সেম্প


সেম্প  (SEMP/Sustainable Environment Management Programme)  বাংলাদেশের জাতীয় পরিবেশ ব্যবস্থাপনা তৎপরতা পরিকল্পনার (National Environment Management Action Plan) বহুমুখী কার্যকর পদক্ষেপের একটি। এই কর্মসূচি বাংলাদেশ সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় ২১টি সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করছে। সেম্প টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, টেকসই মানব উন্নয়ন এবং সমাজের গুণগত পরিবর্তন বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দেয়। সেম্প-এর লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের অবনতিশীল পরিবেশের উন্নয়ন এবং একই সাথে গরিব, বিশেষত গরিব মহিলাদের অর্থনৈতিক ভিত্তির উন্নয়ন।

সেম্প পাঁচটি বিষয়বস্ত্তর সমন্বয়ে গঠিত যথা: নীতিমালা ও প্রতিষ্ঠান; অংশীদারিত্বমূলক প্রতিবেশ ব্যবস্থাপনা; সমাজভিত্তিক পরিবেশসম্মত স্বাস্থ্যরক্ষা ব্যবস্থা; সচেতনতা ও পরামর্শদান এবং প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা।

উপর্যুক্ত বিষয়বস্ত্তর আবার ২৬টি উপাদান (প্রকল্প) রয়েছে। সেম্প পরিবেশের অবনতি রোধ করে পরিবেশের উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নকে সংগঠিত করতে সহায়তা করবার জন্য পরিকল্পিত হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের আর্থ-পরিবেশ পরিস্থিতির উন্নয়নে সেম্প ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। পরিবেশের সম্পদসমূহের টেকসই ব্যবস্থাপনায় সামাজিক ভূমিকাকে সেম্প সমর্থন যোগাবে। এই কর্মসূচি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারি খাতের নীতিমালার উন্নয়ন সামর্থ্য দৃঢ়তর করতে এবং টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় সমাজের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।

‘ধরিত্রী সম্মেলন’ (Earth Summit)-এ এজেন্ডা ২১-এ স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই পরিবেশ পরিকল্পনা, কর্মসূচি, বিশেষত ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ অন্তর্ভুক্তকরণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তদুপরি, যেকোন বড় উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণের আগে পরিবেশে তার সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন আঙ্গিকে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়াও দেশে পরিবেশের সামগ্রিক উন্নয়নে এবং বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উদ্বেগজনক দারিদ্র্য হ্রাস করার লক্ষ্যে সরাসরি হস্তক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ কার্যত ধরিত্রী সম্মেলনের এজেন্ডা-২১-এ স্বাক্ষর করেছে জাতীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়নের নীতিমালার লক্ষ্য অর্জন ও তার সমন্বয়ের ভিত্তি বিবেচনা করে। এদিক থেকে সেম্প মাঠ পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। [মামুনুল হক খান]