হিলালী, গোলাম মকসুদ


হিলালী, গোলাম মকসুদ  (১৯০০-১৯৬১)  শিক্ষাবিদ, ভাষাবিদ, সাহিত্যিক। ১৯০০ সালের ৩০ নভেম্বর সিরাজগঞ্জের ফুলবাড়িতে তাঁর জন্ম। তিনি  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফারসি (১৯২৪) ও আরবিতে (১৯৩২) এমএ এবং বিএল (১৯২৭) ও ডিফিল (১৯৪৯) ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘ইরান ও ইসলাম: তাদের পারস্পরিক প্রভাব’।

গোলাম মকসুদ  টাঙ্গাইল জেলার করটিয়া কলেজে ফারসি ভাষার অধ্যাপক (১৯২৬) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন; পরে তিনি বিভিন্ন সময়ে কৃষ্ণনগর কলজ, কলকাতার  প্রেসিডেন্সি কলেজচট্টগ্রাম কলেজ ও রাজশাহী কলেজে অধ্যাপনা করেন। মাঝে দু বছর (১৯২৮-১৯৩০) তিনি পাবনা জজ কোর্টে ওকালতি করেন। ১৯৪০-৪১ সালে তিনি  চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্কুলসমূহের সহকারী পরিদর্শকের দায়িত্বও পালন করেন।

রাজশাহী কলেজে অধ্যাপনাকালে তিনি রাজশাহী বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের (১৯৫৭) কিউরেটর হিসেবে কাজ করেন। ১৯৫৭ সালের ৩০ নভেম্বর সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করার পর তিনি সিরাজগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ (১৯৫৭-১৯৫৮) ও বাংলা একাডেমীর গবেষণাধ্যক্ষের (১৯৫৯) দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা, ইংরেজি, আরবি, ফারসিসহ প্রায় ১৮টি ভাষায় তিনি ব্যুৎপন্ন ছিলেন।

গোলাম মকসুদ বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে ইসলামি জীবন ও প্রজ্ঞার প্রসারে নির্মোহভাবে গবেষণা করেন। ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় রচিত তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: হালিদা হানুম (১৯৩৩), A Manual of Persian Grammar (১৯৩৪), আল বেরুণী (১৯৩৭), Islamic Attitude Towards Non-Muslims (১৯৫২), হজরতের জীবননীতি (১৯৬৫), Perso-Arabic Elements in Bengali (১৯৬৭) ও Iran and Islam: Their Reciprocal Influence. সম্প্রতি  বাংলা একাডেমী থেকে হিলালী রচনাবলী (২ খন্ড) প্রকাশিত হয়েছে।

একনিষ্ঠ ধার্মিক গোলাম মকসুদ  সঙ্গীত, মানবতা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ ও নারী-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন। ১৯৬১ সালের ১৭ ডিসেম্বর তিনি পরলোক গমন করেন।  [তসিকুল ইসলাম]