সীতা


সীতা কিংবদন্তীর নায়িকা। তিনি পঞ্চসতীর অন্যতম, মিথিলার রাজা জনকের কন্যা এবং রামচন্দ্রের পত্নী। তাঁর জন্মকাহিনী কৌতূহলোদ্দীপক। কথিত আছে যে, মিথিলার রাজা জনক পুত্রলাভের আশায় যজ্ঞ করার উদ্দেশে যখন লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ করছিলেন, তখন লাঙ্গলের সীতা বা ফলায় লগ্ন হয়ে এক নারী বেরিয়ে আসেন। তাই তাঁর নাম রাখা হয় সীতা। মানবী থেকে জন্ম নয় বলে তিনি অযোনিজা, ধরাপুত্রী ইত্যাদি নামেও অভিহিত হন।

অযোধ্যার রাজকুমার রামের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। বিবাহের পরপরই পারিবারিক ঘটনায় রামকে চৌদ্দ বছরের জন্য বনবাসে যেতে হয়। পতিপরায়ণা সীতা সংসারের সব সুখ বিসর্জন দিয়ে নির্বাসিত স্বামীর সঙ্গে স্বেচ্ছায় বনবাস গমন করেন। বনবাসকালে রাক্ষসরাজ রাবণ তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যায় লঙ্কায় এবং তাঁর সতীত্ব হরণের চেষ্টা করে। কিন্তু তাঁর সতীত্ব ও পতিভক্তির নিকট রাবণের সব রকম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। রাম যখন জানতে পারেন সীতাকে লঙ্কায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তখন তিনি লঙ্কা আক্রমণ করেন এবং রাবণসহ দানবদের হত্যা করে সীতাকে উদ্ধার করেন।

দীর্ঘকাল লঙ্কায় থাকার কারণে সীতার সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে অগ্নিপরীক্ষার মাধ্যমে সীতা তাঁর সতীত্বের প্রমাণ দেন। এতে খুশি হয়ে রাম সকলকে নিয়ে অযোধ্যায় ফেরেন এবং রাজদায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু কিছুদিন পরই সীতার সতীত্ব নিয়ে প্রজাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাই প্রজাদের সন্তুষ্ট করার জন্য নির্দোষ জেনেও রাম গর্ভবতী সীতাকে বনবাসে পাঠান। বনবাসিনী সীতা মহর্ষি বাল্মীকির আশ্রয় লাভ করেন এবং সেখানে লব ও কুশ নামে তাঁর দুই পুত্র জন্মে। অবশেষে বাল্মীকির সহায়তায় রামের সঙ্গে তাঁর পুনর্মিলন হয়।

সীতা রামায়ণের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। হিন্দুদের নিকট রামায়ণ একটি পবিত্র গ্রন্থ। একারণে তাদের নিকট সীতা অতি পরিচিত ও পূজনীয় একটি চরিত্র। একজন আদর্শ রমণী এবং পতিব্রতা স্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধার পাত্রী। সতীত্ব ও স্বামি ভক্তির উদাহরণ হিসেবে যে পঞ্চ রমণীর নাম উল্লেূখ করা হয়, সীতা তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্যা। হিন্দু সমাজে যেকোনো পুণ্যকর্মে সীতার নাম স্মরণীয়।  [এস রঙ্গনাথ]