ভূগর্ভস্থ জলস্তর

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ২২:৩৬, ৪ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

ভূগর্ভস্থ জলস্তর (Aquifer)  যে শিলাস্তর তার ভিতর পর্যাপ্ত ছিদ্র এবং প্রবেশ্যতা মানের কারণে পর্যাপ্ত উত্তোলনযোগ্য ভূগর্ভস্থ পানি ধারণ করতে পারে। বাংলাদেশে তিন প্রকার ভূগর্ভস্থ জলস্তর শনাক্ত করা যায়, যথা: উপরিস্থিত ভূগর্ভস্থ জলস্তর বা যৌগিক (composite) ভূগর্ভস্থ জলস্তর; প্রধান ভূগর্ভস্থ জলস্তর ও বিভিন্ন পুরুত্বের কর্দম স্তর দ্বারা বিচ্ছিন্ন গভীর ভূগর্ভস্থ জলস্তর। সব এলাকাতেই প্রথম দুটি ভূগর্ভস্থ জলস্তর সম্ভবত জলতাত্ত্বিকভাবে সংযুক্ত।

যৌগিক ভূগর্ভস্থ জলস্তর সূক্ষ্ম থেকে অতি সূক্ষ্ম বালি দ্বারা গঠিত যার কোথাও মাঝে মাঝে মধ্যম মাত্রার বালি ও কাদার অতি সূক্ষ্ম স্তর, মিশ্রিত বা স্তরীভূত। এর নিচে একটি উপরস্থ কর্দম ও পলির একক অবস্থিত। এ অংশটি দেশের উত্তর-পশ্চিমে কয়েক মিটার থেকে দেশের দক্ষিণে ৬০ মিটার পর্যন্ত পুরু। কিছু কিছু স্থানে এসব বালি ও কাদার স্তর ক্ষীণ থেকে সাধারণ জলধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন যৌগিক ভূগর্ভস্থ জলস্তর গঠন করে যা অগভীর কূপে পানি সরবরাহে সক্ষম। দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে এটি ভূগর্ভস্থ জলস্তরের মধ্যে উচ্চতম জলবাহী এলাকা।

যৌগিক ভূগর্ভস্থ জলস্তরের নিচের সাধারণত মধ্যম ও মোটা দানাদার বালি স্তর দেখা যায়, যার কোথাও মাঝে মাঝে নুড়িময় বালি স্তর পাওয়া যায়। এসব তলানিই ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১৪০ মিটার নিচে ‘প্রধান ভূগর্ভস্থ জলস্তর’ গঠন করে। কোন কোন স্থানে এই অংশে কাদার পাতলা স্তর আছে। দেশের অধিকাংশ স্থানে এই ভূগর্ভস্থ জলস্তর অর্ধাবদ্ধ (semi confined) ও তা থেকে পানি চুয়ায় অথবা তা স্তরীভূত, আন্তঃসংযোগসম্পন্ন ও উন্মুক্ত (unconfined) জলবাহী এলাকা। এই ভূগর্ভস্থ জলস্তর দেশের উত্তর-পশ্চিমে ৫ মিটারেরও কম এবং দক্ষিণে ৭৫ মিটারেরও বেশি গভীরতা পর্যন্ত বিস্তৃত।

দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ‘প্রধান ভূগর্ভস্থ জলস্তর’-এর সঞ্চালন ক্ষমতা ‘উত্তম’ থেকে ‘চমৎকার’, তবে দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে এর মান হ্রাস পায়। সন্তোষজনক ভূগর্ভস্থ জলস্তর হবার প্রধান উপাদান হিসেবে তার স্টোরেজ কোয়েফিসিয়েন্ট এবং ট্রান্সমিসিবিলিটি কোয়েফিসিয়েন্ট মান বিবেচ্য হয়ে থাকে।

‘প্রধান ভূগর্ভস্থ জলস্তর’-এর নিচে গভীরতর জলবাহী এককটির নাম হলো ‘গভীর ভূগর্ভস্থ জলস্তর’। নলকূপের মাধ্যমে ঢাকার ও উপকূল অঞ্চলসমূহের জল নিষ্কাশন এই জলবাহী এককটির মাধ্যমে হয়েছে। এক বা একাধিক বিভিন্ন পুরুত্বের কর্দমস্তর এই জলবাহী একক স্তরকে ‘প্রধান ভূগর্ভস্থ জলস্তর’ থেকে আলাদা করে রেখেছে।  [মোঃ সাজ্জাদ হোসেন]