সেলুলোজ

সেলুলোজ (Cellulose) হলো সর্বাধিকপ্রাপ্ত বায়োপলিমার যা বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়ে একটি কাঠামো উপাদান হিসেবে কাজ করে। উদ্ভিদের দৃঢ় কোষপ্রাচীরের প্রধান উপাদান হলো এই সেলুলোজ। ১৮৩৮ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী Anselme Payen উদ্ভিদ কোষপ্রাচীর নিয়ে গবেষণার সময় সেলুলোজ আবিষ্কার করেন। সেলুলোজ হলো গ্লুকোজের C6H10O5)n; n=10,000 to 15,000) মুক্ত শিকল অণু যেখানে একটি গ্লুকোজ অণুর কার্বন-১ এর সাথে পরবর্তী গ্লুকোজের কার্বন-৪ পরমাণু বিটা (১→৪) বন্ডের মাধ্যমে যুক্ত থাকে যা এক ধরনের বিটা অ্যাসিটাল বন্ড। গ্লুকোজের এই বন্ধন গ্লুইকোজেন এবং স্টার্চ এ আলফা (১-৪) যা সেলুলোজ থেকে কিছুটা আলাদা।

সেলুলোজ একটি মুক্ত শিকল পলিমার। একাধিক সেলুলোজ চেইন হাইড্রোজেন বন্ধনের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে প্রাথমিক ফাইব্রিল তৈরি করে যার ব্যাস ৫-৫০ ন্যানোমিটার এবং এ থেকে মাইক্রন দৈর্ঘ্যের বেশ কিছু মাইক্রোফাইব্রিল গঠিত হয়। পালাক্রমে, মাইক্রোফাইব্রিলগুলো ম্যাক্রোফাইব্রিলে পরিণত হয়। হাইড্রোজেন বন্ডের উপস্থিতির কারণে সেলুলোজের মাইক্রোফাইব্রিলগুলি অত্যন্ত শক্ত এবং অনমনীয়।

বিটা অ্যাসিটাল সংযোগগুলি ভেঙে দেওয়ার জন্য উপযুক্ত এনজাইমের অভাব থাকায় মানুষ সেলুলোজ হজম করতে অক্ষম। গরু, ঘোড়া, ভেড়া, ছাগল এবং উইপোকার মতো প্রাণিদের অন্ত্রে মিথোজীবি ব্যাকটেরিয়া থাকে। এ সকল ব্যাকটেরিয়া সেলুলোজ হজম করার জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম পরিপাকতন্ত্রে ধারণ করে। সেলুলোজের ভাঙ্গন বা হাইড্রোলাইসিসের জন্য এদের প্রয়োজনীয় এনজাইম রয়েছে।

সেলুলোজ ‘পরিবেশবান্ধব’ পদার্থ নামে পরিচিত। সেলুলোজ হল একটি পলিস্যাকারাইড (বা কার্বোহাইড্রেট) যা পরিবেশ, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার কোনো ক্ষতি করে না বললেই চলে। এটি সেলোফেন, কৃত্রিম অশ্রু, খাদ্য সংযোজন (থিকেনার, ইমালসন স্টেবিলাইজার, ফাইবার), দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতের চিকিৎসা (টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্যscaffolding structure, কৃত্রিম রক্তনালী, তরুণাস্থি, ইত্যাদি) এবং ওষুধের ট্যাবলেটের মধ্যে ফিলার উপাদান সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাবহার করা হয়। [মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম]