স্তন্যপায়ী


স্তন্যপায়ী (Mammal)  মানুষসহ Mammalia শ্রেণীর যেকোন সদস্য যারা সাধারণত মেরুদন্ডী প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে উন্নত বলে বিবেচিত। শ্রেণীগত অনন্য বৈশিষ্ট্য দুগ্ধদায়ী স্তনগ্রন্থি থেকেই শব্দটির উৎপত্তি। বৃহৎ ও জটিল মস্তিষ্কের সুবাদে এরা শিক্ষণ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যক্তকরণ ও নমনীয় আচরণ প্রদর্শনের ক্ষমতা লাভ করেছে। পাখির মতো স্তন্যপায়ীরাও দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম।

ট্রায়াসিক (Triassic) যুগের শেষে প্রায় ২২ কোটি বছর পূর্বে প্রকৃত স্তন্যপায়ীদের আবির্ভাব ঘটে। ডাইনোসরের পুরো সময়কাল স্তন্যপায়ীরা আকার ও আচরণে ছুঁচো বা ইঁদুরের মতোই ছিল। ক্রিটেসিয়াস (Cretaceous) যুগের শেষে প্রায় ৬.৫ কোটি বছর আগে প্রথম প্রাইমেট বর্গের Purgatorius প্রজাতির উদ্ভব ঘটে। সে সময় ডাইনোসরের বিলুপ্তি ঘটলে এবং তাদের অধিকৃত বাস্ত্তসংস্থানিক স্থান (niches) শূন্য হয়ে গেলে স্তন্যপায়ীদের প্রসার বৃদ্ধি পায় এবং তারা বিচিত্র আবাসে নিজেদের অভিযোজিত করতে থাকে। ডাইনোসরের বিলুপ্তি সত্ত্বেও স্তন্যপায়ীর প্রতিযোগীর অভাব ছিল না। এ সময় পাখিদের নাটকীয় আবির্ভাব ঘটে এবং কিছুকাল উড্ডয়ন ক্ষমতাবিহীন পাখির মতো অতিকায় Diatryma স্থলভাগ দখল করে। এসব সত্ত্বেও স্তন্যপায়ীরা নিজেদের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়।

কয়েকটি স্তন্যপায়ী প্রাণী

Mammalia শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত সব প্রাণীর শিশুরা মায়ের স্তনদুগ্ধ পান করে, কিন্তু প্রজনন পদ্ধতির ভিন্নতার দরুন তাদের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্যের ভিত্তিতেই জীবিত স্তন্যপায়ীরা তিনটি বড় দলের অন্তর্ভুক্ত। ক্ষুদ্রতম দল ও একটিমাত্র বর্গ Monotremata অস্ট্রেলিয়াতেই সীমাবদ্ধ, তাতে আছে Platypus ও Echidna গণের তিনটি প্রজাতি। ডিম প্রসব করে বিধায় এগুলি অন্যান্য স্তন্যপায়ী থেকে স্বতন্ত্র এবং Prototherian নামে (উপশ্রেণী Prototheria) পরিচিত। স্তন্যপায়ী হিসেবে স্বীকৃত হলেও এখনও এদের কিছু আদিম বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এদের শরীর লোমশ এবং শিশুকে স্তনদুগ্ধ পান করায়, এদের ডিমের কাঠামো পাখির ডিমের মতোই এবং পাখির মতোই তারা গর্তে বা বাসায় ডিমে তা দেয়। Prototherian-দের স্তন বা বোঁটা নেই, বিশেষ গ্রন্থি আছে যা থেকে দুধ ঝরে পড়ে আর বাচ্চারা স্বাভাবিক স্তনচোষার পরিবর্তে লোম চেটে দুধ খায়। অবশিষ্ট স্তন্যপায়ীরা গর্ভে জীবিত শাবক ধারণ করে এবং তারা Therian নামে পরিচিত (কখনও উপশ্রেণী Theria) হলেও প্রজনন পার্থক্যের দরুন এই দলটি আরও দুটি উপদলে বিভক্ত। উপদল Metatheria, তাতে আছে কেবল একটি বর্গ (Marsupialia), থলিবিশিষ্ট স্তন্যপায়ীরা (marsupial) এই বর্গের অধীন। এদের অধিকাংশেরই বসবাস অস্ট্রেলিয়ায়, তবে প্রধানত ওপোসাম (opossum) দলের মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকায়ও এদের উলে­খযোগ্য পরিমাণে দেখা যায়। মারসুপিয়ালরা জীবিত শাবক প্রসব করলেও শাবকরা অত্যন্ত অপরিণত অবস্থায় জন্মে। অতি ক্ষুদ্র শাবক যথারীতি উদরের অঙ্কীয়ভাগের থলিতে পৌঁছায় এবং সেখানে অনেকদিন একটি বোঁটা অাঁকড়ে থাকে, যতদিন না নিজে খাদ্য সংগ্রহে সমর্থ হয়।

সারণি  বাংলাদেশের স্তন্যপায়ীর বর্গ ও গোত্রের প্রতিনিধি এবং প্রতি গোত্রের প্রজাতি সংখ্যা।

বর্গ গোত্র প্রজাতির সংখ্যা
Insectivora Soricidae (Shrew) চিকা
Talpidae (Eastern Mole/Himalayan Mole)
Scandentia Tupaiidae (Common Tree Shrew/Malayan Tree Shrew) গেছো ছুঁচো
Chiroptera Pteropodidae (Short–nosed Fruit Bat, Flying Fox/Indian Flying Fox, Fulvous Fruit Bat/Leschenault’s Rousette) বোঁচা কলাবাদুড়, বাদুড়, কলাবাদুড়
Rhinopomatidae (Lesser Rat-tailed Bat/Lesser Mouse-tailed Bat, Greater Rat-tailed Bat) বাদুড়               
Emballonuridae (Sheath-tailed Bat/Long-winged Tomb Bat, Bearded Sheath-tailed Bat/ Black-bearded Tomb Bat, Pouch-bearing Sheath-tailed Bat/Pouch-bearing Bat/Tomb Bat) বাদুড় 
Megadermatidae (False Vampire/Indian False Vampire/Greater False Vampire) বাদুড়/ডাইনি বাদুড়
Rhinolophidae (Horseshoe Bat, Blyth’s Horseshoe Bat) বাদুড় 
Hipposideridae (Tailless Leaf-nosed Bat, Leaf-nosed Bat/Cantor’s Leaf-nosed Bat, Leaf-nosed Bat/Horsefield’s Leaf-nosed Bat)
Vespertilionidae (Thick-eared Bat, Tickell’s Bat, Painted Bat, Hodgson’s Bat, Kelaart’s Pipistrelle, Indian Pipistrelle, Indian Pigmy Pipistrelle, Savi’s Pipistrelle, Harlequin Bat, Greater Yellow Bat/Asiatic Greater Yellow Bat, Lesser Yellow Bat, Dormer’s Bat) ১৩
Molossidae (Egyptian Free–tailed Bat)  
Primates  Loridae [Lorisidae] (Slow Loris)
Cercopithecidae (Stump-tailed Macaque, Assamese Macaque, Crab-eating Macaque/Long-tailed Macaque, Rhesus Macaque, Pig-tailed Macaque) খাটোলেজী বানর, আসামি বানর, প্যারাইল্যা বানর/লম্বালেজী বানর, বানর, উল্টোলেজী বানর/কুলু বান্দর 
Colobidae [Cercopithecidae] (Hanuman Langur/Common Langur/Grey Langur/Entellus Monkey, Phayre’s Leaf Monkey, Capped Langur/Capped Monkey) হনুমান, চশমাপরা হনুমান/কালো হনুমান, মুখপোড়া হনুমান/লাল হনুমান 
Hylobatidae (Hoolock Gibbon/White-browed Gibbon)  উল্লুক
Carnivora Canidae (Jackal/Asiatic Jackal/Golden Jackal, Asiatic Wild Dog/Dhole/Indian Wild Dog/Red Dog/Asian Wild Dog, Bengal Fox/Indian Fox) পাতিশিয়াল/শিয়াল, রামকুত্তা/ঢোল, খেঁকশিয়াল 
Felidae (Jungle Cat/Swamp Cat/Golden Cat/Temminck’s Cat/Asian Golden Cat/Asiatic Golden Cat, Clouded Leopard,Leopard/Panther, Tiger/Bengal Tiger/Royal Bengal Tiger,Marbled Cat, Leopard Cat/Fishing Cat) বনবিড়াল/ওয়াব, সোনালি বিড়াল, গেছোবাঘ/লামচিতা, চিতাবাঘ, বাঘ, চিতাবিড়াল, মেছোবিড়াল/ মেছোবাঘ
Herpestidae (Small Indian Mongoose, Common Mongoose, Crab-eating Mongoose) বেজি/নকুল, বড় বেজি, কাঁকড়াভুক বেজি
Mustelidae (Oriental Small-clawed Otter/Short-clawed Otter/Clawless Otter, Hog-Badger, Common Otter/Eurasian Otter, Smooth-coated Otter/Smooth Indian Otter)  উদ/উদবিড়াল/ভোঁদড় 
Ursidae (Sun Bear/Malayan Sun Bear/Honey Bear, Sloth Bear/Indian Bear, Asiatic Black Bear/Himalayan Black Bear/Moon Bear)  ভল্লুক, কালো ভল্লুক 
Viverridae (Binturong/Bear Cat, Smooth–toothed Civet/Small-toothed Palm Civet/Three-striped Palm Civet, Masked Civet/Himalayan Palm Civet/Masked Palm Civet, Large Indian Civet, Small Indian Civet) গেছো ভল্লুক, গন্ধগোকুল/নোঙর, বাগডাশ, খাটাশ 
Cetacea Delphinidae (Common Dolphin, Short-finned Pilot Whale/Indian Pilot Whale, Irrawaddy Dolphin/Irrawaddy RiverDolphin/Snubfin Dolphin, Melon-headed Dolphin/Many-toothed Blackfish/Broad-beaked Dolphin) শিশু/শুশুক 
Phoceonidae (Finless Porpoise/Little Porpoise, Spotted Dolphin/Spinner Dolphin)  শিশু/শুশুক
Platanistidae (Ganges River Dolphin/Susu/Gangetic Dolphin/Blind River Dolphin)  শিশু/শুশুক/হুছছুম/হাউম ডলফিন 
Sirenia Dugongidae (Dugong)
Proboscidea  Elephantidae (Asian Elephant/Indian Elephant)  হাতি
Artiodactyla Suidae (Wild Boar) বুনো শূকর/শূকর
Cervidae (Spotted Deer, Sambar/Indian Sambar, Barking Deer/Indian Muntjac) চিত্রাহরিণ/চিতল, সাম্বার, মায়াহরিণ
Bovidae (Mainland Serow/Serow/Burmese Goat Antelope), বনছাগল
Pholidota Manidae (Indian Pangolin/Scaly Anteater, Malayan Pangolin, Chinese Pangolin) বনরুই/পিপীলিকাভুক
Rodentia Sciuridae (Pallas’s Squirrel, Hoary-bellied Himalayan Squirrel/Irrawaddy Squirrel, Orange-bellied Himalayan Squirrel, Three-striped Palm Squirrel/Indian Palm Squirrel, Five-striped Palm Squirrel/Northern Palm Squirrel,  Hodgsons Flying Squirrel, Large Brown Flying Squirrel/Common Giant Flying Squirrel/Red Giant Flying Squirrel, Malayan Giant Squirrel/Black Giant Squirrel) বাদামি কাঠবিড়ালি, ডোরা কাঠবিড়ালি, উড়ুক্কু কাঠবিড়ালি, কাঠবিড়ালি
Muridae (Indian Mole Rat/Lesser Bandicoot Rat, Bandicoot Rat/Large Bandicoot Rat/Greater Bandicoot Rat, Metad Rat/Soft-furred Rat/Soft-furred Field Rat, Indian Field Mouse/Little Indian Field Mouse, House Mouse, Short-tailed Bandicoot Rat/Short-tailed Mole Rat, Bram Rat, Common House Rat/Black Rat, Antelope Rat/Indian Gerbil, Long-tailed Tree Mouse/Indian Long-tailed Tree Mouse) ইঁদুর, বড় ইঁদুর/ধেড়ে ইঁদুর, মেঠো ইঁদুর, নেংটি ইঁদুর, ক্যাঙ্গারু ইঁদুর  ১০
Rhizomyidae (Bay Bamboo Rat/Lesser Bamboo Rat)
Hystricidae (Brush-tailed Porcupine/Asiatic Brush-tailed Porcupine, Indian Crested Porcupine) সজারু 
Lagomorpha Leporidae (Assam Rabbit/Hispid Hare, Rufous-tailed Hare/Indian Hare) খরগোস, শশক 
মোট = ১১০
সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী
Cetacea  Balaneopteridae (Blue Whale/Great Blue Whale, Fin Whale/Common Rorqual/Finback, Humpback Whale) নীল তিমি 

শাবককে দুগ্ধপুষ্ট করা ছাড়াও স্তন্যপায়ীর আরেকটি বৈশিষ্ট্য তাদের লোমশ শরীর, যদিও কোন কোন ক্ষেত্রে, যেমন মানুষের শরীরের লোম যথেষ্ট হ্রাস পেয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক তিমি ও ডলফিনের লোম নেই, কিন্তু ভ্রূণবিকাশের সময় তাদের কিছুটা লোম থাকে, আর হাতি ও গন্ডারের লোম খুবই কম। বনরুইয়ের অাঁশ, সজারুর কাঁটা ও গন্ডারের শৃঙ্গ আসলে রূপান্তরিত লোম। উপদল Eutheria অমরাবিশিষ্ট (placental) স্তন্যপায়ী; বেশির ভাগ জীবিত স্তন্যপায়ী এ দলের অন্তর্গত। জরায়ুর উপস্থিতি (uterus) থেকেই এই দলের এমন নাম, আর এই জরায়ুর মাধ্যমে সরাসরি মায়ের রক্তসরবরাহ থেকে ভ্রূণকে খাদ্য যোগায় এবং বর্জ্য নিষ্কাশন করে। প্রজাতিভেদে মায়ের গর্ভধারণকালে যথেষ্ট পার্থক্য থাকে। বাংলাদেশে নানা ধরনের যথেষ্ট সংখ্যক স্তন্যপায়ী রয়েছে, যাদের কোন কোনটি বাঘ ও হাতির মতোই বিরাট আকারের ও দর্শনীয়।

বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ৪,৫০০ প্রজাতির স্তন্যপায়ীর এক-দশমাংশ রয়েছে ভারত উপমহাদেশে। বাংলাদেশে ১২ বর্গে, ৩৫ গোত্রে ১১০ প্রজাতির স্থলভাগের স্তন্যপায়ী এবং একটি বর্গে ও একটি গোত্রে ৩ প্রজাতির সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী আছে। এদের মধ্যে মাত্র কয়েক গ্রাম ওজন ও কয়েক সেমি মাপের ক্ষুদ্র ছুঁচো ও চামচিকা থেকে ৩ মিটার উচ্চতা ও ৪ মে টনের বেশি ওজনের হাতি রয়েছে। নীল তিমি বৃহত্তম স্তন্যপায়ী, দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩০ মিটার ও ওজন হয় প্রায় ১৫০ মে টন। এটি নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ ব্যাপার যে, বাংলাদেশের সীমিত আবাসস্থলে এখনও পর্যাপ্ত জীববৈচিত্র্য রয়েছে। অবশ্য, গত শতাব্দীতে দেশ নিম্নোক্ত ১০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী হারিয়েছে। এক-শৃঙ্গী গন্ডার (Rhinoceros unicornis), জাভা গন্ডার (Rhinoceros sondaicus), এশীয় দুই-শৃঙ্গী গন্ডার (Didermoceros sumatrensis), বনগরু (Bos gaurus), বানটেং (Bos banteng), বুনোমোষ (Bubalus bubalis), নীলগাই (Boselaphus tragocamelus), বারশিঙ্গা/জলার হরিণ (Cervus duvauceli), পারাহরিণ (Axis porcinus) এবং নেকড়ে (Canis lupus)। বর্তমানে স্থলভাগের ১১০ প্রজাতির স্তন্যপায়ীর মধ্যে ৪০ প্রজাতি বিভিন্ন ধরনের হুমকির সম্মুখীন। এদের মধ্যে ২১টি অতি বিপন্ন, ১৩টি বিপন্নপ্রায়, ৬টি বিপদসীমায় রয়েছে এবং তথ্যাভাবে বাকি ৫৫ প্রজাতির অবস্থান জানা যায় নি। এই মুহূর্তে ১৭ প্রজাতি বিপদমুক্ত। বঙ্গোপসাগরের তিন প্রজাতির স্তন্যপায়ীই Cetacea বর্গের (গোত্র Balaenopteridae) অন্তর্ভুক্ত এবং পৃথিবীতে এরাও বিপন্ন। তিন জাতের তিমির মধ্যে নীল তিমি (Balaenoptera musculus) ও পাখনাওয়ালা তিমি (Balaenoptera physalus) বিপন্ন এবং কুঁজোতিমি (Megaptera novaeangliae) বিপদসীমায় রয়েছে।

স্থলভাগের ১১৯ প্রজাতির মধ্যে ৮ গোত্রে ২৯ প্রজাতিসহ Chiroptera (বাদুড়) বর্গই বৃহত্তম (সারণি)। দেশে এদের নিয়ে ন্যূনতম গবেষণা হয়েছে। প্রায় ২৪ প্রজাতির বাদুড় সম্পর্কে কোন তথ্য নেই বা থাকলেও তা নগণ্য। Carnivora (মাংসাশী) দ্বিতীয় বৃহত্তম বর্গ, তাতে আছে ৬ গোত্রে ২৭ প্রজাতি। সকল মাংসাশীই কোন না কোন ধরনের হুমকির মুখে; ৯ বিপন্ন, ৭ বিপন্নপ্রায়, ৫ বিপদসীমায়। সকল বুনো বিড়ালই Felidae গোত্রভুক্ত, তাতে আছে বাঘ/ডোরাবাঘ, চিতাবাঘ, গেছোবাঘ/লামচিতা, সোনালি বিড়াল, চিতাবিড়াল, বনবিড়াল ও মেছোবিড়াল। এক সময় দেশের সর্বত্র থাকলেও বর্তমানে সুন্দরবনই বাঘের একমাত্র আবাসস্থল। পৃথিবীব্যাপী এই প্রজাতিটি বিপন্নপ্রায়। প্রাইমেট বর্গের ১০ প্রজাতির (বর্তমানে সবগুলি হুমকিগ্রস্ত) মধ্যে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বনাঞ্চলের উল্লুক (Hoolock hoolock) বিপন্ন। বিপন্নপ্রায় ৩ প্রজাতির ভল্লুক (২টি বিপন্ন, ১টি বিপন্নপ্রায়) সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনও টিকে আছে। দক্ষিণ-পূর্ব বনাঞ্চলে ১৫০-২০০টি হাতি আছে। Cetacea বর্গের ৭ প্রজাতির মধ্যে গঙ্গা নদীর ডলফিন দেশের সব বড় নদীতে যথেষ্ট সংখ্যায় ছড়িয়ে আছে, অন্যসব ডলফিন রয়েছে সুন্দরবন এলাকার সমুদ্রসীমায় ও অন্যান্য উপকূলে।  [মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম]