সামাদ, আশফাকুস

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ২৩:০৮, ৪ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

সামাদ, আশফাকুস (১৯৪৯-১৯৭১)  শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। পুরো নাম আবু মইন আশফাকুস সামাদ। ১৯৪৯ সালের ৯ জানুয়ারি ফরিদপুরে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা আজিজুস সামাদ ছিলেন সরকারের আবগারী বিভাগের কর্মকর্তা এবং মাতা সাদেকা সামাদ ছিলেন অনরারি ম্যাজিস্ট্রেট। আশফাকুস সামাদ ঢাকার সেন্ট জোসেফ স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং নটরডেম কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত হন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরুর পর আশফাকুস সামাদ মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন এবং ২৯ মার্চ কয়েকজন বন্ধুর সাথে অস্ত্র সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কিশোরগঞ্জ যান। সেখানে অবস্থানরত ২ ইস্টবেঙ্গল ও ৪ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের অফিসারদের সহযোগিতায় অস্ত্র সংগ্রহ করে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। পরে সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য তিনি ভারতে যান। প্রথমে তিনি আগরতলায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং ২নং সেক্টরের সালদানদী সাব-সেক্টরের অধীনে কয়েকটি রেইড ও অ্যাম্বুশে অংশ নেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম ব্যাচের অফিসার নির্বাচিত হন। তিনি ৯ অক্টোবর কমিশন লাভ করেন এবং ৬নং সেক্টরের সাহেবগঞ্জ সাব-সেক্টরের একটি কোম্পানির কমান্ডারের দায়িত্ব পান। কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে তিনি জয়মনিরহাট, ভুরুঙ্গামারী, রায়গঞ্জ যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ভুরুঙ্গামারী এবং আশেপাশের এলাকা শত্রুমুক্ত করে মুক্তাঞ্চল গঠন করেন।

মুক্তিযোদ্ধারা ২০ নভেম্বর রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শক্ত ঘাঁটি রায়গঞ্জ আক্রমণ করেন। কিন্তু শত্রুর প্রতি-আক্রমণে বিপর্যস্ত কোম্পানির সৈনিকদের নিরাপদ অবস্থানে সরে যাবার জন্য আশফাকুস সামাদ নিজে মেশিনগান চালনা করতে থাকেন। তাঁর সৈনিকরা কাভারিং ফায়ারের সাহায্যে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হয়। কিন্তু এ সময়ে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদত বরণ করেন। এলাকার জনগণ জয়মনিরহাটের নামকরণ করেন ‘সামাদ নগর’। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ আশফাকুস সামাদকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দৈনিক বাংলা মোড় থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত মতিঝিলের প্রধান সড়কের নামকরণ করেছে বীরউত্তম আশফাকুস সামাদ সড়ক।  [কাজী সাজ্জাদ আলী জহির]