মহুয়া

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ২২:৪১, ৪ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

মহুয়া  মধ্যম থেকে বৃহৎ আকারের একটি বৃক্ষ Madhuca longifolia। এটি Sapotaccae গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশে মহুয়ার আরেকটি প্রজাতি M. indica। এই বৃক্ষ ২০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতাবিশিষ্ট হতে পারে। এর গুঁড়ি তুলনামূলকভাবে ছোট এবং শীর্ষদেশ গোলাকার ও বিস্তৃত। এই বৃক্ষের শিকড়গুলি ছড়ানো এবং তার বেশি অংশ মাটির উপরিভাগে থাকে। এই বৃক্ষের ছাল ১.২ সেন্টিমিটারের মতো পুরু, প্রায় মসৃণ, ধূসর থেকে বাদামী রংয়ের হয় এবং এর গায়ে লম্বালম্বিভাবে ফাটল থাকে। এর কাঠ শক্ত থেকে অতি শক্ত হয় এবং বিস্তৃত অংশে কোমল কাঠ থাকে। সারবান কাঠের রং লালচে বাদামী। এর প্রতি ঘন ফুট কাঠের গড় ওজন ২৫০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। এই গাছের শাখার শীর্ষদেশে ৭.৫ থেকে ২৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা বর্শাকৃতির গুচ্ছবদ্ধ পাতা জন্মায়। এর ফুলগুলি মাংসল, হালকা ধূসর রংয়ের এবং গাছে যখন সম্পূর্ণ ফুল ফোটে তখন ফুল থেকে আকর্ষণীয় মিষ্টি সুগন্ধ বের হয়। এর ফল ডিম্বাকৃতির। জুন থেকে জুলাই মাসের মধ্যে এর পরিপক্ক বীজ পাওয়া যায়। মহুয়ার গাছ বাড়ে খুব ধীরে এবং চতুর্থ বছরের শেষের দিকে এর গড় উচ্চতা দাঁড়ায় ০.৯ থেকে ১.২ মিটার। একটি ৩০ বছরের পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা হয় প্রায়  ৯.১৯ মিটার এবং পরিধি ০.৫ মিটার।

ল্যাটিফোলিয়া (latifolia) প্রজাতির মহুয়া বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বত্র দেখতে পাওয়া যায়। প্রতিবছর এর পাতা ঝরে যায়। এই গাছ বহু ধরনের মাটিতে জন্মে, তবে বেলে মাটিতে ভালো জন্মে। ভারতীয় নদী অববাহিকার পলিমাটিতে এই গাছ বেশ ভালো জন্মে। শালবনে এই গাছ শক্ত মাটিতে, এমনকি কিছুটা চুনা মাটিতেও জন্মাতে দেখা যায়। বাংলাদেশে এই গাছ বেশির ভাগ দিনাজপুর ও মধুপুর অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। দেশের অন্যান্য অংশেও এর চাষ হয়। এই গাছের আলোর প্রয়োজনীয়তা খুব বেশি এবং ছায়াতে এর বৃদ্ধি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এই গাছ খরা প্রতিরোধক।

আবাদি বৃক্ষ হিসেবে মহুয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ গাছ এবং আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে এর মূল্য যথেষ্ট। এই ধরনের গাছ সড়কের ধারে, খালের তীরে প্রভৃতি স্থানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এবং সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে বিশেষ করে উপজাতীয় এলাকায় লাগানো যায়। এর কাঠ টিম্বার হিসেবে এবং মন্ড ও কাগজ তৈরির কাজে ব্যবহার করা যায়।

মহুয়া ফুলে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, খনিজ দ্রব্য, ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। এই ফুল চালের সাথে রান্না করলে এর পুষ্টিমান বৃদ্ধি পায়। আখের পরেই মহুয়া ফুল মদ ও সিরকা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এটা গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। এর ফুল ও ফল উপজাতীয় লোকেরা ঐতিহ্যবাহী খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে। এর বীচিতে ২০% থেকে ৫০% ফ্যাটি অয়েল থাকে, যা সাবান প্রস্ত্ততের কাজে ব্যবহার করা যায়। মহুয়া বীজের খৈল সার হিসেবে প্রয়োগ করা যায়। অনেকের ধারণা যে, মহুয়া খৈল পোড়ানোর ধোঁয়া সাপ ও পোকামাকড় তাড়াতে পারে। উপজাতীয় লোকেরা মাছ মারার জন্য এবং সর্পদংশনের চিকিৎসার জন্য মহুয়া খৈল ব্যবহার করে। মহুয়ার তৈল প্রলেপ, ত্বকের রোগ নিরাময়, বাত, মাথাব্যথা, জোলাপ, অর্শ রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর বীচি থেকে আঠা পাওয়া যায়। এর তুষ সক্রিয় কার্বন তৈরির কাজে ব্যবহার করা যায়।  [আবুল খায়ের]