সুখাধিকার আইন, ১৮৮২


সুখাধিকার আইন, ১৮৮২ সুখাধিকার এক ব্যক্তি কর্তৃক অন্য ব্যক্তির সম্পত্তির উপর একটি কার্যকর অধিকার, যা মালিকানা সম্পর্কিত আইনের প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ এবং ব্রিটিশ আমলে একটি পৃথক আইনের বিষয় হয়ে উঠেছিল। ১৮৮২ সালের সুখাধিকার আইন (১৮৮২ সালের ৫নং আইন) পাকিস্তানে ১৯৪৯ সালের কেন্দ্রীয় আইন ও অধ্যাদেশ আইনের প্রতিযোজন দ্বারা গৃহীত হওয়ায় তা ১৮৮২ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।

আইনে সুখাধিকার বলতে সেই অধিকার বোঝায়, যা কোনো জমির মালিক বা দখলদার তার মালিকানাধীন নয় এমন জমি থেকে নিজ জমিতে কিছুটা সুবিধা ভোগ করে। দখলযোগ্য বিধায় সুখাধিকার একটি নিরাকার অধিকার। এটি হলো কোনো স্থাবর সম্পত্তির মালিকের সেই সম্পত্তির ব্যবহার ও ভোগের ক্ষমতার উপর কার্যত একটি যুক্তিসঙ্গত সীমিতকরণ, যাতে আরেকটি স্থাবর সম্পত্তির মালিকের নিজস্ব সম্পত্তি ভোগের পথে বাধার সৃষ্টি না হয়। এ আইনের আওতায় সুখাধিকারী হওয়ার জন্য সুখাধিকার একটি প্রধান বসতবাটির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং তাতে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত থাকবে। সুখাধিকারের মৌলিক উপাদানগুলো হলো: (১) সুখাধিকারের আশ্রয় হিসেবে কোনো বৃহৎ সম্পত্তি থাকবে; (২) সুখাধিকারের আশ্রয় হিসেবে একটি দেষ্ট (servient) সম্পত্তি থাকবে; (৩) সুখাধিকার হবে বৃহৎ সম্পত্তির সুবিধাজনক উপভোগের জন্য।

সুখাধিকার নানা প্রকার: (ক) বাতাস ও আলো পাওয়া ও ব্যবহারের সুখাধিকার; (খ) গ্যাস ও ধোঁয়ার মাধ্যমে বায়ুদূষণের ক্ষেত্রে সুখাধিকার; (গ) পানির সুখাধিকার যা প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম প্রবাহের উৎসের সঙ্গে যুক্ত; (ঘ) রাস্তা ব্যবহারের সুখাধিকার; এবং (ঙ) সহযোগিতামূলক সুখাধিকার।

প্রচলিত অধিকারের সঙ্গে সুখাধিকারের পার্থক্য রয়েছে। প্রচলিত অধিকার কোনো এলাকার কোনো বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ব্যাপার, আর সুখাধিকার হলো সুনির্দিষ্ট মালিকের বৃহৎ সম্পত্তির সঙ্গে সংশি­ষ্ট বিশেষাধিকার। সুখাধিকার নেতিবাচক বা ইতিবাচক হতে পারে। ইতিবাচক সুখাধিকার মুখ্য মালিককে কিছু করার অধিকার দেয়, যার অন্যথা হলে তা তার জন্য হয় উৎপাত বা অবৈধ প্রবেশ। নেতিবাচক সুখাধিকার হলো সেসব ঘটনা যখন দুর্বল ভূমিমালিক তার মালিকানায় সাধারণ অধিকার প্রয়োগ করতে পারে না। প্রতিকূল প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সুখাধিকার স্থায়ী বলে গণ্য হয়। অনুমোদনের মাধ্যমে সুখাধিকার লাভ করা যায়। অপরিহার্য সুখাধিকার আরেক ধরনের অপেক্ষাকৃত গুরুত্বপূর্ণ সুখাধিকার। হস্তান্তর, উইল বা  ভাগের দরুণ একক সম্পত্তি দুই বা ততোধিক ভাগে বিভক্ত হয় এবং এসব বিভক্ত সম্পত্তির যেকোনটি যদি এমনভাবে অবস্থিত থাকে যে, অন্য সম্পত্তি থেকে কতিপয় সুবিধা না পেলে তা ব্যবহার্য হয় না, তাহলে এ ধরনের সুবিধাদি সংরক্ষণকে অপরিহার্য সুখাধিকার বলে।  [আমিনুল হক]