হায়দার, সৈয়দ জহির: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

("right|thumbnail|200px|সৈয়দ জহির হায়দার হায়দার, সৈয়দ জহির (১৯২৭-২০০৮) বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, রসায়নবিদ এবং লেখক। তিনি ১৯২৭ সালের ১লা সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢ..." দিয়ে পাতা তৈরি)
 
সম্পাদনা সারাংশ নেই
 
(একই ব্যবহারকারী দ্বারা সম্পাদিত একটি মধ্যবর্তী সংশোধন দেখানো হচ্ছে না)
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
[[Image:AhmadRashiduddin.jpg|right|thumbnail|200px|সৈয়দ জহির হায়দার]]
[[Image:HaiderSyedZahir.jpg|right|thumbnail|200px|সৈয়দ জহির হায়দার]]
হায়দার, সৈয়দ জহির (১৯২৭-২০০৮) বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, রসায়নবিদ এবং লেখক। তিনি ১৯২৭ সালের ১লা সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
হায়দার, সৈয়দ জহির (১৯২৭-২০০৮) বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, রসায়নবিদ এবং লেখক। তিনি ১৯২৭ সালের ১লা সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে অনার্সসহ স্নাতক এবং ১৯৪৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৫৮ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৬৭ সালে ইম্পেরিয়াল কলেজ (লন্ডন) থেকে বিশ্লেষণাত্মক এবং অজৈব রসায়নে ডিআইসি এবং একই বছর রসায়নে মূল অবদানের জন্য লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি অফ কেমিস্ট্রি  থেকে ঋজঝঈ ডিগ্রি লাভ করেন।   
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে অনার্সসহ স্নাতক এবং ১৯৪৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৫৮ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৬৭ সালে ইম্পেরিয়াল কলেজ (লন্ডন) থেকে বিশ্লেষণাত্মক এবং অজৈব রসায়নে ডিআইসি এবং একই বছর রসায়নে মূল অবদানের জন্য লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি অফ কেমিস্ট্রি  থেকে ঋজঝঈ ডিগ্রি লাভ করেন।   


তিনি ঢাকার জগন্নাথ কলেজে রসায়নের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। অধ্যাপক হায়দার ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন রিডার নিযুক্ত হন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান হিসেবে ১৯৬৮-১৯৭০ সময়ে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হন এবং ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (১৯৮৬-১৯৯২) রসায়নে ‘ডিস্টিংগুইশড চেয়ার অফ প্রফেসর মুকাররম হোসেন খন্দকার’ নিযুক্ত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ‘বোস সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডি অ্যান্ড রিসার্চ’-এর পরিচালক (১৯৭৮-১৯৮৯) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। ড. হায়দার ইংল্যান্ডের হারওয়েলের পারমাণবিক শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রেডিওআইসোটোপ ট্রেসার টেকনিক এবং লন্ডনের রয়্যাল স্কুল অফ মাইনসে খনিজবিদ্যায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি জার্মানির স্টুটগার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনস্টিটিউট অফ ইনরগ্যানিক কেমিস্ট্রিতে এবং স্টকহোমের সুইডিশ ইনস্টিটিউট-এ একজন উঅঅউ সিনিয়র ভিজিটিং বিজ্ঞানী হিসেবে নিয়োজিত কাজ করেছেন।
তিনি ঢাকার জগন্নাথ কলেজে রসায়নের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। অধ্যাপক হায়দার ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন রিডার নিযুক্ত হন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান হিসেবে ১৯৬৮-১৯৭০ সময়ে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হন এবং ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (১৯৮৬-১৯৯২) রসায়নে ‘ডিস্টিংগুইশড চেয়ার অফ প্রফেসর মুকাররম হোসেন খন্দকার’ নিযুক্ত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ‘বোস সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডি অ্যান্ড রিসার্চ’-এর পরিচালক (১৯৭৮-১৯৮৯) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। ড. হায়দার ইংল্যান্ডের হারওয়েলের পারমাণবিক শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রেডিওআইসোটোপ ট্রেসার টেকনিক এবং লন্ডনের রয়্যাল স্কুল অফ মাইনসে খনিজবিদ্যায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি জার্মানির স্টুটগার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনস্টিটিউট অফ ইনরগ্যানিক কেমিস্ট্রিতে এবং স্টকহোমের সুইডিশ ইনস্টিটিউট-এ একজন DAAD সিনিয়র ভিজিটিং বিজ্ঞানী হিসেবে নিয়োজিত কাজ করেছেন।


অধ্যাপক হায়দার ১৯৬১ সালে রসায়নে অবদানের জন্য প্রথম এইচপি রায় স্বর্ণপদক এবং ১৯৮২ সালে ফিজিক্যাল সায়েন্সের সিনিয়র গ্রুপে প্রথম ‘বাংলাদেশ একাডেমি অফ সায়েন্সেস গোল্ড মেডেল’ লাভ করেন। এছাড়াও, তিনি ১৯৮২ সালে ভারত-এর ইউনিভার্সিটি অফ ননফরমাল এডুকেশন থেকে অনারারি ডিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।
অধ্যাপক হায়দার ১৯৬১ সালে রসায়নে অবদানের জন্য প্রথম এইচপি রায় স্বর্ণপদক এবং ১৯৮২ সালে ফিজিক্যাল সায়েন্সের সিনিয়র গ্রুপে প্রথম ‘বাংলাদেশ একাডেমি অফ সায়েন্সেস গোল্ড মেডেল’ লাভ করেন। এছাড়াও, তিনি ১৯৮২ সালে ভারত-এর ইউনিভার্সিটি অফ ননফরমাল এডুকেশন থেকে অনারারি ডিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।
৯ নং লাইন: ৮ নং লাইন:
প্রধানত ধাতব বোরেটস এবং অ্যামিনোবোরেটস, ধাতব ফসফেটস, অর্গানোবোরন যৌগ, শিল্প পণ্য, অজৈব আয়ন-বিনিময় উপাদান, সমন্বয় রসায়ন এবং কাঠামোর ক্ষেত্রে জৈবিক গুরুত্বের কমপ্লেক্স যেমন স্যাকারিনের ধাতব কমপ্লেক্স, ভিটামিন এবং ওষুধ প্রভৃতি বিষয়ে তিনি রসায়ন এবং সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে ২৫০টিরও বেশি গবেষণাকর্ম প্রকাশ করেন। ড. হায়দারের গবেষণায় অজৈব, বিশ্লেষণাত্মক সমন্বয়, পারমাণবিক এবং পরিবেশগত রসায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি জলজ হায়াসিন্থের রসায়নে মূল্যবান অবদান রেখেছেন, যেমন দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বায়োমাস এবং বায়োগ্যাস, সার, কাগজ, বোর্ড উৎপাদন ইত্যাদি। তিনি রসায়নের উপর বেশ কয়েকটি মনোগ্রাফ, পাঠ্যপুস্তক এবং রেফারেন্স বই রচনা করেন।   
প্রধানত ধাতব বোরেটস এবং অ্যামিনোবোরেটস, ধাতব ফসফেটস, অর্গানোবোরন যৌগ, শিল্প পণ্য, অজৈব আয়ন-বিনিময় উপাদান, সমন্বয় রসায়ন এবং কাঠামোর ক্ষেত্রে জৈবিক গুরুত্বের কমপ্লেক্স যেমন স্যাকারিনের ধাতব কমপ্লেক্স, ভিটামিন এবং ওষুধ প্রভৃতি বিষয়ে তিনি রসায়ন এবং সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে ২৫০টিরও বেশি গবেষণাকর্ম প্রকাশ করেন। ড. হায়দারের গবেষণায় অজৈব, বিশ্লেষণাত্মক সমন্বয়, পারমাণবিক এবং পরিবেশগত রসায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি জলজ হায়াসিন্থের রসায়নে মূল্যবান অবদান রেখেছেন, যেমন দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বায়োমাস এবং বায়োগ্যাস, সার, কাগজ, বোর্ড উৎপাদন ইত্যাদি। তিনি রসায়নের উপর বেশ কয়েকটি মনোগ্রাফ, পাঠ্যপুস্তক এবং রেফারেন্স বই রচনা করেন।   


ড. হায়দার পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন অফ সায়েন্টিস্ট অ্যান্ড সায়েন্টিফিক প্রফেশন (চঅঝঝচ), পূর্ব পাকিস্তান সেকশন ১৯৬৩-১৯৬৭-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অফ সায়েন্সেস (১৯৭৭) জার্নালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির জার্নালের প্রধান সম্পাদক; ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টাডিজ-এর সম্পাদক ছিলেন। তিনি  তুরস্কের  আঙ্কারার জার্নাল অফ ইসলামিক একাডেমি অফ সায়েন্সেস, এবং বাংলাদেশ কোয়েস্ট, বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটি জার্নাল এবং বিএএএস জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য ছিলেন।  
ড. হায়দার পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন অফ সায়েন্টিস্ট অ্যান্ড সায়েন্টিফিক প্রফেশন (PASSP), পূর্ব পাকিস্তান সেকশন ১৯৬৩-১৯৬৭-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অফ সায়েন্সেস (১৯৭৭) জার্নালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির জার্নালের প্রধান সম্পাদক; ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টাডিজ-এর সম্পাদক ছিলেন। তিনি  তুরস্কের  আঙ্কারার জার্নাল অফ ইসলামিক একাডেমি অফ সায়েন্সেস, এবং বাংলাদেশ কোয়েস্ট, বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটি জার্নাল এবং বিএএএস জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য ছিলেন।  
   
   
তিনি ১৯৫০ সাল থেকে লন্ডনের কেমিক্যাল সোসাইটির একজন ফেলো ছিলেন এবং ১৯৫৫ সালে লন্ডনের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অফ কেমিস্ট্রির একজন সহযোগী হন। তিনি ১৯৬৭ সালে লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি অফ কেমিস্ট্রির ফেলো, জর্ডানের আম্মানে ইসলামিক বিজ্ঞান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ফেলো (১৯৮৬) এবং এর কাউন্সিল সদস্য (১৯৯৪-১৯৯৯) নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির আজীবন সদস্য এবং সভাপতি ছিলেন এবং ফেডারেশন অফ এশিয়ান কেমিক্যাল সোসাইটিজ-এর নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্সে-এর কাউন্সিল সদস্য এবং বিএএস-এর কাউন্সিল সদস্য ছিলেন। তিনি কুয়ালালামপুরের এফএসিএস-এর এনভায়রনমেন্টাল কেমিস্ট্রি গ্রুপের চেয়ারম্যান ছিলেন।  
তিনি ১৯৫০ সাল থেকে লন্ডনের কেমিক্যাল সোসাইটির একজন ফেলো ছিলেন এবং ১৯৫৫ সালে লন্ডনের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অফ কেমিস্ট্রির একজন সহযোগী হন। তিনি ১৯৬৭ সালে লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি অফ কেমিস্ট্রির ফেলো, জর্ডানের আম্মানে ইসলামিক বিজ্ঞান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ফেলো (১৯৮৬) এবং এর কাউন্সিল সদস্য (১৯৯৪-১৯৯৯) নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির আজীবন সদস্য এবং সভাপতি ছিলেন এবং ফেডারেশন অফ এশিয়ান কেমিক্যাল সোসাইটিজ-এর নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্সে-এর কাউন্সিল সদস্য এবং বিএএস-এর কাউন্সিল সদস্য ছিলেন। তিনি কুয়ালালামপুরের এফএসিএস-এর এনভায়রনমেন্টাল কেমিস্ট্রি গ্রুপের চেয়ারম্যান ছিলেন।  


অধ্যাপক হায়দার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট)-এর সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন। তিনি লন্ডন প্রজেক্ট ঈজঊঘ (কেমিক্যাল রিসার্চ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল নিডস) এ কমনওয়েলথ সায়েন্স কাউন্সিল-এর জাতীয় সমন্বয়কারী ছিলেন।
অধ্যাপক হায়দার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট)-এর সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন। তিনি লন্ডন প্রজেক্ট CREN (কেমিক্যাল রিসার্চ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল নিডস) এ কমনওয়েলথ সায়েন্স কাউন্সিল-এর জাতীয় সমন্বয়কারী ছিলেন।


অধ্যাপক ড. সৈয়দ জহির হায়দার ২৩শে আগস্ট ২০০৮ সালে ঢাকায় তাঁর বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।  [ইয়ারুল কবীর]
অধ্যাপক ড. সৈয়দ জহির হায়দার ২৩শে আগস্ট ২০০৮ সালে ঢাকায় তাঁর বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।  [ইয়ারুল কবীর]


[[en:Haider, Syed Zahir]]
[[en:Haider, Syed Zahir]]

১৩:১৭, ৬ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

সৈয়দ জহির হায়দার

হায়দার, সৈয়দ জহির (১৯২৭-২০০৮) বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, রসায়নবিদ এবং লেখক। তিনি ১৯২৭ সালের ১লা সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে অনার্সসহ স্নাতক এবং ১৯৪৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৫৮ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৬৭ সালে ইম্পেরিয়াল কলেজ (লন্ডন) থেকে বিশ্লেষণাত্মক এবং অজৈব রসায়নে ডিআইসি এবং একই বছর রসায়নে মূল অবদানের জন্য লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি অফ কেমিস্ট্রি থেকে ঋজঝঈ ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি ঢাকার জগন্নাথ কলেজে রসায়নের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। অধ্যাপক হায়দার ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন রিডার নিযুক্ত হন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান হিসেবে ১৯৬৮-১৯৭০ সময়ে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হন এবং ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (১৯৮৬-১৯৯২) রসায়নে ‘ডিস্টিংগুইশড চেয়ার অফ প্রফেসর মুকাররম হোসেন খন্দকার’ নিযুক্ত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ‘বোস সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডি অ্যান্ড রিসার্চ’-এর পরিচালক (১৯৭৮-১৯৮৯) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। ড. হায়দার ইংল্যান্ডের হারওয়েলের পারমাণবিক শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রেডিওআইসোটোপ ট্রেসার টেকনিক এবং লন্ডনের রয়্যাল স্কুল অফ মাইনসে খনিজবিদ্যায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি জার্মানির স্টুটগার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনস্টিটিউট অফ ইনরগ্যানিক কেমিস্ট্রিতে এবং স্টকহোমের সুইডিশ ইনস্টিটিউট-এ একজন DAAD সিনিয়র ভিজিটিং বিজ্ঞানী হিসেবে নিয়োজিত কাজ করেছেন।

অধ্যাপক হায়দার ১৯৬১ সালে রসায়নে অবদানের জন্য প্রথম এইচপি রায় স্বর্ণপদক এবং ১৯৮২ সালে ফিজিক্যাল সায়েন্সের সিনিয়র গ্রুপে প্রথম ‘বাংলাদেশ একাডেমি অফ সায়েন্সেস গোল্ড মেডেল’ লাভ করেন। এছাড়াও, তিনি ১৯৮২ সালে ভারত-এর ইউনিভার্সিটি অফ ননফরমাল এডুকেশন থেকে অনারারি ডিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।

প্রধানত ধাতব বোরেটস এবং অ্যামিনোবোরেটস, ধাতব ফসফেটস, অর্গানোবোরন যৌগ, শিল্প পণ্য, অজৈব আয়ন-বিনিময় উপাদান, সমন্বয় রসায়ন এবং কাঠামোর ক্ষেত্রে জৈবিক গুরুত্বের কমপ্লেক্স যেমন স্যাকারিনের ধাতব কমপ্লেক্স, ভিটামিন এবং ওষুধ প্রভৃতি বিষয়ে তিনি রসায়ন এবং সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে ২৫০টিরও বেশি গবেষণাকর্ম প্রকাশ করেন। ড. হায়দারের গবেষণায় অজৈব, বিশ্লেষণাত্মক সমন্বয়, পারমাণবিক এবং পরিবেশগত রসায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি জলজ হায়াসিন্থের রসায়নে মূল্যবান অবদান রেখেছেন, যেমন দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বায়োমাস এবং বায়োগ্যাস, সার, কাগজ, বোর্ড উৎপাদন ইত্যাদি। তিনি রসায়নের উপর বেশ কয়েকটি মনোগ্রাফ, পাঠ্যপুস্তক এবং রেফারেন্স বই রচনা করেন।

ড. হায়দার পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন অফ সায়েন্টিস্ট অ্যান্ড সায়েন্টিফিক প্রফেশন (PASSP), পূর্ব পাকিস্তান সেকশন ১৯৬৩-১৯৬৭-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অফ সায়েন্সেস (১৯৭৭) জার্নালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির জার্নালের প্রধান সম্পাদক; ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টাডিজ-এর সম্পাদক ছিলেন। তিনি তুরস্কের আঙ্কারার জার্নাল অফ ইসলামিক একাডেমি অফ সায়েন্সেস, এবং বাংলাদেশ কোয়েস্ট, বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটি জার্নাল এবং বিএএএস জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য ছিলেন।

তিনি ১৯৫০ সাল থেকে লন্ডনের কেমিক্যাল সোসাইটির একজন ফেলো ছিলেন এবং ১৯৫৫ সালে লন্ডনের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অফ কেমিস্ট্রির একজন সহযোগী হন। তিনি ১৯৬৭ সালে লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি অফ কেমিস্ট্রির ফেলো, জর্ডানের আম্মানে ইসলামিক বিজ্ঞান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ফেলো (১৯৮৬) এবং এর কাউন্সিল সদস্য (১৯৯৪-১৯৯৯) নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির আজীবন সদস্য এবং সভাপতি ছিলেন এবং ফেডারেশন অফ এশিয়ান কেমিক্যাল সোসাইটিজ-এর নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্সে-এর কাউন্সিল সদস্য এবং বিএএস-এর কাউন্সিল সদস্য ছিলেন। তিনি কুয়ালালামপুরের এফএসিএস-এর এনভায়রনমেন্টাল কেমিস্ট্রি গ্রুপের চেয়ারম্যান ছিলেন।

অধ্যাপক হায়দার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট)-এর সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন। তিনি লন্ডন প্রজেক্ট CREN (কেমিক্যাল রিসার্চ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল নিডস) এ কমনওয়েলথ সায়েন্স কাউন্সিল-এর জাতীয় সমন্বয়কারী ছিলেন।

অধ্যাপক ড. সৈয়দ জহির হায়দার ২৩শে আগস্ট ২০০৮ সালে ঢাকায় তাঁর বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। [ইয়ারুল কবীর]