাচিত হন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
জেনারেল আইয়ুবের স্বৈরাচারি শাসনামলে (১৯৫৮-১৯৬৯) বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন লাভের সংগ্রামে প্রধান দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। ১৯৬৩ সালে মৃত্যুর পূর্বে এইচ এস সোহরাওয়ার্দী প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল নিয়ে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) নামে আইয়ুব বিরোধী একটি মোর্চা গঠন করেন। এই ফ্রন্ট গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের আহবান জানায়। সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের প্রধান নেতা হন। ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি তাঁর ধানমন্ডিস্থ বাসভবনে কেন্দ্রীয় সদস্যদের সভায় তিনি আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করেন। ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি স্থাপনের চেষ্টা করে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে প্রচারণার জন্য দলটি পূর্ব পাকিস্তান : রুখিয়া দাঁড়াও  নামে একটি পুস্তিকা বিতরণ করে। ১৯৬৫ সালের ২ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইয়ুব সরকারকে অপসারণের লক্ষে বেশ কিছু বিরোধী দল নিয়ে সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ) নামে একটি রাজনৈতিক মোর্চা গঠন করা হয়। সম্মিলিত বিরোধী দল মিস ফাতেমা জিন্নাহকে মনোনয়ন দান করে। কপের দাবি ছিল রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থার স্থলে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় পরোক্ষ ভোটের স্থলে সর্বজনীন ভোটাধিকার প্রবর্তন। নির্বাচনের ফলাফল জনগণের ভোট দ্বারা নয়, ৮০,০০০ মৌলিক গণতন্ত্রী দ্বারা নির্ধারিত হয়। ফলে বিরোধী দল স্বভাবতই পরাজয় বরণ করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৬৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৭ দিন ব্যাপী যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বাঙালিদের রক্ষার জন্য লক্ষণীয় সামরিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার অনুপস্থিতির ফলে বাঙালিদের অসহায়ত্বের বিষয়টি উন্মোচিত হয়ে পড়ে। ১৯৬৬ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের এক সম্মেলনে শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ছয়দফা কর্মসূচি উপস্থাপন করেন। এই কর্মসূচির মধ্যে ছিল সর্বজনীন ভোটাধিকারসহ কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন; বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা ব্যতীত প্রাদেশিক সরকারের হাতে সকল প্রকার ক্ষমতা প্রদান; পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থার প্রচলন; প্রাদেশিক সরকারের হাতে কর ও শুল্ক আদায়ের অধিকার ন্যস্তকরণ; প্রাদেশিক সরকারের হাতে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য করার অধিকার প্রদান; এবং সবশেষে, নিজস্ব প্রতিরক্ষার জন্য প্রদেশগুলোকে আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা প্রদান।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ছয়দফা কর্মসূচি রাজনীতিতে পরিবর্তন সাধন করে। এই কর্মসূচির প্রতি প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র এবং অনেকেই সরাসরি এই কর্মসূচির বিরোধিতা করেন। এমনকি আওয়ামী লীগের মধ্যেই একটি অংশ ছয়দফা দাবি সমর্থন করতে অস্বীকৃতি জানায়। অবশ্য ১৯৬৬ সালের ১৮-১৯ মার্চ ঢাকার ইডেন হোটেলে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সভায় শেখ মুজিবুর রহমান ৬-দফা কর্মসূচি অনুমোদন করাতে সমর্থ হন। শেখ মুজিব দলের সভাপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ৬-দফা কর্মসূচি তাৎক্ষণিকভাবে দেশের যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ৬-দফার প্রতি আইয়ুব সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল খুবই কঠোর। আইয়ুব খান ৬-দফা কর্মসূচিকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অপচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেন এবং অস্ত্রের ভাষায় এই দাবি প্রতিহত করার ঘোষণা দেন। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু ৩ মাস ব্যাপী সারাদেশে গণ-জমায়েত কর্মসূচি শুরু করেন। এই সময়ের মধ্যে তাঁকে আট বার গ্রেফতার করা হয়, এবং অবশেষে ১৯৬৬ সালের ৮ মে কারাগারে বন্দি করা হয়। ৬-দফা কর্মসূচির সমর্থন ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে ৭ জুন সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে  আওয়ামী লীগ আহূত সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। পুলিশ তেজগাঁও, টংগী ও নারায়ণগঞ্জে জনতার উপর গুলিবর্ষণ করলে ১৩ জন নিহত হয়। এরপরই সারা দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গণহারে গ্রেফতার করা শুরু হলে সৈয়দ নজরুল ইসলাম&#039;&#039;&#039; &#039;&#039;&#039;ও আমেনা বেগম যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে আইয়ুব সরকার ৬-দফা আন্দোলনের বিরুদ্ধে একটি ‘চূড়ান্ত সমাধান’ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুসহ (কারাবন্দি) ৩৪ জন বাঙালি সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হলেও সরকারিভাবে এর নামকরণ হয় ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য’। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহিতা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। অবশ্য এই মামলার বিরূপ ফল দেখা দেয়। এই মামলার ফলে গণআন্দোলন শুরু হয় এবং আইয়ুব খান ক্ষমতা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
দেশব্যাপী গণআন্দোলন এবং আইয়ুব খানের পতনের প্রেক্ষাপটে নতুন সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানের অধীনে ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ বাঙালিদের জন্য জাতীয়তাবাদী মঞ্চে পরিণত হয়। দলটি ৬-দফা কর্মসূচিকে প্রকৃত গণভোট হিসেবে গ্রহণ করে পূর্ণ শক্তি ও উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অভূতপূর্ব বিজয় অর্জন করে এবং কেন্দ্রীয় আইন পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত ১৬২ টি আঞ্চলিক আসনের (৭২.৫৭% ভোট) মধ্যে ১৬০টি আসন লাভ করে। পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের (৮৯% ভোট) মধ্যে ২৮৮টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। দলটি জাতীয় পরিষদেও মোট ৭টি মহিলা আসন ও প্রাদেশিক পরিষদের মোট ১০টি মহিলা আসনের সবগুলো আসনেই জয়লাভ করে। এই নির্বাচনের অর্থ এই দাঁড়ায় যে, পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ এবং আওয়ামী লীগ অভিন্ন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এভাবে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের মোট ৩১৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে বিজয়ী হয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ট দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগকে সরকার গঠনের আহবানের পরিবর্তে ইয়াহিয়া খানের সামরিক জান্তা নির্বাচনের রায় বাতিল ও বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করার জন্য সামরিক বাহিনী তলব করে। আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক গণআন্দোলনের ডাক দেন এবং দেশবাসী তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে একাত্মতা ঘোষণা করে। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত পাকিস্তানি শাসকের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র্র প্রতিরোধ আন্দোলনের উদাত্ত আহবান জানান। তিনি ঘোষণা করেন : ‘‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’’&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভয়ঙ্কর রাতে ঢাকাসহ পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের ফলে পাকিস্তানের ভবিষ্যতের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয় এবং তথাকথিত রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে বিচারের জন্য পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে আওয়ামী লীগের নেতা বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন) এবং তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে প্রবাসী সরকার গঠন করেন। এই প্রবাসী সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৭২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রথমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে (১৯৭২-৭৫) এবং পরবর্তীকালে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে (১৯৯৬-২০০১) দুই মেয়াদে ক্ষমতাসীন ছিল। প্রথম আওয়ামী লীগ সরকারকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। এ সময় সরকারকে শুরু থেকেই সবকিছুকে পুনর্গঠন করতে হয়েছিল। বেসামরিক লোকের হাতে বিপুল সংখ্যক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থাকার ফলে অবস্থার আরো অবনতি ঘটে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলোর মধ্যে ছিল : মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন; ১০ মাসের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য একটি ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংবিধান প্রণয়ন (১৯৭২); মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় সৈন্যদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানো; নতুন প্রজাতন্ত্রের জন্য বিশ্বের ১৪০ টি দেশের স্বীকৃতি লাভ; ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রিত এক কোটি শরণার্থী এবং যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সৈন্য দ্বারা ধর্ষিত প্রায় তিন লক্ষ নারীর পুনর্বাসন। স্বাধীনতালাভের ১৫ মাসের মধ্যে নতুন সংবিধান অনুসারে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান ছিল আওয়ামী লীগের আরেকটি অর্জন। নির্বাচনে (মার্চ ১৯৭৩) আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩ টি আসন (৭৩.১৭% ভোট) লাভের মধ্য দিয়ে বিপুল বিজয় অর্জন করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ছিল ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ, অব্যাহত দুর্নীতি দমনে ব্যর্থতা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে অসমাপ্ত বিপ্লব হিসেবে বিবেচনা করার কারণে চরম বামপন্থী দলসমূহ সরকারের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এসব দল গুপ্তভাবে সশস্ত্র লোকজন এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে হাত মেলায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য দুঃসাহসিক পদক্ষেপ হিসেবে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হয় (১৯৭৪) এবং চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রের স্থলে একটি মাত্র জাতীয় দল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল)-এর অধীনে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়। আওয়ামী লীগসহ সকল দল সরকারিভাবে বিলুপ্ত করা হয়। এই নতুন ব্যবস্থায় কঠিন আইন প্রয়োগ করে সরকারি সংবাদপত্র ব্যতীত সকল সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা সহ নাগরিক অধিকার সীমিত করা হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এসব নেতিবাচক ঘটনাবলির সুযোগ গ্রহণ করে কিছু অসন্তুষ্ট অধস্তন সামরিক কর্মকর্তা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর সঙ্গে ঢাকায় বসবাসরত পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করে। অচিরেই আরেকটি আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে চারজন শীর্ষ নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, [[আলী, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মনসুর|ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী]] এবং আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হয়। অধিকন্তু জেনারেল জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার কর্তৃক ঘোষিত রাজনৈতিক দল প্রবিধানের অধীনে দলটি পুনরুজ্জীবিত (১৯৭৬) হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দলে পুনরায় ভাঙ্গন দেখা দেয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সামরিক বাহিনী কখনো প্রত্যক্ষভাবে কখনোবা বেসামরিক ছদ্মাবরণে ১৫ বছর বাংলাদেশ শাসন করেছে। রাজনৈতিক কারণে ক্ষমতা জবরদখলকারিরা বিভিন্ন উপায়ে আওয়ামী লীগকে সমূলে উৎপাটিত করতে চেয়েছে। অবশ্য আওয়ামী লীগ সকল উত্থান-পতনের মধ্যেও টিকে আছে। আওয়ামী লীগ কখনো এককভাবে আবার কখনো সমমনা দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যজোট করে জিয়া-সাত্তার-এরশাদের শাসনামলের সকল রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। একদিকে দলকে ঐক্যবদ্ধ, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করার জন্য দলটি নির্বাচনকে কৌশল হিসেবে গ্রহণ করে। আওয়ামী বিরোধী শাসনামলে অনেক সৃষ্ট প্রতিকূলতার মধ্যেও আওয়ামী লীগ ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দল হিসেবে কাজ করে এবং ৩০০ আসনের মধ্যে ৩৯টি আসন (২৪.৫৫%) লাভ করে। নির্বাচনের পর জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালের এপ্রিল মাসে জাতীয় সংসদে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৫-১৯৭৯ পর্যন্ত তাঁর সামরিক শাসনকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদের ভিতরে ও বাইরে সর্বাত্মক বিরোধিতা করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক ঘটনার পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ছয় বছর স্বেচ্ছা নির্বাসনের পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। এর পূর্বে বিদেশে অবস্থানকালে তিনি দলের সভাপতি নির্বাচিত হন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ ও সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য ১৯৮৩ সালের প্রথমদিকে ১৫ দলীয় ঐক্যজোট গঠন করে। এই ঐক্যজোট ৫-দফা কর্মসূচি গ্রহণ করে যার উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে : সামরিক বাহিনীকে ব্যারাকে ফেরত নেয়ার ব্যবস্থা এবং অন্য কোনো নির্বাচনের পূর্বে সর্বাগ্রে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠান। এই কঠিন ও সংকটময় মুহূর্তে দলটি ভাঙ্গনের সম্মুখীন হয়। ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগ দুটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) প্রতি বিশ্বাসী ও অনুগত বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতা ও কর্মি দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে নতুন পুনরুজ্জীবিত আওয়ামী লীগে যোগদান করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বাকশালের আদর্শ সমুন্নত রাখার জন্য কাজ করে যাওয়ার সংকল্প ঘোষণা করে। কিন্তু দলের সংখ্যাগরিষ্ট কর্মীবৃন্দ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে। অবশ্য ১৯৯১ সালে বিভক্ত বাকশালের অধিকাংশ সদস্য মূলধারায় ফিরে আসেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। অবিরাম আন্দোলনে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে অনেক হরতাল ডাকা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) সহযোগী হিসেবে নিতে রাজি হয়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট এরশাদ বিরোধী দলের দাবির কাছে পরাজয় স্বীকার করে ১৯৮৬ সালের ৭ মে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
স্বৈরশাসনের অবসানের জন্য আওয়ামী লীগ নির্বাচনকে কৌশল হিসেবে গ্রহণ করে। কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে ১৫-দলীয় ঐক্যজোটে ভাঙ্গন দেখা দেয়। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পরিচালিত ৭ দলীয় ঐক্যজোট রাজপথের আন্দোলনের উপর গুরুত্ব আরোপ করে, কিন্তু আওয়ামী লীগ পরিচালিত সহযোগিরা এই সিদ্ধান্তকে অবিবেচনা প্রসূত মনে করে। অবশেষে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ৮-দলীয় ঐক্যজোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে ৯৭টি আসন লাভ করে এবং ভোট পড়ে ৩১.২১% (আওয়ামী লীগ এককভাবে ৭৬টি আসন লাভ করে এবং ভোট পায় ২৬.১৫%)। অবশ্য রাজপথে আন্দোলনের পাশাপাশি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বর মাসে এরশাদ কর্তৃক জাতীয় সংসদ অবলুপ্ত ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ তৎকালীন সরকার আরেকটি নির্বাচন করার উদ্যোগ গ্রহণ করে, কিন্তু আওয়ামী লীগ সহ প্রধান দলগুলো সেই নির্বাচন বর্জন করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সরকারের বিরুদ্ধে বিরামহীন বিরোধিতার কারণে এরশাদ ১৯৯০ সালের ৪ ডিসেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন। বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে (৩০০টি আসনের মধ্যে ১৪০ টি আসন এবং ৩০.৮১% ভোট) সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী দলগুলো অধিকাংশ ভোট পেলেও কম আসন সংখ্যা লাভ করে (৩৪.২৯% ভোট এবং ১০০টি আসন; আওয়ামী লীগ এককভাবে লাভ করে ৮৮টি আসন এবং ভোট পায় ৩০.০৮%)।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আওয়ামী লীগ মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করে। জাতীয় সংসদে সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়। অবশ্য সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে এরূপ সমঝোতা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় নি। মিরপুর (ঢাকা) এবং মাগুরার (যশোর) উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অচিরেই তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। উভয় উপ-নির্বাচনে সরকার দলীয় অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও অ-জনপ্রিয় প্রার্থীর জয়লাভ এবং নির্বাচন পরিচালনা পদ্ধতি বিরোধী দলকে এই বিশ্বাসে উপনীত করে যে, দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই অবাধ ও স্বাধীন হবে না। এভাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য বিরোধী দল নির্বাচনের জন্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ব্যাপক আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ প্রথমে জাতীয় সংসদ বর্জন (মার্চ-ডিসেম্বর ১৯৯৪), এবং পরবর্তীকালে সংসদ থেকে গণপদত্যাগ (২৮ ডিসেম্বর ১৯৯৪) এবং ক্রমাগত হরতাল আহবান করে। বিএনপি সরকার এই দাবি উপেক্ষা করে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে (১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬), কিন্তু আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী দলসমূহ এই নির্বাচন সর্বতোভাবে প্রত্যাখ্যান করে। নির্বাচনের ফলাফল জনগণের সমর্থন লাভে ব্যর্থ হয়। জনগণ এই নির্বাচনকে ভোটারবিহীন নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করে। এভাবে সৃষ্ট জাতীয় সংসদ মাত্র ৪ দিন স্থায়ী হয়। জনগণের দাবির কাছে নতি স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি স্বীকার করে নেন। বিরোধী দলের সমর্থনে তিনি সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীতে আওয়ামী লীগ প্রস্তাবিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচন করার পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করেন। এরপর তিনি ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ পদত্যাগ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৯৬ সালের ১২ জুন বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে (৩০০টি আসনের মধ্যে ১৪৬টি আসন এবং প্রদত্ত ভোটের ৩৭.৫৩%) জয়লাভ করে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠন করেন। তাঁর সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এই সরকারের অবদানের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংসদকে শক্তিশালী করা (মন্ত্রীদের পরিবর্তে জাতীয় সংসদের সদস্যদের কমিটি সভাপতি নির্বাচিত করা); প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব প্রবর্তন; ‘ইনডেমনিটি আইন’ বাতিল (২ নভেম্বর ১৯৯৬) এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচারের পথ সুগমকরণ; ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবন্টন চুক্তি স্বাক্ষর (১২ ডিসেম্বর ১৯৯৬); পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি (২ ডিসেম্বর ১৯৯৭) সম্পাদন; ইউনিয়ন পরিষদ এবং অন্যান্য স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে মহিলাদের প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থাসহ নারীর ক্ষমতায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ; দারিদ্র্য হ্রাসকরণ এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণে পদক্ষেপ গ্রহণ; বয়স্ক, তালাকপ্রাপ্ত মহিলা ও বিধবাদের সামাজিক নিরাপত্তার পদক্ষেপ গ্রহণ; সুবিধা বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক অনুদান প্রদান; খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ং-সম্পূর্ণতা অর্জনের পদক্ষেপ গ্রহণ ইত্যাদি। তাঁর শাসনামলে বাঙালির গৌরবময় ভাষা আন্দোলন (২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২) ইউনেস্কো কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামাত সমর্থিত চারদলীয় জোটের নিকট আওয়ামী লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। আওয়ামী লীগ মাত্র ৬২টি আসন এবং ৪০.১৩% ভোট পায়, অন্যদিকে বিএনপি পায় ১৯৩টি আসন এবং ৪০.৯৭% ভোট (চার দলীয় জোট ২১৬ আসনে জয়লাভ করে এবং ভোট পায় ৪৭.০৫%)।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কিন্তু এই বিপর্যয় সত্ত্বেও ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোট বিজয়ী হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ খালেদা জিয়া সরকারের (১৯৯৬-২০০১) সকল প্রকার দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করে।  এ ছাড়া জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনও আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করে। বিএনপি জোট সকল প্রকার নিয়মতান্ত্রিক ও অনিয়মতান্ত্রিক পন্থা অবলম্বন করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করে। এ অবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এতটাই অবনতি ঘটে যে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে এবং সংবিধান আংশিক কার্যকর রাখে। উভয় বৃহত্তর দলের নেতাদের কারাবন্দি করা হয়। এরূপ গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে সেনাবাহিনী বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা উভয়কে জাতীয় রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করবে। ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা’ নামে পরিচিত এই পরিকল্পনা সেনা সমর্থিত সরকারের নিকট অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বলে প্রমাণিত হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফখরুদ্দীন আহমদকে প্রধান উপদেষ্টা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করা হলেও জেনারেল মইন ইউ আহমদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীই প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী ছিল। মনে হয় তারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। দুই প্রধান নেত্রীকে গ্রেফতার এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার; ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র নামে ঐ দুই জনকে স্থায়ীভাবে রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করা; রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তথাকথিত গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রস্তাব; রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী নেতাদের ব্যাপকহারে গ্রেফতার; শাসকমুখী দল (প্রগ্রেসিভ ডেমোক্রেটিক পার্টি) গঠন ইত্যাদি ঘটনাবলি সেনা সমর্থিত শাসনকে দীর্ঘায়িত করার পদক্ষেপ হিসেবে মনে করা হয়। কিন্তু তারপরও ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিচালিত জোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৬২টি আসন এবং প্রদত্ত ভোটের ৫৫.৮৫% ভোট লাভ করে (এককভাবে আওয়ামী লীগ ৪৮.২৯% ভোটসহ ২৩০টি আসন লাভ করে)।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিচালিত জোট সরকার গঠন করে। নতুন সরকারের নিকট সবচেয়ে দুঃখজনক ও অবিস্মরণীয় ঘটনা হচ্ছে রক্তক্ষয়ী বিডিআর বিদ্রোহ যা সরকার গঠনের তিন সপ্তাহের মধ্যে সংঘটিত হয়। সরকার বিদ্রোহ-উত্তর ঘটনাবলি সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রন করতে সমর্থ হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রাথমিক পর্যায়ের অন্যান্য পদক্ষেপগুলো হচ্ছে: প্রথমবারের মতো সংসদীয় কমিটি গঠন করে সংসদ সদস্যদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা; বিচারবিভাগের চূড়ান্ত রায় অনুসারে জাতির জনক হত্যার ৫ জন হত্যাকারীর বিচার সম্পন্ন করা; ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা; ইসলামি জঙ্গিসহ অন্যান্য জঙ্গিদের কার্যক্রম সীমিত করা; জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন, ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনরুজ্জীবিত করা সহ আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ।  [হারুন-অর-রশীদ]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Bangladesh Awami League]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Bangladesh Awami League]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Bangladesh Awami League]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Bangladesh Awami League]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Bangladesh Awami League]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%B0&amp;diff=20003</id>
		<title>তিতুমীর</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%B0&amp;diff=20003"/>
		<updated>2015-04-17T16:34:50Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:Banglapedia]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;তিতুমীর&#039;&#039;&#039; (১৭৮২-১৮৩১)  বাংলার প্রজাকুলের উপর স্থানীয় জমিদার এবং ইউরোপীয় নীলকরদের অত্যাচার প্রতিরোধ এবং ব্রিটিশ শাসন থেকে বাংলাকে মুক্ত করার লক্ষ্যে পরিচালিত আন্দোলনের নেতা। প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁর আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার। মুসলিম সমাজে শির্ক ও বিদআতের অনুশীলন নির্মূল করা এবং মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের অনুশাসন অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করাই ছিল তাঁর আন্দোলনের প্রাথমিক লক্ষ্য।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তিতুমীরের প্রকৃত নাম সাইয়িদ মীর নিসার আলী। পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার বশিরহাট মহকুমার চাঁদপুর (মতান্তরে হায়দারপুর) গ্রামে ১১৮৮ বঙ্গাব্দের (১৭৮২ খ্রি) ১৪ মাঘ তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা ছিলেন সাইয়িদ মীর হাসান আলী এবং মাতা আবিদা রোকাইয়া খাতুন। তিতুমীরের পরিবারের লোকেরা নিজেদের হযরত আলীর (রাঃ) বংশধর বলে দাবি করতেন। তাঁর এক পূর্বপুরুষ সাইয়িদ শাহাদাত আলী ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আরব থেকে বাংলায় আসেন। শাহাদাত আলীর পুত্র সাইয়িদ আবদুল্লাহ দিল্লির সুলতান কর্তৃক জাফরপুরের প্রধান কাজী নিযুক্ত হন এবং তাঁকে ‘মীর ইনসাফ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। শাহাদাত আলীর বংশধরগণ ‘মীর’ ও ‘সাইয়িদ’ উভয় পদবীই ব্যবহার করতেন। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
গ্রামের মক্তবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে তিতুমীর স্থানীয় এক মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। তিনি ছিলেন কুরআনে হাফেজ, বাংলা, আরবি ও ফার্সি ভাষায় দক্ষ এবং আরবি ও ফার্সি সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগী। তিনি ইসলামি ধর্মশাস্ত্র, আইনশাস্ত্র, দর্শন, তাসাওয়াফ ও মানতিক বিষয়ে সুপন্ডিত ছিলেন। মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে তিতুমীর একজন দক্ষ কুস্তিগীর হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তিতুমীর ১৮২২ সালে হজ্জব্রত পালনের জন্য মক্কাশরীফ যান এবং সেখানে তিনি বিখ্যাত ইসলামি ধর্মসংস্কারক ও বিপ্লবী নেতা সাইয়িদ আহমদ বেরেলীর সান্নিধ্য লাভ করেন। সাইয়িদ আহমদ তাঁকে বাংলার মুসলমানদের অনৈসলামিক রীতিনীতির অনুশীলন এবং বিদেশি শক্তির পরাধীনতা থেকে মুক্ত করার কাজে উদ্বুদ্ধ করেন। ১৮২৭ সালে মক্কা থেকে দেশে ফিরে তিতুমীর চবিবশ পরগনা ও নদীয়া জেলায় মুসলমানদের মধ্যে ইসলামি অনুশাসন প্রচার শুরু করেন। তিনি মুসলমানদের শিরক ও বেদআত অনুশীলন থেকে বিরত থেকে ইসলামের অনুশাসন মোতাবেক জীবনযাত্রা পরিচালনায় উদ্বুদ্ধ করেন। বিশেষ করে তাঁতি ও কৃষকদের মধ্যে তিনি ব্যাপক প্রচারকার্য চালান। অচিরেই মুসলমানদের প্রতি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ এবং তাদের উপর অবৈধ কর আরোপের জন্য পুরার হিন্দু জমিদার কৃষ্ণদেব রায়ের সঙ্গে তিতুমীরের সংঘর্ষ বাঁধে। কৃষককুলের উপর জমিদারদের অত্যাচার প্রতিরোধ করতে গিয়ে অপরাপর জমিদারদের সঙ্গেও তিতুমীর সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এসব অত্যাচারী জমিদার ছিলেন গোবরডাঙার কালীপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়, তারাগোনিয়ার রাজনারায়ণ, নাগপুরের গৌরীপ্রসাদ চৌধুরী এবং গোবরা-গোবিন্দপুরের দেবনাথ রায়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এ প্রতিকূল অবস্থার মোকাবিলা এবং কৃষকদের নিরাপত্তা দানের লক্ষ্যে তিতুমীর এক মুজাহিদ বাহিনী গঠন করে তাদের লাঠি ও অপরাপর দেশিয় অস্ত্র চালনায় প্রশিক্ষণ দান করেন। তাঁর অনুসারী ও ভাগিনেয় গোলাম মাসুমকে বাহিনীর অধিনায়ক করা হয়। তিতুমীরের শক্তি বৃদ্ধিতে শঙ্কিত হয়ে জমিদারগণ তাঁর বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ সৃষ্টি এবং তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইংরেজদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চালায়। গোবরডাঙার জমিদারের প্ররোচনায় মোল্লাহাটির ইংরেজ কুঠিয়াল ডেভিস তার বাহিনী নিয়ে তিতুমীরের বিরুদ্ধে অগ্রসর হন এবং যুদ্ধে পরাজিত হন। তিতুমীরের সঙ্গে এক সংঘর্ষে গোবরা-গোবিন্দপুরের জমিদার নিহত হন। বারাসতের কালেক্টর আলেকাজান্ডার বশিরহাটের দারোগাকে নিয়ে তিতুমীরের বিরুদ্ধে অভিযান করে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেন। এ সময়ে তিতুমীর [[ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি|ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি]] সরকারের নিকট জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করেন। কিন্তু তাতে কোনো ফল হয় নি। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তিতুমীর ১৮৩১ সালের অক্টোবর মাসে নারকেলবাড়িয়ায় এক দুর্ভেদ্য বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। তিনি তাঁর মুজাহিদ বাহিনীতে বিপুল সংখ্যক মুজাহিদ নিয়োগ করে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দান করেন। অচিরেই মুজাহিদদের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারে উপনীত হয়। সামরিক প্রস্ত্ততি সম্পন্ন করে তিতুমীর নিজেকে ‘বাদশাহ’ বলে ঘোষণা দেন এবং ব্রিটিশের বিরুদ্ধে জেহাদে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানান। অচিরেই তিনি চবিবশ পরগনা, নদীয়া ও ফরিদপুর জেলায় স্বীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিতুমীর তাকি ও গোবরডাঙার জমিদারদের নিকট কর দাবি করলে তারা ইংরেজদের শরণাপন্ন হন। কলকাতা থেকে এক ইংরেজ বাহিনী তিতুমীরের বিরুদ্ধে প্রেরিত হয়। কিন্তু ইংরেজ ও জমিদারদের সম্মিলিত বাহিনী মুজাহিদদের নিকট শোচনীয় পরাজয় বরণ করে। অবশেষে [[বেন্টিঙ্ক, লর্ড উইলিয়ম|লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক]] লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে ১০০ অশ্বারোহী, ৩০০ স্থানীয় পদাতিক, দুটি কামানসহ গোলন্দাজ সৈন্যের এক নিয়মিত বাহিনী তিতুমীরের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৮৩১ সালের ১৪ নভেম্বর ইংরেজ বাহিনী মুজাহিদদের উপর আক্রমণ চালায়। মুজাহিদগণ সাবেকি ধরনের স্থানীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আধুনিক অস্ত্র সজ্জিত ইংরেজ বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়ে বাঁশের কেল্লায় আশ্রয় নেয়। ইংরেজরা কামানে গোলাবর্ষণ করে কেল্লা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত করে দেয়। বিপুল সংখ্যক মুজাহিদ প্রাণ হারায়। বহুসংখ্যক অনুসারিসহ তিতুমীর যুদ্ধে শহীদ হন (১৯ নভেম্বর ১৮৩১)। মুজাহিদ বাহিনীর অধিনায়ক গোলাম মাসুমসহ ৩৫০ জন মুজাহিদ ইংরেজদের হাতে বন্দি হন। গোলাম মাসুম মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হন। ১৪০ জন বন্দিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Titu Mir]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%93%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%80,_%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B2_%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A6_%E0%A6%86%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%B2_%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%BF&amp;diff=20002</id>
		<title>ওসমানী, জেনারেল মহম্মদ আতাউল গণি</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%93%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%80,_%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B2_%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A6_%E0%A6%86%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%B2_%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%BF&amp;diff=20002"/>
		<updated>2015-04-17T16:34:41Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
[[Image:OsmaniMAG.jpg|thumb|400px|right|জেনারেল মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;ওসমানী, জেনারেল মহম্মদ আতাউল গণি&#039;&#039;&#039; (১৯১৮-১৯৮৪)  বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি। ১৯১৮ সালের ১ নভেম্বর সুনামগঞ্জে তাঁর জন্ম। তিনি ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৩৮ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৩৯ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য লাভ করেন। একই সময়ে তিনি রাজকীয় সামরিক বাহিনীতে জেন্টলম্যান ক্যাডেট নির্বাচিত হন। ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে যোগ না দিয়ে তিনি ১৯৩৯ সালের জুলাই মাসে দেরাদুনে ব্রিটিশ ভারতীয় সামরিক একাডেমী থেকে সামরিক কোর্স সম্পন্ন করে রাজকীয় বাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন (অক্টোবর ১৯৪০)। ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন। ১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওসমানী মেজর পদে উন্নীত হয়ে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক নিযুক্ত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনি বার্মা রণাঙ্গনে ব্রিটিশ বাহিনীর অধিনায়করূপে যুদ্ধ করেন। ১৯৪৭ সালে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসার কোর্স সম্পন্ন করার পর ওসমানী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ভারত বিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরদিনই লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন। ১৯৪৮ সালে তিনি কোয়েটা স্টাফ কলেজ থেকে পিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৪৯ সালে তাঁকে সেনাবাহিনীর চীফ অব দি জেনারেল স্টাফের সহকারি নিয়োগ করা হয়। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত ওসমানী পর পর চতুর্দশ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের নবম ব্যাটালিয়নে রাইফেল কোম্পানির পরিচালক, পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের অতিরিক্ত কম্যান্ডান্ট এবং সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন। ১৯৫৬ সালে তিনি কর্নেল পদে উন্নীত হন। এরপর তিনি আর্মি হেডকোয়ার্টারে জেনারেল স্টাফ ও মিলিটারি অপারেশনের ডেপুটি ডিরেক্টর নিযুক্ত হন। ১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ দশ বছর তিনি এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর জেনারেল পদে উন্নীত হন এবং তাঁর এ পদোন্নতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়। ১৯৭২ সালের ৭ এপ্রিল সেনাবাহিনীতে জেনারেল পদ বিলুপ্ত হওয়ার পর তিনি সামরিক বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হন এবং জাহাজ চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ ও বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। ওসমানী ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং নতুন মন্ত্রিসভায় ডাক, তার ও টেলিফোন, যোগাযোগ, জাহাজ চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ ও বিমান চলাচল মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৭৪ সালের মে মাসে ওসমানী মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে একদলীয় সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের বিরোধিতা করে তিনি যুগপৎ সংসদ-সদস্য পদ এবং আওয়ামী লীগের সদস্য পদ ত্যাগ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৭৫ সালের ২৯ আগস্ট রাষ্ট্রপতি [[আহমদ, খোন্দকার মোশতাক|খোন্দকার মোশতাক আহমদ]] তাঁকে রাষ্ট্রপতির প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ করেন। কিন্তু ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চার জাতীয় নেতার হত্যাকান্ডের অব্যবহিত পরেই তিনি পদত্যাগ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ওসমানী ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় জনতা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৮ সালে গণতান্ত্রিক ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থীরূপে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৮১ সালে জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রার্থী হিসেবে পুনরায় তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আজীবন অকৃতদার ওসমানী ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Osmany, General Mohammad Ataul Ghani]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%BE_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6&amp;diff=20001</id>
		<title>জিনজিরা প্রাসাদ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%BE_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6&amp;diff=20001"/>
		<updated>2015-04-17T16:34:24Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:Banglapedia]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;জিনজিরা প্রাসাদ&#039;&#039;&#039;  ঢাকার [[বড় কাটরা, ঢাকা|বড় কাটরা]] প্রাসাদ-দুর্গের প্রায় দক্ষিণ বরাবর বুড়িগঙ্গা নদীর অপর তীরে অবস্থিত। বাংলার মুগল সুবাহদার দ্বিতীয় ইবরাহিম খান (১৬৮৯-১৬৯৭) তাঁর প্রমোদকেন্দ্র হিসেবে প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। পারিপার্শ্বিক এলাকাসহ প্রাসাদস্থলটি তখন ছিল চতুষ্পার্শ্বে নদীবেষ্টিত একটি দ্বীপের মতো। এ কারণেই ওই  স্থানে নির্মিত প্রাসাদটির নামকরণ হয় কস্র&#039;&#039;-&#039;&#039;এ&#039;&#039;-&#039;&#039;জাজিরা বা দ্বীপের প্রাসাদ। প্রাসাদটি নদীর তীর ঘেষে নির্মিত হয়েছিল, এবং নদীর ওপর একটি কাঠের সেতু দ্বারা বড় কাটরার নিকটে ঢাকা নগরীর সঙ্গে প্রাসাদটির সংযোগ স্থাপিত ছিল। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
জিনজিরা প্রাসাদে ছিল মূল প্রাসাদ ভবন, আয়তাকার সুবিস্তৃত দ্বিতল [[হাম্মাম|হাম্মাম]] (স্নানাগার), দক্ষিণের সদরে প্রহরী-কক্ষ সহ দ্বিতল প্রবেশ-ফটক এবং দুটি অষ্টকোণী পার্শ্ববুরুজ। পলেস্তরা দেয়াল ঘেরা কক্ষগুলি ছিল আয়তাকার এবং উপরে কুঁড়েঘর আকৃতির চৌচালা খিলানাকার ছাদ। প্রাসাদের বহিঃদেয়ালের সুপ্রশস্ত ভিত এবং সুদৃঢ় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ চতুষ্পার্শ্বস্থ পরিখা এর প্রাসাদ-দুর্গের বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিতবহ। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রাসাদটি এখন নিশ্চিহ্নপ্রায়। মূল প্রাসাদের সাতটি কক্ষ এখনও ভগ্নপ্রায় অবস্থায় টিকে আছে। অপরাপর টিকে থাকা স্থাপনার মধ্যে রয়েছে দুটি অষ্টভুজাকৃতির পার্শ্ববুরুজ, দক্ষিণ দিকের ভগ্নপ্রায় ফটক (দেউড়ি), প্রাসাদের সুপ্রশস্ত ভিত এবং চতুষ্পার্শ্বস্থ পরিখা। প্রাসাদস্থলটি এখন স্থানীয় লোকদের নিকট হাওলি (হাভেলি’র অপভ্রংশ) নামে পরিচিত। বর্তমানে এর চারপাশে গড়ে উঠেছে ঘিঞ্জি বসতি ও বাণিজ্যিক স্থাপনা।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বাংলার [[দীউয়ানি|দীউয়ানি]] লাভের পর [[মুর্শিদকুলী খান|মুর্শিদকুলী খান]] এ প্রাসাদে বসবাস করতে থাকেন। তাঁর রাজস্ব প্রশাসন দপ্তর মকসুদাবাদে স্থানান্তরের (১৭০৩) পূর্ব পর্যন্ত প্রাসাদটি তাঁর আবাসস্থল ছিল। এর পরেও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ঢাকা সফরকালে তিনি এ প্রাসাদেই অবস্থান করতেন। নবাব আলীবর্দী খানের অধীনে ঢাকার নায়েব নাযিম নওয়াজিশ মুহাম্মদ খানের প্রতিনিধি হোসেন কুলি খানের পারিবারিক আবাসস্থল ছিল এ প্রাসাদ। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মুর্শিদাবাদ নিযামতের শেষ বছরগুলিতে সংঘটিত বেদনাবিধুর ঘটনার নীরব সাক্ষী ছিল জিনজিরা প্রাসাদ। নবাব সরফরাজ খানের (১৭৩৯-১৭৪০) পতনের পর তাঁর মাতা, স্ত্রী, ভগ্নি, পুত্রকন্যা এবং তাঁর হারেমের কতিপয় মহিলাকে এ প্রাসাদে অন্তরীণ রাখা হয়। মুর্শিদাবাদের রাজপথে হোসেন কুলি খানের হত্যাকান্ডের (১৭৫৪) পর এ প্রাসাদে বসবাসরত তাঁর পরিবার পরিজনকেও বন্দিজীবন যাপন করতে হয়। অদৃষ্টের এ এক নির্মম পরিহাস যে, সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর আলীবর্দী খানের মহিষী শরীফুন্নেসা, কন্যা ঘসেটি বেগম ও আমেনা বেগম, সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রী লুৎফুন্নেসা বেগম ও তাঁর কন্যা কুদসিয়া বেগম ওরফে উম্মে জোহরাকে জিনজিরা প্রাসাদে এনে কড়া পাহারায় রাখা হয়। এরূপ জনশ্রুতি আছে যে, নবাব মীর জাফর আলী খানের পুত্র মীর সাদেক আলী খান ওরফে মিরনের নির্দেশে জমাদার বকর খান মুর্শিদাবাদে নিয়ে যাওয়ার অজুহাতে ঘসেটি বেগম ও আমেনা বেগমকে প্রাসাদ থেকে নৌকায় তুলে ধলেশ্বরী নদীতে নৌকা ডুবিয়ে হত্যা করে (জুন ১৭৬০)।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Jinjira Palace]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%B2,_%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5&amp;diff=20000</id>
		<title>মন্ডল, যোগেন্দ্রনাথ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%B2,_%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5&amp;diff=20000"/>
		<updated>2015-04-17T16:33:28Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;সোহ্রাওয়ার্দী&amp;quot; to &amp;quot;সোহ্‌রাওয়ার্দী&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;মন্ডল, যোগেন্দ্রনাথ &#039;&#039;&#039;(১৯০৪-১৯৬৮)  রাজনীতিবিদ এবং তফসিলি সম্প্রদায়ের নেতা। বরিশাল জেলার গৌড়নদী উপজেলার মাইস্তারকান্দি গ্রামে ১৯০৪ সালের ২৯ জানুয়ারি তাঁর জন্ম। বাবা রামদয়াল ও মায়ের নাম সন্ধ্যা। যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল ১৯২৪ সালে মেট্রিকুলেশন এবং ১৯২৬ সালে বরিশাল বি.এম কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। একই কলেজ থেকে ১৯২৯ সালে ডিগ্রি পাস করার পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯০৪ সালে আইন পাস করেন। এরপরেই তিনি বরিশাল সদর কোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন। এ সময়ে যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল বরিশাল জেলা বোর্ড-এর সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৩৭ সালের [[বঙ্গীয় আইন পরিষদ|বঙ্গীয় আইন পরিষদ]] নির্বাচনে যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল বাকেরগঞ্জ উত্তর-পূর্ব সাধারণ নির্বাচনী এলাকা থেকে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে সরলকুমার দত্তকে পরাজিত করে জয়ী হন।  ১৯৪৫-১৯৪৬ সালের নির্বাচনেও তিনি দলের মেন্ডেট নিয়ে তফসিলি ফেডারেশনের হয়ে বাকেরগঞ্জ দক্ষিণ-পশ্চিম (সংরক্ষিত) নির্বাচনী অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
রাজনীতি জীবনের শুরুতে যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল কংগ্রেস নেতা [[বসু, শরৎচন্দ্র|শরৎচন্দ্র বসু]] এর অভিভাবকত্ব লাভ করেন। সে সময়ে তিনি স্বতন্ত্র তফসিলি দলের সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। ১৯৩৮ সালের ১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বিপক্ষে দাঁড়ানোর এবং অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনকারীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। যদিও ১৯৪০ সালে [[কলকাতা কর্পোরেশন|কলকাতা কর্পোরেশন]] এর নির্বাচনে বসু দে’র সুপারিশক্রমে তিনি কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে তফসিলি সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত আসনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৪৩ সালের ২৪ এপ্রিল [[নাজিমউদ্দীন, খাজা|খাজা নাজিমুদ্দীন]] মন্ত্রিসভা গঠন করলে যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল তাঁর ২১ জন তফসিলি সদস্য সহকারে ওই মন্ত্রিসভার পক্ষে সমর্থন জানান। এর প্রতিদানে তাঁকে উক্ত মন্ত্রিসভার সমবায় মন্ত্রীর পদ প্রদান করা হয় এবং প্রেমবিহারী বর্মন ও পুলীন বিহারী মল্লিক নামের তাঁর অপর দু’জন তফসিলি সহযোগীকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হয়। যদিও এ মন্ত্রিসভা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৪৫ সালের ২৯ মার্চ তা ভেঙ্গে দেয়া হয়। ইতোঃমধ্যে মন্ডল ‘All India Scheduled Caste Federation’ গঠন করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মন্ত্রিসভায় থাকাকালে যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল সর্বভারতীয় পর্যায়ের তফসিলি নেতা ড. বি, আর, আম্বেদকরের সাহচার্যে আসেন। তাঁরই পরামর্শে যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল বাংলায় ‘Bengal Provincial Scheduled Caste Federation’ গঠন করেন এবং সভাপতি হিসেবে একে বাংলার তফসিলি সম্প্রদায়ের একমাত্র দেশভক্ত সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দেন। তাঁর দৃষ্টিতে কংগ্রেস ছিল শুধুমাত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের সংগঠন। তিনি নিজেকে ‘হিন্দু’ মনে না করলেও নিজেকে তফসিলি সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে এ শ্রেণির উন্নয়নে তাঁর যথাসাধ্য চেষ্টা করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৪৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে [[মুসলিম লীগ|মুসলিম লীগ]] নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে এবং [[সোহ্‌রাওয়ার্দী, হোসেন শহীদ|হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী]]কে প্রধানমন্ত্রী করে লীগ মন্ত্রিসভা গঠন করে। যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল ছিলেন মন্ত্রিসভার একমাত্র তফসিলি সদস্য।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৪৬ সালে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে মুসলিম লীগ তাৎক্ষণিকভাবে যোগ না দিলেও মাস খানেক পরে যোগ দেয়। মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভূক্ত মুসলিম লীগের পাঁচ সদস্যের মধ্যে যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল তফসিলি সম্প্রদায়ের হিন্দু একমাত্র সদস্য হিসেবে আইন মন্ত্রীর পদ লাভ করেন। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন ‘মুসলিম লীগের হিন্দু প্রতিনিধি।’ জিন্নাহ তাঁকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন যে, মুসলিম লীগ কেবলমাত্র মুসলিম জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না, তারা হিন্দু সম্প্রদায়েরও প্রতিনিধিত্ব করে। ইতোঃমধ্যে ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট মুসলিম লীগের ডাকা [[প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস|প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস]] উপলক্ষে সারা ভারতব্যাপী সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার সূত্রপাত হয়। তফসিলি সম্প্রদায় ও মুসলমানদের মধ্যে কোন প্রকার ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি যাতে না হতে পারে তা তত্ত্বাবধানের জন্য যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলকে বিভিন্ন জেলায় প্রেরণ করা হয়। মন্ডল বিশ্বাস করতেন যে, ভারতবর্ষে মুসলিম ও তফসিলিদেরই অভিন্ন অর্থনৈতিক স্বার্থ ছিল।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৪৭ সালের ২০ জুন মন্ত্রিসভার বিশেষ অধিবেশনে সদস্যগণ বাংলা বিভাগের পক্ষে ভোট প্রদান করেন। কিন্তু যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল এরূপ বিভাগের বিপক্ষে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিবাদ সভা করেন। বাংলা বিভাগের প্রয়োজনেই সাংবিধানিক সভার জন্য ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। ভারতীয় সাংবিধানিক সভার এ নির্বাচনে পশ্চিম বাংলা থেকে মোট ২৫ জন (২১ সাধারণ ও ৪ জন মুসলিম) প্রার্থী নির্বাচিত হন। পূর্ব বাংলা থেকে ৪১ জন (২৯-মুসলিম ও ১২-সাধারণ) প্রার্থী নির্বাচিত হন। মন্ডল ও তাঁর তফসিলি ফেডারেশন জিন্নাহকে তাদের বন্ধু হিসেবে বিবেচিত করতেন বলে এ নির্বাচনে তিনি পাকিস্তানের পক্ষে সমর্থন প্রদান করেন এবং নির্বাচিত হন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর যোগেন্দ্রনাথ পাকিস্তানের প্রথম মন্ত্রিসভার আইন ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীত্ব লাভ করেন। তিনি মুসলিম লীগের সংসদীয় বোর্ডেরও সদস্য হন। ১৯৪৮ সালে করাচীতে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মন্ডল মন্ত্রী হিসেবে তাঁর সম্প্রদায়কে নিরাপদ রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। কিন্তু ১৯৫০ সালে পূর্ব বাংলায় সংঘটিত ধ্বংসাত্মক দাঙ্গার সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও মন্ডল সংখ্যালঘিষ্টদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হন। এ পর্যায়ে এসে মন্ডল অনুধাবন করতে পারেন যে, তিনি মুসলীম লীগের নেতৃস্থানীয়দের বা সরকারের কাছ থেকে পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বে যেরূপ গুরুত্ব পেতেন সেরূপ আর পাচ্ছেন না। তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন এবং ১৯৫০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর করাচি থেকে পালিয়ে কলকাতায় আসেন এবং ভারত সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল একজন সাংবাদিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন এবং ১৯৪৩ সাল থেকে জাগরণ নামে একটি খবরের কাগজ প্রকাশ করে আসছিলেন। ১৯৪৭ সালের বিভাগের পর এ পত্রিকার অফিস ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল ১৯৬৮ সালের ৫ অক্টোবর কলকাতায় মারা যান। [দিলীপ ব্যানার্জী]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Mandol, Jogendranath]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Mandol, Jogendranath]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Mandol, Jogendranath]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Mandol, Jogendranath]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Mandol, Jogendranath]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Mandol, Jogendranath]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%98%E0%A6%BE%E0%A6%9F&amp;diff=19999</id>
		<title>পঞ্চমীঘাট</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%98%E0%A6%BE%E0%A6%9F&amp;diff=19999"/>
		<updated>2015-04-17T16:33:22Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;পঞ্চমীঘাট&#039;&#039;&#039;  হিন্দুদের তীর্থস্থান। নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে অবস্থিত। মহাভারতে বর্ণিত কুরু-পাণ্ডব যুদ্ধের সঙ্গে পঞ্চমীঘাটের একটি ঐতিহ্যগত সম্পর্ক নির্দেশ করা হয়েছে। মহাভারতে বর্ণিত আছে যে, পঞ্চপাণ্ডব তাদের বারো বছর নির্বাসনকালে বিভিন্ন তীর্থস্থলে পরিভ্রমণ করে ধর্মানুষ্ঠান পালন করেন এবং গঙ্গানদীর সংগমস্থলে আনুষ্ঠানিক স্নান সম্পন্ন করেন। কথিত আছে, এক সময় তাঁরা ব্রহ্মপুত্রের পবিত্র জলে স্নান করেন। ব্রহ্মপুত্রে তাঁদের স্নানের স্থলকে পঞ্চমীঘাটের সঙ্গে অভিন্ন বলে অনুমান করা হয়।&lt;br /&gt;
প্রতিবছর চৈত্র মাসে শুক্লপক্ষরে অষ্টম দিনে (অষ্টমী) হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বী যুগপৎ পঞ্চমীঘাট ও নিকটস্থ [[লাঙ্গলবন্দ|লাঙ্গলবন্দ]]এ তীর্থস্থান করেন। এই স্নান উপলে পঞ্চমীঘাটেও এক মেলা অনুষ্ঠিত হয়।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান] &lt;br /&gt;
[[en:Panchamighat]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%AE_%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6,_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%A6&amp;diff=19998</id>
		<title>ইবরাহিম দানিশমন্দ, সাইয়্যিদ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%AE_%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6,_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%A6&amp;diff=19998"/>
		<updated>2015-04-17T16:32:46Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;সাইয়্যিদ&#039;&#039;&#039; &#039;&#039;&#039;ইবরাহিম দানিশমন্দ &#039;&#039;&#039; কাদিরিয়া তরিকার সুফিসাধক ইবরাহিম দানিশমন্দ ছিলেন চতুর্থ খলিফা হযরত আলীর (রাঃ) পুত্র হযরত ইমাম হোসেনের সরাসরি বংশধর। তিনি ছিলেন পারস্যের অধিবাসী। তিনি সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের পুত্র এবং হোসেনশাহী বংশের শেষ সুলতান গিয়াসুদ্দিন মাহমুদ শাহের (১৫৩৩-১৫৪০) শাসনামলে অথবা এর কিছুকাল পূর্বে বাংলায় আসেন। সুলতান মাহমুদ শাহের জ্যেষ্ঠ কন্যার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় এবং তাঁকে দক্ষিণ শ্রীহট্টের অন্তর্গত তরফের শাসনকর্তা নিয়োগ করা হয়। ইবরাহিম দানিশমন্দকে মালিক-উল-উমারা (আমীরদের প্রধান) উচ্চ রাজকীয় খেতাবে ভূষিত করা হয়। সুলতান তাঁকে সোনারগাঁয়ে লা-খারাজ (রাজস্বমুক্ত) ভূমি বন্দোবস্ত দান করেন। ঘটনাক্রম ও তথ্যউপাত্ত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সাইয়্যিদ দানিশমন্দ হোসেনশাহী বংশের পতনের (১৫৪০) পরও এবং সম্ভবত ষোড়শ শতকের ষাটের দশক পর্যন্ত তরফে শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। এরপর তিনি সোনারগাঁয়ে এসে মোগরাপাড়ায় বর্তমান দরগাহবাড়ি স্থলে তাঁর খানকা প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় এ স্থান সাদিপুর বা নগর সাদিপুর নামে পরিচিত ছিল।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সাইয়্যিদ ইবরাহিম ইসলামী ধর্মতত্ত্ব এবং এর সকল শাখায় বিশেষত তাসাওয়াফ (ইসলামী মরমীবাদ) বিষয়ে অসাধারণ পান্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। ধর্মতত্ত্ব, ইসলামী আইনবিধান, তাসাওয়াফ ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানে এবং একজন বহুমুখী বিদগ্ধ লেখক হিসেবে তিনি তাঁর প্রজ্ঞার জন্য ‘দানিশমন্দ’ নামে অভিহিত হন। তিনি ‘কুতবুল আশেকীন’ খেতাবেও ভূষিত হন। কাদেরিয়া তরিকার যেসকল সুফি দরবেশ বাংলায় সর্বপ্রথম এই সুফি তরিকার প্রচারকার্যে নিয়োজিত ছিলেন, ইবরাহিম দানিশমন্দ সম্ভবত ছিলেন তাদের অন্যতম। দরগাহবাড়িতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত খানকা থেকে তিনি সুফি তরিকার প্রচার এবং ইসলামী বিষয় শিক্ষাদানের এক মহতী ঐতিহ্যের সূচনা করেন। পরবর্তী কয়েক শতাব্দীব্যাপী সেই ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক ছিলেন তাঁর বংশধর ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারীরা।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সাইয়্যিদ ইবরাহিম দানিশমন্দ সোনারগাঁয়ের দরগাহবাড়িতে এক সৌধের অভ্যন্তরে সমাহিত আছেন। দরগাহবাড়ি সমাধিস্থলের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত তাঁর সমাধিসৌধটি কুটির আকৃতির চৌচালা গম্বুজাকার ছাদবিশিষ্ট একটি চতুর্ভুজাকৃতির ইমারত।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Ibrahim Danishmand, Saiyid]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B9&amp;diff=19997</id>
		<title>বাবা সালেহ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B9&amp;diff=19997"/>
		<updated>2015-04-17T16:32:31Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;বাবা সালেহ&#039;&#039;&#039;  বাংলায় স্বাধীন সুলতানদের অধীনে একজন উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারী। তিনি সুলতান জালালউদ্দিন ফতেহ শাহের শাসনামল (১৪৮১-১৪৮৭ খ্রি) থেকে আলাউদ্দিন হোসেন শাহের শাসনকাল (১৪৯৪-১৫১৯ খ্রি) পর্যন্ত দীর্ঘ সময় সোনারগাঁ অঞ্চলে কর্মরত ছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
শিলালিপিসূত্রে জানা যায় যে, বাবা সালেহ তিনটি মসজিদ নির্মাণ করেন। এগুলো হলো সুলতান জালালউদ্দিন ফতেহ শাহের শাসনামলে নির্মিত নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর এলাকায় অবস্থিত [[বন্দর শাহী মসজিদ|বন্দর শাহী মসজিদ]] (১৪৮১ খ্রি), সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের শাসনামলে আজিমনগরে নির্মিত একটি মসজিদ (১৪৯৫ খ্রি) এবং বন্দর শাহী মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিমে অর্ধমাইল দূরে অবস্থিত বাবা সালেহ মসজিদ (১৫০৫ খ্রি)।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মসজিদের শিলালিপির সাক্ষ্যমতে, বাবা সালেহ আল-মালিক আল-মুয়াজ্জম আল-মুকাররম খেতাবে ভূষিত একজন অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি এবং ‘রাসূলের (সা) পায়বন্দ (খাদেমুন নবী) যিনি হজ্জব্রত পালন করেছেন (হাজী আল-হারামাইন) এবং রাসুলের (সা) পদচিহ্ন (কদম রসুল) প্রত্যক্ষ করেছেন।’&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সুলতানি শাসনে বাবা সালেহর ভূমিকা ও কার্যক্রম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা যায় নি। এমনকি একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর পদমর্যাদার কোনো উল্লেখও পাওয়া যায় নি। ’আল-মালিক আল-মুয়াজ্জম আল-মুকাররম’ খেতাব থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, তিনি একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। অধিকন্ত সোনারগাঁ অঞ্চলে তাঁর দীর্ঘ কর্মপরিধি (১৪৮১-১৫০৬ খ্রি) থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বাংলার সুলতানদের অধীনে প্রাদেশিক প্রশাসনে তিনি অতীব গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বাবা সালেহর নামেই বন্দর থানার বর্তমান সালেহনগর এলাকার নামকরণ হয়েছে। তিনি ১৫০৬ খ্রিস্টাব্দে (৯১২ হিজরি) সোনারগাঁয়ে পরলোক গমন করেন। বাবা সালেহ মসজিদ সন্নিহিত উত্তর-পূর্ব দিকে তাঁকে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর বছরই তাঁর সমাধির উপর একটি সৌধ নির্মিত হয়।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Baba Saleh]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Baba Saleh]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Baba Saleh]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Baba Saleh]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Baba Saleh]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8&amp;diff=19996</id>
		<title>আনোয়ার খান</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8&amp;diff=19996"/>
		<updated>2015-04-17T16:31:57Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;আনোয়ার খান&#039;&#039;&#039;  বানিয়াচঙের জমিদার। যে অঞ্চল জুড়ে তাঁর জমিদারি বিস্তৃত ছিল তা বর্তমানে হবিগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত। বাহারিস্তান-ই-গায়েবী গ্রন্থে আনোয়ার খানকে চিহ্নিত করা হয়েছে জমিদারদের শিরোমণিরূপে এবং বলা হয়েছে যে, কোনোভাবেই তিনি মুসা খান মসনদ-ই-আলার চেয়ে কম ক্ষমতাবান ছিলেন না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আনোয়ার খান মুসা খানের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে মুগল আগ্রাসন প্রতিহত করেন। ১৬১১ খ্রিস্টাব্দে মুসা খানের যাত্রাপুর ও ডাকছড়া দুর্গ থেকে মুগল আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষেত্রে আনোয়ার খানের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। মুগল সুবাহদার ইসলাম খানের হাতে এ দুটি দুর্গের পতন এবং মুসা খানের সোনারগাঁ অভিমুখে পশ্চাদপসরণ ও নতুন প্রতিরোধের প্রস্ত্ততিকালে আনোয়ার খান তাঁর রণ-নৌবহর নিয়ে বানিয়াচঙে ফিরে যান। সেখানে তিনি নতুনভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মুসা খানের চূড়ান্ত পরাজয় এবং অপরাপর জমিদারসহ মুগলদের নিকট আত্মসমর্পণের পর পরই আনোয়ার খান তাঁর ভাইদের নিয়ে স্বেচ্ছায় জাহাঙ্গীরনগরে ইসলাম খানের নিকট আত্মসমর্পণ করেন (১৬১১)। আনোয়ার খান খাজা উসমানের বিরুদ্ধে সুবাদারকে তাঁর সক্রিয় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। বাংলায় আফগান আধিপত্য সংরক্ষণের প্রাণপুরুষ খাজা উসমানের পতন ঘটানো তখন ছিল ইসলাম খানের মূল লক্ষ্য। আনোয়ার খান সুবাহদারের নিকট প্রস্তাব দেন যে, তিনি তাঁর জায়গিরে ফিরে গিয়ে সিলেটে উসমানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিশেষভাবে উসমানের ভাই ও পুত্রদের অধিকৃত তরফ অঞ্চলে আক্রমণ পরিচালনা করতে চান যাতে তারা উসমানের সাহায্যে এগিয়ে আসতে না পারে। ইসলাম খান তাঁর জমিদারি স্বত্ব বহাল রাখেন এবং উসমান পক্ষীয়দের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত আক্রমণ পরিচালনার অনুমতি দেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আনোয়ার খানের বিশ্বস্ততায় ইসলাম খান তেমন আস্থা রাখতে পারেন নি। তাই তিনি খাজা উসমানের বিরুদ্ধে প্রেরিত সম্মিলিত বাহিনীর অধিনায়কের দায়িত্ব আনোয়ার খানের পরিবর্তে ইসলাম কুলি খানের উপর ন্যস্ত করেন। এতে আনোয়ার খান খুবই ক্ষুব্ধ হন। এগারসিন্দুর পৌঁছেই তিনি হাসানপুরে মুগল সেনাঘাঁটিতে অবস্থানরত মুসা খানের ভ্রাতা মাহমুদ খান এবং ভাওয়ালের বাহাদুর গাজীর সঙ্গে এক গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। এরূপ সিদ্ধান্ত হয় যে, খাজা উসমানের সঙ্গে মিলে তারা হাসানপুর ঘাঁটির উপর সম্মিলিত আক্রমণ চালিয়ে মুগল সৈন্যদের হত্যা বা বন্দী করবেন, আর আনোয়ার খান যুগপৎ নেতৃস্থানীয় মনসবদারদের আটক করার চেষ্টা করবেন, মুসা খানকে মুক্ত করবেন, অতঃপর ঢাকায় বন্দী করবেন ইসলাম খানকে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এ ষড়যন্ত্রের সাফল্য ছিল নেহাতই নগণ্য। সান্ধ্যভোজ অনুষ্ঠানে আনোয়ার খান বেশসংখ্যক শাহী সামরিক কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানালেও তাদের মধ্যে মাত্র দু’জন সেনাপতিকে তিনি আটক করতে পেরেছিলেন। এরা হলেন বজবাহাদুর কালমাকের রণতরীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসলাম কুলি খান এবং শাহজাদপুরের জমিদার রাজা রায়। এদের নিয়ে তিনি বানিয়াচঙে পালিয়ে যান। ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্যই অসমাপ্ত থেকে যায়। অচিরেই মাহমুদ খান ও বাহাদুর গাজীর গোপন কার্যক্রম প্রকাশ পায় এবং গোটা ষড়যন্ত্রই ফাঁস হয়ে যায়। তাদের শৃঙ্খলিত করে কড়া পাহাড়ায় আটক রাখা হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইসলাম খান প্রথমে ভূষণার সামন্ত জমিদার রাজা ছত্রজিৎ এবং পরে কিছুসংখ্যক জমিদারসহ মুবারিজ খানকে আনোয়ার খানের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। আনোয়ার খান তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইসলাম খানের নিকট আত্মসমর্পণে বাধ্য হন। আনোয়ার খানকে শৃঙ্খলিত ও কারারুদ্ধ করা হয়। পরে তাঁকে অন্ধ করে বন্দী অবস্থায় রোটাস দুর্গে প্রেরণ করা হয়।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Anwar Khan]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B8%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%80,_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%A6&amp;diff=19995</id>
		<title>সোহ্রাওয়ার্দী, শাহেদ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B8%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%80,_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%A6&amp;diff=19995"/>
		<updated>2015-04-17T16:31:30Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Nasirkhan ব্যবহারকারী সোহ্রাওয়ার্দী, শাহেদ পাতাটিকে সোহ্‌রাওয়ার্দী, শাহেদ শিরোনামে স্থানান্ত...&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;#REDIRECT [[সোহ্‌রাওয়ার্দী, শাহেদ]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B8%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E2%80%8C%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%80,_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%A6&amp;diff=19994</id>
		<title>সোহ্‌রাওয়ার্দী, শাহেদ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B8%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E2%80%8C%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%80,_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%A6&amp;diff=19994"/>
		<updated>2015-04-17T16:31:30Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Nasirkhan ব্যবহারকারী সোহ্রাওয়ার্দী, শাহেদ পাতাটিকে সোহ্‌রাওয়ার্দী, শাহেদ শিরোনামে স্থানান্ত...&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;সোহ্‌রাওয়ার্দী, শাহেদ &#039;&#039;&#039;(১৮৯০-১৯৬৫) শিক্ষাবিদ, লেখক, শিল্পসমালোচক ও কূটনীতিক। ১৮৯০ সালের ২৪ অক্টোবর কলকাতার বিখ্যাত সোহ্‌রাওয়ার্দী পরিবারে তাঁর জন্ম। আদি নিবাস মেদিনীপুর হলেও কলকাতার পার্ক সার্কাসে তাঁদের পরিবারের বসবাস বহু দিনের। তাঁর পিতা স্যার জাহিদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের একজন বিচারপতি এবং কনিষ্ঠভ্রাতা প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ  [[সোহ্‌রাওয়ার্দী, হোসেন শহীদ|হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী]]।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
শাহেদ সোহ্‌রাওয়ার্দী&#039;&#039;&#039; &#039;&#039;&#039;১৯১০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বিএ (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯১৪ সালে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুনরায় বি এ (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। বিদেশে পড়াশোনা এবং সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের জন্য খ্যাতি লাভের পাশাপাশি তিনি বিশ্বশিল্পের প্রাচীন ও আধুনিক ধারার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কেও জ্ঞান লাভ করেন। আন্তর্জাতিক শিল্পবিশেষজ্ঞদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে, যখন ১৯২৬-২৯ সময়কালে তিনি মস্কো আর্ট থিয়েটারে প্রযোজক কমিটির সদস্য এবং পরে প্যারিসস্থ লিগ অব নেশনস-এর চারুকলা বিভাগের সম্পাদক ছিলেন। তাছাড়া প্রাগ থেকে প্রকাশিত বাইজানটাইন শিল্পবিষয়ক একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা সম্পাদনার সঙ্গেও তিনি সংশ্লিষ্ট ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি হায়দ্রাবাদের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ইসলামি শিল্পকলা সম্পর্কে পরিচিতিমূলক পুস্তক রচনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। পরে রবীন্দ্রনাথের আমন্ত্রণে বিশ্বভারতীতে এসে তিনি নিজাম প্রফেসর হিসেবে ইরানী শিল্পকলা সম্পর্কে গবেষণা করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
শাহেদ সোহ্‌রাওয়ার্দী বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন ১৯৩২-৪৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাগেশ্বরী তুলনামূলক শিল্পকলার অধ্যাপকরূপে। তাঁর বিখ্যাত বক্তৃতাসমূহের একটি সংকলন উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে Prefaces নামে প্রকাশিত হয়। তাঁর অন্যান্য রচনা হলো: The Art of Jamini Ray, Musalman Culture, A Handbook of Musalman Art, Musalman Art in Spain ইত্যাদি। The Art of Jamini Ray মৌলিক ও প্রসাদগুণসম্পন্ন শিল্পসমালোচনা। রন্ধন শিল্পের ওপরও তাঁর একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা যায়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৪৩-৪৬ সালে শাহেদ সোহ্‌রাওয়ার্দী বেঙ্গল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ছিলেন। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ১৯৪৮ সালের শেষ দিকে তিনি করাচি যান এবং ১৯৫২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ছিলেন। ১৯৫৩ সালে নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ইসলামি শিল্পের অতিথি অধ্যাপকরূপে কর্মরত ছিলেন। সেসময় প্যারিসে ইউনেস্কোর নতুন ভবন নির্মিত হলে তা উপযুক্ত শিল্পসামগ্রী দিয়ে সাজানোর জন্য আন্তর্জাতিক শিল্পবিশেষজ্ঞদের যে নির্বাচক কমিটি গঠিত হয়, তিনি তারও সদস্য ছিলেন। ১৯৫৪ সাল থেকে তিনি কয়েক বছর স্পেন, মরক্কো, তিউনিশিয়া ও ভ্যাটিক্যানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তিনি জওহরলাল নেহেরু ও সুধীন্দ্রনাথ দত্তের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের অনেক ভাষায় তাঁর দক্ষতা ছিল।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
শাহেদ সোহ্‌রাওয়ার্দী শুরু থেকে পাকিস্তান পিইএন (আন্তর্জাতিক লেখক সংঘের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান)-এর সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ঢাকা থেকে ১৯৬২ সালে তাঁর একটি কাব্যসংকলন Essays in Verse প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে রয়েছে তাঁর অক্সফোর্ডে এবং অন্যত্র ইংরেজি ও মার্কিন সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতাবলি। ইউরোপের বিভিন্ন কাব্যান্দোলনের ছাপ তাঁর কবিতায় দৃশ্যমান। গ্রন্থটি তিনভাগে বিভক্ত: New Poems, Early Poems, An Oldman’s Songs; এসব কবিতায় তাঁর মার্জিত ও সুকোমল মনের পরিচয় পাওয়া যায়। ১৯৬৫ সালের ৩ মার্চ করাচিতে তাঁর মৃত্যু হয়।  [সৈয়দ আলী আহসান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Suhrawardy, Shahid]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Suhrawardy, Shahid]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%80,_%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A6_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%A6&amp;diff=19993</id>
		<title>আলী, মোহাম্মদ শামশাদ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%80,_%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A6_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%A6&amp;diff=19993"/>
		<updated>2015-04-17T16:31:19Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;আলী, মোহাম্মদ শামশাদ&#039;&#039;&#039; (১৯৩৪-১৯৭১)  চিকিৎসক, শহীদ বুদ্ধিজীবী।  শামশাদ আলী ১৯৩৪ সালের ৯ মার্চ বিহারের এলাহাবাদে তাঁর মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস ছিল বগুড়া জেলার সোনাতলায়। তাঁর পিতা আবুল হোসেন ছিলেন একজন চিকিৎসক এবং ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন। চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর থানার মুজাফফরনগরে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলেন। তাঁর মাতা আনোয়ারী বেগম ছিলেন নবাব মুর্শিদকুলি খানের বংশধর।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[Image:AliMohammadShamshad.jpg|thumb|400px|right|মোহাম্মদ শামশাদ আলী]]&lt;br /&gt;
পার্বতীপুরে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে শামশাদ আলী রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হন। কিন্তু প্রতিকূল অবস্থার কারণে বাধ্য হয়ে তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ত্যাগ করে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় চলে আসেন। তিনি ১৯৬৩ সালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
শামশাদ আলী ১৯৬৩ সালে সরকারের মেডিক্যাল সার্ভিসে যোগ দেন এবং কুমিল্লা থানা হেলথ কমপ্লেক্সে তাঁকে পদায়ন করা হয়। দুই বছর সেখানে চাকরির পর শামশাদ আলী সরকারি চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে পার্বতীপুরে ব্যক্তিগত চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত হন। পার্বতীপুরে নতুন বাজারে তিনি তাঁর নিজস্ব ফার্মেসি ও চেম্বার প্রতিষ্ঠা করেন। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর বহু অবাঙালিকে পার্বতীপুরে পুনর্বাসন করা হয়। তখন থেকে পার্বতীপুর শহরে এরাই ছিল প্রভাবশালী। সেখানে বাঙালি অবাঙালি (বিহারি) বিরোধ লেগেই ছিল। আইউব বিরোধী আন্দোলন বিশেষত উনসত্তুরের গণঅভ্যুত্থানকালে এই বিরোধ প্রকট হয়ে উঠে। আইউব বিরোধী গণআন্দোলনে শামশাদ আলীর অগ্রণী ভূমিকার জন্য তিনি এলাকার অবাঙালিদের আক্রোশের শিকার হন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনীর বাঙালি হত্যাযজ্ঞ শুরু হলে শামশাদ আলী তাঁর পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের বাড়িতে অনেকটা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তাদের বাড়ির চারপাশে ছিল অবাঙালিদের বসতি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল রাত ১১টায় নয় জন পাকসেনার একটি দল কয়েকজন অবাঙালি দালালসহ শামশাদ আলীর বাড়ির দরজায় করাঘাত করে। শামশাদ আলীর এক ভাই দরজা খুলে দিলে সৈন্যরা তল্লাশির অজুহাতে বাড়িতে ঢুকে পড়ে। শামশাদ আলীর পিতামাতাসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের রাইফেলের মুখে তাড়া করে বাইরে এনে এক সারিতে দাঁড় করানো হয়। শামশাদ আলী তখন ছিলেন বাড়ির দোতলায়। তিনি অবস্থা বুঝে দ্রুত ছাদে গিয়ে কার্নিশের আড়ালে লুকান। সৈন্যরা তাঁকে খুঁজে বের করে টেনে নিচে নামিয়ে আনে। তারপর অন্যদের বাড়িতে রেখে একমাত্র শামশাদ আলীকে তারা ধরে নিয়ে যায় শহরের উপকণ্ঠে। প্রতীয়মান হয় যে, তারা শুধু শামশাদ আলীকে ধরার জন্যই বাড়িতে হামলা করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
জানা যায়, জনৈক অবাঙালি মির্যা খান তার ৩০৩ রাইফেলে একদম কাছে থেকে শামশাদ আলীকে গুলি করতেই তিনি সঙ্গে সঙ্গে রাইফেলের নল ধরে ফেলেন। রাইফেল নিয়ে দু’জনের টানাহেচড়ার এক পর্যায়ে পরপর কয়েকটি গুলিতে শামশাদ আলী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাঁর মৃতদেহ কেটে টুকরা টুকরা করে রেল স্টেশনের উত্তর প্রান্তে একটি রেল ইঞ্জিনের বয়লারের আগুনে পোড়ানো হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী শামশাদ আলী ছিলেন সংস্কৃতি চর্চায় অনুরাগী। ক্রীড়াবিদ ও গায়ক শামশাদ আলী পার্বতীপুরে সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখেন। তাঁরই উদ্যোগে পার্বতীপুরে ‘প্রগতি সংঘ’ নামে একটি সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সংগঠন গড়ে উঠে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
জাতির জন্য তাঁর আত্মদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পার্বতীপুরের নতুন বাজারে একটি রাস্তার নতুন নামকরণ হয় শহীদ ডাঃ শামশাদ আলী রোড।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বাংলাদেশ সরকারের ডাকবিভাগ জাতির জন্য তাঁর আত্মদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মোহাম্মদ শামশাদ আলীর নামে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Ali, Mohammad Shamshad]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%80,_%E0%A6%8F%E0%A6%AE_%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A8&amp;diff=19992</id>
		<title>আলী, এম কোরবান</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%80,_%E0%A6%8F%E0%A6%AE_%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A8&amp;diff=19992"/>
		<updated>2015-04-17T16:31:07Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;আলী, এম কোরবান&#039;&#039;&#039; (১৯২৪-১৯৯০)  আইনজীবী, রাজনীতিক। মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার কান্দিপাড়া গ্রামে ১৯২৪ সালে তাঁর জন্ম।  কোরবান আলী ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএল ডিগ্রি লাভের পর তিনি ঢাকা জেলা আদালতে আইন ব্যবসা শুরু করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[Image:AliMKorban.jpg|thumb|400px|right|এম কোরবান আলী]]&lt;br /&gt;
এম কোরবান আলী ১৯৫০ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগ দেন। এ সময় তাঁকে বৃহত্তর ঢাকা জেলায় দলকে সংগঠিত করার দায়িত্ব দেয়া হয়। ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে ১৯৪৮ সাল থেকেই কোরবান আলী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং ১৯৫২ সালে কারাবরণ করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি ছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এম কোরবান আলী যুক্তফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১৯৫৪ সালে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং-টঙ্গীবাড়ী নির্বাচনী এলাকা থেকে পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ওই বছর ২৯ মে দেশে ৯২-ক ধারা জারীর পর তিনি গ্রেফতার হন। ১৯৫৫ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদের ডেপুটি চীফ হুইপ ছিলেন। ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর দেশে সামরিক শাসন জারীর পর কোরবান আলী গ্রেফতার হন এবং প্রায় দুই বছর কারাভোগ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৬২ সালে আইউব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংগঠনে তাঁর ভূমিকার জন্য পুনরায় তিনি গ্রেফতার হন। ১৯৬৬ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয়দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ১৯৭০ সালে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের সময় কোরবান আলী আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা ও প্রচার সেলের প্রধান ছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনে কোরবান আলী বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। ২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনীর নৃশংস হত্যাকান্ড শুরু হলে তিনি অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ভারতে চলে যান। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে কোরবান আলী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান-টঙ্গীবাড়ী নির্বাচনী এলাকা থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভায় তথ্য ও বেতার সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠিত হলে তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোনীত হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকান্ডের পর অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ তিনি গ্রেফতার হন এবং প্রায় দুই বছর কারান্তরিণ থাকেন। কোরবান আলী ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ১৯৮১ সালে তিনি আওয়ামী লীগ প্রিসিডিয়ামের সদস্য নির্বাচিত হন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এম কোরবান আলী ১৯৮৪ সালে সামরিক শাসক লে. জেনারেল হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। তিনি প্রথমে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের এবং পরে পূর্ত ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
একজন উদার গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতা কোরবান আলী এদেশের জনগণের স্বাধিকার আন্দোলনে অসামান্য অবদান রাখেন। ১৯৯০ সালের ২৩ জুলাই ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Ali, M Korban]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%AE,_%E0%A6%B8%E0%A7%88%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%A6_%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%A8&amp;diff=19991</id>
		<title>হাশেম, সৈয়দ নাজমুদ্দীন</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%AE,_%E0%A6%B8%E0%A7%88%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%A6_%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%A8&amp;diff=19991"/>
		<updated>2015-04-17T16:30:59Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
[[Image:HashimSyedNajmuddin.jpg|thumb|right|সৈয়দ নাজমুদ্দীন হাশেম]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;হাশেম, সৈয়দ নাজমুদ্দীন&#039;&#039;&#039; (১৯২৫-১৯৯৯)  সাংবাদিক, আমলা, কূটনীতিক ও লেখক। ১৯২৫ সালের ১ জুন ঢাকায় তাঁর জন্ম। তিনি ১৯৪২ সালে ঢাকার সেন্ট গ্রেগরিজ হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৪৪ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে আই.এ পাস করেন এবং ১৯৪৬ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে বি.এ (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
নাজমুদ্দীন হাশেম সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি রেডিও পাকিস্তানের বার্তা সম্পাদক ও সম্প্রচারক (১৯৪৮-১৯৬২), পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন ব্যাংকের মুখ্য জনসংযোগ কর্মকর্তা (১৯৬২-১৯৬৬) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাওয়ালপিন্ডিস্থ ব্যুরো অব ন্যাশনাল রিসার্চ ও রিকন্সট্রাকশন-এর উপ-পরিচালক (১৯৬৬-১৯৬৮), পাকিস্তান কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক (১৯৭০-১৯৭২), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (১৯৭৪-১৯৭৫) এবং ১৯৭৫ সালে তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ছিলেন। নাজমুদ্দীন হাশেম ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ছিলেন। নাজমুদ্দীন হাশেমের কূটনৈতিক কর্মজীবন ছিল সুদীর্ঘ। তিনি ফ্রান্সে পাকিস্তান দূতাবাসের প্রথম সচিব (১৯৬৮-১৯৭০), লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার (১৯৭৯-১৯৮০), বার্মায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং সিঙ্গাপুরে হাইকমিশনার (১৯৮০-১৯৮২), সোভিয়েত ইউনিয়ন, ফিনল্যান্ড ও মঙ্গোলিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত (১৯৮৪-১৯৮৬) ছিলেন। তিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মন্ত্রিসভায় তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সৈয়দ নাজমুদ্দীন হাশেম ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তাঁর কয়েকটি প্রকাশিত গ্রন্থ বন্দীশালা পাকিস্তান (১৯৯৪), অশ্লেষার রাক্ষসী বেলায়: স্মৃতিপটে শেখ মুজিব ও অন্যান্য (১৯৯৬), সমুদ্যত দৈব দুর্বিপাকে (১৯৯৯), The Devotee, the Combatant: Selected Poems of Shamsur Rahman (2000)। তিনি ১৯৯৯ সালের ১৮ জুলাই ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Hashim, Syed Najmuddin]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%9C%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE,_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%95&amp;diff=19990</id>
		<title>জয়বাংলা, সাপ্তাহিক</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%9C%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE,_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%95&amp;diff=19990"/>
		<updated>2015-04-17T16:30:51Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;জয়বাংলা, সাপ্তাহিক&#039;&#039;&#039;  ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখপত্র। পত্রিকাটি মূলত ছিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রচার মাধ্যম। এর লক্ষ্য ছিল একদিকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
পত্রিকাটি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশনা, তথ্য, বেতার ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত হয়। এই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবদুল মান্নান এমএন-এর উপর পত্রিকাটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও প্রকাশনার দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল। তিনি ছিলেন পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি। সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ছিলেন আবদুল গাফফার চৌধুরী, ইবনে গোলাম সামাদ, মাহবুব উল্লাহ চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক চৌধুরী, মোঃ সলিমুল্লাহ, আসাদ চৌধুরী, আবুল মঞ্জুর, মোহাম্মদ খালেদ, অনু ইসলাম। মোঃ জিল্লুর রহমান এমপি ছিলেন সম্পাদক মন্ডলীর উপদেষ্টা। পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন বাঙালি শিল্পপতি পত্রিকাটির প্রকাশনায় আর্থিক সহায়তা দান করেন। পত্রিকার জন্য নিউজপ্রিন্ট কাগজের যোগান দিতেন কলকাতার আনন্দবাজার গ্রুপ।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সাপ্তাহিক জয়বাংলা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের ১১ মে (২৭ বৈশাখ ১৩৭৮)। কলকাতার পার্ক সার্কাসের ২১/১ বালু হাক্কাক লেনে ছিল জয়বাংলা পত্রিকার অফিস দপ্তর। পত্রিকাটি মুদ্রিত হয় শিয়ালদহ রেলস্টেশনের অদূরে অবস্থিত মুজিবনগর জয়বাংলা প্রেসে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে পত্রিকাটি প্রকাশ করেন সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি আবদুল মান্নান ‘আহমদ রফিক’ ছদ্মনামে। ‘মতিন আহমদ চৌধুরী’ ছদ্মনামে পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন মাহবুব উল্লাহ চৌধুরী। কিন্তু পত্রিকার বিংশতম সংখ্যা (২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭১) থেকে ‘আহমদ রফিক’ ছদ্মনামের স্থলে প্রকাশক হিসেবে আবদুল মান্নানের নাম মুদ্রিত হয়। এই সংখ্যা থেকে পরবর্তী সকল সংখ্যায় ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের নাম (ছদ্মনাম মতিন আহমদ চৌধুরী) রহিত করা হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
জয়বাংলা ১৭ × ১০১/২ (ইঞ্চি) কলাম সাইজের দুই কলাম বিশিষ্ট পত্রিকা। প্রথম সংখ্যা থেকে পত্রিকা ৮ পৃষ্ঠায় ছাপা হতো, কিন্তু দ্বাদশ সংখ্যা থেকে পৃষ্ঠা সংখ্যা বাড়িয়ে ১২ করা হয়। শুরুতে পত্রিকার প্রতি সংখ্যার অভিহিত মূল্য ছিল ২০ পয়সা এবং তৃতীয় সংখ্যা থেকে মূল্য নির্ধারিত হয় ২৫ পয়সা। জয়বাংলা পত্রিকার মূল শিরোনামের ডিজাইন করেন কামরুল হাসান। পত্রিকাটি ১৯৭১ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
জয়বাংলা পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় মুদ্রিত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের [[স্বাধীনতা ঘোষণা|স্বাধীনতার ঘোষনা]]। মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি এবং শরণার্থীদের সার্বিক অবস্থার পর্যালোচনা ছাড়াও এ পত্রিকায় কয়েকটি নিয়মিত বিভাগ ছিল, যেমন রণাঙ্গনে, বিশ্বজনমত, বুমেরাং, শিল্প সংস্কৃতি। এছাড়া ছিল ধারাবাহিক রচনা ‘একটি যুদ্ধ: বহু ইতিহাস’, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের ‘লাখো শহীদের লাশের তলায় পাকিস্তানকে কবর দিয়েছে কারা, আমরা না তোমরা’, ‘হুশিয়ার! ইয়াহিয়া-টিক্কা হুশিয়ার’, আওয়ামী লীগের মেনিফেস্টোর কয়েকটি দিক ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
জয়বাংলা পত্রিকার সম্পাদকীয় ও প্রশাসনিক দপ্তরে যারা কর্মরত ছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আবদুর রাজ্জাক চৌধুরী (সহকারি সম্পাদক, বার্তা), আসাদ চৌধুরী (সহকারি সম্পাদক, ফিচার), রনজিত নিয়োগী (সহকারি সম্পাদক, বার্তা), সংবাদ লেখক ড. ইবনে গোলাম সামাদ, আবদুল মঞ্জুর, গোলাম সারোয়ার, রবীন্দ্র গোপ, অনু ইসলাম (নজরুল ইসলাম), আবদুল লতিফ সিদ্দিকী; ফিচার লেখক সাজিউল হক, প্রকাশনা বিভাগের সহকারি এমএ মোহাইমিন, ফটোগ্রাফার রবিউল আলম, মুখ্য হিসাবরক্ষক অজিত কুমার দত্ত, হিসাবরক্ষক পার্থ ঘোষ, প্রচার কার্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত সারোয়ার জাহান, এবং পিয়ন রাখাল চন্দ্র।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Jai Bangla, The]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%97%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C_%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%97&amp;diff=19989</id>
		<title>হাজীগঞ্জ দুর্গ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%97%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C_%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%97&amp;diff=19989"/>
		<updated>2015-04-17T16:30:50Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;হাজীগঞ্জ দুর্গ&#039;&#039;&#039;  নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজীগঞ্জ এলাকায় শীতলক্ষ্যার পশ্চিম তীরে অবস্থিত। এটি খিজিরপুর দুর্গ নামেও পরিচিত। জলদুর্গের বৈশিষ্ট্য মন্ডিত দুর্গটি শীতলক্ষ্যার সঙ্গে পুরাতন বুড়িগঙ্গার সঙ্গমস্থলে নির্মিত হয়। সম্ভবত মুগল সুবাদার ইসলাম খান কর্তৃক ঢাকায় মুগল রাজধানী স্থাপনের অব্যবহিত পরে নদীপথে মগ ও পর্তুগীজ জলদস্যুদের আক্রমণ প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে দুর্গটি নির্মিত হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
চতুর্ভুজাকৃতির এই দুর্গের পঞ্চভুজি বেষ্টন-প্রাচীরে রয়েছে বন্দুক ঢুকিয়ে গুলি চালাবার উপযোগী ফোকর এবং চারকোণে গোলাকার বুরুজ। প্রাচীরের চারদিকে অভ্যন্তরভাগে দেয়ালের ভিত থেকে ১.২২ মিটার উঁচুতে রয়েছে চলাচলের পথ এবং এর দেয়ালেও আছে গুলি চালাবার উপযোগী ফোকর। চারকোণের প্রতিটি বুরুজের অভ্যন্তরভাগে দুর্গ প্রাচীরের শীর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত সিঁড়ি এবং এর বপ্র বহির্গত অংশে রয়েছে বন্দুকে গুলি চালাবার প্রশস্ততর ফোকর।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[Image:HajiganjFort.jpg|thumb|400px|হাজীগঞ্জ দুর্গ, নারায়ণগঞ্জ]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
দুর্গের চতুর্ভুজাকৃতির অঙ্গনের এক কোণে রয়েছে ইটের তৈরি একটি সুউচ্চ চৌকা স্তম্ভ। এটি সম্ভবত একটি পর্যবেক্ষণ বুরুজ। এই স্তম্ভের অবস্থান থেকেই দুর্গটিকে সমসাময়িক অপরাপর জলদুর্গের সমগোত্রীয় বলে ধরে নেয়া যায়। কামান বসানোর উপযোগী উঁচু বেদীর অবস্থান দুর্গটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
নদীর দিকে দুর্গের একমাত্র প্রবেশপথ থেকে বোঝা যায় যে, শুধুমাত্র নদীপথেই দুর্গের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিল। ফটকটির আয়াতাকার কাঠামোতে রয়েছে পঞ্চভূজি প্রবেশপথ। প্রবেশপথের দু’পাশে রয়েছে খোদাই করা আয়তাকার খিলান এবং এর শীর্ষভাগ পদ্মফুলের অলঙ্করণ শোভিত। দুর্গের অভ্যন্তরে অপর কোনো নির্মাণ কাঠামো না থাকায় প্রতীয়মান হয় যে, বর্ষা মৌসুমে যখন জলদস্যুদের আক্রমণের সম্ভাবনা দেখা দিত কেবলমাত্র তখনই দুর্গটিতে সৈন্য মোতায়েন করা হতো এবং সৈন্যরা সেখানে তাঁবুতে আশ্রয় নিত।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
দুর্গ এলাকার ব্যাপক অংশ জুড়ে এখন রয়েছে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার ব্রিগেড সদর দফতর।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Hajiganj Fort]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8&amp;diff=19988</id>
		<title>ওয়াহিদুজ্জামান</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8&amp;diff=19988"/>
		<updated>2015-04-17T16:30:14Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
[[Image:Wahiduzzaman.jpg|thumb|right|ওয়াহিদুজ্জামান]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;ওয়াহিদুজ্জামান&#039;&#039;&#039; (১৯১২-১৯৭৬)  রাজনীতিক। গোপালগঞ্জ  জেলার সীতারামপুর গ্রামে ১৯১২ সালে তাঁর জন্ম। ডাক নাম ঠান্ডা মিয়া। ওয়াহিদুজ্জামান কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে ১৯৩২ সালে বি.এ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৫ সালে বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ইসলামিয়া কলেজ স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টস ইউনিয়নের আন্ডার সেক্রেটারি ছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কর্মজীবনের শুরুতেই ওয়াহিদুজ্জামান মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগের কাউন্সিলর এবং বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ছিলেন। ওয়াহিদুজ্জামান ১৯৪২ সালে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। মুসলিম লীগের নেতা হিসেবে তিনি পাকিস্তান আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ওয়াহিদুজ্জামান রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হন। তিনি ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য এবং ১৯৬২ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত নিখিল পাকিস্তান মুসলিম লীগ (কনভেনশন) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি দ্বিধা বিভক্ত কনভেনশন মুসলিম লীগের (১৯৬৯) কাইউম গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ওয়াহিদুজ্জামান ১৯৫১ সালে পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬২ সালে [[মৌলিক গণতন্ত্র|মৌলিক গণতন্ত্র]] ব্যবস্থায় ফরিদপুর-৩ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ওই বছর জুন মাসে তিনি আইউব সরকারের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৫ সালে মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় ফরিদপুর থেকে পুনরায় তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ওয়াহিদুজ্জামান ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
রাজনীতির বাইরে ওয়াহিদুজ্জামান কতিপয় সংস্থার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ছিলেন বেঙ্গল কোঅপারেটিভ অর্গানাইজেশনের সেক্রেটারি (১৯৩৮-১৯৪৫), কলকাতা কর্পোরেশনের কাউন্সিলর (১৯৪০-১৯৪৩), পূর্ব পাকিস্তান কোঅপারেটিভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পাকিস্তান স্টেট ব্যাংকের বোর্ড অব ডাইরেক্টর্সের সদস্য (১৯৪৮-১৯৫০)। তিনি ঢাকায় প্রতিষ্ঠান করেন স্বীয় মালিকানাধীন জামান ইন্ডাস্ট্রিয়াল কর্পোরেশন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ওয়াহিদুজ্জামান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেন। তিনি ছিলেন পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সহযোগী সংগঠন শান্তি কমিটির অন্যতম নেতা। ১৯৭৬ সালের ২১ অক্টোবর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Wahiduzzaman]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%AE%E0%A6%A6,_%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%8F%E0%A6%AE_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%A8&amp;diff=19987</id>
		<title>আহমদ, এবিএম শামসুদ্দীন</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%AE%E0%A6%A6,_%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%8F%E0%A6%AE_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%A8&amp;diff=19987"/>
		<updated>2015-04-17T16:30:04Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;আহমদ, এবিএম শামসুদ্দীন&#039;&#039;&#039; (১৯৪৪-২০০৯)  শিক্ষাবিদ ও গবেষক। ১৯৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মাদারীপুরে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা মোল্লা বশিরউদ্দিন আহমদ এবং মাতা শামসুন্নাহার। শামসুদ্দীন আহমদ ১৯৬০ সালে মাদারীপুরের ইউআইএম হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং ১৯৬২ সালে মাদারীপুর কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে ইতিহাসে বিএ (সম্মান) এবং ১৯৬৬ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর অভিসন্দর্ভের বিষয় ছিল Bengal under the Rule of the Early Ilias Shahi Dynasty।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[Image:AhmedABMShamsuddin.jpg|thumb|400px|right|এবিএম শামসুদ্দীন আহমদ]]&lt;br /&gt;
শামসুদ্দীন আহমদ ঝালকাঠি কলেজে ইতিহাসের অধ্যাপক হিসেবে ১৯৬৭ সালে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ১৯৬৯ সালে তিনি সরকারের শিক্ষা বিভাগে ইতিহাসের প্রভাষক পদে নিয়োগ লাভ করে সিলেট সরকারি কলেজে যোগ দেন। তিনি ১৯৮০ সালে সহকারি অধ্যাপক, ১৯৯১ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ১৯৯৭ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি মাদারীপুরে সরকারি নাজিমুদ্দীন কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগ দেন। ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তিনি ওই পদে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি জাতীয় কারিকুলাম ও টেক্সটবুক বোর্ডে কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ হিসেবে ডেপুটেশনে কর্মরত ছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
শামসুদ্দীন আহমদ তাঁর চাকুরিকালে কতিপয় পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি জাতীয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (NIEAR) থেকে ১৯৭৭ সালে ‘পপুলেশন এডুকেশন’ এবং ১৯৮৬ সালে ইতিহাসে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৯৬ সালে তিনি মালয়েশিয়ায় ‘কারিকুলাম রিনিউয়াল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ে ছয় সপ্তাহের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। শিক্ষকতা ও শিক্ষা প্রশাসনে দক্ষতার জন্য তিনি ১৯৮৮ সালে জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষক’ পুরস্কার এবং ১৯৯৮ সালে জেলা পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ’ পুরস্কার লাভ করেন। সরকারি চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি ২০০২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে নিয়োগ লাভ করেন এবং ২০০৫ সাল পর্যন্ত ওই পদে কর্মরত ছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
শামসুদ্দীন আহমদের বেশসংখ্যক নিবন্ধ বিভিন্ন সাময়িকী ও পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: ইতিহাস সম্পর্কিত রচনাবলী: দিল্লীর সুলতানী আমল (১৯৭৭), আধুনিক ইংল্যান্ডের ইতিহাস (১৯৭৮), বাংলাদেশের ইতিহাস (২০০৬) এবং ইখতিয়ারউদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজী শীর্ষক পুস্তিকা (২০০৪)। তিনি ছিলেন প্রাচীন বিশ্ব ও বাংলাদেশের ইতিহাস গ্রন্থের সম্পাদক এবং ইতিহাস সমিতি পত্রিকার সহ-সম্পাদক (১৯৯৫-১৯৯৭)। শামসুদ্দীন আহমদ বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার সহ-সম্পাদক এবং বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির ‘কালচারাল সার্ভে অব বাংলাদেশ’ প্রকল্পের গবেষণা সহযোগী পদে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। ২০০৯ সালের ১০ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Ahmed, ABM Shamsuddin]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%A8_%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A7%81_%E0%A6%A4%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE&amp;diff=19986</id>
		<title>শরফুদ্দীন আবু তওয়ামা</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%A8_%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A7%81_%E0%A6%A4%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE&amp;diff=19986"/>
		<updated>2015-04-17T16:29:37Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;শরফুদ্দীন আবু তওয়ামা&#039;&#039;&#039;  বিশিষ্ট আলেম, সুফি ও ইসলামি আইনবিদ। বোখারায় তাঁর জন্ম, শিক্ষালাভ করেন খোরাসানে। হানাফী আইনশাস্ত্রজ্ঞ ও হাদিসবেত্তা হিসেবে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। রসায়ন, জড়বিজ্ঞান ও জাদুবিদ্যায় তিনি ছিলেন পারদর্শী। খ্রিস্টীয় তের শতকের শেষ পাদে তিনি সোনারগাঁয়ে এসে বসতি স্থাপন করেন। সোনারগাঁয়ে তাঁর আগমনের সঠিক তারিখ জানা যায় নি। সুলতান গিয়াসউদ্দীন বলবনের শাসনকালে (১২৬৬-৮৭) তিনি দিল্লিতে পৌঁছেন এবং সেখান থেকে বাংলায় আসেন। ১২৮২ থেকে ১২৮৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কোনো এক সময় তিনি বাংলায় আসেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর ছাত্র ও পরবর্তীকালে বিহারের সুফি সাধক [[শরফুদ্দীন ইয়াহিয়া মানেরী|শরফুদ্দীন ইয়াহিয়া মানেরী]] আবু তওয়ামার সঙ্গে সোনারগাঁওয়ে এসেছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সোনারগাঁয়ে আবু তওয়ামা তাঁর [[খানকাহ|খানকাহ]] ও একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে ইসলামি ধর্মতত্ত্ব ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় শিক্ষাদান করা হতো। শরফুদ্দীন ইয়াহিয়া মানেরী সোনারগাঁয়ে আবু তওয়ামার নিকট দীর্ঘ বাইশ বছরকাল শিক্ষালাভ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আবু তওয়ামা তাছাওয়াফ (ইসলামি সুফিবাদ) বিষয়ে মাকামাত নামে একটি গ্রন্থ সংকলন করেন। তবে এই গ্রন্থের কোন কপি পাওয়া যায় নি। ফারসি ভাষায় [[নাম-ই-হক|নাম]][[নাম-ই-হক|-ই]][[নাম-ই-হক|-হক]] শীর্ষক ফিকাহ শাস্ত্রীয় একটি গ্রন্থের উল্লেখ পাওয়া যায়। এটি সম্ভবত তাঁরই রচিত অথবা তাঁর নসিহতের ভিত্তিতে তাঁর কোন অনুসারী কর্তৃক সংকলিত। এতে ১৮০টি কবিতা রয়েছে। গ্রন্থটি ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে বোম্বাই এবং ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে কানপুর থেকে প্রকাশিত হয়। সমসাময়িক লেখক শাহ শুয়াইব তাঁর মানাক্কিবুল আসফিয়া নামক গ্রন্থে আবু তওয়ামার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ভারতীয় উপমহাদেশ, আরব, ইরানসহ মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৩০০ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁয়ে আবু তওয়ামার মৃত্যু হয়। মোগরাপাড়ায় দরগাহবাড়ি প্রাঙ্গণে খানকাহ ও মাদ্রাসাস্থলের সন্নিকটস্থ গোরস্থানে তাঁর সমাধি রয়েছে।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Sharfuddin Abu Tawwama]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Sharfuddin Abu Tawwama]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Sharfuddin Abu Tawwama]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BF&amp;diff=19985</id>
		<title>দরগাহবাড়ি</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BF&amp;diff=19985"/>
		<updated>2015-04-17T16:29:30Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:Banglapedia]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;দরগাহবাড়ি&#039;&#039;&#039;  সোনারগাঁয়ের সাদিপুর গ্রামে (নগর সাদিপুর) দমদমার পূর্বদিকে এবং মোগড়াপাড়া বাজার সন্নিহিত উত্তরপাশে অবস্থিত ধর্মীয় ইমারত সম্বলিত একটি কমপ্লেক্স। বিস্তীর্ণ পরিসরের এ কমপ্লেক্সে রয়েছে একটি উন্মুক্ত চত্বর,খানকাহ ভবন, সমাধিসৌধ, মধ্যযুগের একটি মসজিদ, নহবতখানা, দেয়াল বেষ্টিত গোরস্তান, পুরানো ইমারতের ধ্বংসাবশেষ এবং পূর্বপ্রান্তে একটি বৃহৎ পুকুর। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;নহবতখানা&#039;&#039;  দরগাহবাড়ি কমপ্লেক্সের প্রবেশপথেই রয়েছে নহবতখানা (বাদ্যঘর) নামে পরিচিত একটি ভগ্নপ্রায় ইমারত। এটি মুসলিম শাসকদের আমলে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়। একসময় সকাল বিকাল এখানে বাদ্য বাজিয়ে বহিরাগত সফরকারী এবং ভ্রাম্যমান ফকির-দরবেশদের জানান দেওয়া হতো যে, সন্নিকটেই একটি আশ্রয়স্থল বা মুসাফিরখানা আছে। চৌচালা ছাদবিশিষ্ট আয়তাকার এই ইমারতটি অভ্যন্তরভাগে দৈর্ঘ্যে ৪.৬ মিটার এবং প্রস্থে ২.২৫ মিটার। আপাত দৃষ্টিতে এটিকে একটি দোতলা ইমারত বলে মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এর নিচতলায় একটি প্রবেশপথ এবং উপরের তলায় রয়েছে নহবতখানা। ইমারতটির গঠন কাঠামো থেকে কোনো কোনো স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ অনুমান করেন যে, নহবতখানাটি মূলত ছিল একটি প্রাসাদ-তোরণের অংশ এবং এই দ্বিতল তোরণের উপরের কক্ষেই ছিল নহবতখানা। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;সমাধিসৌধ&#039;&#039;  নহবতখানার উত্তরদিকে অবস্থিত আধুনিক ইমারতটি বর্তমানে দরগাহবাড়ির খানকাহ ভবন। খানকাহ ভবন সন্নিহিত উত্তরপাশে কবরগাহে রয়েছে তিনটি সমাধিসৌধ। পশ্চিমদিকের কুড়েঘর আকৃতির চৌচালা ছাদ এবং গম্বুজ বিশিষ্ট চতুর্ভুজাকৃতির সৌধে সমাহিত আছেন [[ইবরাহিম দানিশমন্দ, সাইয়্যিদ|সাইয়্যিদ ইবরাহিম দানিশমন্দ]]। মধ্যবর্তী সৌধে সমাহিত আছেন সাইয়্যিদ ইবরাহিম দানিশমন্দের পুত্র সাইয়্যিদ আরিফ বিল্লাহ (ওরফে শেখ মাহমুদ), এবং এর পূর্বদিকের সৌধটিতে রয়েছে সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইউসুফ ও তাঁর স্ত্রীর কবর। মধ্যবর্তী ও পূর্বদিকের দুটি সমাধিসৌধ গম্বুজ বিশিষ্ট, পরস্পর যুক্ত জোড়-ইমারত। দুটি সৌধের গম্বুজ শীর্ষে রয়েছে প্রলম্বিত চূড়া। কথিত আছে, এই চূড়া দুটি নির্মাণকালে সোনার পাতে মোড়ানো ছিল অথবা আস্ত সোনার তৈরি ছিল। পলেস্তারা দেয়াল বিশিষ্ট আয়তাকার দুটি সৌধের কুটির আকৃতির চৌচালা ছাদ পরস্পর যুক্ত। কবরগাহের খোলা চত্বরে বেশ ক’টি বাঁধানো কবর রয়েছে। এদের বেশিরভাগই সাইয়্যিদ দানিশমন্দের পরিবারের লোকজনের সমাধি। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;কবরস্থান&#039;&#039;  খানকাহ প্রাঙ্গণের উত্তরপূর্ব কোণে রয়েছে একটি দেয়ালঘেরা কবরস্থান। এখানে উত্তরপাশে রয়েছে উঁচু করে বাঁধানো ভিতে সারিবদ্ধ পাঁচটি কবর। পূর্বদিক থেকে দ্বিতীয় এবং শীর্ষভাগ লাল রঙে রঞ্জিত কবরটি মওলানা শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামার বলে চিহ্নিত। অপর চারটি কবরে সুলতান ও শাসনকর্তারা সমাহিত আছেন বলে জনশ্রুতি আছে। কবরস্থানের দক্ষিণ অংশে ধ্বংসপ্রায় বাঁধানো ভিতে রয়েছে পাশাপাশি দুটি কবর। এগুলো সম্ভবত মওলানা শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামার সঙ্গী সুফি-দরবেশদের সমাধি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;অপরাপর স্থাপনা&#039;&#039;  সমাধি অঙ্গনের উত্তরদিকে [[ফতেহ শাহ মসজিদ|ফতেহ শাহ মসজিদ]] (১৪৮৪) অবস্থিত। এর কিছুটা উত্তর পশ্চিমে রয়েছে পীর  সাহেবদের আবাসস্থলের ধ্বংসাবশেষ। সেখানে এখনও দুটি ভগ্নপ্রায় ইমারতের অবস্থান লক্ষণীয়। এর একটি ছিল দোতলা ইমারত এবং এতে ছিল ভূগর্ভস্থ চিলাকোঠা। চিলাকোঠাটি ছিল তিন কামরা বিশিষ্ট আয়তাকার এক তলা ইমারত। অপর ইমারতটিতে রয়েছে একটি বিশাল হলঘর এবং এর দেয়াল প্লাস্টারে তৈরি জালি আকৃতির নকশা শোভিত। এই ইমারতটি মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহূত হতো। এসব ইমারতের পশ্চিমদিকে ভূমি সমতল নির্মাণকার্যের অবশেষ পরিদৃষ্ট হয়। এ প্রাঙ্গণে এককালের লঙ্গরখানা হিসেবে চিহ্নিত তাহ্য়িল বা তাহাখানার (কোষাগার) কোনো অস্তিত্ব এখন আর নেই। বর্তমানে মসজিদের উত্তরদিকে কতিপয় আধুনিক ইমারত গড়ে উঠেছে। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বর্তমান দরগাহবাড়ি একসময় ছিল  সাইয়্যিদ ইবরাহিম দানিশমন্দ, সাইয়্যিদ আরিফ বিল্লাহ এবং সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইউসুফের ন্যায় মশহুর সুফিসাধকদের [[খানকাহ|খানকাহ]]। সম্ভবত এখানেই অবস্থিত ছিল তেরো শতকের শেষ পাদে গড়ে উঠা ইসলামী জ্ঞানচর্চার বিখ্যাত পাদপীঠ মওলানা [[শরফুদ্দীন আবু তওয়ামা|শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা]] কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত খানকা ও মাদ্রাসা। সাইয়্যিদ ইবরাহিম দানিশমন্দের বংশধররা বর্তমানে দরগাহবাড়ির তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত রয়েছেন।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Dargabari]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%96%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8_%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%80_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B9&amp;diff=19984</id>
		<title>ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%96%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8_%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%80_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B9&amp;diff=19984"/>
		<updated>2015-04-17T16:29:27Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহ&#039;&#039;&#039; (১৩৪৯-১৩৫২)  বাংলার সুলতান। তিনি ছিলেন বাংলায় প্রথম মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা সোনারগাঁয়ের সুলতান ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের (১৩৩৮-১৩৪৯) উত্তরাধিকারী। বাংলার লিপিবদ্ধ ইতিহাসে তিনি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত, তাতে তাঁর নামের কোনো উল্লেখই নেই। শুধুমাত্র প্রাপ্ত মুদ্রা থেকেই তাঁর পরিচয় পাওয়া যায়। একমাত্র মালফুয-উস-সফর শীর্ষক একটি সুফি গ্রন্থে তাঁর নামের উল্লেখ রয়েছে। ৭৫০ হিজরির (১৩৪৯ খ্রি) কোনো এক সময় থেকে তাঁর পূর্বসূরী ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের মুদ্রা জারী বন্ধ হয়ে যায় এবং ওই সময়ই তাঁর মৃত্যু হয়। একই বছর থেকে ইখতিয়ারউদ্দিন গাজীশাহ কর্তৃক সোনারগাঁ টাকশাল থেকে এক নাগাড়ে ৭৫৩ হিজরি (১৩৫২ খ্রি) পর্যন্ত মুদ্রা জারি করা হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ উত্তরাধিকারী ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহের সম্পর্ক নিয়ে মতভেদ রয়েছে। স্বীয় মুদ্রায় ইখতিয়ারউদ্দিন নিজেকে ‘আল-সুলতান বিন আল-সুলতান’ রূপে আখ্যায়িত করেন। উভয়ের জারীকৃত মুদ্রার তারিখের অখন্ড ধারাবাহিকতা, একই টাকশাল থেকে এদের মুদ্রণ, মুদ্রার ধরনে পূর্ণ সাদৃশ্য, উভয়ের গৃহীত খেতাবের মধ্যকার সাযোজ্য এবং ইখতিয়ারউদ্দিন কর্তৃক মুদ্রায় নিজেকে ‘আল-সুলতান বিন আল-সুলতান’ রূপে আখ্যায়িত করা, এসব বিবেচনায় ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহকে নিঃসন্দেহে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্ররূপে শনাক্ত করা যায়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইখতিয়ারউদ্দিন গাজীশাহের শাসনকাল সম্পর্কে বিশেষ কিছুই জানা যায় নি। তিনি সমগ্র পূর্ববঙ্গ এবং দক্ষিণ বঙ্গের পূর্বাংশে বিস্তৃত এক রাজ্যে তিন বছরকাল রাজত্ব করেন। একটি সূত্র থেকে জানা যায় যে, আরাকান রাজ মেংদি ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম অধিকার করেন। এর থেকে অনুমান করা যায় যে, ১৩৪০ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ কর্তৃক চট্টগ্রাম বিজিত হওয়ার পর থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চল সোনারগাঁ সালতানাতের অংশ ছিল এবং তাঁর উত্তরাধিকারী ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহের শাসনের দ্বিতীয় বর্ষে চট্টগ্রাম সোনারগাঁ রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সুলতান ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহ ৭৫৩ হিজরি (১৩৫২ খ্রি) পর্যন্ত সোনারগাঁর মসনদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এ সময় লক্ষণাবতীর সুলতান শামসু&amp;amp;amp;&amp;amp;amp;দ্দন ইলিয়াসশাহ সোনারগাঁ অধিকারের জন্য স্বয়ং অভিযান পরিচালনা করেন। যুদ্ধে ইখতিয়ারউদ্দিন পরাজিত ও নিহত হন। এরূপে সোনারগাঁয়ে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের বংশের স্বাধীন সালতানাত শাসনের অবসান ঘটে। সোনারগাঁ সালতানাতের অধীন সমগ্র ভূখন্ড লক্ষণাবতী রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Ikhtiyaruddin Ghazi Shah]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%9C%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%B2,_%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%9C%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A6_%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B2&amp;diff=19983</id>
		<title>জলিল, মেজর মোহাম্মদ আবদুল</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%9C%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%B2,_%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%9C%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A6_%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B2&amp;diff=19983"/>
		<updated>2015-04-17T16:29:14Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
[[Image:JalilMajorMA.jpg|thumb|400px|right|মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;জলিল, মেজর মোহাম্মদ আবদুল&#039;&#039;&#039; (১৯৪২-১৯৮৯)  সামরিক কর্মকর্তা, রাজনীতিক। বরিশাল জেলার উজিরপুরে ১৯৪২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা জনাব আলী শিকদার ছিলেন একজন ক্ষুদে ব্যবসায়ী। এম.এ জলিল উজিরপুর ডব্লিউ বি ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন থেকে ১৯৫৯ সালে প্রবেশিকা এবং পাকিস্তানের মারী ইয়ং ক্যাডেট ইনস্টিটিউশন থেকে ১৯৬১ সালে আই.এ পাস করেন। আবদুল জলিল ১৯৬২ সালে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে ট্রেনী অফিসার হিসেবে যোগ দেন। সামরিক বাহিনীতে চাকুরিরত অবস্থায় তিনি বি.এ এবং ইতিহাসে এম.এ  ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পান এবং ১৯৭০ সালে মেজর পদে উন্নীত হন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মুলতানে কর্মরত থাকাকালে তিনি ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ছুটি নিয়ে বরিশালে আসেন এবং পরে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। তাঁকে ৯ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়। কিন্তু নভেম্বর মাসে তাঁকে এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৭২ সালের অক্টোবর মাসে [[জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল|জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল]] (জাসদ) নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনে মেজর জলিল অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। তিনি ছিলেন এ দলের যুগ্ম আহবায়ক। ২৬ ডিসেম্বর দলের কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বে জাসদ দেশে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মকান্ড পরিচালনা করে এবং বরাবরই সরকারবিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় থাকে। মেজর জলিল ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু কোনো আসনেই তিনি জয়লাভ করতে পারেন নি। ১৯৭৪ সালের ১৭ মার্চ দলীয় কর্মীদের নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ঘেরাও অভিযানকালে তিনি গ্রেফতার হন। ১৯৭৫ সালের ৮ নভেম্বর তিনি মুক্তিলাভ করেন। সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র এবং অবৈধ পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টার অভিযোগে সামরিক সরকার কর্তৃক ২৫ নভেম্বর পুনরায় তিনি গ্রেফতার হন। বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচারে ১৯৭৬ সালের ১৮ জুলাই তিনি যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হন। ১৯৮০ সালের ২৪ মার্চ তিনি মুক্তিলাভ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, ওয়ার্কার্স পার্টি ও কৃষক-শ্রমিক সমাজবাদী দলের সমন্বয়ে গঠিত ত্রিদলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মেজর জলিল ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে দলের সভাপতির পদ থেকে অপসারিত হন। এরপর তিনি জাসদ ত্যাগ করে জাতীয় মুক্তি আন্দোলন নামে একটি নতুন দল গঠন করেন এবং এ দলের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
লেখক হিসেবে মেজর জলিল উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। তাঁর রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ: সীমাহীন সময় (১৯৭৬), দৃষ্টিভঙ্গী ও জীবন দর্শন, সূর্যোদয় (১৯৮২), অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা (১৯৮৯), Bangladesh Nationalist Movement for Unity : A Historical Necessity. তিনি ১৯৮৯ সালের ১৯ নভেম্বর পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মৃত্যুবরণ করেন।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Jalil, Major Mohammad Abdul]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%B0%E0%A6%AB,_%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%9C%E0%A6%B0_%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B2_%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A6&amp;diff=19982</id>
		<title>মোশাররফ, মেজর জেনারেল খালেদ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%B0%E0%A6%AB,_%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%9C%E0%A6%B0_%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B2_%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A6&amp;diff=19982"/>
		<updated>2015-04-17T16:28:55Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
[[Image:MosharrafMajorGeneralKhaled.jpg|thumb|right|মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;মোশাররফ, মেজর জেনারেল খালেদ&#039;&#039;&#039; (১৯৩৭-১৯৭৫)  সামরিক কর্মকর্তা, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার। জামালপুর জেলায় ইসলামপুর উপজেলার মোশাররফগঞ্জ গ্রামে ১৯৩৭ সালের ১ নভেম্বর তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা মোশাররফ হোসেন ছিলেন একজন পাট ব্যবসায়ী এবং তাঁর মা জমিলা আখতার। খালেদ মোশাররফ ইসলামপুর হাইস্কুল ও ময়মনসিংহ জেলা স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তিনি ১৯৫৩ সালে কক্সবাজার হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৫৫ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আই.এ পাস করে কাকুলে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমীতে যোগ দেন। ১৯৫৭ সালে কমিশন লাভের পর তিনি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে দীর্ঘ আট বছর (১৯৫৭-৬৫) সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধকালে খালেদ মোশাররফ চতুর্থ বেঙ্গল রেজিমেন্টের অ্যাডজুট্যান্ট নিযুক্ত হন। যুদ্ধের পরপরই তিনি কাকুল মিলিটারি একাডেমীতে ইন্সট্রাক্টর পদে যোগ দেন। কাকুল একাডেমী থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর খালেদ মোশাররফ মেজর পদে উন্নীত হন। ১৯৬৮ সালে কোয়েটায় কম্যান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে তিনি পি.এস.সি ডিগ্রি লাভ করেন এবং খারিয়ায় ৫৭ ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর নিযুক্ত হন। ১৯৭০ সালের মার্চ মাসে তিনি ঢাকায় বদলি হন এবং এসময় পশ্চিম জার্মানি ও পরে লন্ডনে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ লাভ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
খালেদ মোশাররফ ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে চতুর্থ বেঙ্গল রেজিমেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ঢাকা ও চট্রগ্রামে পাকবাহিনীর আকস্মিক আক্রমণ ও গণহত্যার সংবাদ পেয়ে তিনি ২৭ মার্চ গোপনে ব্রাণবাড়ীয়ায় চলে যান এবং সেখানে তাঁর বাহিনীকে সংগঠিত করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের প্রস্ত্ততি নেন। চতুর্থ বেঙ্গল রেজিমেন্টের কম্যান্ডিং অফিসারের দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি রেজিমেন্টের সব অবাঙালি অফিসারদের বন্দি করেন। কৌশলগত কারণে তিনি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া থেকে তাঁর বাহিনীর সদর দফতর তেলিয়াপাড়া চা বাগানে স্থানান্তর করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত খালেদ মোশাররফ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পাকবাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করেন। কিন্তু তাঁর বাহিনীর উপর শক্রর ঘন ঘন বিমান হামলার ফলে তিনি এপ্রিলের শেষের দিকে তাঁর বাহিনী নিয়ে ত্রিপুরারাজ্যে অবস্থান গ্রহণ করেন। মুজিবনগর সরকার কর্তৃক তিনি ২ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এবং কে র্ফোসের প্রধান নিযুক্ত হন (৩০ এপ্রিল)। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ২ নং সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে তিনি ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর ও নোয়াখালী জেলায় মুক্তিবাহিনীর নেতৃত্ব দেন। যুদ্ধকালে মাথায় শত্রুপক্ষের গুলির আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন (২৩ অক্টোবর) এবং লক্ষ্ণৌ সামরিক হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর আরোগ্য লাভ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
স্বাধীনতার পর খালেদ মোশাররফ ঢাকাস্থ সেনাবাহিনীর সদর দফতরে স্টাফ অফিসার নিযুক্ত হন। পরে তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চীফ অব জেনারেল স্টাফ পদে উন্নীত হন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বীরোচিত অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তিনি ‘বীরউত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন (১৯৭২)।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যা পরবর্তী ঘটনা পরম্পরায় খালেদ মোশাররফ ৩ নভেম্বর এক সামরিক অভ্যুত্থান ঘটান। ৭ নভেম্বর এক পাল্টা অভ্যুত্থানে তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিহত হন।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Mosharraf, Major General Khaled]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Mosharraf, Major General Khaled]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Mosharraf, Major General Khaled]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Mosharraf, Major General Khaled]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A6%97%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%81&amp;diff=19981</id>
		<title>পানামনগর সেতু</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A6%97%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%81&amp;diff=19981"/>
		<updated>2015-04-17T16:28:34Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;পানামনগর সেতু&#039;&#039;&#039;  সোনারগাঁয়ে পানামনগরের পশ্চিম প্রান্তে এবং দালালপুর পুলের কয়েকগজ দক্ষিণে পাকা রাস্তার পূর্বদিকে অবস্থিত একটি এক-খিলানবিশিষ্ট কুব্জ আকৃতির ছোট সেতু। পাকা রাস্তা থেকে পানাম নগরের প্রধান সড়কে যাওয়ার পথে একটি সংকীর্ণ পরিখার উপর সেতুটির অবস্থান।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সেতুপথটি বৃত্তাকারে সন্নিবেশিত ইটের গাঁথুনিতে তৈরি। সেতুর পাদদেশে কালো শিলার তৈরি কয়েকটি বড় স্তম্ভ সমতলভাবে স্থাপন করে তার উপর বসানো হয়েছে ইটের এই গাঁথুনি। সেতুটির দৈর্ঘ্য ২১.৯৫ মিটার এবং প্রস্থ ৪.৭২ মিটার। একসময় সেতুর মুখে দুপাশে দুটি টাওয়ার ছিল এবং তাতে বসানো ছিল একটি ফটক। স্থাপত্যরীতি থেকে বোঝা যায় যে, সেতুটি মুগল আমলের এবং সম্ভবত পানাম সেতু ও দালালপুর পুল নির্মাণের পরে নির্মিত। সেতুতে দুপাশে টাওয়ার ও ফটক সংযোজনের কাজটি সম্ভবত পানামনগর গড়ে উঠার সময় সম্পন্ন হয়ে থাকবে।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Panamnagar Bridge]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%BF&amp;diff=19980</id>
		<title>ফারসি</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%BF&amp;diff=19980"/>
		<updated>2015-04-17T16:28:10Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;সোহ্রাওয়ার্দী&amp;quot; to &amp;quot;সোহ্‌রাওয়ার্দী&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;ফারসি&#039;&#039;&#039;  ভাষা ও সাহিত্যের উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটে ইরানে। বর্তমান ইরান যে সভ্যতা ও কৃষ্টির ওপর প্রতিষ্ঠিত তা প্রধানত ইলামি (Elamite) সভ্যতা। খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দের প্রথমভাগে দক্ষিণ ইরানে এই সভ্যতার পত্তন হয় বলে মনে করা হয়। ইরানের বর্তমান অধিবাসীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই আর্য বংশোদ্ভূত। আর্যরা খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে মধ্য এশিয়ার সমভূমি থেকে ইরানে অভিবাসন শুরু করে বলে ঐতিহাসিকদের ধারণা। ওই এলাকার আদিবাসী এবং অভিবাসিত আর্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও মেলামেশার ফলে একটি নতুন ভাষা ও সংস্কৃতির উদ্ভব ঘটে। এই নতুন ভাষাটিই ফারসি ভাষা। এ ভাষা চারটি পর্যায়ে বিকাশ লাভ করে: আবেস্তা, প্রাচীন ফারসি, পাহলভি ও আধুনিক ফারসি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;আবেস্তা&#039;&#039;  Zoroasterian ধর্মমতের প্রবক্তা ইরানের আদি ধর্মগুরু Zoroaster (খ্রি.পূ ১১০০) কর্তৃক প্রবর্তিত ধর্মগ্রন্থ কিতাবে আবেস্তার ভাষা। উত্তর ইরানের মিডিয়া এলাকায় এ ভাষার উৎপত্তি। কিতাবে আবেস্তার পাঁচটি অংশ। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীন অংশ ‘গাথা’ নামে পরিচিত এবং ভাষাতাত্ত্বিক দিক থেকে এটি মোটামুটিভাবে ঋগ্বেদের সম পর্যায়ের। আবেস্তার অবশিষ্ট অংশগুলি পরবর্তী সময়ের এবং সেগুলির বিষয়বস্ত্ত বিভিন্ন সময়ে লিখিত হয়েছে। প্রথমদিকে আবেস্তা ছিল মৌখিক ভাষা; পরে লিখিত আকারে প্রকাশিত হওয়ার পূর্বেই এর ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায় এবং তখন এটি একটি মৃত ভাষায় পরিণত হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;প্রাচীন ফারসি&#039;&#039;  খ্রিস্টপূর্ব ৫৫০ সালের দিকে হাখামানশিদের যুগে ইরানে এ ভাষার প্রচলন ছিল। এ ভাষা সাংকেতিক মিখ বা পেরেক আকৃতির চিহ্ন বিশেষের মাধ্যমে লেখা হতো। ভাষাটি কেবল রাজকীয় নির্দেশাবলি প্রচারের কাজেই ব্যবহূত হতো, কারণ স্বল্পসংখ্যক লোক এর পাঠ জানত। বিসতুন পর্বত ও নাকশে রোস্তমের পাথরে এবং পারসিপোলিস প্রাসাদের দেয়াল ও স্তম্ভে খোদাই করা শিলালিপিতে এ ভাষার কিছু নিদর্শন পাওয়া গেছে। এ ভাষা আবেস্তার কাছাকাছি এবং এতে রয়েছে উচ্চ পর্যায়ের শব্দরূপ ও স্বরবিভেদ; তাছাড়া ব্যাকরণগত দিক থেকে  [[সংস্কৃত|সংস্কৃত]] ও ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্যান্য প্রাচীন ভাষাসমূহের সঙ্গে এর অনেকাংশে সাদৃশ্য রয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;পাহলভি&#039;&#039;  আশকানিযুগে (খ্রি.পূ ২৪৯-২২৬) পাহলভি বা মধ্য ফারসি নামে ইরানে আর একটি ভাষার উদ্ভব ঘটে। এটি মূলত আবেস্তা ও প্রাচীন ফারসির বিবর্তিত রূপ। পরবর্তীতে সাসানিদের রাজত্বকালে (খ্রি.পূ ২২৬-৬৫২) এ ভাষার উচ্চারণ ও আঙ্গিকগত উৎকর্ষ সাধিত হয়। এভাবে আশকানি ও সাসানিদের রাজত্বকাল মিলে প্রায় এক হাজার বছরব্যাপী এ ভাষা ইরানে প্রচলিত ছিল। আশকানি যুগে পাহলভি ভাষায় কিছু গ্রন্থ লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু দুচারটি ছাড়া সেগুলির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রাচীন ইরানের ইতিহাসে সাসানিদের রাজত্বকালকেই স্বর্ণযুগ বলে মনে করা হয়। এ যুগে ইরানের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রভূত উন্নতি লাভ করে। এরাই প্রথমে গ্রিক ও ভারতীয় মূল্যবান বইপত্র পাহলভি ভাষায় অনুবাদ করতে শুরু করে। স্মরণীয় যে, বিখ্যাত সাসানি সম্রাট নওশেরওয়ান ভারতের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ পঞ্চতন্ত্র পাহলভি ভাষায় অনুবাদ করান। পরবর্তীকালে সামানিযুগের (৮৭৪-৯৯৮ খ্রি) প্রসিদ্ধ অন্ধ কবি রুদাকি এর কাব্যানুবাদ করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
পাহলভি ভাষায় বেশকিছু রম্যরচনা, ঘটনাপঞ্জি,  [[ছোটগল্প|ছোটগল্প]], কবিতা, গান ইত্যাদি রচিত হয় এবং পরবর্তীতে ফারসি কবিরা সেগুলির কিছু কিছু আধুনিক ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেন। দৃষ্টান্তস্বরূপ খসরু ও শিরীন, রোস্তমনামা, বাহরামনামা, ইস্কান্দারনামা ইত্যাদির নাম উল্লেখ করা যায়। এছাড়াও সাসানিযুগের পাহলভি ভাষায় রচিত হেজার দাস্তান (হাজার কাহিনী) কাব্যটি ফারসি ভাষায় অনুবাদ করা হয় এবং পরে আলফা-লাইলা ওয়া লাইলা (এক হাজার এক রজনী) নামে সেটি আরবি ভাষায় অনূদিত হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;আধুনিক ফারসি&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;  শেষ সাসানি সম্রাট ইয়াযদগারদ ৩য় (৬৬৪-৬৫২ খ্রি)-এর রাজত্বকালে মুসলমানগণ কর্তৃক ইরান দখলের পর ইরানের জনগণ বিপুলভাবে  [[ইসলাম|ইসলাম]] ধর্মে দীক্ষিত হয়। ফলে আরবি ভাষার প্রভাবে পাহলভি ভাষা ক্রমান্বয়ে ফারসিতে রূপান্তরিত হতে থাকে। এভাবেই পাহলভি ভাষার ন্যায় পাহলভি সাহিত্যের অনেক গ্রন্থও বিলুপ্ত হয়ে যায়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এক সময় আরব ভাষাবিদগণ পাহলভি বর্ণমালাকে আরবি বর্ণমালার ধাঁচে পরিবর্তন করেন। কয়েকটি বর্ণের আরবি প্রতিবর্ণ না থাকায় অতিরিক্ত বিন্দু/চিহ্ন প্রয়োগে উক্ত বর্ণগুলি তৈরি করা হয়। যেমন আরবি ‘বে’ হরফের নিচে দুটি বিন্দু দিয়ে ‘পে’, ‘জিম’-এর পেটে দুটি বিন্দু দিয়ে ‘চে’, ‘যে’ হরফের উপরে দুটি বিন্দু দিয়ে ‘ঝে’ এবং ‘কাফ’ হরফের উপরে একটি সোজা রেখাচিহ্ন বসিয়ে ‘গাফ’ বর্ণ তৈরি করা হয়। এভাবেই পাহলভি বর্ণমালা ও ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং ফারসি বর্ণমালা ও আধুনিক ফারসি ভাষার উদ্ভব ঘটে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;বাংলায় ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশ&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;  ইতিহাসের সূচনালগ্ন থেকেই ইরান ও বাংলা পরস্পরের সংস্পর্শে আসে। ভারতের নৌবন্দরসমূহ, যেমন: দেবল, নিরুন, সুপারাকা, বাড়িগাজা, টাগারা, মুজিরিস, নেলকিনডা, আরিয়েক, তাম্রলিপ্তি, গাঙ্গে, সাপ্তগ্রামা (সাতগাঁও/সপ্তগ্রাম), সরন্দিপ ইত্যাদি থেকে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরণের নৌযান পারস্য উপসাগরের উবুলা, ওমানা, ইউডেইমন, সিরফ, কাইস, হরমুজ, সকোট্রা এবং গেড্রসিয়া উপকূল অতিক্রম করত। বাংলার প্রাচীন নৌবন্দরসমূহ, যেমন: তাম্রলিপ্তি, গাঙ্গে এবং সাপ্তগ্রামা তৎকালীন বাংলার নৌব্যবসা-বাণিজ্যের বিরাট কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। এসব বন্দর প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য উভয় দেশসমূহের ব্যবসায়ী ও নাবিকদের আকৃষ্ট করত। বাংলার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও গ্রেকো-রোমান বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে খ্রিস্টীয় অব্দের শুরু থেকেই তাম্রলিপ্তির গুরুত্ব বাড়তে থাকে। ফলে বাংলার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানের কেবল বাণিজ্যিক সম্পর্কই নয়, সাংস্কৃতিক সম্পর্কও গড়ে ওঠে। ইরানি বণিক ও বাণিজ্যপণ্যের সঙ্গে সঙ্গে সৈন্যবাহিনী, প্রকৌশলী, কারিগর, সুফি, দরবেশ এবং শিল্পীদেরও আগমন ঘটে বাংলায়। এ ধরনের সম্পর্ক পর্যায়ক্রমে রাজদরবার, সমাজ ও শিল্পসাহিত্য পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্ব থেকেই ফারসি ভাষার চর্চা ও  [[ইসলাম|ইসলাম]] প্রচার শুরু হয়। ইরান থেকে আগত সুফি-দরবেশগণ সৈনিক, ব্যবসায়ী ও রাজপুত্রদের কাফেলার সঙ্গে সঙ্গে অগ্রসর হয়ে জনগণের মধ্যে ইসলাম প্রচার করতে থাকেন। এর ফলে দলে দলে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে এবং  [[কুরআন|কুরআন]] ও সুন্নাহ সম্পর্কে জানতে গিয়ে আরবি ও ফারসি ভাষার চর্চা করে। সুফিরা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিষয়াদি সম্পর্কে অসংখ্য গ্রন্থ প্রণয়ন করেন, যা এতদঞ্চলে ফারসি ভাষার উন্নয়ন ও বিস্তারকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;মুসলিম শাসক ও বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;  সুলতানি যুগ (১২০৩-১৫৭৬)  যদিও বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে ফারসি ভাষার বিস্তার ও উন্নয়নে ইরানি বণিক ও সুফিদের ব্যাপক ভূমিকা ছিল, কিন্তু উপমহাদেশব্যাপী ফারসির দ্রুত বিস্তার লাভ ঘটে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ফারসি স্বীকৃত হওয়ার পরই। ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট কুতুবউদ্দীন আইবেকের সেনাপতি ইখতিয়ারউদ্দীন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী  [[নদীয়া|নদীয়া]] ও  [[গৌড়, নগর|গৌড়]] জয় করেন। পরবর্তীতে তিনি সমগ্র উত্তর বাংলা অধিকার করেন। বাংলায় এই মুসলিম শাসন সামগ্রিকভাবে ইতিহাসের ঘটনাপ্রবাহকে পাল্টে দেয়। বাংলার অধিকাংশ জনগণ, বিশেষত পূর্ব বাংলার জনগণ ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়। ধীরে ধীরে সংস্কৃত ভাষার গুরুত্ব কমতে থাকে এবং ফারসি মুসলিম রাজদরবারের ভাষা হওয়ায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ভাষা হিসেবে আবির্ভূত হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বাংলার যেসব জায়গায় ইসলামের অনুসারীরা বসতি স্থাপন করে, সেসব জায়গায় ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে ওঠে এবং এ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় একাধিক মসজিদ,  [[মকতব|মকতব]] ও  [[মাদ্রাসা|মাদ্রাসা]]। ফলে আরবি ও ফারসি সাহিত্যের উন্নয়নের একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। ধর্মীয় ও লোকায়ত উভয় ধরনের ফারসি গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তৎকালীন শাসকগণও লেখক ও কবি-সাহিত্যিকদের প্রতি উদার পৃষ্ঠপোষকতা দান করতেন। তৎকালীন বিখ্যাত শিক্ষা কেন্দ্রসমূহের মধ্যে গৌড়, পান্ডুয়া, দারাসবাড়ি, রংপুর,  [[সোনারগাঁও|সোনারগাঁও]], ঢাকা, সিলেট, বগুড়া এবং চট্টগ্রামের কেন্দ্রসমূহ ছিল উল্লেখযোগ্য। ইংরেজ শাসনের সূচনালগ্নে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০,০০০।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ছয়শত বছরেরও অধিককালব্যাপী (১২০৩-১৮৩৭) ফারসি ছিল বাংলার রাষ্ট্রভাষা। এই দীর্ঘ সময়ে হাজার হাজার ফারসি গ্রন্থ রচিত হয়েছে; অসংখ্য কবি ফারসি ভাষায় কাব্য রচনা করেছেন। সেসব সাহিত্যকর্ম  [[পান্ডুলিপি|পান্ডুলিপি]] অথবা গ্রন্থের আকারে বাংলাসহ সমগ্র উপমহাদেশের বিভিন্ন গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে। আঠারো শতকের মধ্যভাগ থেকে উনিশ শতকের সমাপ্তিকাল পর্যন্ত সুলতানুল আখবার ও দুরবীন-সহ পাঁচ-ছয়টি ফারসি দৈনিক  [[কলকাতা|কলকাতা]] থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হতো, যা এতদঞ্চলে ফারসি ভাষার জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সমরকান্দের বিখ্যাত হানাফি ফিক্হ (ইসলামি আইন) শাস্ত্রবিদ ও সুফি কাজী রুকনউদ্দীন আবু হামিদ মোহাম্মাদ বিন মোহাম্মাদ আল-অমিদী সংস্কৃত ভাষায় লিখিত অমৃতকুন্ড গ্রন্থটি ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেন। এটিই বঙ্গদেশে ফারসি ভাষায় অনূদিত প্রথম সাহিত্যকর্ম। অমৃতকুন্ড একটি যোগশাস্ত্র। এতে ১০টি অধ্যায় ও ৫০টি শ্লোক আছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
গৌড়ের গভর্নর নাসিরউদ্দীন মাহমুদ বগরা খান (১২৮৩-১২৯১) ছিলেন শিল্প ও সাহিত্যের একজন উদার পৃষ্ঠপোষক। তাঁর সভাকক্ষ ছিল প্রসিদ্ধ কবিদের মিলনস্থল। তাঁর শাসনামলে অনেক কবি-সাহিত্যিক, যেমন শামসুদ্দীন দবীর ও কাজী আছীর দিল্লি থেকে বাংলাদেশে আসেন এবং তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁরা ফারসি ভাষার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বিহারের প্রসিদ্ধ সুফি শেখ শরফুদ্দীন ইয়াহিয়া মুনইয়ারীর শ্বশুর এবং শিক্ষক বিখ্যাত ধর্মতত্ত্ববিদ  [[শরফুদ্দীন আবু তওয়ামা|শেখ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা]] ১২৮২-৮৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তৎকালীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁওয়ে আগমন করেন। তিনি তাঁর ছাত্রদের জন্য একটি মাদ্রাসা এবং শিষ্যদের জন্য একটি খানকাহ্ স্থাপন করেন, যা ছিল তৎকালীন সময়ে জ্ঞানার্জনের শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র। আধ্যাত্মিক বিষয়াবলি নিয়ে রচিত তাঁর মাকামাত গ্রন্থটি তাঁর জীবদ্দশাতেই অত্যন্ত প্রসিদ্ধি লাভ করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
নাসিরউদ্দীন বগরা খানের পুত্র রুকনুদ্দীন কায়কাউসের রাজত্বকালে (১২৯১-১৩০১) তৎকালীন রাজধানী সোনারগাঁওয়ে ফিক্হ বিষয়ে নামে-এ-হক  নামে ফারসি ভাষায় একটি গ্রন্থ রচিত হয়। গ্রন্থটি দশ খন্ডে বিভক্ত এবং এতে ১৮০টি কবিতা স্থান পায়। এটি শেখ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামার রচনা বলে কথিত হলেও লেখকের ভূমিকা থেকে জানা যায় যে, মূলত এটি তাঁর একজন শিষ্য তাঁর শিক্ষামূলক বক্তব্যের আলোকে সম্পাদনা করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সুলতান গিয়াসুদ্দীন আযম শাহের শাসনামলে (১৩৯০-১৪০৯) সোনারগাঁও লেখক ও ফিক্হ শাস্ত্রবিদদের প্রসিদ্ধ কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি লাভ করে। তখন এত অধিক পরিমাণে ফারসি গদ্য ও কাব্য সাহিত্যের বিকাশ ঘটে যে, সম্ভবত এটাই ছিল বাংলায় ফারসি সাহিত্যের স্বর্ণযুগ।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সুফি কবি হাফিজ শিরাজী রচিত একটি  [[গজল|গজল]] থেকে তৎকালীন বাংলায় ফারসি সাহিত্যের উৎকর্ষের প্রমাণ পাওয়া যায়। সুলতান গিয়াসুদ্দীন একটি গজল রচনা করতে গিয়ে প্রথম শ্লোকের অর্ধেক রচনার পর অবশিষ্ট অংশ লিখতে অসমর্থ হওয়ায় এটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার জন্য হাফিজের নিকট প্রেরণ করেন এবং তাঁকে বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানান। উত্তরে কবি এরূপ জবাব দেন: ‘সাগ্বি হাদিছে সার্ভ ও গুল ও লালেহ্ মি রাভাদ/ ভীন বাহাছ বা সালাসা গ্বাচছালা মি রাভাদ/ শেকার শেকান শাভান্দ হামে তোতিয়ানে হিন্দ/ যীন কন্দে পারেছি বেহ্ বাংগালেহ্ মি রাভাদ\’ [সাকি! সার্ভ, গুল ও লালার আলোচনা চলছে/ তিন ধৌতকারী (পান পেয়ালা)সহ এ আলোচনা চলছে/ হিন্দুস্থানের সকল তোতা পাখি (কবিগণ) ঠোঁট দিয়ে মিছরিদানা ভাঙছে/ (হাফিজের পঙ্ক্তিমালার জন্য কৌতূহলী হয়ে উঠছে)/ যে, ফারসির এই মিছরিখন্ড (ফারসি গজল), বাংলায় যাচ্ছে\]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সুলতান জালালউদ্দীন মোহাম্মাদ শাহ (১৪১৫-১৪৩২) ছিলেন ইসলামি জ্ঞান ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক। তিনি মক্কায় প্রতিষ্ঠিত একটি মাদ্রাসার ব্যয়ভার বহন করতেন, যা তখন অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক কর্ম হিসেবে বিবেচিত হতো। সুলতান রুকনুদ্দীন বরবক শাহের দরবার (১৪৫৯-১৪৭৪) অসংখ্য বিদ্যানুরাগীর উপস্থিতি দ্বারা মহিমান্বিত ছিল। তাঁদের মধ্যে রাজসভার কবি আমির জয়নুদ্দীন হারাবী, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও ফারহাঙ্গে আমির শিহাবুদ্দীন কিরমানী শীর্ষক ফারসি অভিধানের সম্পাদক আমির শিহাবুদ্দীন হাকিম কিরমানী এবং কবি মনসুর শিরাজী, মালিক ইউসুফ বিন হামিদ, সাইয়্যেদ জালাল, সাইয়্যেদ মোহম্মাদ রুকন প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এ যুগেই মাওলানা ইব্রাহীম কাওয়াম ফারুকী উপমহাদেশের অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাচীনতম ফারসি অভিধান ফারহাঙ্গে ইব্রাহিমী সম্পাদনা করেন। অভিধানটি বিহারের প্রখ্যাত সুফি মখদুম শরফুদ্দীন ইয়াহিয়া মুনইয়ারীর স্মরণে উৎসর্গ করা হয়; তাই এটি ‘শরফনামা’ হিসেবেই সমধিক পরিচিত। এটি এঅঞ্চলে ফারসি চর্চার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
হুসেন শাহী রাজত্বকালে, বিশেষত আলাউদ্দীন হুসেন শাহের (১৪৯৩-১৫১৯) সময়ে ফারসি ও আরবির ব্যবহার এঅঞ্চলে ব্যাপক বিস্তারলাভ করে। মোহাম্মাদ বুদাই, যিনি সাইয়্যেদ মীর আলাভী নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন, এ যুগেই সাহিত্যসাধনা করেন। তিনি হিদায়াত-উর-রুমী নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। বাংলার সুলতানি যুগে (১২০৩-১৫৭৬) অত্র এলাকার জনহিতৈষী ও সংস্কৃতিমনা সুলতানগণ এভাবেই পরবর্তীকালে এঅঞ্চলে ফারসি চর্চার ব্যাপক ভিত্তিভূমি রচনা করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মুগল আমল  এ আমলে বাংলায় ফারসি সাহিত্য অভূতপূর্ব সমৃদ্ধি লাভ করে এবং স্থানীয় ভাষা ও সাহিত্যে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে। বাংলায় যেসব মুগল গভর্নরের দরবারে জ্ঞানী, পন্ডিত ও সম্মানিত ব্যক্তিবগের্র নিয়মিত উপস্থিতি ছিল, সমকালীন ও পরবর্তীকালের ঘটনাপঞ্জি এবং জীবনী-রচয়িতৃগণ তাঁদের উল্লেখ করেছেন। তাঁরা হলেন মুনিম খান, ইসলাম খান, কাসিম খান, শাহ শুজা,  [[শায়েস্তা খান|শায়েস্তা খান]] এবং মীর জুমলা। এই শাসকগণ ফারসি কবিতার উন্নয়নে উৎসাহব্যঞ্জক ভূমিকা পালন এবং অনেক কবিকে আশ্রয় প্রদান করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মীর্জা জাফর বেগ কাজভীনি অপর একজন কবি যিনি বাদশাহ আকবরের যুগে বাংলায় অভিবাসিত হন। তিনি ইরানের বিখ্যাত কবি নিজামী গান্জাভীর কাব্যরীতির অনুকরণে শিরিন ও খসরু নামে একটি মসনভি রচনা করেন। একজন সাধারণ সামরিক কর্মকর্তা মীর্জা নাথান বাহরিস্তানে গাইবী শীর্ষক একটি গ্রন্থ রচনা করেন। এতে তিনি এমন অনেক সৈনিক-কবির উল্লেখ করেন যাঁরা যুদ্ধে বিজয় ও সৈনিকদের কৃতিত্বকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য কবিতা রচনা করতেন। তাঁদের মধ্যে লোকমান, মীর কাসিম এবং মোবারক উল্লেখযোগ্য।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মীর্জা নাথান প্রায় বিশ বছর বাংলায় চাকরি করেন। তিনি তাঁর গ্রন্থে বাদশাহ জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে বাংলা ও আসামে সংঘটিত ঘটনাসমূহের পরিপূর্ণ বর্ণনা উপস্থাপন করেন। ইরানের ইসফাহান থেকে আগত মীর জুমলা ছিলেন একজন পন্ডিত ও কবি। তাঁর কুল্লিয়াত-এ (কবিতা সংগ্রহ) ২০,০০০ পঙ্ক্তি স্থান পেয়েছে। মীর জুমলার ঘটনাপঞ্জির লেখক ছিলেন শাহাবুদ্দীন তালিশ। তিনি মীর জুমলার কুচবিহার ও আসাম অভিযানে সহযাত্রী ছিলেন এবং ১৬৬৩ খ্রিস্টাব্দে ফাত্হে ইব্রিয়া নামে আসামে সংঘটিত ঘটনাবলির প্রকৃত বিবরণ-সম্বলিত একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৬২৮ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট  [[শাহজাহান|শাহজাহান]] কাসিম খানকে বাংলার গভর্নর হিসেবে প্রেরণ করেন। ঐতিহাসিক এবং জীবনচরিত-বিষয়ক গ্রন্থ সুব্হে সাদিক-এর লেখক মুহাম্মাদ সাদিকও কাসিম খানের সঙ্গে বাংলায় আগমন করেন। সুব্হে সাদিক-এ জাহাঙ্গীরনগরে বসবাসকারী অনেক ফারসি লেখকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও তাঁদের কাব্যকর্মের উদ্ধৃতির উল্লেখ পাওয়া যায়। এসব লেখক ও কবির অধিকাংশই ছিলেন পেশাগতভাবে সৈনিক। পাদশাহনামা গ্রন্থের লেখক আব্দুল হামিদ লাহোরী তাঁকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতিমূর্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। এছাড়াও তাঁর মতে তিনি ধর্মতত্ত্ব, চিকিৎসা ও অঙ্কশাস্ত্রে সমকালীন পন্ডিতদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশিষ্টতার অধিকারী ছিলেন। মীর মুহাম্মাদ মাসুম ছিলেন মুগল যুগের একজন প্রখ্যাত ঐতিহাসিক। তিনি শাহ শুজার পৃষ্ঠপোষকতায় তারিখে শাহ শুজায়ী শীর্ষক একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
খ্রিস্টীয় অষ্টাদশ শতকের প্রথমভাগে মুর্শিদকুলি খান বাংলায় স্বাধীন সুবেদারি প্রতিষ্ঠা করেন। এর ফলে অসংখ্য কবি ও লেখক বিবাদ-বিসম্বাদপূর্ণ ইরান ও উত্তর ভারত থেকে বাংলার তৎকালীন রাজধানী মুর্শিদাবাদে আগমন করেন। অধিকন্তু মুর্শিদাবাদ পূর্ববাংলা, বিশেষত ঢাকা থেকেও বেশকিছু সংখ্যক কবি ও  [[বুদ্ধিজীবী|বুদ্ধিজীবী]]কে আকৃষ্ট করেছিল। ১৭৯৬ থেকে ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত নুসরাত জঙ্গ ঢাকার নওয়াব নাজীম পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি ফারসি ভাষায় তারিখে নুসরাতজঙ্গী গ্রন্থটি রচনা করেন। এটি ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে  [[বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি|এশিয়াটিক সোসাইটি]], কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ব্রিটিশযুগে ফারসিচর্চা  ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিকট নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হয়। ব্রিটিশ শাসনের প্রথম শতকব্যাপী প্রভাবশালী ভাষা হিসেবে ফারসির ব্যবহার অব্যাহত থাকে। ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ইহতেসামুদ্দীন ক্যাপ্টেন আরকিবাল্ড সুইনের সঙ্গে ভ্রমণ করেন এবং তাঁর সেই অভিজ্ঞতাকে তিনি শিগুরফনামায়ে বেলায়েত গ্রন্থে ফারসি ভাষায় লিপিবদ্ধ করেন। এ যুগের অপরাপর ফারসি গ্রন্থের মধ্যে গোলাম হুসাইন তাবাতাবাঈ রচিত সয়ারুল মোতাআখ্খেরিন (১৭৮৩), গোলাম হুসাইন সেলিম রচিত সেরাজ-উস্সালাতীন (১৭৮৭) এবং মুনশি সলিমুল্লাহর তারিখে বাংগালা (১৭৬৩) উল্লেখযোগ্য। তৎকালীন সমাজে ফারসির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইংরেজ সরকার এদেশে তাদের আধিপত্য বিস্তারের পরও সুদীর্ঘ ৮০ বছর (১৭৫৭-১৮৩৭) ফারসিকেই রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা দেয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে ‘হান্টার-শিক্ষা-কমিশন’-এ সাক্ষ্যদানকালে আরবি-ফারসির তৎকালীন সামাজিক গুরুত্ব প্রসঙ্গে নবাব  [[লতিফ, আবদুল|আবদুল লতিফ]] (১৮২৮-১৮৯৩) বলেন যে, আরবি-ফারসিতে পন্ডিত না হলে কোন মুসলিম পন্ডিতকে প্রকৃত পন্ডিত বলে মনে করা হয় না এবং মুসলিম সমাজে তাঁর মর্যাদাও প্রতিষ্ঠিত হয় না। এরূপ দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই ঢাকায় ফারসিচর্চা ব্যাপকতা লাভ করে। দৃষ্টান্তস্বরূপ আগা আহমদ আলীর নাম উল্লেখ করা যায়। তিনি ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন এবং মুয়াইয়্যাদে বোরহান ও শামশীরে তীযতার শীর্ষক ফারসি  [[অভিধান|অভিধান]] রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। এ দুটি অভিধান অদ্যাবধি উপমহাদেশে ব্যবহূত হয়ে আসছে। তাঁর অপরাপর রচনার মধ্যে রিসালায়ে তারানা এবং হাফ্ত আসমান উল্লেখযোগ্য। খাজা হায়দার জান শায়েককে মীর্জা গালিব ‘বুলবুলে বাংলাদেশ‘ (বাংলাদেশের বুলবুলি) বলে অভিহিত করতেন। ফারসি ভাষায় তাঁর একটি দীভান (কবিতা সংকলন) ও একটি পত্রসংকলন পাওয়া যায়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ঢাকার কয়েকজন বিখ্যাত ফারসি লেখক হলেন তারিখে কাশমিরিয়ানে ঢাকা-র লেখক খাজা আবদুর রহীম সাব, খাজা আহসানুল্লাহ শাহীন, মীর্জা মাহমুদ শীরাজী মাখমুর যিনি আকর্ষণীয় ফারসি ভাষায় ঢাকার ঐতিহাসিক ইমামবাড়ার ইতিহাস রচনা করেন, পদ্য ও গদ্য রচনায় দক্ষ মৌলবি  [[নাসসাখ, খানবাহাদুর আবদুল গফুর|আবু মুহম্মদ আবদুল গফুর নাস্সাখ]], যাঁর প্রধান কর্ম ফারসিতে লিখিত ফারসি কবি-সাহিত্যিকদের জীবনীগ্রন্থ তাযকেরাতুল মোআছেরীন এবং সাইয়্যেদ মোহাম্মাদ বাকের তাবাতাবাঈ যিনি ইরান থেকে বাংলায় অভিবাসিত হয়ে ঢাকায় বসবাস করেন এবং এখানেই ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করলে হোসেইনি দালানে সমাহিত হন। তাবাতাবাঈর দীভান ও প্রশস্তিগাথাসমূহের প্রতি সাহিত্য-সমালোচকগণ অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেন। ঢাকার অপরাপর ফারসি কবিদের মধ্যে আবদুল মামুন জওকী, মুনশি ওয়ারিস আলী জিয়া, আগা মাহমুদ আলী, মসিহুদ্দীন শোরিশ, কাজীমুদ্দীন সিদ্দিকী, মাওলানা ফজলুল করিম, শাহ বোরহানুল্লাহ, মুনশি জালালুদ্দীন এবং মোয়াজজামুদ্দীন সাঈদ উল্লেখযোগ্য।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসার সুপারিনটেন্ডেন্ট মাওলানা  [[সোহরাওয়ার্দী, ওবায়দুল্লাহ আল ওবায়দী|ওবায়দুল্লাহ আল ওবায়দী সোহ্‌রাওয়ার্দী]] (১৮৩৪-১৮৮৫) ফারসি ভাষায় কাব্যচর্চা করতেন। ফারসি ভাষায় রচিত তাঁর কাব্যসংকলন দীভানে উবায়দী নামে খ্যাত। ভাব, বিষয়বস্ত্ত ও প্রকাশভঙ্গির দিক থেকে তাঁর কবিতায় সাদী, হাফিজ, জামী, সায়েব, নাজিরি ও গালিবের প্রভাব রয়েছে। তাঁর দাস্তানে ফার্সি অমুয শীর্ষক পাঁচ খন্ডে সমাপ্ত গ্রন্থটি একটি আদর্শ ফারসি ব্যাকরণ। ঢাকার অপর একজন সম্ভ্রান্ত গবেষক  [[রহমান, হাকিম হাবিবুর|হাকিম হাবিবুর রহমান]] ফারসি শিক্ষার বিস্তার ও প্রসারের সঙ্গে আন্তরিকভাবে যুক্ত ছিলেন। তাঁর সালাসায়ে গাস্সালা শীর্ষক ফারসি কবি-সাহিত্যিকদের জীবনীগ্রন্থে তৎকালীন বাংলায় রচিত ১৭৩টি সাহিত্যকর্মের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রামও ছিল ফারসি সাহিত্যচর্চার একটি কেন্দ্র। চট্টগ্রামের প্রসিদ্ধ ফারসি লেখকদের মধ্যে মাখ্যানুল আদভিয়ার লেখক হাকিম মুহাম্মাদ হুসাইন আলাভী এবং খান বাহাদুর হামিদুল্লাহ প্রসিদ্ধ ছিলেন। হামিদুল্লাহর অহাদিসুল খাওয়ানীন ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। চট্টগ্রামের অন্যান্য ফারসি কবিদের মধ্যে সন্দ্বীপের মাওলানা আবদুল আউয়াল, মুহাম্মাদ আবদুল আলী, মৌলবি ফায়জুল কবির শাওক, মৌলবি ফায়জুল্লাহ ইসলামাবাদী, মুহাম্মাদ সোলায়মান আরমান এবং আবদুল আলী দুররী উল্লেখযোগ্য।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মধ্যযুগে ফারসি ভাষাভাষী মুসলিম মিশনারিদের প্রধান কেন্দ্ররূপে সিলেট সমৃদ্ধি লাভ করে এবং ফারসি চর্চার প্রসারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। সেখানকার লেখকদের মধ্যে মা‘দানূল ফাওয়ায়েদ গ্রন্থের লেখক সাইয়্যেদ শাহ ইসরাইল, জারাউল মুসান্নিফ গ্রন্থের লেখক বানিয়াচঙ্গের মুহাম্মাদ আরশাদ এবং গুলে বকাওলী মসনাভী ও খোয়াবনামা গ্রন্থদ্বয়ের লেখক পেইলের প্রসিদ্ধ ফারসি কবি সাইয়্যেদ রায়হানউদ্দীন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ফারসি ভাষার উন্নয়নে বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার অবদানও উল্লেখযোগ্য। রাজাপুরের কাজী পরিবার এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। খানবাহাদুর আবদুল গফুর নাস্সাখ ছিলেন এ পরিবারের বিশিষ্ট সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব, যাঁর ফারসি সাহিত্যে অবদান সম্বন্ধে পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে। তাঁর পিতা কাজী ফকির মোহাম্মাদ বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেন। সেগুলির মধ্যে ঐতিহাসিক বিষয়ে লিখিত জামিয়ুত্তাওয়ারিখ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এটি ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। ফকির মুহাম্মাদের অপর দুই পুত্র আবদুল হামিদ এবং আবদুল বারিও কবি ছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আবু মুঈন আযদুদ্দিন আযুদ, শাহ সাইয়্যেদ রিয়াজাতুল্লাহ, নাসিরউদ্দিন আহমাদ, শামসুদ্দিন শামসাম এবং আশরাফুদ্দিন শার্ফ ছিলেন কুমিল্লার প্রথম সারির ফারসি কবিদের অন্তর্ভুক্ত। বরিশালে মুহাম্মাদ ফাজিল, এলাচিরাম ও তালেব এবং ময়মনসিংহে সাইয়্যেদ নাজমুদ্দিন আহমাদ নাদির ও মুহাম্মাদ আবদুল হাই আখতারের ন্যায় কবিদের আবির্ভাব ঘটে। সাইয়্যেদ আবদুর রশিদ শাহজাদপুরী পাবনার একজন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী এবং সুফি মানসের অধিকারী ছিলেন। তিনি খাকানি ও উরফির ন্যায় ইরানি কবিদের অনুকরণে আকর্ষণীয় ফারসি কাসিদা রচনায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উল্লেখ্য যে, উনিশ শতকে মুদ্রণযন্ত্রের প্রচলন ও আধুনিক গ্রন্থাগার স্থাপিত হওয়ায় ফারসি চর্চা প্রসার লাভ করে। পূর্বের ন্যায় এ শতকেও মুসলমানদের পাশাপাশি হিন্দু রাজা-মহারাজারা ফারসি সাহিত্য চর্চায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা ও হিন্দুধর্মের সংস্কারক রাজা  [[রাজা রামমোহন রায়|রামমোহন রায়]] (১৭৭২-১৮৩৩) ফারসি ভাষায় তাওহীদ বিষয়ে তোহফাতুল মুওয়াহিদীন নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উনিশ শতকের মধ্যভাগে প্রয়োজনীয় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এতদঞ্চলে ফারসির গুরুত্ব ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে। ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দের ২০ নভেম্বর কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট একটি অধ্যাদেশ (No. XXIX, 1837 AD) জারির মাধ্যমে অফিস-আদালত তথা রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডে ফারসির ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন। উক্ত অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে তখন কলকতার মুসলমান সমাজের পক্ষ থেকে প্রায় আট হাজার স্বাক্ষরসম্বলিত একটি স্মারকলিপি ব্রিটিশ সরকারের নিকট পেশ করা হয়। ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা থেকেও ৪৮১জন বিশিষ্ট ব্যক্তির স্বাক্ষরসম্বলিত অনুরূপ আর একটি স্মারকলিপি ঢাকার বিচারপতি জে.এফ.জি কুকের মাধ্যমে বেঙ্গল গভর্নমেন্টের নিকট পেশ করা হয়। লক্ষণীয় যে, স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ১৯৯ জন ছিলেন হিন্দু। কিন্তু এসব স্মারকলিপি ইংরেজ সরকারের গৃহীত নীতিতে কোনোরূপ পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়। কলকাতা ও ঢাকার বহু সংখ্যক পদস্থ ও সম্মানিত ব্যক্তির দাবি উপেক্ষা করে সরকারের ঘোষণা কার্যকর করা হয়। এসব সত্ত্বেও এ এলাকায় ফারসিচর্চা অব্যাহত ছিল। শিক্ষিত বাঙালি মুসলমান জনগণ এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ফারসি বিষয়ে শিক্ষাকার্যক্রম চালু থাকে। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফারসি ও উর্দু বিভাগ চালু হয়। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তৎকালীণ পূর্ব পাকিস্তানে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ফারসি ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে পাঠ্য ছিল। বর্তমানে সাধারণ স্কুল পর্যায়ে ফারসি পড়ানো না হলেও ঐতিহ্যগত ভাষা ও সাহিত্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় এবং সমকালীন ভাষা হিসেবে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পাঠ্যসূচিতে ফারসি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অধিকন্তু, বাংলাদেশ এমনকি ভারতের প্রায় সকল সাধারণ ও ব্যক্তি মালিকানাধীন গ্রন্থাগারসমূহে ফারসি পান্ডুলিপি রয়েছে। প্রতিবছর এসব পান্ডুলিপির কিছু কিছু গবেষকগণ প্রকাশ করে থাকেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;বাংলা সাহিত্যে ফারসির প্রভাব&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;  ফারসি ভাষাভাষী তুর্কি আফগান বিজয়িগণ বাংলাকে তাঁদের নতুন আবাসভূমি হিসেবে গ্রহণ করেন। ফলে একটি সাংস্কৃতিক বিবর্তনের কাল সূচিত হয়। এ বিবর্তনকাল পরবর্তী সাতশ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। পরিণতিতে  [[বাংলা ভাষা|বাংলা ভাষা]] শাসকদের শক্তিশালী ভাষার প্রভাবে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। মুসলিম কবি ও লেখকগণ মৌলিক  [[বাংলা সাহিত্য|বাংলা সাহিত্য]] রচনা বা ইসলামি বিষয়াবলি বাংলা ভাষায় অনুবাদে আত্মনিয়োগ করেন। এ কারণেই বাংলা ভাষায় অসংখ্য ফারসি শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মুসলমান লেখকগণ প্রচলিত ধারাকেই আত্তীকরণ করেন, তবে ক্ষেত্রবিশেষে অনৈসলামিক প্রভাব দূর করার জন্য কিছু কিছু সংযোজন ও পরিবর্তনও করেন। উদাহরণস্বরূপ মুসলমান কবিরা মঙ্গলকাব্যে প্রচলিত হিন্দু দেবদেবীর বন্দনা ও গুণকীর্তন রীতির পরিবর্তে মুসলিম রীতি, বিশেষত ইরানের ঐতিহ্য অনুযায়ী হামদ্ ও নাত্-এর প্রচলন করেন। একইভাবে  [[দৌলত কাজী|দৌলত কাজী]] (১৬০০-১৬৩৮) বা  [[আলাওল|আলাওল]] (১৬০৭-১৬৮০) যখন হিন্দু রাজপুত্রের কাহিনী নিয়ে কাব্য রচনা করেন, তখনও তাঁরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রশস্তিমূলক কবিতার মাধ্যমে শুরু করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ফারসি ভাষাদ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত মুসলমান লেখকদের সাহিত্য ‘দোভাষী সাহিত্য’ নামে পরিচিত। এগুলি মূলত বাংলা ও ফারসির সমন্বয়ে এক প্রকার মিশ্র সাহিত্য। মুসলমানদের ধর্ম, সমাজ বা দর্শন বিষয়ে কোনো কিছু লেখার ক্ষেত্রে আজও এ নিয়ম অনুসরণ করা হয়। একারণে দোভাষী সাহিত্যে যখনই মুসলিম রাজসভার বর্ণনা এসেছে বা মুসলিম রাজাকে সম্বোধন করা হয়েছে অথবা ইসলামি চিন্তা, আদর্শ এবং কুরআন ও অন্যান্য পবিত্র গ্রন্থ কিংবা মুসলিম সুফি-দরবেশ ও বিদ্বান ব্যক্তিদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, তখনই আরবি ও ফারসি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। মুসলিম ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের কবিরাই এ পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) দরবারের কবি  [[শাহ মুহম্মদ সগীর|শাহ মুহাম্মদ সগীর]] ধর্মীয় গ্রন্থাবলিকে ‘কিতাব’ এবং বিদ্বান ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের ‘আলিমান’ বলে সম্বোধন করেছেন।  [[জয়েনউদ্দীন, সরদার|সরদার জয়েনউদ্দীন]] তাঁর  [[রসুলবিজয়|রসুলবিজয়]] কাব্যেও এ ধরনের শব্দ ও বাগ্বৈশিষ্ট্য প্রয়োগ করেছেন। তিনি মুকুটের স্থলে ‘তাজ’, আরোহীর স্থলে ‘সোয়ার’ এবং পিতামহের স্থলে ‘দাদা’ ইত্যাদি ব্যবহার করেছেন। পরবর্তীতে এ পদ্ধতি আরও ব্যপকতা লাভ করে যেমন,  [[সৈয়দ সুলতান|সৈয়দ সুলতান]] (১৫৫০-১৬৪৮) তাঁর শবে মেরাজ কাব্যগ্রন্থে কিতাব, আলিমান ও আলিম ছাড়াও আল্লাহ, রাসুলে খোদা, নূরে মোহাম্মাদী, পীর পয়গমতর ইত্যাদি শব্দ প্রয়োগ করেছেন। এছাড়া ক্রিয়াপদ হিসেবেও তিনি এসব শব্দ প্রয়োগ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ তাঁর  [[নবীবংশ|নবীবংশ]] ও ওফাতে রাসূল গ্রন্থদ্বয়ে ‘নিকালিয়া’ শব্দের উল্লেখ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে নিকালিয়া শব্দটি বাইরে যাওয়া অর্থে ব্যবহূত হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
দোভাষী সাহিত্যের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এর কাহিনী গভীর ভালবাসা, অদম্য সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ। শাহ্ গরীবুল্লাহর  [[ইউসুফ-জুলেখা|ইউসুফ]][[ইউসুফ-জুলেখা|-জুলেখা]] ও  [[আমীর হামজা |আমীর হামজা]] (১ম খন্ড) এই শ্রেণির প্রথম সার্থক কাব্য। এই ধারার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি হলেন  [[সৈয়দ হামজা|সৈয়দ হামজা]]। হামজা তাঁর মধুমালতী কাব্য প্রথাগত ভাষাতাত্ত্বিক পদ্ধতিতেই রচনা করেন; কিন্তু তাঁর জৈগুনের পুথি ও হাতেম তাই রচনায় ফারসি ভাষার প্রভাব লক্ষ করা যায়। দোভাষী পুথিসাহিত্য রচয়িতাদের মধ্যে  [[শাহ্ গরীবুল্লাহ|শাহ্ গরীবুল্লাহ]] অত্যন্ত প্রসিদ্ধ।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
রোম্যান্টিক রচনাবলি বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ফারসি প্রভাব রয়েছে। এর মধ্যে লৌকিক প্রেমকাহিনীমূলক রোম্যান্টিক ক্ষেত্রটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধারার উল্লেখযোগ্য লেখকদের মধ্যে ফেরদৌসী/জামীর কাব্য অবলম্বনে রচিত ইউসুফ-জুলেখার লেখক শাহ মুহাম্মদ সগীর, লাইলী-মজনুর লেখক  [[দৌলত উজির বাহরাম খান|দৌলত উজির বাহরাম খান]], সতীময়না-লোরচন্দ্রানীর লেখক আরাকানের দৌলত কাজী,  [[পদ্মাবতী|পদ্মাবতী]], সয়ফুলমূলূক-বদিয়ুজ্জমালের লেখক আলাওল, ইউসুফ-জুলেখার লেখক  [[আবদুল হাকিম|আবদুল হাকিম]], মৃগাবতীর লেখক  [[কোরেশী মাগন ঠাকুর|কোরেশী মাগন ঠাকুর]], আমীর হামজার লেখক আবদুন নবী, জঙ্গনামার লেখক  [[হেয়াত মামুদ|হেয়াত মামুদ]] প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;বীরত্ব গাথা&#039;&#039;  এ ধরনের কাব্যে মহানবী (স.), তাঁর সাহাবিগণ এবং মুসলিম বীরদের রোম্যান্টিক, কাল্পনিক ও অলৌকিক ঘটনা অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিস্ফুটিত হয়েছে। এসব কাব্য ইসলামি অনুশাসন ও বিধিবিধানকে জনসাধারণের মধ্যে প্রচার ও মুসলিম বীরদের মহিমান্বিত করার উদ্দেশ্যে রচিত। এ কারণে এগুলিকে অবিশ্বাসী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মহানবী (স.)-র বিজয়ের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে। জয়েনউদ্দীনের রসুলবিজয় এ কাব্য ধারার প্রচীনতম সৃষ্টি। জয়েনউদ্দীন প্রবর্তিত রীতির অনুসরণেই শাহ বিরিদ খান রসুলবিজয় এবং হানিফার দিগ্বিজয় রচনা করেন। এছাড়াও সৈয়দ হামজার আমীর হামজা, হেয়াত মাহমুদ ও গরীবুল্লাহ্র জঙ্গনামা, মোহাম্মদ খানের হানিফার লড়াই এবং সৈয়দ সুলতানের রসুলবিজয় এই একই রীতিতে রচিত।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;ঐতিহাসিক কাব্য&#039;&#039;  এ ধারার প্রথম উল্লেখযোগ্য কবি হলেন চট্টগামের সৈয়দ সুলতান। নবীবংশ কাব্যে তিনি রসুলের জীবনের সূচনা থেকে শুরু করে তাঁর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের কারবালায় শাহাদত বরণ করা পর্যন্ত ঐতিহাসিক ঘটনাবলির বর্ণনা দিয়েছেন। পূর্বে মুহম্মদ খানও মাকতুলে হোসেন শিরোনামে একটি কাব্য রচনা করেন। ইমাম হোসেনের শাহাদতের ঘটনা এ গ্রন্থের মূল বিষয়। সমগ্র কাহিনীই কারবালার হূদয়বিদারক ঘটনাকে কেন্দ্র করে অগ্রসর হয়েছে। কায়কোবাদের মোহাররম শরীফ এ ধারার প্রাচীনতম গ্রন্থ। ইমাম হোসেনের শাহাদতকে অনুসরণ করে এতে একটি মর্সিয়া (শোকসঙ্গীত) স্থান পেয়েছে। স্বর্গ ও মর্তব্যাপী কল্পনার স্বাধীনতাই এ শোকগাথার মূল বৈশিষ্ট্য। এতে তিনি কেবল গাছপালা, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের নয়, বরং ফিরিশতা ও পরলোকগত আত্মাদেরও বিলাপের দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;ধর্মীয় কাব্য&#039;&#039;  খ্রিস্টীয় ষোড়শ ও সপ্তদশ শতক ছিল মুসলিম সংস্কৃতির সম্প্রসারণের যুগ। এ সময়ের অনেক কবিই বিশ্বসৃষ্টি, মহানবী  [[মুহাম্মদ, হযরত (স.)|হযরত মুহাম্মাদ ]][[মুহাম্মদ, হযরত (স.)|(স]][[মুহাম্মদ, হযরত (স.)|.)]] এর জীবনী ও ইসলামের বিধি-বিধানের বর্ণনা দিয়েছেন। মোজাম্মেল এ ধারার প্রাচীনতম লেখক। তাঁর কাব্য নীতিশাস্ত্রের বিভিন্ন বিধি-বিধানের বর্ণনায় সমৃদ্ধ। আফজাল আলী মঙ্গলকাব্যের অনুসরণে ইসলামি বিধি-বিধানের বিশদ বিবরণ-সম্বলিত নসিহৎনামা রচনা করেন। এতে তিনি স্বপ্নে তাঁর পীর শাহ রোস্তম কীভাবে তাঁর নিকট আবির্ভূত হতেন এবং নির্দেশাবলি প্রদান করতেন তার বর্ণনা দিয়েছেন। সৈয়দ সুলতানের নবীবংশ, শাবে মিরাজ, ওফাতে রাসুল ও মোহাম্মদ খানের মাকতুলে হোসেন এবং কিয়ামতনামায় বিশ্বের সৃষ্টি, বিবর্তন ও কিয়ামত বা ধ্বংস এবং পুনরুত্থান দিবসে সৎ ও অসৎ আত্মার চূড়ান্ত বিচারের বিষয়সমূহ উপস্থাপন করেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
নসরুল্লাহ খান (আনু. ১৫৬০-১৬২৫) তাঁর শরীয়তনামায় আল্লাহর নির্দেশাবলির কথা বলেছেন এবং আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘনকারীদের সর্তক করেছেন। এটা স্পষ্ট যে, নসরুল্লাহ খান এ গ্রন্থটি মুসলমানদেরকে তাদের ধর্মীয় বিধানাবলি সম্পর্কে সচেতন করার উদ্দেশ্যেই রচনা করেছিলেন। অনুরূপভাবে শেখ মোত্তালিব তাঁর কিফায়াতুল মোসলেমিন গ্রন্থে  [[নামায|নামায]], রোজা,  [[হজ্জ|হজ্জ]],  [[যাকাত|যাকাত]] ও ইসলামের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। নসরুল্লাহর শরীয়তনামা এবং শেখ মোত্তালিবের কিফায়াতুল মোসলেমিন গ্রন্থদ্বয়ের বহু সংখ্যক পান্ডুলিপি থেকেই বোঝা যায় যে, গ্রন্থদুটি অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;সুফিসাহিত্য&#039;&#039;  এ দেশে ইসলাম প্রচারে সুফি দরবেশগণ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। বাংলা সাহিত্যের একটি বিরাট অংশ সুফি মতবাদের প্রভাবে গড়ে উঠেছে। সাহিত্যের এ ধারাটিকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়: আধ্যাত্মিকতাবাদের তত্ত্ব ও তার অনুশীলনের দার্শনিক ব্যাখ্যা এবং ঐতিহ্যগত সঙ্গীতাবলি। সঙ্গীতগুলি মূলত পদাবলি হিসেবে পরিচিত এবং এ ধারা প্রধানত  [[বাউল|বাউল]] ও  [[মুর্শিদি গান|মুর্শিদি]] গানের সমন্বয়ে গঠিত। এতে একজন শিষ্যের আত্মবিনাশ ও দিব্যজ্যোতি লাভের জন্য অতিক্রমণীয় পর্যায়সমূহের বিস্তারিত বিবরণ আছে। হাজী মোহাম্মাদ এবং সৈয়দ সুলতান এ ধারার লেখকদের মধ্যে প্রধান।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
হাজী মোহাম্মাদের নূর জামাল কাব্য সৈয়দ সুলতানের জনন প্রদীপের চেয়ে অধিকতর দার্শনিক তত্ত্বসমৃদ্ধ। তিনি পাঠকদের প্রথমে শরীয়তের কথা বলেন, পরে ওহাদাতুল ওজুদ ও সর্বেশ্বরবাদ সম্পর্কে বহুমুখী দার্শনিক তত্ত্বের গভীরে প্রবেশ করান। এছাড়াও তিনি ইবনুল আরাবী এবং মোজাদ্দেদে আলফে ছানি (রা.)-র বিভিন্ন মতবাদও বর্ণনা করেন। জনপ্রিয় মুর্শিদি ও বাউল গানগুলি গভীর দার্শনিক তত্ত্বে ভরপুর। বাংলায় প্রাপ্ত অধিকাংশ মুর্শিদি গান ইরানি কবি মাওলানা জালালউদ্দীন রুমীর মাসনাভী এবং শেখ ফরিদউদ্দীন আত্তারের মানতিক উত্তায়ের-এর প্রভাবে প্রভাবিত।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;বাংলা ভাষায় ফারসির প্রভাব&#039;&#039;&#039;&#039;&#039; তুর্কি-আফগানদের শাসনাধীনে বাংলার প্রশাসন হিন্দু জমিদারদের হাতে ন্যস্ত হয় এবং তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন কায়স্থ। স্বভাবতই এঅঞ্চলের জনগণের জীবন ও ভাষার ওপর সোনারগাঁও ও গৌড়ের মুসলিম দরবারের প্রভাব ছিল অতি সামান্য। বাংলায় যেসব মুসলমান স্থায়িভাবে বসতি স্থাপন করেছিল তারা স্থানীয় জনসাধারণ কর্তৃক প্রভাবিত হয়েছিল। পঞ্চদশ শতকের শেষ এবং ষোড়শ শতকের প্রথম ভাগে বাংলার মুসলিম বাদশাহরা বাংলা সাহিত্যের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতা করেন। উপরন্তু মুসলিম শাসনের সূচনাকালে মুসলমানদের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের যোগাযোগের ফলে প্রচুর ফারসি শব্দ বাংলা ভাষায় অনুপ্রবেশ করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সম্রাট  [[আকবর|আকবর]] কর্তৃক বঙ্গ বিজয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুগল শাসনের সূত্রপাত ঘটে। মুগল আমলে ফারসির প্রভাব পূর্বের তুলনায় আরও ব্যাপক হয়। ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে আকবরের মৃত্যুর পর এক সাংস্কৃতিক বিবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হয়, যার পরিণতিতে ইন্দো-মুসলিম সংস্কৃতির উদ্ভব ঘটে এবং হিন্দুস্থানি/উর্দু ভাষা এর বাহন হয়। সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকে হিন্দুস্থানি ভাষা ভারতে ফারসি ভাষা ও ইসলামি চেতনা বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ফলে অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে উচ্চ শ্রেণির লোকজন, এমনকি হিন্দুরাও কথ্য বাংলায় ব্যাপকভাবে ফারসি শব্দ ব্যবহার করতে থাকে। উত্তর প্রদেশ, বিহার এবং বাংলার মুনশিরা ধনিক শ্রেণির ছেলেমেয়েদের ফারসি পড়াতেন। সেকালে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের লোকেরাই মাদ্রাসা ও মকতব প্রতিষ্ঠা করেন। ১৬৮৬ খ্রিস্টাব্দে রচিত কৃষ্ণরাম দাসের রাইমঙ্গলে এর প্রমাণ পাওয়া যায়: ‘অবিলম্বে উত্তরিল রাজার নগরে। বালকে পারসী পড়ে আখন হুজুরে\ কানেতে সোনার কলম দোয়াত সম্মুখে। কিতাবত সুনিপুণ কায়স্থগণ লেখে\’&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বাংলা ভাষায় শব্দ, লিঙ্গ ও বাক্য এই তিন ক্ষেত্রেই ফারসির প্রভাব লক্ষ করা যায়; তবে শব্দের ক্ষেত্রেই এর প্রভাব ব্যাপকতর। বাংলা ভাষায় প্রচুর ফারসি শব্দ এবং ফারসির মাধ্যমে আরবি ও তুর্কি শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটেছে; কোনো কোনো ক্ষেত্রে এদের প্রভাবে মূল বাংলা শব্দেরই বিলুপ্তি ঘটেছে। দৃষ্টান্তস্বরূপ বিলুপ্তপ্রায় কয়েকটি বাংলা শব্দ বন্ধনীতে উল্লেখ করা হলো: খরগোশ (শশারু), বাজ (সাঁচান/সয়চান), শিকার (আখেট), নালিশ (গোহারি), বিদায় (মেলানি), জাহাজ (বুহিত), হাজার (দশ শ) ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
দীর্ঘকাল মুসলমান শাসনের কারণে রাজস্ব, প্রশাসন, রাজকীয় সম্ভাষণ, যুদ্ধ, ব্যবসা প্রভৃতিবিষয়ক বহু ফারসি শব্দ এবং ফারসির মাধ্যমে আরবি শব্দ বাংলা ভাষায় প্রবেশ করে। সেগুলির একটি তালিকা উপস্থাপিত হলো:&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
রাজস্ব, প্রশাসন ও আইনসংক্রান্ত:  জরিমানা, জেরা, অছিয়তনামা, তামাদি, দারোগা, নালিশ, ফয়সালা, ফরিয়াদ, রায়, সালিশ, পারওয়ানে, ফরমান, মুনশি, ওকালতনামা, পেশকার ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
রাজকীয় উচ্চপদ, যুদ্ধবিগ্রহ ও শিকারসংক্রান্ত:  জমিদার, তখত, তহশিলদার, তালুক, তালুকদার, নবাব, বাদশা, বেগম, বাহাদুর, কামান, তীর, তোপ, ফৌজ  ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ধর্মসংক্রান্ত:  খোদা, পয়গম্বর, ফিরিশতা, বেহেশত, দোজখ, মসজিদ, ঈদগাহ, খানকাহ্, দরগাহ, নামায, রোজা, মরছিয়া, মাতম, জায়নামায, উযু, গুনাহ, নেক্কার, বদকার, পরহেজকার ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
শিক্ষাসংক্রান্ত:  কাগজ, কেচ্ছা, পীর, বুজুর্গ ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বিলাসদ্রব্য, ব্যবসা ও সভ্যতার উপকরণবিষয়ক:  আতর, আয়না, গোলাপ, গুলদানি, চশমা, দালান, মখমল, ফারাশ ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিষয়ক:  পা, সিনা, গরদান, পাঞ্জা, দেল ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
পোষাক-পরিচ্ছদসংক্রান্ত: আচকান, জোববা, চাদর, পর্দা, শালওয়ার, পিরাহান, কামারবান্দ ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
খাদ্যবিষয়ক:  বিরিয়ানি, গোশত, হালুয়া, কাবাব, কিমা, মোরববা, সব্জি, আনার, কিশমিশ, পেস্তা, বাদাম ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
জাতিসংক্রান্ত:  হিন্দু, ফিরিঙ্গি ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
পেশাসংক্রান্ত:  কারিগর, খানসামা, খিদমাতগার, চাকর, দোকানদার, বাজিকর, জাদুকর ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
পরিবার ও আত্মীয়সংক্রান্ত:  বাবা, মা, দাদা, খালা, দামাদ, কানীজ, দোস্ত, ইয়ার ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
নামসংক্রান্ত:  দিল-আফরুয, দিলরুবা, নুরজাহান, জামশীদ, রোস্তম, সোহরাব ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
স্থানবিষয়ক:  হাম্মামখানা, গোসলখানা, সরাইখানা, মোসাফেরখানা, ইয়াতীমখানা, কারখানা, বালাখানা, আসমান, যমীন, বাজার ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
পশুপাখির নামসংক্রান্ত:  খরগোশ, বুলবুল, কবুতর, বাজ, তোতা, হাইওয়ান, জানোয়ার ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সাধারণ দ্রব্যাদি, কল্পনা ও ভাবসংক্রান্ত:  আওয়াজ, আবহাওয়া, আতশ, আফসোস, কম, কোমর, গরম, নরম, পেশা, সফেদ, হুশিয়ার, হরদম, সেতার ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ভৌগোলিক স্থানসংক্রান্ত:  নওয়াবপুর, গুলিস্তান, রাজশাহী, রংপুর ইত্যাদি। এ ধরনের প্রায় দুই হাজারেরও অধিক শব্দ বাংলা ভাষায় স্থায়িভাবে স্থান করে নিয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ফারসি ভাষা বাংলা ব্যাকরণকেও প্রভাবিত করেছে। যেমন ফারসি ‘মাদী’ ও ‘মর্দা’ (মার্দ) শব্দের প্রয়োগে লিঙ্গ নির্ধারিত হয়: মর্দা-কবুতর, মাদী-কবুতর; মর্দা-কুকুর, মাদী-কুকুর ইত্যাদি। ফারসিতে অবশ্য এই লিঙ্গনির্দেশক শব্দ বিশেষ্যের পরে বসে, যেমন: আহুয়ে নার (পুরুষ জাতীয় হরিণ), আহুয়ে মাদী (স্ত্রী জাতীয় হরিণ) ইত্যাদি। অপরদিকে ফারসি ‘মোর্গ’ শব্দটি মোরগ ও মুরগি উভয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহূত হয়, কিন্তু বাংলায় মোর্গ বলতে কেবল পুরুষ জাতীয় মোরগ এবং মুরগি বলতে স্ত্রী জাতীয় মোরগ বোঝায়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয় ও উপসর্গের মাধ্যমে অনেক বাংলা শব্দ গঠিত হয়েছে; আবার অনেক ফারসি শব্দ মূল অর্থসহ বাংলায় ব্যবহূত হচ্ছে; তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফারসি আ বা া-চিহ্ন বাংলায় লোপ পেয়েছে; যেমন: কামারকমর; গারমগরম; নারমনরম ইত্যাদি। আবার অনেক বাংলা শব্দ ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয় ও উপসর্গের সঙ্গে একাত্ম হয়ে একটি স্বতন্ত্র অর্থ ও ভাববিশিষ্টি শব্দ তৈরি করেছে, যেমন: কেরানিগিরি, বাবুগিরি, দর-পত্তর, বে-গতিক ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বাংলা বাক্য গঠনেও ফারসির প্রভাব লক্ষণীয়। দৃষ্টান্তস্বরূপ: মান ইন কার কারদেবুদাম = আমি একাজ করেছিলাম; মান ইয়েক্তা নান খোর্দাম = আমি একটা নান খেলাম; তু কুজা রাফ্তী = তুই কোথায় গেলি? ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ফারসির ন্যায় বাংলাতেও লিঙ্গের তারতম্যের কারণে ক্রিয়াপদ প্রভাবিত হয় না, যেমন: বাবা রাফ্ত = বাবা গেলেন; মামা রাফ্ত = মা গেলেন; বেরাদর অমাদ = ভাই এলেন; খাহার অমাদ = বোন এলেন ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বাংলা ও ফারসি  উভয় ক্ষেত্রেই সংখ্যা ও লিঙ্গভেদের কারণে বিশেষণ প্রভাবিত হয় না, যেমন: গুলে সাফীদ = সাদা ফুল; গুলহায়ে সাফীদ = সাদা ফুলগুলি; পেছারে খোব = ভাল ছেলে, দোখ্তারে খোব = ভাল মেয়ে ইত্যাদি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বর্তমানে বাংলাদেশে ফারসির চর্চা অত্যন্ত সীমিত হলেও বিগত সাতশ বছরে তা বাংলা ভাষায় স্থায়ী আসন করে নিয়েছে এবং বাংলা শব্দভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। দশ সহস্রাধিক ফারসি শব্দ কেবল সাহিত্যে বা আদর্শ বাংলায়ই নয়, বরং এ এলাকার আঞ্চলিক ভাষারও অংশে পরিণত হয়েছে। অতি পরিচিত কিছু কিছু শব্দ ও বাক্য আছে যেগুলি আপাতদৃষ্টিতে ফারসি থেকে উদ্ভূত নয় বলে মনে হয়, কিন্তু বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে এসব শব্দ ও বাক্য আসলে ফারসিজাত। যেমন, ‘আবহাওয়া এখন বেশি গরম আছে’ এ বাংলা বাক্যটি শব্দ ও গঠন উভয় দিক থেকেই ‘আবহাওয়া আকনুন বিশ গার্ম আছত্’ এই ফারসি বাক্যটির অনুরূপ।  [আবু মূসা মোঃ আরিফ বিল্লাহ]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;গ্রন্থপঞ্জি&#039;&#039;&#039;  মুহাম্মদ এনামুল হক, মুসলিম বাংলা সাহিত্য, ঢাকা, ১৯৬৫; আবদুল করিম, বাংলার ইতিহাস: সুলতানী আমল, ঢাকা, ১৯৬৭; আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ সম্পা:, শহীদুল্লাহ্ রচনাবলী (৩য় খন্ড), বাংলা একাডেমী, ঢাকা, ১৯৯৫; Suniti Kumar Chatterji, The Origin and Development of the Bengali Language, Calcutta, 1993; Sirajul Islam ed., History of Bangladesh, Vol. III, Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka, 1997.&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Persian]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Persian]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Persian]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Persian]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%AC%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8_%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B9&amp;diff=19979</id>
		<title>কুতুবউদ্দিন খান কোকাহ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%AC%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8_%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B9&amp;diff=19979"/>
		<updated>2015-04-17T16:27:21Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;কুতুবউদ্দিন খান কোকাহ&#039;&#039;&#039; বাংলার মুগল সুবাহদার (১৬০৬-১৬০৭)। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ খুবু। শাহজাদা সেলিম তাঁকে ‘কুতুবউদ্দিন খান’ খেতাবে ভূষিত করেন। কুতুবউদ্দিনের মা ছিলেন প্রখ্যাত সুফিসাধক শেখ সলীম চিশতির কন্যা এবং শাহজাদা সেলিমের দুধ-মাতা। শাহজাদা সেলিমের দুধভাই কুতুবউদ্দিন ‘কোকাহ’ (দুধ ভাই) নামেও অভিহিত হতেন। কুতুবউদ্দিন ১৬০৬ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর বাংলার সুবাহদার নিযুক্ত হন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বাংলার সুবাহদার হিসেবে কুতুবউদ্দিন খানের কার্যক্রম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা যায় নি। তাঁর সময়ের একটি ঘটনারই উল্লেখ পাওয়া যায়, আর তা হলো বর্ধমানের মুগল ফৌজদার আলী কুলি ইস্তাজলু ওরফে শের আফগানের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব। আলী কুলিকে বর্ধমানের শাসনক্ষমতা থেকে প্রত্যাহারের উদ্দেশ্যে সম্রাট জাহাঙ্গীর সুবাহদার কুতুবউদ্দিন খানকে নির্দেশ দেন যেন আলী কুলিকে শাহী দরবারে প্রেরণ করা হয়। আলী কুলি সম্রাটের এ আদেশ মান্য নাও করতে পারেন এ আশঙ্কায় সুবাহদার তাঁকে রাজী করাবার জন্য স্বয়ং বর্ধমানে যান। আলী কুলি সুবাহদারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। কুতুবউদ্দিনের পরিকল্পনা ছিল সাক্ষাৎকারকালে আলী কুলিকে বন্দী করার। আলী কুলি সুবাহদারের উদ্দেশ্য অাঁচ করতে পেরে অকস্মাৎ তাঁকে আক্রমণ করেন এবং তাঁর তরবারির আঘাতে সুবাহদার মারাত্মক আহত হন। কুতুবউদ্দিনের সৈন্যরা সঙ্গে সঙ্গে আলী কzুলকে হত্যা করে। আহত কুতুবউদ্দিন খানের ঘটনার দিনই মৃত্যু হয় (৩০ মে ১৬০৭)।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Qutbuddin Khan Kokah]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF_%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%A0%E0%A6%BF&amp;diff=19978</id>
		<title>কোম্পানি কুঠি</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF_%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%A0%E0%A6%BF&amp;diff=19978"/>
		<updated>2015-04-17T16:27:20Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Nasirkhan: Text replacement - &amp;quot;\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]&amp;quot; to &amp;quot;[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&amp;quot;&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;[[Category:বাংলাপিডিয়া]]&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;কোম্পানি কুঠি&#039;&#039;&#039;  অপর নাম নীল কুঠি। সোনারগাঁয়ের [[পানাম|পানাম]] এলাকায় দালালপুরে অবস্থিত ইংরেজ [[ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি|ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি]]র ফ্যাক্টরি ও অফিস ভবন। দালালপুর পুলের কয়েক গজ উত্তরে রাস্তার পূর্বপার্শ্বে ভবনটি অবস্থিত। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মসলিনবস্ত্র ক্রয়ের জন্য পানামে একটি কুঠি স্থাপন করে এবং এতদুদ্দেশ্যে প্রথমদিকে একটি বাড়ি ভাড়া নেয়। পরে বর্তমান ভবনটি নির্মাণ করে কোম্পানি এখানে তাদের দপ্তর ও গুদাম প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তী সময়ে ভবনটি নীল ব্যবসায়ের কেন্দ্ররূপে ব্যবহূত হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কোম্পানি কুঠি ইটের তৈরি একটি চতুর্ভুজাকৃতির দোতলা ইমারত। এর অভ্যন্তরভাগে রয়েছে খিলানশ্রেণী শোভিত ও প্রাকারবেষ্টিত অঙ্গন। অট্টালিকার সদর দেয়ালের সমতল বহির্ভাগ জানালা ও দরজার আকৃতিতে কুলঙ্গিত খিলান শোভিত। ইমারতের পশ্চাদ্ভাগ নিরেট দেয়াল দ্বারা সুরক্ষিত। রাস্তার দিকে সম্মুখভাগে রয়েছে এর প্রধান প্রবেশপথ। এ ছাড়া উত্তরদিকের দেয়ালের মধ্যভাগে দোতলার সিঁড়ির পাশে অপর একটি প্রবেশপথ আছে। ছাদ-পাঁচিলের বহির্গত অংশ সারিবদ্ধ মারলন নকশা শোভিত। সদর দেয়ালের মূল খিলানশ্রেণীর প্রান্তভাগ স্থানে স্থানে খাঁজকাটা নকশা দ্বারা সুশোভিত। ইমারতটি স্থানীয় অলঙ্করণ সম্বলিত মুগল স্থাপত্যের একটি নির্দশন। [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[en:Company Kuthi]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Nasirkhan</name></author>
	</entry>
</feed>