সোহরাওয়ার্দী, আবদুল্লাহ আল-মামুন


সোহরাওয়ার্দী, আবদুল্লাহ আল-মামুন (১৮৭০-১৯৩৫)  পন্ডিত, রাজনীতিবিদ ও লেখক। তিনি ১৮৭০ সালে পশ্চিম বাংলার মেদিনীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৮৯৮ সালে ইংরেজিতে অনার্সসহ গ্রাজুয়েশন এবং আরবিতে এম.এ পাস করেন। আবদুল্লাহ আল মামুন ১৯০৮ সালে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি-এইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন। পরে তিনি লন্ডনের গ্রেস ইন থেকে বার অ্যাট-ল প্রাপ্ত হন। এরপর তিনি ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, কন্সটান্টিনোপল ও কায়রোতে শিক্ষা লাভ করেন। একজন সমাদৃত পন্ডিত ও শিক্ষাবিদ হিসেবে ১৯১১ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ডিপার্টমেন্টের প্রধান ও ঠাকুর প্রফেসর অব ল নিযুক্ত হন। ১৯১৩ সালে  আশুতোষ মুখার্জী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর থাকাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ে আল-মামুনের চাকুরি স্থায়ীকরণের জন্য সুপারিশ করলেও রাজনৈতিক কারণে সরকার এ প্রস্তাব অনুমোদন করে নি। আল-মামুন সোহরাওয়ার্দী বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন এবং রাজনীতিতে যোগ দেন।

লন্ডনে ছাত্র থাকাকালে তিনি প্যান ইসলামিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি হন। ১৯০৯ সালে লন্ডনে মসজিদ আন্দোলনেও তিনি ভূমিকা রাখেন।  বঙ্গীয় প্রজা সমিতি থেকে তিনি  বঙ্গীয় আইন পরিষদে নির্বাচিত হন। তিনি ‘All India Muslim Legislators Association’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ১৯২০ থেকে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত এর যুগ্ম-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২০ থেকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত তিনি মেদিনীপুর জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। আবদুল্লাহ আল-মামুন  খিলাফত আন্দোলন-এ সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং ১৯২৪ সালে খিলাফত কমিটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

তিনি  নবনূর ও  কোহিনূর নামক দুটি বাংলা সাময়িকীর নিয়মিত লেখক ছিলেন। তিনি মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদির প্রতিষ্ঠিত ইংরেজি সাপ্তাহিক The Hablul Matin-এর সম্পাদকের দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন। তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থও রচনা করেছেন। The Sayings of Muhammad(Sm), First Steps in Muslim Jurisprudence, Muhammadan Law of Marriage, The Beauties of Islam, History of the Emperor Shah Alam, I History of Muslim Legal Institutions হলো তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। ১৯৩৫ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।  [গোলাম কিবরিয়া ভূইয়া]