সোমপ্রকাশ


সোমপ্রকাশ  একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা। ১৮৫৮ সালের ১৫ নভেম্বর (১ অগ্রহায়ণ, ১২৬৫ বঙ্গাব্দ) কলকাতা সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ (১৮১৯-১৮৮৬) কর্তৃক এর প্রকাশনা শুরু হয়। তবে, পত্রিকাটির সম্পাদনাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে দ্বারকানাথকে পরামর্শদানসহ পত্রিকাটি প্রকাশের মূল পরিকল্পনার প্রস্তাবক ছিলেন  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১)। ১৮৬২ সালের এপ্রিল মাস থেকে সোমপ্রকাশ দ্বারকানাথের দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতার সোনাপুরের নিকটবর্তী চাংরিএপাতা গণ্ঠাএমর বাসভবন ^^এক পণ্ঠকাশিত হএত স্টরূ কএর। অনঞ্ঝানঞ্ঝ কমট্টকাএল্প পূবট্ট সংশিদ্দ’’বতা ও বঞ্ঝ’বতার দরূন্রঙ্কারকানা^ ১৮৬৫ সাএলর ২ জানুয়ারি ^^এক সজ্ঞক্সাদনার দায়িতঙ্গ হএত অবঞ্ঝাহতি গণ্ঠহণ কএরন বৈং মৈাহনলাল বিদঞ্ঝাবাগীশ তাঁর ’র্লাভিষিল্ফদ্ধ হন। শিবনা^ শা’্যীও কএয়ক মাস দৈায়িতঙ্গ পালন কএরন। ১৮৭৪ সাএলর ২৭ জুলাই ^^এক্রঙ্কারকানা^ পুনরায় সজ্ঞক্সাদএকর দায়িতঙ্গ গণ্ঠহণ কএরন। দৈশীয় সংবাদপষ্ণ নিয়স্যণ আইন (মাচট্ট ১৮৭৮, যা  ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট নামে পরিচিত) পাসের পর তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পত্রিকাটির প্রকাশনা এক বছরের জন্য বন্ধ ছিল। পরবর্তীকালে সরকারের প্রতি লিখিতভাবে আনুগত্য প্রকাশের পর ১৮৮০ সালের ১৯ এপ্রিল থেকে পত্রিকাটির পুনঃপ্রকাশ শুরু হয়। দ্বারকানাথের মৃত্যুর পর সোমপ্রকাশ প্রকাশের দায়িত্ব ন্যস্ত হয় একটি ট্রাস্টের ওপর এবং উক্ত ট্রাস্টের পরিচালনায় পত্রিকাটির প্রকাশনা আরও কয়েক বছর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

বাংলা ভাষায় প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদপত্রের মধ্যে সোমপ্রকাশ-ই প্রথম রাজনৈতিক বিষয়ে খোলাখুলি আলোচনার সুযোগ ঘটায়। সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পত্রিকাটিতে নিয়মিত বিশেষ নিবন্ধ লেখা হতো। দ্বারকানাথ দলাদলি পরিহার এবং ওই সময়কার পত্র-পত্রিকায় অন্যের প্রতি যেমন কটুকাটব্য বর্ষণ করা হতো, তা বর্জন করে চলতেন। সোমপ্রকাশ সরকারের গৃহীত নীতিমালার সব কিছুই সমর্থন করেছে এমন নয়। এটি দেশীয় সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের বিরুদ্ধে এবং ইলবার্ট বিলের পক্ষে জনমত গঠনে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে। পত্রিকাটি বাল্য-বিবাহ এবং কৌলিন্য প্রথারও বিরোধিতা করে। নারী-শিক্ষা ও বিধবা-বিবাহে পত্রিকাটির সমর্থন লক্ষণীয় হলেও তা নারী-স্বাধীনতার পক্ষে ছিল কি-না তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।  কেশবচন্দ্র সেন ও ব্রাহ্মসমাজ>এর আন্দোলনকে সোমপ্রকাশ পুরোপুরি সমর্থন না করে বরং কিছুটা অবজ্ঞাই প্রদর্শন করেছিল। সোমপ্রকাশ নীল ও চা চাষের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও ভূম্যধিকারীদের বিরুদ্ধে তাদের মনোভাব ততোটা কঠোর ছিল না। চাংরিপোতা গ্রামের বিদ্যাভূষণ গ্রন্থাগারে সোমপ্রকাশ পত্রিকার কিছু সংখ্যা সংরক্ষিত আছে।  [ইন্দ্রজিৎ চৌধুরী]