সোলতান


সোলতান  মুসলমান সমাজের একটি জনপ্রিয় সংবাদপত্র। ১৯২৬-১৯২৮ পর্যন্ত এটি  কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। তার আগে ১৯০৩-১৯০৪ পর্যন্ত এটি সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল। প্রখ্যাত সমাজ-সংস্কারক ও ইমাম গাজ্জালীর কিমিআই সায়াদত  গ্রন্থের বাংলা সংস্করণ সৌভাগ্য স্পর্শমণির রচয়িতা  মীর্জা মোহাম্মদ ইউসুফ আলীর পৃষ্ঠপোষকতায় এটি প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদক ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামি পন্ডিত মাওলানা  মুহম্মদ মনিরুজ্জমান ইসলামাবাদী। এতে মুসলিম বিশ্বের আদর্শ ও খবরাখবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হতো।

যে সকল আরবি-ফারসি শব্দ আরবি-ফারসি বর্ণ ‘সিন’ দ্বারা উচ্চারিত হয়, সেগুলি সোলতানে বাংলা ‘স’-এর পরিবর্তে ‘ছ’ বর্ণে লিখিত হতো। মনিরুজ্জমান ইসলামাবাদী স্বয়ং এই বানান ব্যবহারকে সমর্থন করতেন, কারণ তাঁর ধারণা ছিল, বাংলা বর্ণমালা আরবি-ফারসি শব্দকে যথার্থভাবে উপস্থাপন করতে পারে না। পরবর্তীকালে আরও অনেক মুসলমান লেখক এই পদ্ধতি অনুসরণ করেন।

মনিরুজ্জমান ইসলামাবাদী মাদ্রাসা-শিক্ষিত হলেও চমৎকার বাংলা লিখতে পারতেন এবং তিনি বাংলায় বেশকিছু মননশীল প্রবন্ধও রচনা করেন। তাঁর অধিকাংশ প্রবন্ধই ছিল সমাজ-সংস্কার ও মুসলিম সম্প্রদায়ের উন্নয়নবিষয়ক। তিনি সমসাময়িক রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরক্ত হলেও ইসলামাবাদী ছিলেন একজন মুক্তবুদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তির মানুষ। তাঁর এই মানসিকতার প্রভাব পড়েছে সোলতানের ওপরও।  ইসমাইল হোসেন সিরাজী এবং  আশরাফ আলী খান এই পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।  [নাহীদ কাইউম]