হরবোলা


হরবোলা (Chloropsis)  হরবোলা ইরেনিডা (IRENIDAE) পরিবারের ক্লোরোপসিস (Chloropsis) গণের অন্তর্ভূক্ত ছোট আকারের একটি বৃক্ষচারী পাখি। এদের দেহ প্রধানত সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে। ঠোঁট সরু ও বাঁকা এবং ঠোঁটের আগায় ফুলের মধু খাওয়ার উপযোগী খাঁজ থাকে। বাংলাদেশে তিন প্রজাতির হরবোলা দেখা যায়। এগুলো হলো সোনাকপালি হরবোলা, নীলডানা হরবোলা এবং কমলাপেট হরবোলা।

সোনাকপালি হরবোলা– এর বৈজ্ঞানিক নাম Chloropsis aurifrons. এটি বাংলাদেশের প্রায় সকল বিভাগের সব বনে পাওয়া যায়। এরা পাতা সবুজ বর্ণের হয়, ঠোঁট কালো, কপাল সোনালীকমলা, চোখ কালচে বাদামি ও পায়ের পাতা হাল্কা খয়েরি। সোনাকপালি হরবোলা চিরসবুজ ও পাতাঝরা বণ এবং বৃক্ষবহুল অঞ্চলে বিচরণ করে। সাধারণত ছোট দল অথবা জোড়ায় থাকে। এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে পোকা, ফুলের মধু ও রসালো ফল জানুয়ারি-আগস্ট মাসে প্রজননকালে বনের চারা গাছ বা সরু ডালে ঘাস, পাতা মাকড়সার জাল দিয়ে বেঁধে বাসা বানিয়ে এরা ডিম পাড়ে। দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় এদের বিস্তৃতি ব্যাপক।

নীলডানা হরবোলা– এর বৈজ্ঞানিক নাম Chloropsis cochinchinensis। বাদামী চোখ ও নীলডানার ছোট বৃক্ষচারী পাখী। প্রাপ্তবয়স্ক পাখীর দেহ সবুজ, পা ও পায়ের পাতা ধূসর বর্ণের। চিরসবুজ বন ও বাগানে এরা বিচরণ করে। ফুলদ গাছের পাতায় খাবার খায়। ফুলের মধু ও ফল ছাড়াও পরাগায়ণকারী বিভিন্ন পোকা এরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। অন্য পাখি ও কাঠবিড়ালীর ডাক এরা অনুকরণ করে থাকে। মে থেকে সেপ্টেম্বর এদের প্রজননকাল। নীলডানা হরবোলা বাংলাদেশের দূর্লভ আবাসিক পাখী। চট্টগ্রাম ও সিলেট জেলার চিরসবুজ বনে এদের দেখা যায়।

কমলাপেট হরবোলা– এর বৈজ্ঞানিক নাম Chloropsis hardwickii। ফিকে কমলাপেট ও নীল ডোরাওয়ালা ছোট সবুজ প্রাণী। ছেলে ও মেয়ে পাখী উভয়েরই চোখ বাদামি, পা ধূসর, লেজ কালচে। কমলাপেট হরবোলা উচ্চভূমির চিরসবুজ ও পাতাঝরা বনে বিচরণ করে। এদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে পোকা, মাকড়সা, ফল ও ফুলের মধু। অন্য পাখির ডাক অনুকরণে এরা খুবই দক্ষ। মে-আগস্ট মাসে প্রজননকালে বড় গাছের ঝুলন্ত ডালে মূল ও অাঁশ দিয়ে খোলা বাটির মতো বাসা বানিয়ে এরা ডিম পাড়ে। কমলাপেট হরবোলা বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখী। কেবলমাত্র চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি চিরসবুজ বনে এদের পাওয়া যায়। [সানজিদা মূর্শেদ]