বেতালপঞ্চবিংশতি

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ২২:৩২, ৪ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

বেতালপঞ্চবিংশতি একখানা গল্পগ্রন্থ। মূল গ্রন্থটি  সংস্কৃত ভাষায় রচিত। ১৮০৫ সালে বৈতাল পচ্চিসী নামে এর একটি হিন্দি অনুবাদ  ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ থেকে প্রকাশিত হয়, যা ওই কলেজের পাঠ্য ছিল। পরে কলেজের অধ্যক্ষ জি.টি মার্শালের অনুরোধে  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৪৭ সালে এটি বাংলায় অনুবাদ করেন। অনুবাদের সময় তিনি মূল গল্পের অশ্লীল অংশ বর্জন এবং কোনো কোনো দীর্ঘ কাহিনী সংক্ষিপ্ত করেন।

মৃত রাজা চন্দ্রভানুর প্রেতাত্মার নাম বেতাল। তৎকর্তৃক কথিত পঁচিশটি উপাখ্যানের সমাহার হচ্ছে বেতালপঞ্চবিংশতি। বেতাল ঘটনাচক্রে রাজা বিক্রমাদিত্যের স্কন্ধে ভর করে তাঁকে গল্পগুলি পরপর শোনায়। গল্পগুলির অধিকাংশ প্রাচীন রাজকাহিনী; দু-তিনটিতে ব্রাহ্মণ চরিত্র আছে। বাস্তব ও কল্পনা মিশ্রিত রোম্যান্টিক ধাঁচের এসব আখ্যানের মুখ্য আবেদন গল্পরস; তবে রাজবিধি, শাস্ত্রবিধি ও ন্যায়নীতির কথাও আছে। প্রতিটি গল্পের শেষে বেতাল ও বিক্রমাদিত্যের প্রশ্নোত্তরে এসব বিষয় আরও পরিস্ফুট হয়েছে। প্রাচীন ভারতের রাজ-পরিবারের ভোগ-বিলাস ও নৈতিক স্খলনের নানা চিত্র গল্পগুলিতে ফুটে উঠেছে।

সেকালে গল্পের মাধ্যমে নীতিকথা প্রচার করার জন্য পঞ্চতন্ত্র, দ্বাত্রিংশৎপুত্তলিকা, কথাসরিৎসাগর, হিতোপদেশ প্রভৃতি সংস্কৃত, কালিলা ও দিমনা ফারসি এবং ঈশপস্ ফেবলস্ ইংরেজি ভাষা থেকে বাংলায় অনূদিত হয়েছে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছাড়াও একজন অজ্ঞাতনামা লেখক ১৮৫২ সালে এবং জীবানন্দ বিদ্যাসাগর ১৮৭৩ সালে বেতালপঞ্চবিংশতি বাংলায় অনুবাদ করেন। তবে ঈশ্বরচন্দ্রের গ্রন্থখানি গদ্যরীতি ও রস-রুচির বিচারে উত্তম। দীর্ঘকাল এটি বিদ্যালয়ের পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল।  [ওয়াকিল আহমদ]