অনশন

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ১৭:৪৮, ৪ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

অনশন  মানে  উপবাস, কোনোরকম খাদ্যগ্রহণ থেকে বিরত থাকা। খাদ্যাভাবে উপবাস অনশন নয়, কারণ তা হলো দরিদ্রের আর্থ-সামাজিক সমস্যা। প্রাচীন ও মধ্যযুগে প্রায় সকল ধর্মেই অনশনের বিধান ছিল। রাজনৈতিক অনশন মূলত ধর্মীয় অনশন থেকেই উদ্ভূত। অনশনের মধ্যে কোনো-না-কোনো ব্রত নিহিত থাকে। অনশনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেন মহাত্মা গান্ধী। তাঁর ‘সত্যাগ্রহ দর্শন’ অনশনের বিধান দেয় এ যুক্তিতে যে, সাধারণত সমাজে শুভ শক্তি যদি অশুভ শক্তির নিকট পরাহত হয় তাহলে অনশনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে অসৎ শক্তির মধ্যে বিবেকের উদ্রেক করা এবং একই সঙ্গে এর মাধ্যমে সৎশক্তির পক্ষে সমাজের নিষ্ক্রিয় অংশকে সক্রিয় করে তোলা সম্ভব। অনশনের মাধ্যমে সমাজের অনেক অশুভ উদ্দেশ্য ও প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িকতা,  অস্পৃশ্যতা, ব্রিটিশের অশুভ আইনবিধি প্রভৃতির বিরুদ্ধে গান্ধী বহুবার অনশন ধর্মঘট পালন করেন। পাকিস্তান আমলে মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও অনেকবার ন্যায্য দাবি আদায়ে অনশন পালন করেন। বর্তমানেও একই উদ্দেশ্যে অনশন পালিত হচ্ছে। হিন্দুধর্মে পূজা-পার্বণের পূর্বে কিংবা কোনো ব্রত অর্জনের লক্ষ্যে আমৃত্যু অনশন করার বিধান রয়েছে। অনশন তিন রকম স্বল্পানশন, অর্ধানশন ও পূর্ণানশন।  [সিরাজুল ইসলাম]